বাংলাদেশে টেকসই প্লাস্টিক ব্যবস্থাপনা এবং সামুদ্রিক পরিবেশে প্লাস্টিক বর্জ্য দূষণ প্রতিরোধে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর (ডিওই) এবং জাতিসংঘ শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (ইউনিডো)-এর যৌথ কারিগরী সহায়তায় চলমান প্রকল্প “ইন্টিগ্রেটেড অ্যাপ্রোচ টুওয়ার্ডস সাসটেইনেবল প্লাস্টিকস ইউজ অ্যান্ড মেরিন লিটার প্রিভেনশন ইন বাংলাদেশ”-এর আওতায় নির্মিত ‘প্লাস্টিকপাথ’ (PlasticPath) ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) পরিবেশ অধিদপ্তরের আগারগাঁও কার্যালয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ওয়েবসাইট ও মোবাইল এ্যাপ্লিকেশন প্লাটফর্মটি উদ্বোধন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ রায়হান কাওসার। সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান।
এ সময় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাঙ্গন, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, সুশীল সমাজ, প্লাস্টিক রিসাইকেল এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
‘প্লাস্টিকপাথ’ বাংলাদেশে টেকসই প্লাস্টিক ব্যবস্থাপনাকে এগিয়ে নিতে একটি জাতীয় জ্ঞান, সম্পৃক্ততা ও কার্যক্রমভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, গবেষণা, কারিগরি নির্দেশিকা, শিক্ষামূলক উপকরণ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নেটওয়ার্ক সম্পর্কিত তথ্য সহজেই জানতে পারবেন। পাশাপাশি মোবাইল অ্যাপটি ভোক্তা সচেতনতা বৃদ্ধি, দায়িত্বশীল প্লাস্টিক দ্রব্য ব্যবহার এবং জনসাধারণের সক্রিয় অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করবে।
প্ল্যাটফর্মটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২১-এর আওতাভুক্ত ফরম-১ এবং ফরম-২-এর ডিজিটাল সংযুক্তিকরণ। এর মাধ্যমে তথ্য প্রতিবেদন, তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং সমন্বয় কার্যক্রম আরও নিখুঁত, দক্ষ ও কার্যকর হবে। দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক ও সর্বসাধারণের সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে প্ল্যাটফর্মটিকে পরিবেশ অধিদপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের সঙ্গেও সংযুক্ত করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ইউনিডো বাংলাদেশের জাতীয় বিশেষজ্ঞ (কমিউনিকেশন) রামিসা রহমান প্লাস্টিকপাথের উন্নয়ন যাত্রা পরিক্রমা তুলে ধরেন এবং ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপের বিভিন্ন কার্যক্রম প্রদর্শন করেন। এছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তরের জাতীয় প্রকল্প পরিচালক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন প্ল্যাটফর্মটির ডিজিটাল রিপোর্টিং সুবিধা উপস্থাপন করেন এবং ফরম-১ ও ফরম-২ সংযুক্তিকরণের কার্যপ্রক্রিয়া প্রদর্শন করেন, যা স্থানীয় সরকার সংস্থাগুলোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা রিপোর্টিং-এর ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ রায়হান কাওসার প্লাস্টিক দূষণ মোকাবিলায় সমন্বয়, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং অংশীজনদের মধ্যে আরও শক্তিশালী সহযোগিতার ও সক্রিয় সংশ্লিষ্টতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
‘প্লাস্টিকপাথ’ বাংলাদেশে ডিজিটাল পরিবেশগত সুশাসন জোরদারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এটি উন্নততর রিপোর্টিং, পর্যবেক্ষণ এবং তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করবে। অন্যদিকে নাগরিকদের জন্য এটি তথ্য, শিক্ষা ও সম্পৃক্ততার একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে, যার মাধ্যমে তারা প্লাস্টিক ব্যবহারের প্রভাব সম্পর্কে সচেতন হতে পারবেন, পরিবেশবান্ধব বিকল্প সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং পরিবেশ সংরক্ষণমূলক উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
উল্লেখ্য, এই উদ্যোগটি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন “ইন্টিগ্রেটেড অ্যাপ্রোচ টুওয়ার্ডস সাসটেইনেবল প্লাস্টিকস ইউজ অ্যান্ড মেরিন লিটার প্রিভেনশন ইন বাংলাদেশ” প্রকল্পের অংশ। প্রকল্পটি ইউনিডো’র কারিগরি সহায়তায় বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং ঢাকাস্থ রয়্যাল নরওয়েজিয়ান দূতাবাসের আর্থিক সহযোগিতায় পরিচালিত হচ্ছে।