• ই-পেপার

সাতক্ষীরায় কৃষকের গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন

চলন্ত ফেরি থেকে পদ্মায় ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ নারী

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
চলন্ত ফেরি থেকে পদ্মায় ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ নারী
মোছা. লাইজু। সংগৃহীত ছবি

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌপথে চলন্ত ফেরি থেকে পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন মোছা. লাইজু (৩৯) নামের এক নারী।

শনিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যার দিকে পাটুরিয়া থেকে ছেড়ে আসা দৌলতদিয়া ঘাটগামী ‘কুমিল্লা’ নামের একটি ফেরিতে এ ঘটনা ঘটে।

লাইজু ঢাকার কামরাঙ্গিরচর এলাকার মো. ফোরকান মিয়ার স্ত্রী। তার গ্রামের বাড়ি বরগুনা সদর থানায়।

নৌ পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন যাবৎ ফোরকান ও লাইজুর মধ্যে কলহ চলছিল। শনিবার বিকেলে স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে কামরাঙ্গীচরের বাসা থেকে বের হন লাইজু। পরে ওই দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটে এসে দৌলতদিয়া ঘাটগামী ‘কুমিল্লা’ নামের একটি ফেরিতে ওঠেন তিনি। ফেরিটি মাঝনদীতে পৌঁছাতেই হঠাৎ ফেরির উপর থেকে ঝাপিয়ে পড়ে পদ্মায় নিখোঁজ হন লাইজু। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি ঘাট কর্তৃপক্ষ বিআইডাব্লিউটিসি ও নৌ পুলিশকে জানানো হয়।

দৌলতদিয়া ঘাট নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দৌলতদিয়া ঘাট থেকে স্পিডবোট নিয়ে মাঝনদীত গিয়ে প্রবল স্রোতের মুখে উদ্ধার তৎপরতা চালায় নৌ পুলিশ। কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও পদ্মায় নিখোঁজ লাইজু নামের ওই নারীর কোনো সন্ধান মেলেনি।

চুনারুঘাটে ৩০০ ঘনফুট অবৈধ বালু জব্দ করল প্রশাসন

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
চুনারুঘাটে ৩০০ ঘনফুট অবৈধ বালু জব্দ করল প্রশাসন

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের দেওরগাছ এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে প্রায় ৩০০ ঘনফুট অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু জব্দ করেন।

শনিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টার দিকে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানের খবর পেয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে অবৈধভাবে উত্তোলিত প্রায় ৩০০ ঘনফুট বালু জব্দ করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরী। এসময় চুনারুঘাট থানা-পুলিশের এরটি টিম উপজেলা প্রশাসনকে সার্বিক সহযোগিতা করেন।

ইউএনও গালিব চৌধুরী বলেন, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ, নদী ও পরিবেশ রক্ষা এবং অবৈধ বালু উত্তোলন প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিত ও কঠোরভাবে অব্যাহত থাকবে।

৩৬ দিন সাগরে নিখোঁজ, কাঁচা মাছ খেয়ে প্রাণে বাঁচলেন শ্রীলঙ্কান বাবা-ছেলে

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার
৩৬ দিন সাগরে নিখোঁজ, কাঁচা মাছ খেয়ে প্রাণে বাঁচলেন শ্রীলঙ্কান বাবা-ছেলে
ছবি: কালের কণ্ঠ

খাবার বলতে কেবল কাঁচা মাছ, আর তৃষ্ণা মেটাতে লবণাক্ত সমুদ্রের পানি। এসব খেয়েই টানা ৩৬ দিন সাগরে ভেসে থাকা শ্রীলঙ্কার এক বাবা ও তার ছেলেকে জীবিত উদ্ধার করেছেন কক্সবাজারের মহেশখালীর জেলেরা।

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার জেলেদের উদ্ধার অভিযানে বঙ্গোপসাগর থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়া শ্রীলঙ্কার বাবা-ছেলে দুই জেলের দাবি, মাছ ধরতে গিয়ে ইঞ্জিন বিকল হয়ে টানা ৩৬ দিন সাগরে ভেসেছিলেন। এসময় বেঁচে থাকার জন্য লবণাক্ত সমুদ্রের পানি পান করেন এবং কাঁচা মাছ খেয়ে জীবন রক্ষা করেন।

উদ্ধারকারী জেলেরা জানান, শুক্রবার (২৪ জুলাই) বঙ্গোপসাগরের শুলিরধার এলাকায় মাছ ধরতে যাওয়ার পথে একটি ইঞ্জিন বিকল ফিশিংবোট ভাসতে দেখেন তারা। কাছে যেতেই বোটে থাকা দুই ব্যক্তি হাত নেড়ে সাহায্যের আকুতি জানান। ভাষা বুঝতে না পারলেও তাদের অসহায় অবস্থা দেখে দ্রুত নিজেদের ফিশিংবোটে তুলে নেন। পরে শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে তাদের মহেশখালী উপকূলে নিয়ে আসা হয়।

উদ্ধার হওয়া দুই ব্যক্তি হলেন শ্রীলঙ্কার ডেভিনুওয়ারা এলাকার বাসিন্দা এস এইচ চামিন্দা (৫১) এবং তার ছেলে সাউন্ডা হান্নাদিগিপিয়াওয়াটিং (৩০)।

উদ্ধারকারী ফিশিংবোটের মালিক জিয়াউর রহমান বলেন, ‘মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই আমরা তাদের উদ্ধার করেছি। প্রায় ৫ লাখ টাকার মাছ ধরার প্রস্তুতি নিয়ে সাগরে গিয়েছিলাম। কিন্তু তাদের অসহায় অবস্থা দেখে আর মাছ ধরা হয়নি। সবকিছু বাদ দিয়ে তাদের নিয়ে খালি হাতে উপকূলে ফিরে এসেছি।’ তিনি বলেন,  সরকারের কাছে অনুরোধ, দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শ্রীলঙ্কার এই বাবা-ছেলেকে নিরাপদে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হোক।

উদ্ধার হওয়া দুই জেলের ভাষ্যমতে, প্রায় ৩৬ দিন আগে মাছ ধরার সময় তাদের ফিশিংবোটের ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এরপর স্রোতের টানে তারা গভীর সাগরে ভেসে যেতে থাকেন। দীর্ঘ সময় কোনো ধরনের সহায়তা না পেয়ে বেঁচে থাকার জন্য লবণাক্ত সমুদ্রের পানি পান করেন এবং সমুদ্রে ধরা কাঁচা মাছ খেয়ে দিন কাটান।

মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল সোলতান জানান, উদ্ধার হওয়া দুই ব্যক্তি বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছেন। তারা শ্রীলঙ্কার নাগরিক বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের পরিচয়, ৩৬ দিন সাগরে ভেসে থাকার দাবি এবং ঘটনার অন্যান্য তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। উদ্ধার হওয়া দুই শ্রীলঙ্কান নাগরিকের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য ইতিমধ্যে শ্রীলঙ্কা দূতাবাসে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিকল না হয়েও সরাসরি লেনে দাঁড়িয়ে ছিল বাস, পরপর দুর্ঘটনায় নিহত ৩

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি
বিকল না হয়েও সরাসরি লেনে দাঁড়িয়ে ছিল বাস, পরপর দুর্ঘটনায় নিহত ৩

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ধামরাইয়ে সরাসরি লেনে খামখেয়ালিভাবে প্রায় এক ঘণ্টা একটি যাত্রীবাহী বাস দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। এতে পেছন থেকে একে একে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে একটি প্রাইভেট কার, একটি কাভার্ড ভ্যান, দুইটি মোটরসাইকেল ও আরেকটি বাস। এতে ঘটনাস্থলে ২ জন ও হাসপাতালে আরো ১ জন নিহত হয়েছেন।

শনিবার (২৫ জুলাই) ওই এলাকার ইসলামপুর মহিলা মাদরাসার সামনে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার নালী ইউনিয়নের রূপসা বাজারের ব্যবসায়ী আশুতোষ সাহার ছেলে সুজয় সাহা ও তার ফুপাতো ভাই সাভারের আশুলিয়া থানার ডেন্ডাবর এলাকার জগন্নাথ সাহার ছেলে আবাস সাহা। আবাস সাহা মানিকগঞ্জ দেবেন্দ্র কলেজের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ও সুজয় সাহা এবারের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, মহাসড়কের ইসলামপুরে সরাসরি লেনে একটি যাত্রীবাহী বাস দাঁড় করিয়ে রাখা ছিল। বাসটি দেখে পেছন থেকে আসা একটি প্রাইভেট কার হঠাৎ ব্রেক করলে তার পেছনের একটি কাভার্ড ভ্যান গতি কমিয়ে থেমে যায়। এসময় কাভার্ড ভ্যানের পেছন থেকে দুটি মোটরসাইকেলের পর পেছনে থেকে দ্রুত গতিতে আসা স্বাধীনতা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেল দুটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে মোটরসাইকেল আরোহী সুজয় সাহা ও আবাস সাহা নিহত হন। অন্য মোটরসাইকেল আরোহী সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে মারা যান।

সাধারণত দেখা যায়, বিকল গাড়ির পেছনে কেবল একটি গাছের ডাল ঝুলিয়ে দিয়েই ‘বিকল হওয়ার’ বার্তা দেওয়া হয়ে থাকে। ফলে দ্রুত গতির সড়কে বুঝা যায় না যে, সামনের গাড়িটি বিকল।

পুলিশ ও পরিবহন খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রধান সড়কগুলোর সরাসরি লেনে থেমে থাকা যানবাহনের পেছন থেকে ধাক্কা খাওয়ার ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে।

সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদ জানান, রাস্তার পাশে থেমে ও সরাসরি লেনে দাঁড় করিয়ে রাখা গাড়ির পেছনে চলন্ত গাড়ির ধাক্কায় হতাহতের ঘটনা বেড়েই চলছে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে। তবে শনিবার যে বাসটির কারণে তিনটি জীবন প্রদীপ নিভে গেল, সেই বাসটি বিকল ছিল না। ফলে পুলিশ বাসটি জব্দ করতে পারেনি। দুর্ঘটনার পরপরই চালক বাস নিয়ে পালিয়ে যায়।

সরাসরি লেনে দাঁড় করিয়ে রাখা বাসটি উদ্ধার ও চালককে গ্রেপ্তার করে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীসহ স্থানীয়রা।

সাতক্ষীরায় কৃষকের গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন | কালের কণ্ঠ