kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

সৌখিন মৎস্যজীবীদের 'পলো উৎসব'

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি   

৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৭:৫৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সৌখিন মৎস্যজীবীদের 'পলো উৎসব'

জেলার কয়েকটি সর্ববৃহৎ বড় বিলের মধ্যে রুহুল বিল অন্যতম। সরকারিভাবে বিলের মাঝখানে মৎস্য অভয়াশ্রম করায় দেশীয় নানা প্রজাতির মাছ বাস করে এই বিলে। এ কারণে আশপাশের অন্তত ৩০টি গ্রামের কয়েক শ মৎস্যজীবী শতাধিক একর আয়তনের এই বিলে মাছ শিকার করে সারাবছর জীবিকা নির্বাহ করে। তবে বাংলা বছরের অগ্রাহায়ণ মাসের সুবিধামতো শনি ও মঙ্গলবারে এই বিলে মৎস্য শিকার উৎসব পালিত হয়। গ্রামের ভাষায়় যাকে 'পলো বাওয়া' অথবা 'বাউৎ' উৎসব বলে। এই দিনে নানা শ্রেণি-পেশার ও বিভিন্ন বয়সের হাজারো মানুষ মাছ শিকার করতে আসেন এই বিলে। তবে এরা কেউই পেশাদার মৎস্যজীবী নয়। অনেকটা শখের বশবর্তী হয়ে মাছ শিকারে আসেন তারা। আর এই মাছ শিকার উৎসব দেখতে মানুষের ঢল নামে বিল পাড়ে। মঙ্গলবার পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার অন্তর্গত রুহুল বিলে এমনই এক উৎসবে মেতেছিল হাজারো সৌখিন মৎস্যজীবী। 

পূর্বঘোষণা অনুযায়ী এ দিন সকাল থেকেই পাবনা ও আশপাশের জেলা থেকে সহস্রাধিক মানুষ পলো, উড়ালজাল, লাঠিজাল, পাতাজালসহ নানা ধরনের মাছ শিকারের সরঞ্জামাদি নিয়ে বিল এলাকায় হাজির হতে থাকে। পরে শীতের সকালে প্রচণ্ড ঠাণ্ডা পানি উপেক্ষা করে সকলে একজোট হয়ে বিভিন্ন ধরনের ধ্বনি দিয়ে বিলে নেমে পড়ে। গ্রামের ভাষায় এসব সৌখিন মৎস্য শিকারীদের 'বাউৎ' বলা হয়। একপর্যায়ে বাউতের দল বিভিন্ন ভাগে ভাগ হয়ে বিলের বিভিন্ন অংশে মাছ ধরার প্রচেষ্টা চালায়। তবে বিলের মাঝখানে বেশি পানি এবং অভয়াশ্রম থাকায় সেখানে কেউ মাছ ধরতে যেতে পারেন না। এতে অভয়াশ্রমটি মাছের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলে এই মাছ শিকার উৎসব। দেশি প্রজাতির রুই, কাতলা, বোয়াল, শোল ও মাগুরসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরা পড়ে মৎস্য শিকারীদের ফাঁদে। তবে এ বছর অধিকাংশ বাউতকে খালি হাতেই বাড়ি ফিরতে দেখা যায়। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের যথাযথ নজরদারি না থাকায় অবৈধ পন্থায় বিলের বেশির ভাগ বড় আকারের মাছ পেশাদার মৎস্যজীবীরা আগেই মেরে নিয়েছেন। তাই আজ বাউৎ উৎসবে বড় মাছ পাওয়া যায়নি।

মাছ শিকারে অংশগ্রহণকারী নাটোরের নুরুল ইসলাম বলেন, বিলের পানিতে পলো দিয়ে মাছ ধরা আমার একটি নেশা। তাই আশপাশের বিভিন্ন জেলার কোনো বিলে বাউৎ উৎসব হলেই আমি সেখানে অংশগ্রহণের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করি। গত প্রায় ৬-৭ বছর ধরে আমি এই রুহুল বিলে মাছ শিকার করতে আসি। তবে প্রতিবছরই মাছ নিয়ে বাড়ি ফিরলেও এ বছর খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। রাজশাহী থেকে মাছ মারতে আসা শফিকুল ইসলাম বলেন, ছোটবেলা থেকেই মাছ ধরা আমার শখ। সেই শখের বশবর্তী হয়েই আজ পাবনার এই বিলে পলো নিয়ে মাছ ধরতে এসেছি।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা মৎস্য অফিসের মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আলী আযম বলেন, জেলার বড় বিলগুলোর মধ্যে রুহুল বিল অন্যতম। প্রতিবছর এ সময়ে এই বিলে মৎস্য শিকার উৎসবে মানুষের ঢল নামে। তবে এ বছর বিলে মাছের পরিমাণ কম। পেশাদার মৎস্যজীবীরা আগেই মাছ মেরে নেওয়ায় মাছের এই সংকট। তবে এতে সৌখিন মৎস্যজীবীদের আগ্রহের কোনো ঘাটতি পড়বে না। এ ছাড়া আগামীতে যেন মৌসুমের আগেই কেউ মাছ মেরে নিতে না পারে সে ব্যাপারে নজরদারি বাড়ানো হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা