• ই-পেপার

সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়াই দাফন, বিপাকে চার স্কাউট সদস্য

ঝড়ে মাটিতে পড়ে যাওয়া গাছ ফের দাঁড়িয়ে গেল!

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ঝড়ে মাটিতে পড়ে যাওয়া গাছ ফের দাঁড়িয়ে গেল!

ঝড়ে শেঁকড়সহ মাটিতে পড়ে যায় গাছটি। এভাবে ছিল প্রায় এক মাস। গাছটি বিক্রি করা হয়। ডালপালা সহ গাছের অনেক অংশ কেটে ফলা হয়। এরই মধ্যে এক সপ্তাহ হলো গাছটি কাটা অংশ নিয়ে ঠিক আগের জায়গাতেই দাঁড়িয়ে আছে। দেখে মনেই হবে না এটি মাটিতে পড়া অবস্থায় ছিল।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় এমন একটি গাছ নিয়ে রীতিমতো হৈচৈ পড়ে গেছে। মোগড়া ইউনিয়নের বচিয়ারা গ্রামের ওই গাছ দেখতে শত শত উৎসুক মানুষ এসে ভিড়ে জমাচ্ছেন। গাছের শেঁকড়, ছাল নেওয়ার জন্য দূর দুরান্ত থেকে ছুটে আসছে মানুষ। অনেকে মানত করছেন। কেউ কেউ ভিডিও করছেন, ছবি তুলছেন। বিকেল হলে ভিড় বেড়ে যায়।

এলাকার মানুষ বলছেন, ঘটনাটি অলৌকিক। এভাবে মাটিতে পড়ে যাওয়া গাছ উঠে যেতে কখনো শুনেননি। এছাড়া এভাবে কাটার পর গাছ দাঁড়িয়ে থাকার অভিজ্ঞতাও কারো নেই। যা হয়েছে সব সৃষ্টিকর্তার ইশারাতেই এমন হয়েছে। তারা গাছটিকে দেখেশুনে রাখছেন। কাঠুরিয়াও জানালেন তার অভিজ্ঞতার কথা।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় মুন্সীবাড়ির একটি পুকুর পাড়ে ডালপালাহীন গাছের একটি অংশ দাঁড়িয়ে আছে। উচ্চতায় প্রায় ১৫ ফুটের মতো ওই অংশটি কিছুটা সামনের দিকে হেলে পড়া। গাছের নিচের কয়েক ইঞ্চি বাদে বাকিটা কাটা। আগের মতোই শেঁকড়সহ গোড়ার অংশ মাটির ওপর ও নিচে দেখা যাচ্ছে। গাছের কাটা অংশ সামনেই ফেলে রাখা।

এদিকে গাছের নীচের অংশ লাল কাপড় দিয়ে পেঁচানো। অনেকেই এসে মোমবাতি, আগরবাতি জ্বালিয়ে দিচ্ছেন। গাছের অদূরে চারিদিকে নিশানা টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। পবিত্র হয়ে গাছের সামনে যাওয়ার জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হচ্ছে। গাছের শেঁকড় সংগ্রহ করতে আসা এক নারীকে বেশ কিছু সময় গাছের সামনে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। দোয়া পড়ছিলেন বলে জানলেন ওই নারী। রোগ-বালাইয়ের জন্য নিজের ও অন্যের জন্য শেঁকড় সংগ্রহের কথা বলেন তিনি।

মুন্সী বাড়ির পরিবারের সদস্য শারমীন সুলতানা দাবি করেন, তিনি গাছটি পড়তেও দেখেছেন এবং উঠার সময়ও দেখেছেন। মাস দেড়েক আগে প্রচণ্ড ঝড়ে গাছটি পড়ে যায়। গাছটি কেটে টুকরো টুকরো করার পর হঠাৎ উঠে দাঁড়ায়। দেখামাত্রই তিনি চিল্লাফাল্লা করেন। এরপর বাড়িসহ আশেপাশের লোকজন বিষয়টি দেখেন।

পরিবারের সদস্য আবুল বাশার মুন্সী বলেন, ‘এটি আমার এক ভাতিজার গাছ। প্রচণ্ড ঝড় তুফানে বড় আকারের এক গাছটি পড়ে যায়। পরে বিক্রি করে দেওয়া হয়। গাছ কাটার পর এটি আবার দাঁড়িয়ে যায়। এটা সরাসরি আল্লাহর কুদরত।’

গাছের মালিক মাহবুব মুন্সী বলেন, 'আল্লাহতায়ালাই ভালো জানেন কিভাবে কি হয়েছে। এখন গাছ দেখতে প্রতিদিন শত শত লোক আসেন। মানত করেন। আগরবাতি, মোমবাতি জ্বালান। অনেকে শিকড় নেন। তাদের ধারণা এতে রোগ বালাই ভালো হবে।’

আঁখি বেগম নামে প্রতিবেশী বলেন, ‘গাছটি পড়ে থাকার সময় এর ওপর দিয়ে চলাচল করেছি। এরপর গাছটির ডালপালা ছেটে টুকরো টুকরোও করা হয়। এখন গাছটি দাঁড়িয়ে গেছে। আমরা যতটুকু পারি গাছটিকে সম্মান করে যাচ্ছি।’

আরেক প্রতিবেশী ফরিদ মুন্সী বলেন, ‘গাছটি উঠে যাওয়ার খবর পেয়ে ছুটে আসি। এখনো গাছটি কাটা অংশসহ দাঁড়িয়ে আছে। এটা আল্লাহর অশেষ রহমত। তিনিই ভালো বলতে পারবেন কেন এমন করেছেন। গাছটি দেখতে শত শত মানুষ ছুটে আসছে।’

কাঠুরিয়া মো. আমিন মিয়া বলেন, ‘গাছটি ঝড়ে মাটিতে পড়ে যায়। শেঁকড়সহ উল্টে যায়। মাটিতে থাকা অবস্থাতেই আমি গাছটি কাটতে শুরু করি। ডালপালা কাটার পর আবার গাছটি দাঁড়িয়ে যায়।’ তার দাবি, গাছে জিন-ভ‚ত বলে কিছু নেই। তবে মানুষ ভিড় করছে গাছটি দেখতে।

পঞ্চগড়ে স্বস্তির বৃষ্টি

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
পঞ্চগড়ে স্বস্তির বৃষ্টি
ছবি: কালের কণ্ঠ

এক সপ্তাহের তীব্র তাপদাহ ও ভ্যাপসা গরমের পর অবশেষে স্বস্তির বৃষ্টি নামল পঞ্চগড়ে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে আকাশে কালো মেঘ জমে ওঠার পর শুরু হয় বৃষ্টি। মেঘের গর্জনের সঙ্গে মুশলধারায় ঝরে পড়া বৃষ্টিতে জনজীবনে ফিরে আসে স্বস্তি।

আরো পড়ুন
গরু আনতে গিয়ে বজ্রাঘাতে মাঠেই গ্রাণ গেল যুবকের

গরু আনতে গিয়ে বজ্রাঘাতে মাঠেই গ্রাণ গেল যুবকের

 

গত কয়েকদিন ধরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছিলেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, শিশু ও বৃদ্ধদের দুর্ভোগ ছিল বেশি। প্রচণ্ড গরমে অনেকেই প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হতে পারছিলেন না। বৃহস্পতিবার বিকেলে হঠাৎ করেই আবহাওয়ার পরিবর্তন দেখা যায়। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়ার পর শুরু হয় দমকা হাওয়া। কিছুক্ষণ পর বজ্রধ্বনির সঙ্গে নামে ভারী বৃষ্টি। দীর্ঘদিনের গরম থেকে স্বস্তি পাওয়ায় খুশি সাধারণ মানুষ।

আরো পড়ুন
নারায়ণগঞ্জে ইটভাটায় আড়াই লাখ টাকা জরিমানা, বন্ধের নির্দেশ

নারায়ণগঞ্জে ইটভাটায় আড়াই লাখ টাকা জরিমানা, বন্ধের নির্দেশ

 

শহরের ভ্যান চালক সুকৃমার রায় বলেন, কয়েকদিন ধরে অসহনীয় গরমে জীবনে হাঁসফাঁস শুরে হয়েছিল। গরমে ঘরে বাইরে কোথাও স্বস্তি ছিলো না। এই বৃষ্টি সবার মনে স্বস্তি এনে দিয়েছে।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জীতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, গত কয়েকদিন ধরে পঞ্চগড়ের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। প্রচণ্ড দাবদাহের পর আজ বৃষ্টি হয়েছে। ৮ তারিখ পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।

গরু আনতে গিয়ে বজ্রাঘাতে মাঠেই গ্রাণ গেল যুবকের

গরু আনতে গিয়ে বজ্রাঘাতে মাঠেই গ্রাণ গেল যুবকের
সংগৃহীত ছবি

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে বজ্রাঘাতে মো. সিয়ামুল ইসলাম সিয়াম (২৩) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুর সোয়া ১২টায় উপজেলার পাগলা থানাধীন পাঁচবাগ ইউনিয়নের মধ্য লামকাইন (হাজী বাড়ি) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আরো পড়ুন
শহীদ জিয়ার বহুপক্ষীয় কূটনীতিই বর্তমান সরকারের প্রধান পথ : তথ্যমন্ত্রী

শহীদ জিয়ার বহুপক্ষীয় কূটনীতিই বর্তমান সরকারের প্রধান পথ : তথ্যমন্ত্রী

 

নিহত সিয়াম ওই গ্রামের সাবেক সংরক্ষিত ইউপি সদস্য নাসিমা খাতুন ও মৃত রুকন মিয়ার ছেলে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বৃষ্টির সময় বাড়ি সংলগ্ন মাঠ থেকে গরু আনতে গেলে হঠাৎ বজ্রাঘাতে গুরুতর আহত হয়। পরে স্বজনরা দ্রুত সিয়ামকে পার্শ্ববর্তী হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় যুবক শুভ বলেন, সিয়াম এইচএসসি পাস করে বাড়িতে কৃষিকাজ করছিলেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রাঘাতে এক বিকেলেই ৫ জনের মৃত্যু, আহত ১

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রাঘাতে এক বিকেলেই ৫ জনের মৃত্যু, আহত ১
সংগৃহীত ছবি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর, শিবগঞ্জ ও নাচোল উপজেলায় পৃথক ঘটনায় বজ্রাঘাতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে বজ্রসহ হালকা ঝড়বৃষ্টির সময় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। একই ঘটনায় আরো একজন আহত হয়েছেন।

নিহতরা হলেন— সদরের আতাহার গ্রামের মো. রাব্বিলের ছেলে আবদুল্লাহ (১৭), শিবগঞ্জের চককীর্তি ইউনিয়নের চকনরেন্দ্র গ্রামের দুবাই প্রবাসী আব্দুর রবের স্ত্রী মাহমুদা বেগম (১৯), একই ইউনিয়নের রানীবাড়ি বাজারপাড়া গ্রামের মো. কাশেমের মেয়ে সাদিয়া (১৬), শিবগঞ্জের মোবারকপুর ইউনিয়নের শিকারপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের মো. ফিটুর ছেলে মেসবাহুল ওরফে মেসবাবুল (১৪) এবং নাচোল উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের লাহাবাড়ি গ্রামের আব্দুর রাকিবের স্ত্রী সুমিয়ারা বেগম (৪০)।

এ ঘটনায় আহত হয়েছেন নাচোলের লাহাবাড়ি গ্রামের জিয়াউর রহমান (৩৬)। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেলে হঠাৎ বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হলে বিভিন্ন এলাকায় কৃষিকাজ ও দৈনন্দিন কাজে বাইরে থাকা মানুষজন বজ্রাঘাতে আক্রান্ত হন।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন জানান, বিকেলে বাড়ির পাশের মাঠে গরু আনতে গিয়ে বজ্রাঘাতে আহত হন আবদুল্লাহ। পরে তাকে উদ্ধার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান বলেন, বিকেলে আমবাগানে কাজ করার সময় মাহমুদা বেগম এবং একই সময়ে সাদিয়া বজ্রাঘাতে নিহত হন। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অন্যদিকে মোবারকপুর ইউনিয়নের শিকারপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে বজ্রঘাতে কিশোর মেসবাবুল নিহত হন বলে জানান স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

নাচোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ জানান, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মাঠ থেকে ঘাস কেটে ফেরার পথে বজ্রাঘাতে সুমিয়ারা বেগম নিহত হন এবং জিয়াউর রহমান আহত হন। স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশ ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।

সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়াই দাফন, বিপাকে চার স্কাউট সদস্য | কালের কণ্ঠ