• ই-পেপার

বিকল্প খুঁজছে সরকার

  • বছরজুড়েই থাকবে অর্থনৈতিক সংকট
  • সক্রিয় করা হচ্ছে বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামকে

পোশাক খাতের রপ্তানি আয় কমেছে

অনলাইন ডেস্ক
পোশাক খাতের রপ্তানি আয় কমেছে

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা এবং অভ্যন্তরীণ নানান সীমাবদ্ধতার ধাক্কায় দেশের শীর্ষ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি আয়ে পতন ঘটেছে। দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩৮ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে, যা আগের অর্থবছরের ৩৯ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার থেকে ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ কম। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে এই খাত থেকে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী এ তথ্য জানা যায় বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রতিদিন

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, তৈরি পোশাকের মধ্যে ওভেন পোশাক রপ্তানি ১৮.১৯ বিলিয়ন ডলার থেকে সামান্য কমে ১৮.০৮ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ০.৬১ শতাংশ কম। অন্যদিকে নিট পোশাক রপ্তানি ২১.১৬ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ২০.৬২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ নিট পোশাক রপ্তানি কমেছে ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

মাসভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, বিদায়ী অর্থবছরের শুরুতে জুলাই মাসে রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি ছিল। ওই মাসে মোট রপ্তানি ২৪.৬৭ শতাংশ বেড়ে ৩.৯৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। এপ্রিলে ৩১ দশমিক ২১ শতাংশ এবং জুনে ২১ দশমিক ৫২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়। তবে আগস্ট থেকে মার্চ পর্যন্ত অধিকাংশ মাসেই রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। এর মধ্যে মার্চ মাসে সর্বোচ্চ ১৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ এবং ডিসেম্বরে ১৪ দশমিক ২৩ শতাংশ পতন রেকর্ড করা হয়। ফেব্রুয়ারিতেও রপ্তানি ১৩.২১ শতাংশ কমে যায়। অর্থবছরের কয়েক মাসে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখা গেলেও অধিকাংশ মাসে রপ্তানি কমে যাওয়ায় সামগ্রিকভাবে বার্ষিক হিসাবে দেশের তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি আয় ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ কমেছে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, ‘বিশ্ববাজারে দুর্বল চাহিদা ও ক্রেতাদের কম দাম প্রস্তাবের কারণে অনেক কারখানা লোকসানে পড়েছে। মজুরি, সুতা, রং, রাসায়নিক, জ্বালানি ও অন্যান্য উৎপাদন ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে, যা দেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে

শনির দশা কাটছে না

বাড়ছে পাচার, কমছে বিনিয়োগ ব্যাংকিং খাতে অস্থিরতা, রপ্তানিতে ধীরগতি

অনলাইন ডেস্ক
শনির দশা কাটছে না

দেশের অর্থনীতি বর্তমানে একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগে স্থবিরতা, রপ্তানিতে ধীরগতি, ব্যাংকিং খাতে অস্থিরতা ও অর্থ পাচার-সব মিলিয়ে যেন অর্থনীতিতে শনির দশা কাটছেই না। অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, এসব সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে। বাংলাদেশ প্রতিদিনের এক প্রতিবেদনে এসব জানা গেছে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি), ঢাকা চেম্বারসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশে বিনিয়োগের গতি স্পষ্টভাবেই কমে গেছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ব্যয় কমে যাওয়া এবং মূলধনি যন্ত্রপাতির আমদানি হ্রাস পাওয়াও বিনিয়োগ কমে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। রপ্তানি খাতেও ধাক্কা লেগেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি করে আয় হয়েছে ৪ হাজার ৮০০ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। আর সরকার যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল, তার চেয়েও প্রায় ১৩ শতাংশ কম হয়েছে রপ্তানি আয়। এতে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বাড়ছে। এর মধ্যে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়ায় আমদানি খরচ বেড়েছে। শিল্পকারখানার জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতির দাম বেড়ে যাওয়ায় নতুন বিনিয়োগ আরও নিরুৎসাহ হচ্ছে। এ সংকটের মধ্যেই বাড়ছে অর্থ পাচারের প্রবণতা। সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত বেড়ে ৮৩ কোটি ৪১ লাখ সুইস ফ্রাঙ্কে দাঁড়িয়েছে, যা এক বছরে প্রায় ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি।

বিশ্লেষকদের মতে হুন্ডি ও বাণিজ্যে কারসাজির মাধ্যমে প্রতিদিন বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার হচ্ছে। ভারত, মালয়েশিয়া, দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে সম্পদ কেনায় এ অর্থ ব্যবহার হচ্ছে। এতে দেশে বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় পুঁজি কমে যাচ্ছে।

এদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, জিডিপির সঙ্গে মোট বিনিয়োগের অনুপাত কমে ২৭ দশমিক ৯৩ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ২৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরে বিনিয়োগ কমেছে শূন্য দশমিক ৬১ শতাংশ পয়েন্ট। এ ছাড়া চলতি অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে দেশে নিট এফডিআই (বিদেশি বিনিয়োগ) এসেছে ১১৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৪৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার। অর্থাৎ কমেছে প্রায় ২৯ কোটি ডলার বা ২০ দশমিক ২২ শতাংশ। যদিও আগের অর্থবছরে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও এফডিআই কিছুটা বেড়েছিল, বর্তমানে বিনিয়োগকারীরা আরও সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। জ্বালানিসংকট, অনুমোদন পেতে দীর্ঘ সময় এবং নীতিগত অনিশ্চয়তা এ ক্ষেত্রে বড় বাধা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেছেন, ‘বিদেশি বিনিয়োগ আনতে সবচেয়ে বড় সমস্যা জ্বালানি, বিশেষ করে গ্যাস। গ্যাসের স্বল্পতার কারণে সবচেয়ে বেশি ভুগছে আমাদের ফ্যাক্টরিগুলো। দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সমস্যার তালিকা প্রায় একই-জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও প্রশাসনিক জটিলতা।’

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বিনিয়োগ না বাড়লে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য কাগজে কলমে থাকলেও বাস্তবে অর্জন করা কঠিন হবে। কারণ প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তিই হলো বেসরকারি বিনিয়োগ ও শিল্প সম্প্রসারণ। আর মূল্যস্ফীতি এখনো উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। এতে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমছে, অভ্যন্তরীণ চাহিদা দুর্বল হচ্ছে। চাহিদা না বাড়লে বিনিয়োগের আগ্রহও স্বাভাবিকভাবে কমে যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘শুধু বাজেট প্রণয়ন দিয়ে এ পরিস্থিতির সমাধান হবে না। আমাদের প্রয়োজন নীতিগত স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, সহজ করব্যবস্থা এবং জ্বালানি খাতে দ্রুত ও কার্যকর সমাধান। এগুলো নিশ্চিত করতে পারলে অর্থনীতি আবার গতি ফিরে পেতে পারে, না হলে এ চাপ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।’ অন্যদিকে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ দ্রুত বাড়ছে।

সিপিডির তথ্যানুযায়ী, ২০২০ সালে যেখানে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ ছিল ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার, তা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারে। ফলে রিজার্ভের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। এদিকে মূল্যস্ফীতি এখনো উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। ২০২১ সালে মূল্যস্ফীতির এ ঊর্ধ্বগতি শুরু হয়। বাজারে চাল, ডাল, আটা, ময়দা, তেল, শাকসবজি, মাংস সব নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ চরম চাপে রয়েছে। জ্বালানি তেলের দামও সম্প্রতি দুই দফায় বাড়ানো হয়েছে। অকটেন ও পেট্রোলের পাশাপাশি এলপিজি ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির কারণে আবারও মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমছে, যা অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও বিনিয়োগকে বাধাগ্রস্ত করছে। এ ছাড়া ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি রয়েছে। এ ঘাটতি পূরণে সরকারকে দেশি ও বিদেশি উৎস থেকে ঋণ নিতে হবে। এর মধ্যে দেশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি এবং বিদেশ থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বাজেট ব্যয়ের সবচেয়ে বড় খাত হয়ে উঠেছে ঋণের সুদ পরিশোধ ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ উন্নয়ন ব্যয়ের তুলনায় সুদ পরিশোধেই বড় অংশ চলে যাচ্ছে। অন্যদিকে অনেক আমানতকারীর ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে না পারার অভিযোগও সামনে আসছে, যা আর্থিক খাতের আস্থায় প্রভাব ফেলছে। সব মিলিয়ে অর্থনীতির সামনে এখন জটিল সমীকরণ। একদিকে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, অন্যদিকে কমে যাওয়া বিনিয়োগ, ঋণের চাপ, রপ্তানিতে ধীরগতি ও অর্থ পাচার-সবকিছু মিলে প্রবৃদ্ধির পথ কঠিন হয়ে উঠেছে।

টানা দুই দফায় ভরিতে কত বাড়ল সোনা-রুপার দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
টানা দুই দফায় ভরিতে কত বাড়ল সোনা-রুপার দাম
সংগৃহীত ছবি

দেশের বাজারে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সোনা ও রুপার দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি। এ নিয়ে দুই দফায় মূল্যবান ধাতুটির দাম বেড়েছে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা। অন্যদিকে ভরিতে ১১৭ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা। এ নিয়ে দুই দফায় রুপার দাম বাড়ানো হয়েছে ৪০৮ টাকা।

সবশেষ শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে এক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে টানা ২য় দফা সোনা-রুপার দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনা ও রুপার মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১০টা থেকেই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম পড়ছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
 
বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলংকারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য। সোনার অলংকার ও রৌপ্যালংকারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এ ছাড়া সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলংকার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের আগের নিয়ম বহাল থাকবে।

এর আগে, সবশেষ গত ২ জুলাই সকালে সোনার দাম সমন্বয় করেছিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। সেদিন প্রতি ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।

এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৮৬ বার সমন্বয় করা হয়েছে সোনার দাম। যেখানে দাম ৪৩ দফা বাড়ানো হয়েছে, কমানো হয়েছে ৪২ দফা ও ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।

এদিকে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের রুপার দাম পড়ছে ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৩৩ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
 
বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলংকারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য রৌপ্যালংকার ও সোনার অলংকারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এ ছাড়া সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলংকার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের আগের নিয়ম বহাল থাকবে।

এর আগে সবশেষ গত ২ জুলাই সমন্বয় করা হয়েছিল রুপার দাম। সে সময় ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ২৯১ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার ৪ হাজার ৭৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৫৪৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৯০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৯৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।

এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৫৩ দফা সমন্বয় করা হয়েছে রুপার দাম। যেখানে দাম ২৭ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে বাকি ২৬ দফা। আর ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল রুপার দাম। যার মধ্যে বেড়েছিল ১০ বার, আর কমেছিল মাত্র ৩ বার।

বিশ্ববাজারে সোনা-রুপার দাম আরো বাড়ল

অনলাইন ডেস্ক
বিশ্ববাজারে সোনা-রুপার দাম আরো বাড়ল
সংগৃহীত ছবি

টানা চার সপ্তাহ দরপতনের পর আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থানসংক্রান্ত নতুন প্রতিবেদনে আশানুরূপ অগ্রগতির দেখা পাওয়া যায়নি। তাই নিকটবর্তী সময়ে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর আশঙ্কা হ্রাস পেয়েছে। এতে করে মূল্যবান এই ধাতুর দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। খবর রয়টার্স

শুক্রবার (৩ জুলাই) স্পট মার্কেটে সোনার দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৭৪ দশমিক ২১ ডলারে পৌঁছায়, যা গত ২৩ জুনের পর সর্বোচ্চ। আগামী আগস্টে সরবরাহযোগ্য মার্কিন গোল্ড ফিউচারসের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৮৬ দশমিক ৮০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বাইবিটের প্রধান বাজার বিশ্লেষক হান তান বলেন, ‘গত মাসে মার্কিন কর্মসংস্থানে বড় ধরনের মন্দার কারণেই সোনার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। সেপ্টেম্বরে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় তাৎক্ষণিক এই মূল্যবৃদ্ধি আপাতত যৌক্তিক বলেই মনে হচ্ছে।’

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, গত মাসে মার্কিন অ-কৃষি খাতে কর্মসংস্থান বেড়েছে ৫৭ হাজার। রয়টার্সের এক জরিপে অর্থনীতিবিদদের প্রত্যাশিত ১ লাখ ১০ হাজারের চেয়ে এই সংখ্যা বেশ কম।

অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে রুপার দাম ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬২ দশমিক ১৯ ডলার, প্ল্যাটিনামের দাম ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬৬৫ দশমিক ৩০ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ২৭৮ দশমিক ৩৬ ডলারে পৌঁছেছে।

এদিকে দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম পড়ছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৩৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।