• ই-পেপার

মিষ্টির বাক্সে পেঁয়াজ নিয়ে \'ফিরতি দাওয়াতে\' বাবার বাড়ি নববধূ

লালপুর

অবৈধভাবে মাটিকাটায় ইটভাটা মালিকসহ গ্রেপ্তার ২, ভেকু-ট্রাক জব্দ

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
অবৈধভাবে মাটিকাটায় ইটভাটা মালিকসহ গ্রেপ্তার ২, ভেকু-ট্রাক জব্দ
সংগৃহীত ছবি

নাটোরের লালপুরে আবাদি জমির মাটি বিক্রির করার অভিযোগে ইটভাটা মালিকসহ দুই জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার দুই জনকে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী লালপুর থানায় মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত একটি এক্সকাভেটর (ভেকু) ও মাটি পরিবহনের একটি ট্রাক জব্দ করা হয়।

গ্রেপ্তার দুই জন হলেন– ইটভাটা মালিক মো. রফিকুল ইসলাম (৪০) এবং ভেকু চালক মো. মেহের আলী (৪০)।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৩ জুন) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করেন এস আই সঞ্জয় কুমার। সেখানে দেখেন এক্সকাভেটর (ভেকু) দিয়ে জমির টপ সয়েল কেটে তা বিক্রির উদ্দেশে ট্রাকে তোলা হচ্ছে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দুই জনকে গ্রেপ্তার ও সরাঞ্জাম জব্দ করা হয়। 

এ বিষয়ে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, আবাদি জমির মাটি অবৈধভাবে কাটা ও পরিবহনের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান।

বরগুনায় চিরকুট লিখে পুলিশ সদস্যের আত্মহত্যা

বরগুনা ও আমতলী প্রতিনিধি
বরগুনায় চিরকুট লিখে পুলিশ সদস্যের আত্মহত্যা

বরগুনার তালতলীতে চিরকুট লিখে মো. ফারুক হোসেন (৫২) নামের এক পুলিশ কনস্টেবল আত্মহত্যা করেছেন। রবিবার (১৪ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত ফারুক হোসেন ঝালকাঠী জেলার রাজাপুর উপজেলার আংগারিয়া গ্রামের রতন আলী গাজীর ছেলে। তিনি বাংলাদেশ পুলিশ-এর সদস্য হিসেবে তালতলী থানায় কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ফারুক হোসেন শনিবার রাতের ডিউটি শেষ করে রোববার সকালে পুলিশ ব্যারাকে ফিরে যান। পরে ব্যারাকে অবস্থানকালে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

পরে পুলিশ ব্যারাক থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়। সেখানে তিনি লেখেন, ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। আমি আমার নিজের ইচ্ছায় মৃত্যু মেনে নিচ্ছি। অযথা কাউকে হয়রানি না করা হয়। আর আমার অনুরোধ বাড়ীর কাছে দয়া করে জানাবেন যে, সে স্ট্রোক করে মৃত্যু বরণ করেছে। আমার ডেথ সার্টিফিকেটের সাথে পাঠাইয়া দিবে। বাড়ি জানালে কোথায় তারা আসবে নিশ্চিত করে জানাবে যাহাতে তারা হয়রানি না হয় এবং মহিলারা যাতে না আসে দয়া করে বলে দিবেন।’ 

চিরকুটে তিনি আরো লেখেন ‘আমার লাশ পুরান বাড়িতে দাফন করবে। আমার স্ত্রীকে যেন আগে না জানায় তাহলে সে মারা যাবে।’ পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের কাছে মৃত্যুর খবর কীভাবে জানাতে হবে, সে বিষয়ে নির্দেশনাও উল্লেখ করেন।

তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মো. সোহাগ বলেন, প্রাথমিকভাবে পাওয়া গেছে তিনি গ্যাসের ট্যাবলেট সেবন করেছেন। পরে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

আমতলী সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার মো.তারিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, রাতের ডিউটি শেষ করে সকালের দিকে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে ঠিক কী কারণে এই চরম পথ বেছে নিয়েছেন, চিরকুটে বিশেষ কিছু লেখা নেই, কেবল পরিবারের বিভিন্ন সদস্যকে উদ্দেশ্য করে কিছু কথা লেখা রয়েছে। 

তিনি আরো বলেন, কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বেনাপোল স্থলবন্দর

চলছে শ্রমিকদের কর্মবিরতি, পণ্য ওঠানো-নামানো বন্ধ

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি
চলছে শ্রমিকদের কর্মবিরতি, পণ্য ওঠানো-নামানো বন্ধ
বেনাপোল স্থলবন্দরে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ ও মজুরি বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে রবিবার সকাল থেকে কর্মবিরতি পালন করছেন হ্যান্ডলিং শ্রমিকরা। এ উপলক্ষে সকালে বন্দরে শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: কালের কণ্ঠ

যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছেন হ্যান্ডলিং (পণ্য ওঠানো-নামানো) শ্রমিকরা। প্রয়োজনীয় ক্রেন ও ফর্কলিফট সরবরাহ, মজুরি বৃদ্ধি, শ্রমিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে রবিবার (১৪) সকাল থেকে এ কর্মসূচি পালন করছেন তারা। 

কর্মবিরতির ফলে বন্দরে আমদানি করা বিভিন্ন পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজ বন্ধ রয়েছে। 

শ্রমিক নেতারা জানান, বন্দর এলাকায় ভারী যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য পণ্য ওঠানো-নামানোর জন্য ক্রেন ও ফর্কলিফটের ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু চাহিদার তুলনায় এসব যন্ত্রপাতির সংখ্যা অনেক কম। ফলে শ্রমিকদের গভীর রাত পর্যন্ত, কখনো কখনো সকাল পর্যন্ত কাজ করতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা সমাধানের জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

শ্রমিকদের অভিযোগ, সম্প্রতি সচল থাকা কয়েকটি ক্রেন ও ফর্কলিফটও বিকল হয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরো সংকটাপন্ন হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় সাত দিন আগে নতুন যন্ত্রপাতি সরবরাহের জন্য আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন কোনো ক্রেন বা ফর্কলিফট  বন্দরে না আসায় পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ (রবিবার) সকাল থেকে সব ধরনের পণ্য ওঠানো-নামানো কাজ বন্ধ রাখেন শ্রমিকরা।

দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর হিসেবে পরিচিত বেনাপোল বন্দরে প্রতিদিন বিপুলপরিমাণ পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়। শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে আমদানি করা পণ্যের খালাস ব্যাহত হচ্ছে। এতে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

শ্রমিক নেতাদের দাবি, বর্তমানে তারা অত্যন্ত কম মজুরিতে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৪ বছর আগে প্রতিটন পণ্যে  শ্রমিকদের মজুরি ছিল ১৮ টাকা, যা এখনো অপরিবর্তিত। অথচ এর মধ্যে বাজারমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েক গুণ বেড়েছে। শ্রমিকরা বর্তমানে প্রতিটনে ২৮ থেকে ৩৫ টাকা মজুরি নির্ধারণের দাবি জানান।

শ্রমিকরা আরো অভিযোগ করেন, বর্তমানে যেসব সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে, তার বেশিরভাগই পুরনো ও জরাজীর্ণ। ঝুঁকিপূর্ণ এসব যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে কাজ করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দেয়। তারা বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখে না এবং তাদের কল্যাণ ও সুযোগ-সুবিধার বিষয়েও কোনো উদ্যোগ নেয় না। এমনকি বেনাপোলে প্রতিষ্ঠানটির স্থায়ী কোনো কার্যালয়ও নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শ্রমিকদের ক্ষোভের অন্যতম কারণ সাম্প্রতিক একটি দুর্ঘটনা। প্রায় দুই মাস আগে একটি ক্রেনের তার ছিড়ে পড়ায় এক শ্রমিক নিহত এবং একজন আহত হন। ওই দুর্ঘনার পর শ্রমিকরা ক্ষতিপূরণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে আন্দোলনে নামেন। ওই সময় বন্দর কর্তৃপক্ষ নিহত শ্রমিকের পরিবার এবং আহত শ্রমিকের দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দেয়। দুই মাস পেরিয়ে গেলেও বাস্তবে কোনো সহায়তা দেওয়া হয়নি বলে দাবি শ্রমিক নেতাদের।

বেনাপোল হ্যান্ডলিং শ্রমিক (৯২৫) ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সহিদ আলী বলেন, নতুন ক্রেন ও ফর্কলিফট সরবরাহ, ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ, শ্রমিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দুর্ঘটনায় হতাহত পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা এবং শ্রমিক কল্যাণমূলক সুযোগ-সুবিধার দাবিতে তারা এ কর্মবিরতি পালন করছেন।

আজ রবিবার কর্মসূচি চলাকালে শ্রমিক সমাবেশে বক্তব্য দেন ইউনিয়ন ৯২৫-এর সাধারণ সম্পাদক মো. সহিদ আলী, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তবিবুর রহমান তবি, ইউনিয়ন ৮৯১-এর সভাপতি মাকসুদুর রহমান রিন্টু, দপ্তর সম্পাদক গোলাম মোস্তফা প্রমুখ।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বে অবহেলা সহ্য করা হবে না : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রতিনিধি
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বে অবহেলা সহ্য করা হবে না : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বে অবহেলা সহ্য করা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, আমরা সবাই একটি পরিবার। অতীতের মতো দায়িত্বহীনতা আর চলবে না। হাসপাতালের সেবার মান নিশ্চিত করতে হবে, অনথ্যায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

রবিবার নারায়ণগঞ্জ শহরের ১০০ সরকারি জেনারেল হাসপাতালে  আইসিইউ ইউনিট উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ১ দশমিক ২ শতাংশ বরাদ্দ দিয়ে ৬৯ হাজার কোটি টাকার বাজেট রাখা হয়েছে। এই অর্থ জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ব্যয় করা হবে। ইতিমধ্যে দেশের ১০টি জেলায় নতুন আইসিইউ ইউনিট চালু করা হয়েছে, যাতে রোগীদের সামান্য শ্বাসকষ্টের জন্য রাজধানীমুখী হতে না হয়।

হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, একজন মন্ত্রী আসবে জেনেও আপনারা হাসপাতাল পরিষ্কার রাখেননি। তিন মাস সময় দিয়েছি। এখন আর অজুহাত নয়। আগামী তিন দিনের মধ্যে হাসপাতালের পরিবেশ ও শৃঙ্খলায় দৃশ্যমান পরিবর্তন না হলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে।

ডেঙ্গু মোকাবেলায় জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন ও স্বাস্থ্য বিভাগকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু হাসপাতাল প্রস্তুত রাখলেই হবে না, পুরো শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি ডাক্তারাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, রোগীদের অযথা রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে রেফার না করে স্থানীয় পর্যায়েই উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা সবাই একটি পরিবার। জনগণের স্বাস্থ্যসেবায় যার যা প্রয়োজন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।

মিষ্টির বাক্সে পেঁয়াজ নিয়ে \'ফিরতি দাওয়াতে\' বাবার বাড়ি নববধূ | কালের কণ্ঠ