‘শহরে বাস করেও আকাশে মেঘ দেখলে এখন ভয় করে। একটু ভারী বৃষ্টি হলে রাস্তাতো ডুববেই, ঘরে পানি ঢুকে যাচ্ছে। ফার্নিচার, ইলেকট্রিক জিনিস-পত্র সব নষ্ট হচ্ছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে আবার ডুবতে হলো।’ এভাবে নিজের কষ্টের কথা বলছিলেন নগরীর বাগমারা এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান।
শুধু মোস্তাফিজুর রহমানই নয়, খুলনায় মেঘ দেখলেই আতংকে ভুগছেন রূপসা, মুজগুন্নি, টুটপাড়া, বানিয়াখামার, নিরালা আবাসিক, সোনাডাঙা আবাসিক, শিপইয়ার্ড, নতুন বাজারসহ খালিশপুর, দৌলতপুর ও খানজাহান আলী থানার নিচু এলাকার বাসিন্দারা।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার প্রায় সাড়ে তিনঘন্টার ব্যবধানে ফের ডুবেছে মহানগরী খুলনা। বৃষ্টিতে রয়েল মোড়, শান্তিধাম মোড়, পিটিআই মোড়, পিকচার প্যালেস, সিমেট্রি রোড, স্যার ইকবাল রোড, টিবি বাউন্ডারি রোড, দোলখোলাসহ প্রধান প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি, ব্যবসা প্রতিপ্রতিষ্ঠান, বসতবাড়িতে জলমগ্ন হয়ে পড়ে। অনেক স্থানে ইজিবাইক, রিকশা, মাহেন্দ্র, সিএনজি, মোটরসাইকেল বিকল হয়ে পড়ে। সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে এই জলাবদ্ধতায় বিপাকের পড়েন কর্মজীবী মানুষও। আকষ্মিক রিকশা, ইজিবাইক ও যানবাহনের কয়েকগুন ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েন।

বেসরকারি খুলনা ওয়েদার ফোরকাস্ট টিম (কেডব্লিউএফটি)’র তথ্য অনুযায়ী খুলনায় দুই ঘন্টায় ৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের তথ্য দিয়েছে। টিম জানিয়েছে, রেইন গেজেট অনুযায়ী খুলনায় ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে নগরীর প্রধান সড়কসহ বিভিন্নস্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।
খুলনা সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার স্থায়ী উন্নয়নে ৮২৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ব্যয়ের একটি মেগা প্রকল্প শেষ হওয়ার পথে। এই প্রকল্পের অধীনে প্রায় ১৫৮ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ ও সংস্কার
এবং ময়ূর নদসহ গুরুত্বপূর্ণ ১২টি খালের পুনঃখনন ও সংস্কার করার বিষয় ছিল। চলতি বছরেই প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে জলাবদ্ধতার কোন পরিবর্তন হয়নি।
খুলনা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, ‘সামান্য বৃষ্টি হলে নগরীতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। অথচ জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি করপোরেশন ৮২৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। অপরিকল্পিত উন্নয়ন, সমন্বয়হীনতা, নদী-খাল দখলের জন্য পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। ফলে মেঘ দেখলে মানুষের আতংক তৈরি হচ্ছে।’
খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘করপোরেশন জলাবদ্ধতা নিরসন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে বিরামহীন কাজ করছে। বিগত সময়ে ড্রেনগুলো নষ্ট করা হয়েছে। পাম্প হাউজ, স্লুইজগেটগুলো কাজ করছে না। এ জন্য নগরীর পানি নামতে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। প্রতিদিনই রেডিমাটি অপসারণ, বর্জ্য নিষ্কাষণে কাজ করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার নগরীর ১৭, ১৮ ও ২৮ নম্বর ওয়ার্ড পরিদর্শন ও এসব কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন সিটি প্রশাসক।’