• ই-পেপার

সুন্দরবনের করমজলে ৩৫টি ডিম দিল ‘বাটাগুর বাসকা’

দুর্বৃত্তের হামলার পর ১২ ঘণ্টা দোকানেই রক্তাক্ত অবস্থায় পড়েছিলেন ব্যবসায়ী

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
দুর্বৃত্তের হামলার পর ১২ ঘণ্টা দোকানেই রক্তাক্ত অবস্থায় পড়েছিলেন ব্যবসায়ী
ছবি: কালের কণ্ঠ

লক্ষ্মীপুরে দুর্বৃত্তদের ধারাল অস্ত্রের আঘাতে রক্তাক্ত অবস্থায় মো. হারুন নামে এক ব্যবসায়ী দোকানের মেঝেতে প্রায় ১২ ঘণ্টা অচেতন হয়ে পড়েছিলেন। এ ঘটনায় রবিবার (৫ জুলাই) রাতে হারুনের ছোট ভাই নাজিম উদ্দিন সুজন সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

হারুন সদর উপজেলার তেওয়ারীগঞ্জ ইউনিয়নের মৌলভীরহাট এলাকার মোবাইল সার্ভিসিং দোকানের ব্যবসায়ী ও কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ এলাকার আবুল বাশারের ছেলে।

অভিযোগ সূত্র জানায়, হারুন শনিবার (৪ জুলাই) রাতে বাজারে ফুটবল খেলা দেখেন। খেলা দেখা শেষে রাত ১টার দিকে তিনি দোকানে যান। দোকানে ঢুকলে পেছন থেকে দুর্বৃত্তরা ধারাল অস্ত্র দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। এতে তিনি অচেতন হয়ে দোকানের মেঝেতে পড়ে যায়।

রাত শেষে সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেও চেতনা ফেরেনি হারুনের। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাজারের লোকজন ওই দোকানে ঢুকে দেখে হারুন রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। পরে তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মো. হারুন জানান, পেছন থেকে তাকে আঘাত করা হয়েছে। তিনি কাউকে চিনতে পারেননি। এরপর কতক্ষণ অচেতন অবস্থায় পড়েছিলেন তা জানেন না তিনি।

হারুনের ভাই নাজিম উদ্দিন সুজন বলেন, আমার ভাইয়ের মাথায় দুটি স্থানে কাটা চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় আমি থানায় অভিযোগ দিয়েছি।

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, লিখিত অভিযোগটি পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্তে উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইব্রাহিমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।

পতেঙ্গার পানি সংকট নিরসনে নেদারল্যান্ডসের সহায়তার উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
পতেঙ্গার পানি সংকট নিরসনে নেদারল্যান্ডসের সহায়তার উদ্যোগ

চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা এলাকার ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকট নিরসনে একটি পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট দুই ওয়ার্ডের বিদ্যমান পানি সংকট অনেকাংশে কমবে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সরকারের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর অনুরোধে নেদারল্যান্ডস সরকার প্রকল্পটি বাস্তবায়নে এগিয়ে এসেছে।

রবিবার (৫ জুলাই) চট্টগ্রাম ওয়াসা কার্যালয়ে বাংলাদেশে নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের প্রথম সচিব (পানি ও জলবায়ু) ইঙ্গি ক্লাসের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।

আলোচনা শেষে নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের প্রথম সচিব ইঙ্গি ক্লাসে জানান, বাংলাদেশ সরকারের অর্থমন্ত্রীর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে নেদারল্যান্ডস সরকার সম্পূর্ণ অনুদানের ভিত্তিতে পতেঙ্গার ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে একটি পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নে আগ্রহী। এ জন্য প্রথমে একটি প্রি-ফিজিবিলিটি স্টাডি পরিচালনা করা হবে। ওই সমীক্ষায় এলাকার পানির চাহিদা নিরূপণ, বিদ্যমান পানি সরবরাহ ও পাইপলাইন নেটওয়ার্কের অবস্থা মূল্যায়ন, সম্ভাব্য পানির উৎস নির্ধারণ এবং পানি পরিশোধনের উপযোগিতা যাচাই করা হবে।

তিনি আরো বলেন, প্রি-ফিজিবিলিটি স্টাডির ফলাফলের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে বড় পরিসরে পিপিপি স্কিমের আওতায় প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রাম ওয়াসার সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়েরও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম ওয়াসার এমডি প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম জানান, পাইলট প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে পতেঙ্গার ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের দীর্ঘদিনের পানি সংকট অনেকটাই দূর হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বৃহৎ পানি শোধনাগার প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে চট্টগ্রাম মহানগরের পানি উৎপাদন ও সরবরাহ ঘাটতি কমিয়ে নগরবাসীর জন্য টেকসই ও নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

প্রতিনিধি দলে ছিলেন ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়ামিন ফারুক, ম্যাক্স ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর এটিএম তারিকুল ইসলাম এবং বাহনের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সাঈদ সামিউল হক।

বৈঠকে চট্টগ্রাম ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিষ্ণু কুমার সরকার, প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুরুল আমিন এবং মড-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী ইফতেখার উল্লাহ মামুন উপস্থিত ছিলেন।

হাকিমপুরে এক রাতে ১০ খড়ের গাদায় দুর্বৃত্তদের আগুন, তিন গ্রামে আতঙ্ক

হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
হাকিমপুরে এক রাতে ১০ খড়ের গাদায় দুর্বৃত্তদের আগুন, তিন গ্রামে আতঙ্ক

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার আলীহাট ইউনিয়নের বাওনা, ইটাই ও বাশমুরি গ্রামে এক রাতে ধারাবাহিকভাবে ১০টি খড়ের গাদায় আগুন লাগার ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। দুর্বৃত্তদের এ ঘটনায় কৃষকদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

শনিবার (৪ জুলাই) রাত ১০টার দিকে ইটাই ভূমিহীন বহুমুখী সমবায় সমিতির সামনে মাদক নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল বিষয়ক কমিটি গঠন ও আলোচনা সভা চলাকালে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে বাওনা গ্রামে প্রথম একটি খড়ের গাদায় আগুন দেওয়া হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও হাকিমপুর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

আগুন নেভানোর কাজ রাত প্রায় ১টা পর্যন্ত চললেও এরপরও থামেনি অগ্নিসংযোগ। রাত ১টার দিকে ফের আরেকটি খড়ের গাদায় আগুন দেওয়া হয়। পরে রাতের শেষ প্রহরে ইটাই গ্রামে পরপর পাঁচটি খড়ের গাদায় আগুন লাগানো হয়। ভোর ৪টা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরলস চেষ্টা চালান।

এদিকে হাকিমপুর ফায়ার সার্ভিস ইটাই গ্রামের আগুন নিয়ন্ত্রণে ব্যস্ত থাকায় সকালে ঘোড়াঘাট ফায়ার সার্ভিসের একটি অতিরিক্ত ইউনিট বাওনা গ্রামে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি দুর্বৃত্তরা বাওনা কমিউনিটি ক্লিনিকের পানির ট্যাংকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ট্যাংকটি নিচে ফেলে দেয় এবং পানির পাইপলাইন ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে রয়েছেন মো. মিজানুর রহমান, মো. সফিউল ইসলাম, মো. জামাতি, মো. সুলতান মাহমুদ, মো. রাজ্জাক, মো. শহিদ, মো. দিলদার হোসেন, মো. রহমত আলী ও মো. মিনহাজুল ইসলাম। তাদের কয়েক বিঘা জমির খড় পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের দাবি, পরিকল্পিতভাবে একের পর এক খড়ের গাদায় অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, ফায়ার সার্ভিস শুরু থেকেই আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করলেও রাত প্রায় ৪টার দিকে হাকিমপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত শেষে ফিরে যায়।

এ বিষয়ে হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের একটি চৌকস দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কে বা কারা এবং কী উদ্দেশে এ অগ্নিসংযোগ করেছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনের চেষ্টা চলছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় তিনটি গ্রামের সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

খেলতে গিয়ে নিখোঁজ, নালায় মিলল দুই স্কুলশিক্ষার্থীর মরদেহ

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম
খেলতে গিয়ে নিখোঁজ, নালায় মিলল দুই স্কুলশিক্ষার্থীর মরদেহ
ছবি : কালের কণ্ঠ

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় খেলতে বের হয়ে নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর একটি নালা থেকে দুই শিশু শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার (৫ জুলাই) রাত ৮টার দিকে উপজেলার বড়ভিটা ও ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী খড়িবাড়ি এলাকার কুচনি নালা থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলো ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের রাবাইতারী গ্রামের নূর হোসেনের মেয়ে মোছা. লুচি খাতুন (৮) এবং বড়ভিটা ইউনিয়নের নওদাবস গ্রামের আনিছুর রহমানের মেয়ে মোছা. আম্বিয়া খাতুন (৭)। তারা দুজনই রাবাইতারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রবিবার স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পর বিকেলে খেলাধুলার উদ্দেশে একসঙ্গে বাড়ি থেকে বের হয় দুই শিশু। সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

পরে রাত ৮টার দিকে স্থানীয়রা বাড়ির পাশের খড়িবাড়ি এলাকার কুচনি নালায় দুই শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখে পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় সেখান থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মমিনুল ইসলাম বলেন, পরিবারের অজান্তেই দুই শিশু খেলতে বের হয়েছিল। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পর বাড়ির পাশের নালা থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান নাইম বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাচ্ছে। ঘটনার কারণ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সুন্দরবনের করমজলে ৩৫টি ডিম দিল ‘বাটাগুর বাসকা’ | কালের কণ্ঠ