মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় আবু বক্কর ওরফে হৃদয় (২৫) নামের এক যুবকের মৃত্যুকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে এর প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন তার পরিবার ও এলাকাবাসী। একই সঙ্গে তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কয়েক শতাধিক মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, গত ২৬ জুন দুপুরে হৃদয়কে তার বন্ধু সালমান মিয়া (২৭), উজ্জ্বল মিয়া (২২) ও আরমান মিয়া (২১) মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে যান। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরে রাত ৮টার দিকে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, হৃদয় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে রয়েছেন। হাসপাতালে গিয়ে তারা হৃদয়ের মরদেহ দেখতে পান।
নিহতের স্ত্রী শারমিন আক্তার দাবি করেন, তার স্বামী সড়ক দুর্ঘটনায় নয়, পরিকল্পিতভাবে হত্যার শিকার হয়েছেন। তিনি এ ঘটনার বিচার দাবি করেন।
হৃদয়ের বাবা ইউসুফ আলী বলেন, তার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ঘটনাটি সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন এলাকার মুরব্বি মানিক মিয়া, আমির হোসেন, রিপন মিয়া ও মো. রুমন মিয়া। তারা বলেন, বন্ধুদের ডাকে যাওয়ার পর হৃদয়ের মরদেহ ফিরে আসার ঘটনা রহস্যজনক। দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কমর উদ্দিন বলেন, ‘পরিবারের পক্ষ থেকে একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’





