ফুটবলের প্রতি ভালোবাসাকে পরিবেশ ও জলবায়ু সচেতনতার কাজে লাগিয়ে দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আর্জেন্টিনা ফ্যানস ফর নেচার’।
সংগঠনটি জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন জেলায় ৪ হাজার দেশীয় ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণের লক্ষ্য নিয়ে তারা কাজ করছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২ হাজার ৬০০টি চারা রোপণ ও বিতরণ করা হয়েছে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০২২ সালে আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের বিশ্বকাপ জয়ের পর দেশের বিভিন্ন জেলায় ৩৬ হাজার গাছের চারা রোপণ করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও ফুটবলপ্রেমীদের সম্পৃক্ত করে পরিবেশবান্ধব সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা হচ্ছে।
আগামী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শুক্রবার মানিকগঞ্জের কৌড়ি গ্রামে ৪০০টি গাছের চারা রোপণ করা হবে। এরপর ২৭ জুন কক্সবাজারে আরও এক হাজার চারা রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে নির্ধারিত ৪ হাজার গাছ রোপণের লক্ষ্য পূরণ হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে ফুটবল সমর্থক ও তরুণদের নিজ নিজ এলাকায় গাছ রোপণ ও পরিচর্যায় উৎসাহিত করা হচ্ছে। অংশগ্রহণকারীদের অন্তত ১০টি করে গাছ রোপণ ও সেগুলোর যত্ন নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংগঠকদের মতে, ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়; এটি সামাজিক পরিবর্তনেরও শক্তিশালী মাধ্যম।
তাদের ভাষায়, ‘ফুটবল মানুষকে এক করে, আর গাছ আমাদের ভবিষ্যৎকে রক্ষা করে। আমরা ফুটবলের আবেগকে জলবায়ু কর্মকাণ্ডে রূপ দিতে চাই।’
কর্মসূচিতে আম, কাঁঠাল, নারকেল, নিম, আমলকী, অর্জুন, বহেরা ও শজনেসহ বিভিন্ন দেশীয় গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ করা হচ্ছে।
ফুটবলভিত্তিক এ কার্যক্রমের পাশাপাশি সংগঠনটি বিয়ে, জন্মদিন, মৃত্যুবার্ষিকীসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে বৃক্ষরোপণে উৎসাহ দিয়ে আসছে। গত পাঁচ বছরে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জন্ম নেওয়া নবজাতকদের পরিবারের মধ্যে প্রায় দুই হাজার চারা বিতরণ করা হয়েছে।
চন্দ্রকলি ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও উদ্যোগের অন্যতম উদ্যোক্তা শাখাওয়াত উল্লাহ জানান, আর্জেন্টিনা যদি আগামী বিশ্বকাপে শিরোপা জেতে, তবে দেশব্যাপী আরো ৪০ হাজার গাছের চারা রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে।
আয়োজকদের আশা, ফুটবলের ইতিবাচক আবেগকে কাজে লাগিয়ে এই উদ্যোগ পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং জলবায়ু সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।