• ই-পেপার

প্রথমে প্রেম পরে ধর্ষণ

রাজধানীতে শীর্ষ সন্ত্রাসী রাসেল গ্রেপ্তার, সোনারগাঁয়ে উদ্ধার অস্ত্র

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
রাজধানীতে শীর্ষ সন্ত্রাসী রাসেল গ্রেপ্তার, সোনারগাঁয়ে উদ্ধার অস্ত্র

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ১২ মামলার পরোয়ানাভুক্ত গ্যাং লিডার রাসেলকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১১। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোনারগাঁয়ে অভিযান চালিয়ে ১টি দেশীয় শটগান, ৪ রাউন্ড কার্তুজ এবং ১৪টি টেঁটা উদ্ধার করা হয়।

​বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দিবাগত রাতে রাজধানী ঢাকার শেরে বাংলা নগরের পান্থপথ এলাকা থেকে র‌্যাব-১১ (সিপিএসসি) ও র‌্যাব-২-এর এক যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার রাসেল পিরোজপুর ইউনিয়নের কুরবানপুর গ্রামের মৃত সাফাতুল্লার ছেলে।

​র‌্যাবের দাবি, সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের পাঁচানী, কোরবানপুর ও শান্তিনগর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একচ্ছত্র সন্ত্রাসী রাজত্ব চালিয়ে আসছিল রাসেল। শিল্পকারখানা, ড্রেজিং, আবাসন প্রকল্প, ইট-বালু সরবরাহ ও ঝুট ব্যবসা একক নিয়ন্ত্রণে নিতে স্থানীয় ঠিকাদার ও ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে নিয়মিত মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করত তার চক্রটি। এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতে প্রকাশ্যে রামদা, টেঁটা ও হকিস্টিক নিয়ে সশস্ত্র মহড়া দিত তারা। এ ছাড়াও প্রতিপক্ষের ওপর গুলিবর্ষণ ও ঘরবাড়িতে হামলার পাশাপাশি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সংবাদ প্রকাশ করায় স্থানীয় সাংবাদিকদের ওপরও সশস্ত্র হামলা চালিয়েছিল এই বাহিনীর এমনও অভিযোগ রয়েছে।

​র‌্যাব জানায়, বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে পান্থপথ এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। ​গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভোর সাড়ে ৫টায় সোনারগাঁয়ের কুরবানপুরে তার বাড়ির পশ্চিম পাশের একটি গোডাউনে তল্লাশি চালিয়ে অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয়।

​র‌্যাব আরো জানায়, গ্রেপ্তার রাসেলের বিরুদ্ধে সোনারগাঁ ও ঢাকার বিভিন্ন থানায় হত্যা, চাঁদাবাজি ও অস্ত্রসহ অন্তত ১২টি মামলা রয়েছে। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সোনারগাঁ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

গোসলে নেমে গুপ্ত খালে তলিয়ে বাবা নিখোঁজ, উদ্ধার ছেলে

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার
গোসলে নেমে গুপ্ত খালে তলিয়ে বাবা নিখোঁজ, উদ্ধার ছেলে
নিখোঁজ হেলাল উদ্দিন (বাঁয়ে) ও তার উদ্ধার হওয়া ছেলে নিলয়। সংগৃহীত ছবি

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের কলাতলী পয়েন্টে গোসলে নেমে গুপ্ত খালে তলিয়ে যান পর্যটক বাবা-ছেলে। পরে উদ্ধারকর্মীরা ছেলেকে উদ্ধার করলেও নিখোঁজ রয়েছেন বাবা।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যায় কলাতলী সৈকত সংলগ্ন মডার্ন হ্যাচারি পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে।

নিখোঁজ পর্যটকের নাম হেলাল উদ্দিন (৫২)। তিনি মেহেরপুর সদর উপজেলার বাসিন্দা মৃত আনোয়ার মেম্বারের ছেলে।

নিখোঁজ পর্যটককে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস, সি-সেইফ লাইফ গার্ড ও প্রশাসনের বিচকর্মীরা যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

সি-সেইফ লাইফ গার্ডের উদ্ধারকর্মী জয়নাল আবেদীন জানান, মেহেরপুর থেকে আসা একটি পরিবার সন্ধ্যায় কলাতলী সৈকতের মডার্ন হ্যাচারি পয়েন্টে গোসলে নামে। এক পর্যায়ে সৈকতে জোয়ারের পানিতে সৃষ্টি হওয়া একটি গুপ্ত খালের গর্তে বাবা ও ছেলে তলিয়ে যান।

তিনি জানান, তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযানে গুরুতর অবস্থায় ছেলে নিলয়কে (২২) উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তার বাবা হেলাল উদ্দিন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

নিখোঁজ পর্যটককে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস, সি-সেইফ লাইফ গার্ড ও প্রশাসনের বিচকর্মীরা যৌথ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।

প্রসঙ্গত, বর্ষার এমন সময়ে কক্সবাজার সৈকতে সামুদ্রিক জোয়ার ও টানা বর্ষণে সৈকতের বালিয়াড়িতে গুপ্ত খালের সৃষ্টি হয়। এসময় উদ্ধারকর্মীদের সহযোগিতা ছাড়া সৈকতে গোসল নামা অত্যন্ত বিপজ্জনক। এ বিষয়টি নিয়ে গত দুই সপ্তাহ আগে কালের কণ্ঠে সচিত্র একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।

গঙ্গাচড়ায় ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষ, ঝরে গেল দুই প্রাণ

গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি
গঙ্গাচড়ায় ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষ, ঝরে গেল দুই প্রাণ
সংগৃহীত ছবি

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় বালুবাহী ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলের চালক গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে গঙ্গাচড়া থানার খলেয়া ইউনিয়নের পাগলাপীর-জলঢাকা সড়কের পূর্ব খলেয়া রথবাড়ী এলাকায় আরএফএল কম্পানির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জলঢাকার দিক থেকে পাগলাপীর অভিমুখে যাওয়ার সময় একটি বালুবাহী ট্রাকের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলের আরোহী রাধা রানী সরকার (৪০) ও অঞ্জনা রানী সরকার (৫০) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। গুরুতর আহত হন মোটরসাইকেলচালক অজিত চন্দ্র সরকার। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

নিহত রাধা রানী সরকারের স্বামী দুলাল সরকার এবং অঞ্জনা রানী সরকারের স্বামী দ্বিজেন্দ্র নাথ সরকার। তাদের বাড়ি নীলফামারী সদর উপজেলার চড়াইখোলা বাবুপাড়া এলাকায়।

দুর্ঘটনার পর ট্রাকের চালক ও হেলপার পালিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাক ও মোটরসাইকেল জব্দ করে তারাগঞ্জ হাইওয়ে থানার হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছবুর বলেন, দুর্ঘটনায় নিহত দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ইয়াবাসহ রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. রাজিব গ্রেপ্তার

রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতিনিধি
ইয়াবাসহ রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. রাজিব গ্রেপ্তার
গ্রেপ্তার ডা. ইসমাঈল আল রাজিব

নরসিংদীর রায়পুরায় ৫০ পিস ইয়াবাসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ইসমাঈল আল রাজিবকে (৪৫) আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার তুলাতুলি মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান।

তিনি জানান, আটকের সময় ডা. ইসমাঈল আল রাজিবের কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে তাকে রায়পুরা থানা পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।

জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে ডা. ইসমাঈল আল রাজিব রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে যোগ দেন। ৯ মাস আগে তিনি হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা (আরএমও) হিসেবে দায়িত্ব পান। ডা. ইসমাঈল আল রাজিব মাদকাসক্ত হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। এ কারণে অতীতেও তাকে অপসারণের দাবি উঠেছিল। তবে সে সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. জান্নাতুল নাঈম বলেন, হাসপাতালে স্টাফদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, হাসপাতালে আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডা. ইসমাঈল আল রাজিব ইয়াবাসহ আটক হয়েছে। পুলিশের তদন্তে জানা যাবে অভিযোগ সত্য নাকি মিথ্যা। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবশ্যই তিনি দোষী সাব্যস্ত হবেন জানান তিনি।

প্রথমে প্রেম পরে ধর্ষণ | কালের কণ্ঠ