ফরিদপুরে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন এক প্রসূতি। তবে জন্মের কিছুক্ষণ পরই এক কন্যাশিশুর মৃত্যু হয়েছে। বাকি চার নবজাতক আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচার ছাড়াই পাঁচ সন্তানের জন্ম দেন ফরিদপুর সদর উপজেলার ভবুকদিয়া গ্রামের চাঁদনি আক্তার (২০)। নবজাতকদের মধ্যে তিনজন ছেলে ও দুইজন মেয়ে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, গর্ভধারণের ২৮ সপ্তাহেই প্রসববেদনা শুরু হলে চাঁদনিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে প্রথম সন্তান জন্ম নেয়। পরবর্তী আধাঘণ্টার মধ্যে আরও চার নবজাতকের জন্ম হয়। জন্মের কিছুক্ষণ পর একটি কন্যাশিশুর মৃত্যু হয়।
পরিবার সূত্র জানায়, চাঁদনির স্বামী মাহামুদুল হাসান ডলার (৩০)। দেড় বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। এটি ছিল তাদের প্রথম সন্তানসম্ভবা। আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে আগে থেকেই জানা গিয়েছিল, চাঁদনির গর্ভে একসঙ্গে পাঁচটি সন্তান রয়েছে। বিষয়টি বিরল হওয়ায় চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিলেন তিনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের নবজাতক ও শিশু ওয়ার্ডে বর্তমানে চার নবজাতককে অক্সিজেন দিয়ে রাখা হয়েছে। তারা সবাই অপরিণত অবস্থায় জন্ম নেওয়ায় তাদের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। পর্যাপ্ত ইনকিউবেটর ও নবজাতকের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (এনআইসিইউ) না থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ স্টাফ নার্স মিনতি সরকার জানান, সব নবজাতকের জন্ম হয়েছে মাত্র ২৮ সপ্তাহে। তাদের ওজন ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের মধ্যে। অপরিণত অবস্থায় জন্ম নেওয়ায় তাদের জীবন ঝুঁকিতে রয়েছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় মায়ের জন্য জরুরি ভিত্তিতে রক্তের প্রয়োজন।
নবজাতক ও শিশু ওয়ার্ডের দায়িত্বরত ইন্টার্ন চিকিৎসক পৃতীরাজ পাল চৌধুরী বলেন, পাঁচ শিশুর মধ্যে একজনকে মৃত অবস্থায় ওয়ার্ডে আনা হয়েছে। জীবিত চারজনেরই এনআইসিইউ সাপোর্ট প্রয়োজন। কিন্তু হাসপাতালে সেই সুবিধা না থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে পরিবার এখনো এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়নি।
এদিকে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম হলেও একজনকে হারিয়ে এবং বাকি চার নবজাতকের সংকটাপন্ন অবস্থায় পরিবারে নেমে এসেছে গভীর উদ্বেগ। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে উন্নত চিকিৎসা নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন স্বজনরা।