ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) বিভিন্ন বিভাগ ও অফিসে দৈনিক মজুরীরভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্তদের নিয়োগ যাচাই-বাছাইয়ে কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গতকাল রবিবার গঠিত তিন সদস্যের কমিটিকে কর্মচারীদের নিয়োগ যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেনকে আহ্বায়ক, সদস্য সচিব উপ-রেজিস্ট্রার (প্রশাসন) এ.জেড.এম. আছাফদ্দৌলা এবং উপ-হিসাব পরিচালক ইসরাফুল হককে সদস্য করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন বলেন, ‘আমরা দৈনিক মজুরীরভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্তদের শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করব। ঐসকল কর্মচারীদের নিয়ে একটি সভা আহ্বান করা হয়েছে। সেখানে আমরা তাদের কথা শুনব।’
কমিটি গঠনের বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মতিনুর রহমান বলেন, ‘আগের নিয়োগ বিগত প্রশাসন দিয়েছেন। এই নিয়োগগুলো তারা কেন দিয়েছেন, এর যৌক্তিকতা কি এবং কীভাবে এসব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সেসব বিষয় যাচাই-বাছাইয় করবেন এই কমিটি। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আমরা তাদের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করব।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিগত আওয়ামী শাসনামলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে দৈনিক মজুরি এবং থোক বরাদ্দের ভিত্তিতে অস্থায়ী কর্মচারী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এর পর থেকেই তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং আচরণ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। গত ৪ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতিকে নিজ অফিস কক্ষে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন ডে-লেবার হিসেবে কাজ করা কর্মচারী ফজলুর রহমান। এরপর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ডে-লেবার নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে আলোচনা-সমালোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়।
পরে গত ০৭ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের এক শাখা কর্মকর্তাকে এক ডে লেবার কর্মচারী কর্তৃক মারধরের অভিযোগ ওঠে। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে ডে-লেবার ও থোক বরাদ্দে অস্থায়ীভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে।





