• ই-পেপার

সেতু এখন মরণফাঁদ!

বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে ১৮ দিন ধরে অবস্থান প্রেমিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে ১৮ দিন ধরে অবস্থান প্রেমিকার
সংগৃহীত ছবি

বিয়ের দাবিতে ‎সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বগাইয়া হাউওর গ্রামে প্রেমিক ও তার চাচার বাড়িতে ১৮ দিন ধরে অবস্থান করছেন এক তরুণী। গত ৩ জুন বিকেল থেকে তিনি সেখানে অবস্থান নেন।

প্রেমিক কয়েছ মিয়া উপজেলার বিছনাকান্দি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বগাইয়া গ্রামের হাজী রফিক উদ্দিনের ছেলে। ভুক্তভোগী তরুণী উপজেলার লেংগুড়া ইউনিয়নের গুরুকচি গ্রামের বাসিন্দা।

ভুক্তভোগী তরুণী জানান, ‘দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন কয়েছ। দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের দিন-তারিখ ঠিক হলেও পরে বিয়ে অনুষ্ঠান কমিউনিটি সেন্টারে হবে না বাড়িতে হবে- এ নিয়ে দ্বন্দ্বে বিয়ে ভেঙে দেয় কয়েছের পরিবার। কিন্তু এরপর কয়েছ মোবাইলের মাধ্যমে তার সঙ্গে আলাপ শুরু করেন এবং বিয়ে করবেন বলে আশ্বস্ত করেন। এরপর তাদের বাড়িতে যাতায়াত শুরু করলে প্রেমের সম্পর্কে গড়ায় বিষয়টি।

একপর্যায়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কও গড়ে তুলেন কয়েস। সিলেট নগরের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি ও আপত্তিকর ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। কিন্তু গত কয়েক মাস আগে হঠাৎ করে তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করেন দেন। ভুক্তভোগীর পরিবার তাকে অন্যত্র বিয়ের চাপ দিলে তরুণী রাজি হন। প্রবাসী একজনের সঙ্গে মোবাইলে আকত (বিয়ে) হয় তার। এ খবর পেয়ে কয়েছ প্রবাসীর নম্বর যোগাড় করে তাদের আপত্তিকর ভিডিও পাঠান। এতে ভুক্তভোগীর বিয়ে ভেঙে যায়।

এ ঘটনার পর ৩ জুন বিকেল থেকে তিনি প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নেন। তার দাবি স্ত্রীর স্বীকৃতি না দেওয়া পর্যন্ত তিনি বাড়ি ছাড়বেন না। দাবি পূরণ না হলে আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়ার হুমকিও দেন তিনি।

এ বিষয়ে স্থানীয় রুস্তুমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন শিহাব বলেন, ‘আমি গত ৪ জুন দুই পরিবারের লোকজন ও স্থানীয় ইউপি সদস্য নিয়ে আলোচনায় বসেছিলাম। কয়েছ উপস্থিত না হওয়ায় তার সঙ্গে ফোনে আলোচনা করে একটি তারিখ করেছিলাম। পরদিন জানতে পারি, ছেলে আরেকটি মেয়েকে বিয়ে করে নিয়ে আসছে। পরে ছেলের পরিবারের লোকজন রাজি না হওয়াতে বিষয়টি মেয়ের পক্ষকে জানিয়ে দেই। পরে বিষয়টি কি হয়েছে আমার আর জানা নেই।’
‎‎
এ বিষয়ে কয়েছ মিয়া মোবাইল ফোনে বলেন, ‘মেয়ের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল এটা সত্য। এখন আমার ঘরে আরেক বেটি (বউ) আছে।’ পরে তিনি পাবলু মেম্বার ও সাবই মেম্বারের সঙ্গে যোগাযোগ করার কথা বলে লাইন কেটে দেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য পাবলু মিয়া বলেন, ‘উভয় পক্ষকে নিয়ে বসেছিলাম। কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। মেয়ের দাবি, কয়েছকে তাকে বিয়ে করতে হবে। অন্যদিকে কয়েছ বিয়ে করতে রাজি হয়নি। তাই সমাধান হয়নি। মেয়েটি বর্তমানে কয়েছের চাচার বাসায় আছে বলেও জানান তিনি।’

এ বিষয়ে সিলেটের গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, ‘এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বাড়ি ফেরার পথে অপহরণ, মুক্তিপণে সন্তানকে ফিরে পেল পরিবার

দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
বাড়ি ফেরার পথে অপহরণ, মুক্তিপণে সন্তানকে ফিরে পেল পরিবার
সংগৃহীত ছবি

যদি আমাদের চাওয়া টাকা না দেন, যদি বলেন পারবেন না, তাহলে আপনাদের সঙ্গে আর যোগাযোগ করব না। অন্য জায়গায় বেশি টাকায় বিক্রি করে দেব। আমাদের এই কাজে এখানে দয়া-মায়া বলে কিছু নেই। মোবাইল ফোনে এভাবেই মুক্তিপণ দাবি করছিল অপহরণকারী চক্রের সদস্যরা।

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বাকলজোড়া ইউনিয়নের সিংহা চারিগাঁওপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হেলিমের ছোট ছেলে আরিফ মিয়া (১০) গত শুক্রবার নিজ বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে চট্টগ্রামের রাউজান এলাকার বাইতুল নূর দারুসুন্নাহ মাদরাসা থেকে বের হয়। কিন্তু সেদিন থেকেই সে নিখোঁজ হয়ে যায়। তার সঙ্গে থাকা অন্য সঙ্গীরা বাড়ি ফিরলেও আরিফ আর ফেরেনি। সন্তানকে না পেয়ে হতাশায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পরও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। এ ঘটনায় রাউজান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

অপহরণের তিন দিন পর সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে ফিরে আসে কিশোর আরিফ। সে জানায়, মাদরাসা থেকে বের হওয়ার পর দুই ব্যক্তি তাকে একটি সিএনজিতে করে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে একটি বাড়িতে রাখা হয় সেখানেই তাকে খাওয়া-দাওয়াসহ সব দেয়। পরে পরিবারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলিয়েও দেয়। সব কথা তাদের শেখানো। পরে টাকা পাঠানোর পর বাড়ি আসতে তাকে রফরফ বাসে উঠিয়ে দেয় চক্রের সদস্যরা।

আরিফের বাবা আব্দুল হেলিম জানান, শুক্রবার নিখোঁজের শনিবার দুপুরে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনের অপর একজন ব্যক্তি জানায় ছেলে তাদের কাছে আছে। ছেলেকে ফিরে পেতে প্রথমে ৬০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। দরিদ্র বাবার শূন্য পকেটেও দর কষাকষির একপর্যায়ে ৩০ হাজার টাকায় চুক্তি হয়। পরে ঋণ করে ২৫ হাজার টাকা অপহরণকারীদের দেওয়া একটি বিকাশ নম্বরে পাঠান তিনি। ৫ হাজার টাকা কম কেন এ নিয়েও আপত্তি করে।

আব্দুল হেলিম আরো বলেন, আমি গরিব মানুষ বলছি তাও টাকা ছাড়া আমার ছেলেকে ছাড়ল না। ছেলেকে বাসে তুলে দিছিল বলছে কিন্তু বিশ্বাস করতে পারছিলাম না।

এদিকে এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর পুরো গ্রামে থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।  মানিক মিয়া নামের একজন বলেন, বড় ছেলে অটোরিকশা চালিয়ে যা ইনকাম করেন সেটা দিয়ে কোনো রকমে চলত পরিবারটির সংসার। দরিদ্র এই পরিবারের কাছে ২৫ হাজার টাকা যেন ২৫ লাখ টাকার সমান। 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, চট্টগ্রামের থানায় জিডি করা হয়েছিল কিন্তু যে সময় হাতে ছিল তারা গুরুত্ব দিলে অপহরণকারী চক্রকে ধরা সম্ভব ছিল। তবে এখন অপহরণে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। এই চক্রকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা না হলে ভবিষ্যতে আরো অসহায় পরিবার এমন ঘটনার শিকার হতে পারে।

ভাঙা স্ল্যাবে পড়ে শিশুর মৃত্যু

এই দুর্ঘটনায় আমার দায় রয়েছে : কুসিক প্রশাসক

কুমিল্লা (উত্তর) প্রতিনিধি
এই দুর্ঘটনায় আমার দায় রয়েছে : কুসিক প্রশাসক
ছবি: কালের কণ্ঠ

স্মৃতির মৃত্যুর ঘটনায় নিজের দায়ের কথা স্বীকার করে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেছেন ‘এই দুর্ঘটনার দায় অবশ্যই আমার রয়েছে। স্মৃতির মৃত্যুর পর রাতে ঘুমাতে পারিনি। বারবার তার মুখটা চোখে ভেসে উঠেছিল। নিজের মেয়ের কথাও মনে হয়েছে। একটি শিশুর এমন নির্মম মৃত্যু মেনে নেওয়া খুব কষ্টের। সন্তান হারানোর কষ্ট কোনো কিছু দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়।

সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যায় নগরীর মফিজাবাদ কলোনিতে গিয়ে স্মৃতির বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করে গণমাধ্যমকে এসব কথা বলেন তিনি। এসময় শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সান্ত্বনা দেন পরে স্মৃতির বাবা মো. বিল্লাল হোসেনের হাতে নগদ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা তুলে দেন তিনি এবং ভবিষ্যতে তার যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার আশ্বাস দেন। 

স্মৃতির মা-বাবার সঙ্গে দেখা করতে এসে কুসিক প্রশাসক আরো বলেন, নগরীর সব সড়কের ভাঙা ও ঝুঁকিপূর্ণ স্ল্যাবের তালিকা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে কাজ শুরু করা হয়েছে। নগরীতে আর কোনো ভাঙা স্ল্যাব থাকবে না। অতীতের অপরিকল্পিত নগরায়নের খেসারত দিতে হচ্ছে এখন। বছরের পর বছর পরিকল্পনাহীন উন্নয়ন ও অবহেলার কারণে নগরবাসীকে নানা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। 

প্রসঙ্গত, গত রবিবার রাতে কুমিল্লা নগরীর ছোটরা এলাকায় বৃষ্টির পানিতে ঢেকে যাওয়া একটি ড্রেনের ভাঙা স্ল্যাবে পড়ে পানিতে ভেসে যায় ৮ বছর বয়সী মাহফুজা আক্তার স্মৃতি। পরে প্রায় ১৫ মিনিট পর তাকে মৃত উদ্ধার করা হয়। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় কুমিল্লাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে নগরীর ড্রেন ও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দেয় এ মর্মান্তিক মৃত্যু।
 

প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় অংশ নিলেন পটিয়ার সাবেক মেয়র

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় অংশ নিলেন পটিয়ার সাবেক মেয়র
ছবি : কালের কণ্ঠ

মায়ের জানাজায় অংশ নিতে প্যারোলে সাময়িক মুক্তি পেয়েছেন চট্টগ্রামের পটিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আইয়ুব বাবুল। সোমবার (২২ জুন) রাতে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে পটিয়ায় আনা হয়। জানাজা ও দাফন শেষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাকে আবার কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

পারিবারিক ও প্রশাসন সূত্র জানায়, আইয়ুব বাবুলের মা আমজুমান আরা বেগম (৭৫) সোমবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে পটিয়া পৌরসদরের ওয়াপদা রোড এলাকার নিজ বাসভবনে মারা যান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনি ও হৃদরোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন।

মায়ের মৃত্যুর পর শেষবারের মতো মুখ দেখা এবং জানাজায় অংশ নেওয়ার সুযোগ চেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়। আবেদনের প্রেক্ষিতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক পাঁচ ঘণ্টার জন্য তাকে প্যারোলে মুক্তির অনুমতি দেন।

প্রশাসন সূত্র জানায়, রাত ৯টা থেকে পাঁচ ঘণ্টার জন্য তাকে সাময়িক মুক্তি দেওয়া হয়। পরে পুলিশি নিরাপত্তায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পটিয়া পৌরসদরের সুচক্রদণ্ডী এলাকায় আনা হয়।

রাত সাড়ে ৯টার দিকে পটিয়া আদালত জামে মসজিদ চত্বরে আমজুমান আরা বেগমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশ নেন আইয়ুব বাবুল। পরে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজা ও দাফন শেষে রাত সাড়ে ১০টার দিকে আইয়ুব বাবুলকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়।

জানাজায় অংশ নিয়ে আইয়ুব বাবুল মায়ের রুহের মাগফিরাত কামনায় সবার কাছে দোয়া চান। তিনি বলেন, ‘মহান রাব্বুল আল-আমিন যেন আমার মাকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করেন।’

স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন পর আইয়ুব বাবুলকে বাড়িতে দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এ সময় স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জিয়া বলেন, ‘প্যারোলে সাময়িক মুক্তির আদেশ পাওয়ার পর চট্টগ্রাম পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে তাকে পটিয়ায় আনা হয়। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার মধ্যেই তিনি জানাজায় অংশ নেন এবং নির্ধারিত সময় শেষে আবার কারাগারে ফিরে যান।’

প্রসঙ্গত, আইয়ুব বাবুল বর্তমানে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে থাকা মোট ছয়টি মামলার মধ্যে চারটিতে তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছিলেন। পরে চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

সেতু এখন মরণফাঁদ! | কালের কণ্ঠ