ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) আয়োজিত প্রজেক্ট শোকেসিং কম্পিটিশন ২০২৬-এ সেরা প্রকল্পের পুরস্কার পেয়েছে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির রোবোটিকস দল ‘ব্র্যাকইউ ডুবুরি’। তাদের তৈরি স্বয়ংক্রিয় ডুবোযান ‘ডুবোমিনি’ এই সম্মানজনক অর্জন বয়ে এনেছে।
সম্প্রতি রাজধানীর রমনায় আইইবি সদর দপ্তরে দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্প নিয়ে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রকৌশলবিদ্যার শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল কাজ প্রদর্শনের সুযোগ তৈরি করতে আইইবি এই মেলার আয়োজন করে।
২০১৭ সাল থেকে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থীদের উচ্চতর গবেষণা এবং বাস্তব জীবনে ব্যবহার উপযোগী ডুবো রোবট তৈরিতে সহায়তা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিনিধিত্ব করে ‘ব্র্যাকইউ ডুবুরি’ দল।
‘ডুবোমিনি’ মূলত ছোট আকারের একটি রোবটচালিত ডুবোযান (এইউভি), যা পানির নিচে কোনো মানুষের সাহায্য ছাড়াই নিজে থেকে কাজ করতে পারে। একজন দক্ষ সাঁতারুর মতো এটি পানির নিচে যেকোনো দিকে চলতে ও ঘুরতে সক্ষম। ফলে যেকোনো সংকীর্ণ বা দুর্গম জায়গায় এটি নিখুঁতভাবে নিজের কাজ সম্পন্ন করতে পারে।
ব্যাটারিচালিত এই ডুবোযানটিতে ব্যবহার করা হয়েছে একটি বিশেষ স্মার্ট পাওয়ার সিস্টেম। এই প্রযুক্তির কারণে এর মোটর এবং মূল অনবোর্ড কম্পিউটার বা ‘মস্তিষ্ক’ আলাদাভাবে সচল থাকে। ফলে রোবটের কোনো একটি অংশে বিদ্যুতের সমস্যা হলেও অন্য অংশের কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়ে না।
স্বয়ংক্রিয় গাড়ির মতো করেই পানির নিচে নিজের পথ চিনে নিতে পারে ডুবোমিনি। এতে রয়েছে উচ্চপ্রযুক্তির ক্যামেরা ও বিভিন্ন সেন্সর, যার মাধ্যমে এটি পানির গভীরতা, চলার দিক এবং চারপাশের পরিবেশ বুঝতে পারে। এর নিজস্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন সফটওয়্যার পানির নিচের যেকোনো বস্তু ও বাধা শনাক্ত করতে সাহায্য করে। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডুবোযানটি পানির নিচে গেটের মধ্য দিয়ে চলাচল, বাধা এড়ানো এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করার মতো জটিল কাজগুলো প্রায় একা একাই করতে পারে।
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের এই উদ্ভাবন জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে সরাসরি ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে এসডিজি ৪ (মানসম্মত শিক্ষা), এসডিজি ৯ (শিল্প, উদ্ভাবন ও অবকাঠামো) এবং এসডিজি ১৭ (লক্ষ্য অর্জনে অংশীদারত্ব) বাস্তবায়নে এই প্রকল্প একটি বড় দৃষ্টান্ত।




