• ই-পেপার

প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পাচ্ছেন ৩৭ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭৮ শিক্ষার্থী

৩০ দিনের নির্দেশনা পেরিয়ে সাত মাসেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি পায়নি বেরোবি ছাত্রদল

বেরোবি প্রতিনিধি
৩০ দিনের নির্দেশনা পেরিয়ে সাত মাসেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি পায়নি বেরোবি ছাত্রদল

কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কথা থাকলেও সাত মাস পার হলেও রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) শাখা ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। এতে পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

গত বছরের ২৭ নভেম্বর রাতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বেরোবি শাখা ছাত্রদলের ৯ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. ইয়ামিনকে সভাপতি এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. জহির রায়হানকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।

এ ছাড়া কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি করা হয় মো. মাইদুল ইসলাম বাপ্পিকে, সহসভাপতি মো. তুহিন রানাকে, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রিফাত হোসেন রাফিকে, সাংগঠনিক সম্পাদক সজিব গাজী, দপ্তর সম্পাদক মো. সুমন হোসাইন, প্রচার সম্পাদক মো. মাসুদ রানাকে এবং ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক মোছা. আসমা আক্তার খুশিকে।

কমিটি ঘোষণার সময় কেন্দ্রীয় প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময় অতিক্রম করে সোমবার (৬ জুলাই) পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়নি।

এ বিষয়ে পদপ্রত্যাশী কয়েকজন নেতাকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় সাংগঠনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকায় অনেকেই হতাশ হয়ে পড়েছেন। দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার দাবি জানাই।

পদপ্রত্যাশী তানভীর আহমেদ দিদার বলেন, একটি ছাত্র সংগঠনের প্রাণশক্তি হলো তার সাধারণ কর্মী এবং তৃণমূল পর্যায়। দীর্ঘ ৭ মাস ধরে বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কমিটি পূর্ণাঙ্গ না হওয়া সংগঠনের ভেতরের ও বাইরের রাজনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। দীর্ঘদিন ধরে যারা মাঠে কাজ করছেন, আন্দোলন-সংগ্রামে অবদান রাখছেন, তারা পদ পাওয়ার আশা করেন। কমিটি পূর্ণাঙ্গ হতে বিলম্ব হলে ত্যাগী ও যোগ্য কর্মীদের মধ্যে তীব্র হতাশা ও নিষ্ক্রিয়তা তৈরি হয়। সাংগঠনিক স্থবিরতা কাটানো কয়েকজন মাত্র পদধারী নেতা দিয়ে একটি বৃহৎ ছাত্র সংগঠনের বিশাল কর্মযজ্ঞ চালানো অসম্ভব। কমিটি পূর্ণাঙ্গ হলে দায়িত্ব বণ্টন হয়। এই অচলাবস্থা নিরসনে এবং সংগঠনকে গতিশীল করতে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা অত্যন্ত জরুরি।

পদপ্রত্যাশী জাকির জিস বলেন, দীর্ঘদিন পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকলে সংগঠনে এক ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়। এই অস্থিরতা কাটাতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রয়োজন। একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে বিভিন্ন সম্পাদকীয় পদ (যেমন: শিক্ষা ও পাঠচক্র, সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া, প্রচার ইত্যাদি) থাকে। এর ফলে সাধারণ কর্মীরা তাদের মেধা ও যোগ্যতা অনুযায়ী দায়িত্ব পান, যা ভবিষ্যতে জাতীয় রাজনীতির জন্য দক্ষ ও শিক্ষিত নেতৃত্ব তৈরিতে ভূমিকা রাখে। আংশিক বা আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে বড় কোনো সাংগঠনিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা কঠিন। পূর্ণাঙ্গ কমিটি থাকলে দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট থাকে, ফলে দলের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কেন্দ্রের নির্দেশনাসমূহ ক্যাম্পাসে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা সহজ হয়। মূলত বেরোবিতে ছাত্রদলের সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করা, সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে বেগবান করা এবং ক্যাম্পাসে একটি সুস্থ বহুমাত্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থেই পূর্ণাঙ্গ কমিটির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

আরেক পদপত্যাশী মো. ইসমাঈল হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকলে সংগঠনে এক ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়। এই অস্থিরতা কাটাতে পূর্নাঙ্গ কমিটি প্রয়োজন। একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে বিভিন্ন সম্পাদকীয় পদ (যেমন: শিক্ষা ও পাঠচক্র, সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া, প্রচার ইত্যাদি) থাকে। এর ফলে সাধারণ কর্মীরা তাদের মেধা ও যোগ্যতা অনুযায়ী দায়িত্ব পান, যা ভবিষ্যতে জাতীয় রাজনীতির জন্য দক্ষ ও শিক্ষিত নেতৃত্ব তৈরিতে ভূমিকা রাখে। আংশিক বা আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে বড় কোনো সাংগঠনিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা কঠিন। পূর্ণাঙ্গ কমিটি থাকলে দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট থাকে, ফলে দলের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কেন্দ্রের নির্দেশনাসমূহ ক্যাম্পাসে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা সহজ হয়। মূলত বেরোবিতে ছাত্রদলের সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করা, সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে বেগবান করা এবং ক্যাম্পাসে একটি সুস্থ বহুমাত্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থেই পূর্ণাঙ্গ কমিটির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে বেরোবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. ইয়ামিনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইলে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। সাধারণ সম্পাদক মো. জহির রায়হানের সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

পূর্ণাঙ্গ কমিটি বিষয় জানতে চাওয়া হলে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি এস এম  মুসা বলেন, এর মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় কিছুটা সময় লেগেছে। আমরা যারা কমিটির দায়িত্বে ছিলাম, তারা যাচাই-বাছাই শেষে কমিটির তালিকা কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে জমা দিয়েছি। বর্তমানে বিষয়টি দপ্তরে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। দপ্তর থেকে কমিটি প্রকাশের আগে কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রয়োজন। তারা তালিকাটি আরো যাচাই-বাছাই করছেন। আমাদের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, তারা অনুমোদন দিলেই কমিটি ঘোষণা করা হবে। কমিটির কাজের আর কোনো অংশ বাকি নেই। এটি আজও হতে পারে, কালও হতে পারে। আশা করছি, আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই কমিটি ঘোষণা করা হবে। আমরা সে লক্ষ্যেই কাজ করছি।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০২১ সালের ১৬ জুন বেরোবি শাখা ছাত্রদলের সর্বশেষ আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

ঢাবি টিচার্স ক্রিকেট লিগের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
ঢাবি টিচার্স ক্রিকেট লিগের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিচার্স ক্রিকেট লীগের (ডিইউটিসিএল) ১১তম আসরের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

টিচার্স ক্রিকেট লীগের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান।

এবারের আসরে দুর্দান্ত পারফর্ম করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে ‘দুর্বার একাত্তর’। রানার্সআপ দল হিসেবে টুর্নামেন্ট শেষ করেছে ‘উত্তাল উনসত্তর’। এবারের প্রতিযোগিতায় ‘মহান একুশে’ ও ‘জাগ্রত জুলাই’ নামে আরও দুটি দল অংশ নিয়েছিল।

দলগত ট্রফির পাশাপাশি টুর্নামেন্টে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের স্বীকৃতিস্বরূপ খেলোয়াড়দেরও বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। চ্যাম্পিয়ন দল ‘দুর্বার একাত্তর’-এর গণিত বিভাগের শিক্ষক মো. জসীম উদ্দিন টুর্নামেন্টজুড়ে অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের জন্য ‘প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ’ নির্বাচিত হন। একই দলের হাসান ফারুক ১৪৫ রান করে আসরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন।

অন্যদিকে, রানার্সআপ দল ‘উত্তাল উনসত্তর’-এর সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক আলিফ মোহাম্মদ খান টুর্নামেন্টের ‘ইমার্জিং প্লেয়ার’ নির্বাচিত হন। দুর্দান্ত বোলিংয়ে ১২টি উইকেট শিকার করে আসরের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির পুরস্কারও নিজের ঝুলিতে পুরেন তিনি।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবুল কালাম সরকার, ফার্মেসি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. সেলিম রেজা, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মোফাজ্জল হোসেনসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ, আবাসিক শিক্ষক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক সাইখ ইমতিয়াজ। পুরস্কার বিতরণী পর্ব শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষক, অতিথি ও আমন্ত্রিত সুধীজনদের সম্মানে এক নৈশভোজের আয়োজন করা হয়।

দেশের জিডিপিতে ২ শতাংশ অবদান রাখছে প্রাণিসম্পদ খাত : পিএসসি সদস্য হাফিজ

বাকৃবি প্রতিনিধি
দেশের জিডিপিতে ২ শতাংশ অবদান রাখছে প্রাণিসম্পদ খাত : পিএসসি সদস্য হাফিজ
ছবি : কালের কণ্ঠ

বাংলাদেশ কর্ম কমিশন (পিএসসি) সদস্য অধ্যাপক ড. এ এস এম গোলাম হাফিজ বলেন, ‘প্রাণিসম্পদ সেক্টর দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি খাত, যা দেশের জিডিপিতে ২ শতাংশ অবদান রাখছে। এ খাতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে। যারা আজকে নবীন হিসেবে যাত্রা শুরু করছেন তাদের বলব আপনারা পড়াশোনা চালিয়ে যান এবং আপনাদের মেধা, যোগ্যতার বিকাশ ঘটিয়ে দেশের জন্য অবদান রাখবেন।’

সোমবার (৬ জুলাই) বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের কম্বাইন্ড ডিগ্রির (বিএসসি ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড এনিমেল হাজবেন্ড্রি) প্রথম ব্যাচের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনারের বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। বিকাল সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম কনফারেন্সে হলে ফুল দিয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়া হয়। 

অধ্যাপক অধ্যাপক গোলাম হাফিজ আরো বলেন, ‘বাকৃবিতে পড়াশোনার পরিবেশ অত্যন্ত অনুকূল। এখানে যেমন মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে, তেমনি প্রকৃতিকে কাছ থেকে জানারও সুযোগ রয়েছে। আমি আশা করি, শিক্ষার্থীরা এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে।’ 

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন স্কুল অব ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড এনিমেল হাজবেন্ড্রির ডিন অধ্যাপক ড. মো বাহানুর রহমান, এনিমেল হাজবেন্ড্রি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রকিবুল ইসলাম খান, বিভাগীয় প্রধান ও অন্য শিক্ষকবৃন্দ।

চরম বিপর্যয়ে ৮৭ দেশের প্রায় ২৬ কোটি শিশুর শিক্ষাজীবন

অনলাইন ডেস্ক
চরম বিপর্যয়ে ৮৭ দেশের প্রায় ২৬ কোটি শিশুর শিক্ষাজীবন
সংগৃহীত ছবি

বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ-সংঘাত ছাড়াও দুর্যোগ ও অর্থনৈতিক সংকটে চরম বিপর্যয়ের মুখে পৃথিবীর ৮৭টি দেশের প্রায় ২৫ কোটি ৮০ লাখ শিশুর শিক্ষাজীবন। ‘অবরুদ্ধ শৈশবের’ এমন করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে জাতিসংঘের জরুরি শিক্ষা বিষয়ক বৈশ্বিক তহবিল ‘এডুকেশন ক্যাননট ওয়েট’ (ইসিডব্লিউ) ২০২৬ এর প্রতিবেদনে।

সংস্থাটির সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, পৃথিবীর ৮৭টি দেশের প্রায় ২৫ কোটি ৮০ লাখ শিশুর শিক্ষাজীবন এখন চরম বিপর্যয়ের মুখে, দুই বছর আগের তুলনায় যা ২১ মিলিয়ন বা ২ কোটিরও বেশি। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, সংকটের আবর্তে পড়া এই বিপুল শিশুর মধ্যে ৯ কোটি ৩০ লাখ শিশুই বর্তমানে সম্পূর্ণভাবে স্কুলের বাইরে। এই সংকট কেবল বৈশ্বিক নয়, বরং নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে এতটাই ঘনীভূত যে, দীর্ঘস্থায়ী দ্বন্দ্বে জর্জরিত মাত্র ৯টি দেশেই বসবাস করছে ভুক্তভোগী এসব শিশুদের প্রায় ৬০ শতাংশ।

সংঘাতের কারণে নিজ ভূমি থেকে বিতাড়িত ও ঘরবাড়ি হারানো শরণার্থী শিশুদের গল্প আরও বেদনাদায়ক। সাধারণ সংকটকবলিত এলাকায় যেখানে ৩৬ শতাংশ শিশু স্কুলের বাইরে থাকে, সেখানে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত শিশুদের ক্ষেত্রে এই হার অর্ধেক ছাড়িয়ে যায়। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া শরণার্থী শিশুদের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, প্রতি চারজন শিশুর মধ্যে প্রায় তিনজন (৭৪ শতাংশ) শিশুই শিক্ষার মৌলিক অধিকার থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত।

তবে এই শিশুরা যে স্বেচ্ছায় স্কুল ছাড়ছে, তা কিন্তু নয়। ইসিডব্লিউ’র প্রতিবেদনটি স্পষ্ট করে দেখিয়েছে যে, পরিবারের অনিচ্ছা বা পড়াশোনার প্রতি অনীহা এর জন্য দায়ী নয়; বরং বাবা-মায়েরা তাদের শেষ সম্বলটুকু থাকা পর্যন্ত সন্তানকে ক্লাসে পাঠাতে লড়াই করেন। মূলত চরম আর্থিক অনটন, ক্ষুধার তাড়না এবং সংঘাতের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চিরতরে বন্ধ হয়ে যাওয়াই শতকরা ৮০ ভাগ শিশুর স্কুল থেকে ঝরে পড়ার মূল কারণ।

কিন্তু যখন এই শিশুদের পাশে দাঁড়ানো সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল, ঠিক তখনই বিশ্বজুড়ে মানবিক শিক্ষার জন্য বরাদ্দ আন্তর্জাতিক তহবিল ও অনুদান আশঙ্কাজনকভাবে কমে আসছে। সবমিলিয়ে বিদ্যালয় থেকে এই দীর্ঘ সময়ের বিচ্ছিন্নতা শিশুদের জীবনে এক অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে আনছে।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সংকটের মুখোমুখি হওয়া শিশুদের ৯০ শতাংশই প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার পরও সাধারণ রিডিং পড়া বা প্রাথমিক গণিতের ন্যূনতম যোগ্যতাটুকু অর্জন করতে পারছে না, যা যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে নেমে এসেছে মাত্র ৫ থেকে ৬ শতাংশে। শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, যে শিশু ১০ বছর বয়সের মধ্যে সাধারণ রিডিং পড়তে শেখে না, ১৫ বছর বয়সে পৌঁছানোর আগেই তার স্কুল থেকে চিরতরে ঝরে পড়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

সংকটময় এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য বিশ্বব্যাংকের ফ্রেমওয়ার্ক ও বিশেষজ্ঞরা কেবল বই-খাতা বা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছেন। সংঘাত, বোমা আর বাস্তুচ্যুতির ট্রমা, গভীর উদ্বেগ ও বিষণ্নতা শিশুদের মনের ভেতর যে গভীর ক্ষত তৈরি করে, তা তাদের শেখার স্বাভাবিক ক্ষমতাকে স্থবির করে দেয়। তাই শিশুর সুন্দর ভবিষ্যৎ ও শক্তিশালী ভিত্তি পুনর্গঠন করতে হলে শিক্ষার পাশাপাশি তাদের মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক সহযোগিতা দেওয়াকে এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক কর্তব্য হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পাচ্ছেন ৩৭ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭৮ শিক্ষার্থী | কালের কণ্ঠ