• ই-পেপার

শাহজাদপুরে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু

ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সংগীত ‘জাদুঘর’ স্থাপনের উদ্যোগ

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সংগীত ‘জাদুঘর’ স্থাপনের উদ্যোগ
সংগৃহীত ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শিবপুর গ্রামে ‘সুরসম্রাট’ ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ স্মরণে একটি ‘সংগীত জাদুঘর’ স্থাপিত হতে যাচ্ছে।

সোমবার (২২ জুন) সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত আঞ্চলিক পরিচালক ডক্টর নাহিদ সুলতানার নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের টিম জেলার নবীনগর উপজেলার শিবপুরে ওস্তাদজির জন্মভূমি পরিদর্শনে আসেন। 

এ সময় তাঁর সঙ্গে অধিদপ্তরের গবেষণ সহকারী ওমর ফারুকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে দুপুরে এই টিমের সদস্যরা নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল ইসলামের সঙ্গে এ নিয়ে মতবিনিময় করেন। 

প্রতিনিধিদলের সংশ্লিষ্টরা জানান, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ামের নির্দেশে ওস্তাদজির জন্মভূমি শিবপুরে তাঁরই নামানুসারে ‘ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ স্মৃতি জাদুঘর’ নামে সংগীতের ওই বহু প্রত্যাশিত জাদুঘর নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

কেরানীগঞ্জে সাড়ে ৪ কোটি টাকার স্বর্ণের বারসহ তিন পাচারকারী আটক

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
কেরানীগঞ্জে সাড়ে ৪ কোটি টাকার স্বর্ণের বারসহ তিন পাচারকারী আটক
সংগৃহীত ছবি

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ১৯টি স্বর্ণের বারসহ তিন যুবককে আটক করেছে থানা পুলিশ। উদ্ধার করা স্বর্ণের ওজন ২ কেজি ৪৫২ গ্রাম, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৪ কোটি ৪১ লাখ ৭৮ হাজার টাকা।

সোমবার (২২ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি সাইফুল আলম। তিনি বলেন, রবিবার দিবাগত গভীর রাতে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের ঝিলমিল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

আটকরা হলেন- যশোরের শার্শা উপজেলার রিপন হোসেন (২৭), রাকিবুল হাসান (২০) ও মেহেদী হাসান (২৫)।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঝিলমিল এলাকায় সন্দেহভাজন একটি গাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। এসময় আটককৃত এক যুবকের দেহ তল্লাশি করে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা দুটি প্যাকেট থেকে ১৯টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত যুবকরা স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশের দাবি। তারা ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকা থেকে স্বর্ণ সংগ্রহ করে যশোর সীমান্ত হয়ে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিলেন বলেও জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।

ওসি সাইফুল আলম বলেন, উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি আটক ব্যক্তিরা। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের উৎস এবং চোরাচালান চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত পলাতক ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে। আটককৃত আসামিদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আরো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।

বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে ১৮ দিন ধরে অবস্থান প্রেমিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে ১৮ দিন ধরে অবস্থান প্রেমিকার
সংগৃহীত ছবি

বিয়ের দাবিতে ‎সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বগাইয়া হাউওর গ্রামে প্রেমিক ও তার চাচার বাড়িতে ১৮ দিন ধরে অবস্থান করছেন এক তরুণী। গত ৩ জুন বিকেল থেকে তিনি সেখানে অবস্থান নেন।

প্রেমিক কয়েছ মিয়া উপজেলার বিছনাকান্দি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বগাইয়া গ্রামের হাজী রফিক উদ্দিনের ছেলে। ভুক্তভোগী তরুণী উপজেলার লেংগুড়া ইউনিয়নের গুরুকচি গ্রামের বাসিন্দা।

ভুক্তভোগী তরুণী জানান, ‘দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন কয়েছ। দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের দিন-তারিখ ঠিক হলেও পরে বিয়ে অনুষ্ঠান কমিউনিটি সেন্টারে হবে না বাড়িতে হবে- এ নিয়ে দ্বন্দ্বে বিয়ে ভেঙে দেয় কয়েছের পরিবার। কিন্তু এরপর কয়েছ মোবাইলের মাধ্যমে তার সঙ্গে আলাপ শুরু করেন এবং বিয়ে করবেন বলে আশ্বস্ত করেন। এরপর তাদের বাড়িতে যাতায়াত শুরু করলে প্রেমের সম্পর্কে গড়ায় বিষয়টি।

একপর্যায়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কও গড়ে তুলেন কয়েস। সিলেট নগরের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি ও আপত্তিকর ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। কিন্তু গত কয়েক মাস আগে হঠাৎ করে তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করেন দেন। ভুক্তভোগীর পরিবার তাকে অন্যত্র বিয়ের চাপ দিলে তরুণী রাজি হন। প্রবাসী একজনের সঙ্গে মোবাইলে আকত (বিয়ে) হয় তার। এ খবর পেয়ে কয়েছ প্রবাসীর নম্বর যোগাড় করে তাদের আপত্তিকর ভিডিও পাঠান। এতে ভুক্তভোগীর বিয়ে ভেঙে যায়।

এ ঘটনার পর ৩ জুন বিকেল থেকে তিনি প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নেন। তার দাবি স্ত্রীর স্বীকৃতি না দেওয়া পর্যন্ত তিনি বাড়ি ছাড়বেন না। দাবি পূরণ না হলে আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়ার হুমকিও দেন তিনি।

এ বিষয়ে স্থানীয় রুস্তুমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন শিহাব বলেন, ‘আমি গত ৪ জুন দুই পরিবারের লোকজন ও স্থানীয় ইউপি সদস্য নিয়ে আলোচনায় বসেছিলাম। কয়েছ উপস্থিত না হওয়ায় তার সঙ্গে ফোনে আলোচনা করে একটি তারিখ করেছিলাম। পরদিন জানতে পারি, ছেলে আরেকটি মেয়েকে বিয়ে করে নিয়ে আসছে। পরে ছেলের পরিবারের লোকজন রাজি না হওয়াতে বিষয়টি মেয়ের পক্ষকে জানিয়ে দেই। পরে বিষয়টি কি হয়েছে আমার আর জানা নেই।’
‎‎
এ বিষয়ে কয়েছ মিয়া মোবাইল ফোনে বলেন, ‘মেয়ের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল এটা সত্য। এখন আমার ঘরে আরেক বেটি (বউ) আছে।’ পরে তিনি পাবলু মেম্বার ও সাবই মেম্বারের সঙ্গে যোগাযোগ করার কথা বলে লাইন কেটে দেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য পাবলু মিয়া বলেন, ‘উভয় পক্ষকে নিয়ে বসেছিলাম। কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। মেয়ের দাবি, কয়েছকে তাকে বিয়ে করতে হবে। অন্যদিকে কয়েছ বিয়ে করতে রাজি হয়নি। তাই সমাধান হয়নি। মেয়েটি বর্তমানে কয়েছের চাচার বাসায় আছে বলেও জানান তিনি।’

এ বিষয়ে সিলেটের গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, ‘এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বাড়ি ফেরার পথে অপহরণ, মুক্তিপণে সন্তানকে ফিরে পেল পরিবার

দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
বাড়ি ফেরার পথে অপহরণ, মুক্তিপণে সন্তানকে ফিরে পেল পরিবার
সংগৃহীত ছবি

যদি আমাদের চাওয়া টাকা না দেন, যদি বলেন পারবেন না, তাহলে আপনাদের সঙ্গে আর যোগাযোগ করব না। অন্য জায়গায় বেশি টাকায় বিক্রি করে দেব। আমাদের এই কাজে এখানে দয়া-মায়া বলে কিছু নেই। মোবাইল ফোনে এভাবেই মুক্তিপণ দাবি করছিল অপহরণকারী চক্রের সদস্যরা।

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বাকলজোড়া ইউনিয়নের সিংহা চারিগাঁওপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হেলিমের ছোট ছেলে আরিফ মিয়া (১০) গত শুক্রবার নিজ বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে চট্টগ্রামের রাউজান এলাকার বাইতুল নূর দারুসুন্নাহ মাদরাসা থেকে বের হয়। কিন্তু সেদিন থেকেই সে নিখোঁজ হয়ে যায়। তার সঙ্গে থাকা অন্য সঙ্গীরা বাড়ি ফিরলেও আরিফ আর ফেরেনি। সন্তানকে না পেয়ে হতাশায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পরও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। এ ঘটনায় রাউজান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

অপহরণের তিন দিন পর সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে ফিরে আসে কিশোর আরিফ। সে জানায়, মাদরাসা থেকে বের হওয়ার পর দুই ব্যক্তি তাকে একটি সিএনজিতে করে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে একটি বাড়িতে রাখা হয় সেখানেই তাকে খাওয়া-দাওয়াসহ সব দেয়। পরে পরিবারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলিয়েও দেয়। সব কথা তাদের শেখানো। পরে টাকা পাঠানোর পর বাড়ি আসতে তাকে রফরফ বাসে উঠিয়ে দেয় চক্রের সদস্যরা।

আরিফের বাবা আব্দুল হেলিম জানান, শুক্রবার নিখোঁজের শনিবার দুপুরে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনের অপর একজন ব্যক্তি জানায় ছেলে তাদের কাছে আছে। ছেলেকে ফিরে পেতে প্রথমে ৬০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। দরিদ্র বাবার শূন্য পকেটেও দর কষাকষির একপর্যায়ে ৩০ হাজার টাকায় চুক্তি হয়। পরে ঋণ করে ২৫ হাজার টাকা অপহরণকারীদের দেওয়া একটি বিকাশ নম্বরে পাঠান তিনি। ৫ হাজার টাকা কম কেন এ নিয়েও আপত্তি করে।

আব্দুল হেলিম আরো বলেন, আমি গরিব মানুষ বলছি তাও টাকা ছাড়া আমার ছেলেকে ছাড়ল না। ছেলেকে বাসে তুলে দিছিল বলছে কিন্তু বিশ্বাস করতে পারছিলাম না।

এদিকে এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর পুরো গ্রামে থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।  মানিক মিয়া নামের একজন বলেন, বড় ছেলে অটোরিকশা চালিয়ে যা ইনকাম করেন সেটা দিয়ে কোনো রকমে চলত পরিবারটির সংসার। দরিদ্র এই পরিবারের কাছে ২৫ হাজার টাকা যেন ২৫ লাখ টাকার সমান। 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, চট্টগ্রামের থানায় জিডি করা হয়েছিল কিন্তু যে সময় হাতে ছিল তারা গুরুত্ব দিলে অপহরণকারী চক্রকে ধরা সম্ভব ছিল। তবে এখন অপহরণে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। এই চক্রকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা না হলে ভবিষ্যতে আরো অসহায় পরিবার এমন ঘটনার শিকার হতে পারে।

শাহজাদপুরে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু | কালের কণ্ঠ