• ই-পেপার

টঙ্গীতে মাদরাসাছাত্রীকে তিনদিন আটকে রেখে ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৪

কুড়িগ্রামে বাড়ছে নদ-নদীর পানি, নিম্নাঞ্চল প্লা‌বিত হওয়ার শঙ্কা

আঞ্চ‌লিক প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রামে বাড়ছে নদ-নদীর পানি, নিম্নাঞ্চল প্লা‌বিত হওয়ার শঙ্কা

উজানের ঢল ও কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে কুড়িগ্রামের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। জেলার সব নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও তিস্তা তীরবর্তী চরাঞ্চলে বন্যা আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙনও শুরু হয়েছে। 

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছে, আগামী ৭২ ঘণ্টায় তিস্তার পানি আরো বাড়তে পারে এবং নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কুড়িগ্রাম পাউবোর তথ্যমতে, মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল ৬টায় তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ১৩ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৩৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। একই সময়ে ধরলা নদীর পানি তালুক শিমুলবাড়ী পয়েন্টে ৩ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৯৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে এবং ব্রহ্মপুত্র নদ নুনখাওয়া পয়েন্টে দুই সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার এক দশমিক ৬৬ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। সকাল ৯টায় দুধকুমার নদের পানি পাটেশ্বরী পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬৩ সেন্টিমিটার নিচে ছিল।

পানি বাড়তে শুরু করায় তিস্তা তীরবর্তী চরাঞ্চলের নিচু জমিগুলো তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। এতে কৃষকদের মধ্যে ফসলহানির শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের চর জুয়ান সতরা এলাকার কৃষক আবদুস ছালাম বলেন, পানি বাড়ার কারণে চরাঞ্চলের নিচু জমিগুলো তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। এতে মরিচ ও পটলক্ষেত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের চর গতিয়াশাম এলাকার কৃষক ছাবেদ আলী বলেন, বাদামক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় তড়িঘড়ি করে বাদাম তুলে নিয়েছি। তবে পাটক্ষেতসহ অন্যান্য সবজিক্ষেতে ইতিমধ্যে পানি ঢুকে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নদ-নদীর পানি বাড়তে থাকায় চরাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকটি স্থানে নদীভাঙন শুরু হওয়ায় ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন মানুষ।

কুড়িগ্রাম পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও এখনো সব নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। তবে চরাঞ্চলের নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা আছে। তিস্তার পানি আরো বৃদ্ধি পেয়ে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে। এতে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ধুনট

ভয়াবহ রূপ নিয়েছে যমুনার ভাঙন

কাজে আসছে না টিউব-জিও ব্যাগ টেকসই সমাধান দাবি স্থানীয়দের

রফিকুল আলম, ধুনট (বগুড়া)
ভয়াবহ রূপ নিয়েছে যমুনার ভাঙন
বগুড়ার ধুনট উপজেলার শহড়াবাড়ি এলাকার যমুনা নদীর ঘাটে। মঙ্গলবার সকালে তোলা। -কালের কণ্ঠ

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর অব্যাহত ভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বালুভর্তি জিও ব্যাগ ও টিউব ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করলেও আজে আসছে না তা। 

এদিকে, ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। এতে নদীপারের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।  

স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (২৩ জুন) ভোরে উপজেলার শহড়াবাড়ি যমুনা নদীর ঘাট এলাকায় জিও ব্যাগ ও টিউব ফেলার স্থানে ফের ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে প্রায় ৫৫ মিটার অংশ জিও ব্যাগ ও টিউবসহ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এ নিয়ে গত তিন দিনে প্রায় ১৫০ মিটার অংশ ভাঙনের শিকার হয়েছে। ভাঙন ঠোকাতে গত তিন দিন ধরে ওই স্থানে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ও টিউব ফেলা অব্যাহত রয়েছে। নদীপারের মানুষের দাবি এখন ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান।

সূত্র জানায়, উপজেলার ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের শহরাবাড়ি গ্রামে গত বছরের অক্টোবরে যমুনা নদীর আকস্মিক ভাঙনে সমতল ভূমিসহ ৯টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ওই সময় স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, অবৈধভাবে বালু তোলার কারণে যমুনা নদীর তলদেশ ফাঁকা হয়ে যাওয়ায় পানির প্রবল স্রোতে ঘূর্ণাবর্ত সৃষ্টি হয়। এ কারণে এমন ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে। পরে ভাঙনকবলিত তীর ধরে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ও টিউব ফেলে ভাঙন রোধ করা হয়।

সম্প্রতি যমুনা নদীতে আবারো পানি বেড়ে যাওয়ায় শুক্রবার (১৯ জুন)  থেকে শহরাবাড়ি ও বানিয়াজান স্পারের মধ্যবর্তী কয়েকটি স্থানে ভাঙন দেখা দেয়। প্রবল স্রোতে ঘূর্ণাবর্ত সৃষ্টি হয়ে ঢেউ নদীপারে আছড়ে পড়ছে। এতে জিও ব্যাগ ফেলে তীর সংরক্ষণ করা এলাকায়ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

নদী ভাঙনের খবর পাওয়ার পর পরই স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তার নির্দেশনায় পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙন রোধে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ও বিশেষ টিউব ফেলার কাজ পরিচালনা করছে। 

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মালেক বলেন, ‘ভাঙন শুরু হওয়ার পরই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বালুভর্তি বিশেষ টিউব ভাঙন রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এ কারণে নদী ভাঙনে বিশেষ ক্ষয়ক্ষতির কোনো সম্ভাবনা নেই।’ 

আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে গোপালগঞ্জে প্রশাসনের কড়া নজরদারি

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে গোপালগঞ্জে প্রশাসনের কড়া নজরদারি
সংগৃহীত ছবি

কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গোপালগঞ্জে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার কোথাও আওয়ামী লীগের ব্যানারে কোনো সভা, সমাবেশ, মিছিল কিংবা কেক কাটার অনুষ্ঠানের খবর পাওয়া যায়নি। জেলার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যন্ত স্বাভাবিক রয়েছে এবং সাধারণ মানুষ তাদের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্নে পালন করছেন।

তবে মাঠপর্যায়ে কোনো কর্মসূচি না থাকলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বেশ সক্রিয় দেখা গেছে। অনেকেই আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন স্লোগান, ছবি, ব্যানার ও ফটোকার্ড পোস্ট করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। আবার কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মন্তব্য করে দাবি করেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি বা চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মতপ্রকাশের অধিকার দমিয়ে রাখা যাবে না।

জেলা শহরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশকে সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর সদস্যরা গোপালগঞ্জে অবস্থান করলেও আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত তাদের সড়কে টহল দিতে দেখা যায়নি। 

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গোপালগঞ্জসহ দেশের ছয় জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ সিদ্ধান্তের পর সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে যশোরের ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের সেনানীবাস থেকে সেনাবাহিনীর একটি দল গোপালগঞ্জে এসে পৌঁছায়। তবে কতজন সেনাসদস্য বা কতটি প্লাটুন মোতায়েন করা হয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। তবে অসমর্থিত একটি সূত্রে জানা গেছে প্রায় ২০০ সেনা সদস্য গোপালগঞ্জে অবস্থান করছেন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেলার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, সে লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ স্থান, প্রবেশপথ এবং জনবহুল এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও সাদাপোষাকে মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন।

গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান বলেন, জেলার সার্বিক পরিবেশ শান্ত ও স্বাভাবিক রয়েছে। কোথাও আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কোনো কর্মসূচি পালনের তথ্য আমাদের কাছে আসেনি। তবে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সেজন্য সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে দায়িত্ব পালন করছেন। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত সেনাবাহিনী গোপালগঞ্জে অবস্থান করবে। এ সময়ে জেলা জুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ বলেন, ‘জেলায় কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যাতে না ঘটে, সেজন্য পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। শহরের প্রবেশপথ, গুরুত্বপূর্ণ মোড় এবং বিভিন্ন মহল্লায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। আমরা চাই, জেলার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকুক এবং কোনো ধরনের মিটিং-মিছিল বা সহিংস ঘটনার সুযোগ সৃষ্টি না হোক।’

ভাঙন আতঙ্কে পদ্মাপাড়ের মানুষ

অনলাইন ডেস্ক
ভাঙন আতঙ্কে পদ্মাপাড়ের মানুষ

বর্ষা মৌসুম শুরু হতেই ফরিদপুরের পদ্মা নদীতে দেখা দিয়েছে তীব্র নদীভাঙন। গত কয়েকদিনে ভাঙনের কবলে পড়ে কয়েক শ একর ফসলি জমি, কয়েকটি বসতভিটা চলে গেছে নদীগর্ভে।  ফসলসহ জমি হারিয়ে দিশেহারা চরাঞ্চলের মানুষ। ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন পদ্মা-তীরবর্তী এলাকার হাজারো মানুষ। বাড়িঘর সরিয়ে নিচ্ছেন নদীতীরের বসতিরা।

স্থানীয়রা জানান, ফরিদপুর সদর উপজেলার পদ্মার তীরবর্তী ইউনিয়ন নর্থচ্যানেল মানুষ প্রতি বছরই নদী ভাঙনের কবলে পড়ে। ভাঙনের শিকার হয়ে ভিটেহারা হয় হাজারো মানুষ। ফসলি জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা বিলীন হয় নদীতে। প্রায় ২০ বছর ধরে এ চিত্র নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের। এ বছর বর্ষা মৌসুম শুরু হতেই ইউনিয়নটির দুটি গ্রামে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউসুফ মাতুব্বরের ডাঙ্গী ও শুকুর আলী মৃধা ডাঙ্গীতে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। কয়েকদিনে ভাঙনের কবলে পড়ে কয়েক শ একর ফসলি জমি চলে গেছে নদীগর্ভে। ভাঙনের কবলে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘরবাড়ি সরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছে। নদীভাঙন রোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা।

শুকুর আলী মৃধার ডাঙ্গীর বাসিন্দা মোহাম্মদ জসিম, মাসুম খাঁ বলেন, ‘এবার নদীভাঙন ভয়ংকর আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিনই ভাঙনের শিকার হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা।’ গ্রামের বাসিন্দা জমিলা বেগম, শেখ মোহাম্মদ ও খায়রুল ইসলামের অভিযোগ, পদ্মা নদী থেকে অবাধে বালু তোলার কারণেই ভাঙন শুরু হয়েছে। বালুখেকোদের কিছুই বলা যায় না। তারা বেশ প্রভাবশালী, সবাইকে ম্যানেজ করে তারা বালু তোলে। পদ্মায় পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীভাঙন শুরু হয়েছে। নদীর পানি কমলেও ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করবে।’

ইউসুফ মাতুব্বর ডাঙ্গীর বাসিন্দা মো. হাসেম, শিল্পী আক্তার বলেন, ‘পদ্মায় কয়েকবার বাড়ি ভেঙেছে। এবারও ভাঙনের মুখে পড়েছি। বাড়িঘর নদীতে চলে গেলে কোথায় গিয়ে দাঁড়াব জানি না।’ বর্তমানে নদীভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে কয়েক শ বসতবাড়ি, হাজারো একর ফসলি জমি, স্কুল, মসজিদ, ইটভাটাসহ বিভিন্ন স্থাপনা। এ ইউনিয়নের আরো ১০টি গ্রাম রয়েছে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে। বিগত দিনে ভাঙনের শুরুতে কিছু বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করা হয়। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই নগণ্য।

নর্থচ্যানেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোফাজ্জেল হোসেন বলেন, ‘নদীভাঙনের বিষয়টি জেলা প্রশাসক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। আশা করছি ভাঙনরোধে দ্রুতই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন বলেন, ‘বর্ষা মৌসুম এলেই এ ইউনিয়নে নদীভাঙন শুরু হয়। গত বছর ভাঙনকবলিত স্থানে বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা হয়েছিল। এবার যেসব স্থানে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে সেখানে দ্রুতই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া বলেন, ‘নদীভাঙন এলাকায় সরেজমিন দেখা হয়েছে। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। তা ছাড়া জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছেও বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। আশা করছি, ভাঙনরোধে দ্রুতই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

টঙ্গীতে মাদরাসাছাত্রীকে তিনদিন আটকে রেখে ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৪ | কালের কণ্ঠ