কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কথা থাকলেও সাত মাস পার হলেও রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) শাখা ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। এতে পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
গত বছরের ২৭ নভেম্বর রাতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বেরোবি শাখা ছাত্রদলের ৯ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. ইয়ামিনকে সভাপতি এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. জহির রায়হানকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।
এ ছাড়া কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি করা হয় মো. মাইদুল ইসলাম বাপ্পিকে, সহসভাপতি মো. তুহিন রানাকে, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রিফাত হোসেন রাফিকে, সাংগঠনিক সম্পাদক সজিব গাজী, দপ্তর সম্পাদক মো. সুমন হোসাইন, প্রচার সম্পাদক মো. মাসুদ রানাকে এবং ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক মোছা. আসমা আক্তার খুশিকে।
কমিটি ঘোষণার সময় কেন্দ্রীয় প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময় অতিক্রম করে সোমবার (৬ জুলাই) পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়নি।
এ বিষয়ে পদপ্রত্যাশী কয়েকজন নেতাকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় সাংগঠনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকায় অনেকেই হতাশ হয়ে পড়েছেন। দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার দাবি জানাই।
পদপ্রত্যাশী তানভীর আহমেদ দিদার বলেন, একটি ছাত্র সংগঠনের প্রাণশক্তি হলো তার সাধারণ কর্মী এবং তৃণমূল পর্যায়। দীর্ঘ ৭ মাস ধরে বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কমিটি পূর্ণাঙ্গ না হওয়া সংগঠনের ভেতরের ও বাইরের রাজনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। দীর্ঘদিন ধরে যারা মাঠে কাজ করছেন, আন্দোলন-সংগ্রামে অবদান রাখছেন, তারা পদ পাওয়ার আশা করেন। কমিটি পূর্ণাঙ্গ হতে বিলম্ব হলে ত্যাগী ও যোগ্য কর্মীদের মধ্যে তীব্র হতাশা ও নিষ্ক্রিয়তা তৈরি হয়। সাংগঠনিক স্থবিরতা কাটানো কয়েকজন মাত্র পদধারী নেতা দিয়ে একটি বৃহৎ ছাত্র সংগঠনের বিশাল কর্মযজ্ঞ চালানো অসম্ভব। কমিটি পূর্ণাঙ্গ হলে দায়িত্ব বণ্টন হয়। এই অচলাবস্থা নিরসনে এবং সংগঠনকে গতিশীল করতে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা অত্যন্ত জরুরি।
পদপ্রত্যাশী জাকির জিস বলেন, দীর্ঘদিন পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকলে সংগঠনে এক ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়। এই অস্থিরতা কাটাতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রয়োজন। একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে বিভিন্ন সম্পাদকীয় পদ (যেমন: শিক্ষা ও পাঠচক্র, সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া, প্রচার ইত্যাদি) থাকে। এর ফলে সাধারণ কর্মীরা তাদের মেধা ও যোগ্যতা অনুযায়ী দায়িত্ব পান, যা ভবিষ্যতে জাতীয় রাজনীতির জন্য দক্ষ ও শিক্ষিত নেতৃত্ব তৈরিতে ভূমিকা রাখে। আংশিক বা আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে বড় কোনো সাংগঠনিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা কঠিন। পূর্ণাঙ্গ কমিটি থাকলে দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট থাকে, ফলে দলের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কেন্দ্রের নির্দেশনাসমূহ ক্যাম্পাসে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা সহজ হয়। মূলত বেরোবিতে ছাত্রদলের সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করা, সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে বেগবান করা এবং ক্যাম্পাসে একটি সুস্থ বহুমাত্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থেই পূর্ণাঙ্গ কমিটির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
আরেক পদপত্যাশী মো. ইসমাঈল হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকলে সংগঠনে এক ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়। এই অস্থিরতা কাটাতে পূর্নাঙ্গ কমিটি প্রয়োজন। একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে বিভিন্ন সম্পাদকীয় পদ (যেমন: শিক্ষা ও পাঠচক্র, সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া, প্রচার ইত্যাদি) থাকে। এর ফলে সাধারণ কর্মীরা তাদের মেধা ও যোগ্যতা অনুযায়ী দায়িত্ব পান, যা ভবিষ্যতে জাতীয় রাজনীতির জন্য দক্ষ ও শিক্ষিত নেতৃত্ব তৈরিতে ভূমিকা রাখে। আংশিক বা আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে বড় কোনো সাংগঠনিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা কঠিন। পূর্ণাঙ্গ কমিটি থাকলে দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট থাকে, ফলে দলের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কেন্দ্রের নির্দেশনাসমূহ ক্যাম্পাসে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা সহজ হয়। মূলত বেরোবিতে ছাত্রদলের সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করা, সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে বেগবান করা এবং ক্যাম্পাসে একটি সুস্থ বহুমাত্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থেই পূর্ণাঙ্গ কমিটির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে বেরোবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. ইয়ামিনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইলে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। সাধারণ সম্পাদক মো. জহির রায়হানের সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
পূর্ণাঙ্গ কমিটি বিষয় জানতে চাওয়া হলে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি এস এম মুসা বলেন, এর মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় কিছুটা সময় লেগেছে। আমরা যারা কমিটির দায়িত্বে ছিলাম, তারা যাচাই-বাছাই শেষে কমিটির তালিকা কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে জমা দিয়েছি। বর্তমানে বিষয়টি দপ্তরে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। দপ্তর থেকে কমিটি প্রকাশের আগে কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রয়োজন। তারা তালিকাটি আরো যাচাই-বাছাই করছেন। আমাদের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, তারা অনুমোদন দিলেই কমিটি ঘোষণা করা হবে। কমিটির কাজের আর কোনো অংশ বাকি নেই। এটি আজও হতে পারে, কালও হতে পারে। আশা করছি, আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই কমিটি ঘোষণা করা হবে। আমরা সে লক্ষ্যেই কাজ করছি।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২১ সালের ১৬ জুন বেরোবি শাখা ছাত্রদলের সর্বশেষ আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।




