• ই-পেপার

হালাল সনদ অর্জনে বাংলাদেশের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পাশে থাকবে ইন্দোনেশিয়া

ইসলামী ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

অনলাইন ডেস্ক
ইসলামী ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক
সংগৃহীত ছবি

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-তে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আশরাফুল আলমকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১০ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ব্যাংক কম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ধারা ৪৯(১)(ঘ)(আ) অনুযায়ী প্রদত্ত ক্ষমতাবলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. আশ্রাফুল আলমকে ইসলামী ব্যাংকে পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

আরো পড়ুন
পাবনায় সন্তানের সামনে বাবাকে গুলি করে হত্যা, গ্রেপ্তার ৩

পাবনায় সন্তানের সামনে বাবাকে গুলি করে হত্যা, গ্রেপ্তার ৩

 

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংকটির সার্বিক কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ, ব্যাংকের স্বার্থ সংরক্ষণ, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং বৃহত্তর জনস্বার্থ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পর্যবেক্ষক হিসেবে মো. আশ্রাফুল আলম ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে অংশ নেবেন। পাশাপাশি ব্যাংকের কার্যক্রম সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য, মতামত ও পর্যবেক্ষণ বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করবেন।

আরো পড়ুন
প্রভা কি আবারও প্রেমে পড়েছেন?

প্রভা কি আবারও প্রেমে পড়েছেন?

 

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, দেশের ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইসলামী ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগের এ পদক্ষেপ ব্যাংকটির কার্যক্রমে আস্থা, শৃঙ্খলা ও সুশাসন আরও জোরদার করতে সহায়ক হবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বিশ্ববাজারে সোনা-রুপার দামে বড় পতন

অনলাইন ডেস্ক
বিশ্ববাজারে সোনা-রুপার দামে বড় পতন
সোনা-রুপার গয়না। ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম ২ শতাংশের বেশি কমে দুই মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা বাড়ায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত এই ধাতুটির ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। খবর রয়টার্স

বুধবার (১০ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ২ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৪৮ দশমিক ৮৬ ডলারে নেমে আসে। গত ২৩ মার্চের পর এটি সর্বনিম্ন দাম। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে আগস্ট ডেলিভারির সোনার ফিউচারসের দামও ২ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৬৯ দশমিক ৯০ ডলারে দাঁড়ায়।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা দুর্বল হয়ে পড়েছে। এর ফলে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান এফএক্সটিএমের জ্যেষ্ঠ গবেষণা বিশ্লেষক লুকম্যান ওতুনুগা বলেন, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়লেও মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা এবং সম্ভাব্য সুদের হার বৃদ্ধির কারণে সোনার বাজার চাপে রয়েছে। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় যুদ্ধ অবসানের প্রচেষ্টা বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির আশপাশে ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে তারা জর্দান, কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর এ ধরনের সংঘর্ষের এটি অন্যতম বড় ঘটনা।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলার পর থেকে সোনার দাম ২০ শতাংশের বেশি কমেছে। একই সঙ্গে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির চাপও বাড়ছে।

এদিকে সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন সম্ভাবনা বর্তমানে ৭০ শতাংশ হিসেবে বিবেচনা করছেন ব্যবসায়ীরা।

বিনিয়োগকারীরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের মে মাসের ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) এবং উৎপাদক মূল্যসূচক (পিপিআই) প্রতিবেদনের দিকে নজর রাখছেন। এসব তথ্য ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

অন্যদিকে সোনার সঙ্গে তাল মিলিয়ে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। স্পট সিলভারের দাম ২ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৩ দশমিক ৮০ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম কমেছে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ। তবে প্যালাডিয়ামের দাম সামান্য বেড়ে ১ হাজার ২২৭ দশমিক ২৫ ডলারে পৌঁছেছে।

দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম পড়ছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৩৭৩ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৮ হাজার ৯৩৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা ১ লাখ ৫২ হাজার ৮৫৭ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

এদিকে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ২৪৯ টাকায়। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ২৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ২০৮ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

ব্যক্তি বিনিয়োগ না থাকলে বাজেট ইনক্লুসিভ করা যাবে না : ড. ফাহমিদা খাতুন

অনলাইন ডেস্ক
ব্যক্তি বিনিয়োগ না থাকলে বাজেট ইনক্লুসিভ করা যাবে না : ড. ফাহমিদা খাতুন
সিপিডি নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। ছবি : কালের কণ্ঠ

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে আগের যে চলতি বাজেটটি আছে তার ১৯ শতাংশ বেশি প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে এই বাজেটে। দেশের অর্থনীতি সংকটকালীন সময় পার করছে। বিশেষ করে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, উচ্চ সুদের হার, উচ্চ রাজস্ব ঘাটতি, বিনিয়োগ নেই এবং কর্মসংস্থানের নানান সংকট নিয়ে এই সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছে। চলমান এসব সংকট নিয়ে কালের কণ্ঠ মাল্টিমিডিয়ার নিয়মিত আয়োজন দ্যা বিজনেস রিভিউ শোতে কথা বলেছেন সিপিডি নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন।

ব্যবসাবান্ধব বাজেট হতে যাচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘বাজেট তো এখনো আমরা দেখিনি, যতটুকু গণমাধ্যমে এসেছে এবং মাননীয় অর্থমন্ত্রীর মুখ থেকে যতটুকু শুনতে পাচ্ছি। তারা বলছেন, বাজেটটা ব্যবসাবান্ধব হবে। শুধু ব্যবসা বান্ধব না, শুধুমাত্র যে ব্যক্তি খাতের উন্নয়নের জন্য না, তারা এটাও বলছেন যে, এটা একটা ইনক্লুসিভ বাজেট হবে অর্থাৎ সকলের জন্য কিছু না কিছু থাকবে। তবে মূল বিষয়টা হচ্ছে, ব্যক্তি বিনিয়োগ যদি না হয় তাহলে কিন্তু আবার ইনক্লুসিভও করা যাবে না কারণ এখানে কর্মসংস্থানের কথা উনি বারবার যেটা জোর দিচ্ছেন যে চাকরি কোথা থেকে আসবে।

আমাদের অর্থনীতির প্রায় ৯৫ শতাংশ কিন্তু ব্যক্তি খাতের ওপর নির্ভর করে। তো এখন দেখেন ধারাবাহিকভাবেই ব্যক্তিখাতের বিনিয়োগ তো কম স্থবির। এটা আজকে থেকে না, বহু বছর থেকেই। দশকের মতো হয়ে যাবে যে, জিডিপির ২৩-২৪ শতাংশের মধ্যে আটকে আছে। প্রয়োজন ৩০ শতাংশ মিনিমাম একটা উদীয়মান অর্থনীতির জন্য। তবে আরো একটা বিষয় যে ২৫ অর্থবছরে এটা ২২ শতাংশ নেমে গিয়েছে অর্থাৎ এটা নিম্নগামী হচ্ছে। আমাদের মতো উদয়মান দেশে ৩০ শতাংশ। চায়নার ৩৫ শতাংশ, আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতের দিকে তাকান।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা তো ক্লেইম করছি যে আমরা এলডিসি থেকে বের হয়ে যাচ্ছি। আর কিছুদিন পরে হয়তো ইভেন এক্সটেনশন না হলেও তিন বছর পরে তো আমরা গ্রেস পিরিয়ড পার হওয়ার পরেই কিন্তু আর এই সমস্ত সুযোগ-সুবিধা থাকবে না। অর্থাৎ এটা বলার অর্থ এই যে, ব্যক্তিখাত আরো অনেক প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়ে যাবে। এখন আছে নিজেদের একটা অস্তিত্বের মধ্যে ডোমেস্টিক মার্কেটে টিকে থাকার জন্য। কিন্তু আমরা তো শুধু ডোমেস্টিক মার্কেট নিয়েই না, আমাদের প্রোডাক্ট বাইরে যেতে হয়।’

গ্লোবালি ইন্টিগ্রেটেড হয়ে আছে আমাদের ইকোনমি উল্লেখ করে ফাহমিদা বলেন, ‘ইকোনমির প্রায় ৪০ শতাংশ কিন্তু বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে রপ্তানি-আমদানি তারপরে বিনিয়োগ রেমিটেন্স ইত্যাদির মাধ্যমে জড়িত আছে। এখন এই ইয়েটা গতিময়তাটা আনার জন্য একটা বিষয় হচ্ছে, আপনাকে অর্থ যোগান দিতে হবে। উনি যেটা বললেন যে অনেক ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে অনেক কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এবং সম্প্রতি যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তারা ৬০ হাজার কোটি টাকার একটা সাপোর্ট ঘোষণা করেছে। যেটা আর কিনা ১৯ হাজার কোটি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে দিবে, ৪১ হাজার কোটি টাকা বিভিন্ন ব্যাংক থেকে তার রিফাইনান্সিং করে দেবে। সেখানে স্পেসিফিকালি কোন কোন খাতে কত টাকা দেওয়া হবে এটা বলা আছে।’

তিনি বলেন, ‘এটা একটা ভালো উদ্যোগ মনে হচ্ছে ও আশা করি যে এটা যদি ভালোভাবে ব্যবহার হয় এবং যাদের দরকার তাদের কাছে গেলে এটা একটা এইযে ড্রাই আউট হয়ে গেছে। এখানে কিছুটা সাপোর্ট পাবে। তবে মনে রাখতে হবে যে আমাদের অতীতের মতো যে যাদের আসলে প্রয়োজন এবং যারা নিয়ে ওই টাকাটা আসলে কাজে ব্যবহার করতে পারছে সেরকম একটা ক্লোজ মনিটরিং-এর বিষয় রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাজেটারি সাপোর্টে আরো কয়েকটা বিষয় রয়েছে। যখন আমরা রপ্তানি কিংবা আমদানি করি তখন এখানে একটা ফিসকাল মেজার থাকে ফিসকাল পলিসির। তো আমাদের এক্সপোর্ট খাতের মধ্যে আরএমজি সেক্টরটা অনেকদিন থেকে অনেক ধরনের কিন্তু সুযোগ-সুবিধা পেয়েছে। ফর এক্সাম্পল আপনের এক্সপোর্ট ইনসেন্টিভ যেগুলো কিংবা ইম্পোর্টের ক্ষেত্রে যদি বলে আমাদের যে ট্যারিফের ক্ষেত্রে ট্যারিফ প্রটেকশন এগুলো ছিল। কিন্তু এই সিনারিওটা বন্ধ হয়ে যাবে কিছুদিন পরে। তো তাহলে তার মানেটা হচ্ছে কি? আমাদেরকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। এই দাঁড়ানোর জন্য যতখানি সহায়তা, রাস্তাঘাট অবকাঠামো, বিদ্যু, জ্বালানি, তারপরে হচ্ছে যে পোর্ট ফ্যাসিলিটি এটা মানে এটাকে বেগবান করা, প্রযুক্তি, দুর্নীতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, এই সমস্ত যদি ঠিক না করি এগুলো স্ট্রাকচারাল ইস্যু একটা হয়ে আছে। এগুলো ঠিক না করলে আপনি শুধুমাত্র একটা ফ্যাক্টরি একটা আপনি এক জায়গায় দিলেনকে অনুষঙ্গ তাহলে কিন্তু ঠিক হলো না।’

ঘাটতি বাজেটের বিষয়ে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘এটা একটা ভীষণ একটা চিন্তার বিষয় যে আসলে অর্থায়ন যেহেতু নাই আমাদের বাজেট ঘাটতি পূরণ করার জন্য, বাজেটের বাজেট পূরণ করার জন্য কিংবা বাজেট বাস্তবায়নের জন্য আমাদের একমাত্র মানে অন্যতম একটা উৎস হচ্ছে রাজস্ব। তা এখন আমাদের রাজস্ব ঘাটতি তো একটা এটাও একটা পেরিনিয়াল। যেমন আপনার ব্যক্তিঘাতের বিনিয়োগের কথা বললাম। এরকম রাজস্ব ঘাটতিটাও গত ১০ বছর থেকে ২০১৭ থেকে ক্রমান্বয়ে এটা টার্গেট ফুলফিল করতে পারছে না। কিন্তু তার বিপরীতে তাকে একটা বিরাট একটা টার্গেট কিন্তু চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এখন সক্ষমতা নাই কিন্তু ওই টার্গেটটা আছে। তো কখনোই এটা কিন্তু পূরণ করতে পারবে না। এবং যেহেতু এখন বাজেটের আকার বেশি, রাজস্ব আহরণের মাত্রাটাও বেশি। কিন্তু তার বাইরেও একটা ঘাটতি রয়ে গেছে। প্রতিবছর আপনি যেটি বললেন যে এই চলতি অর্থবছরেও কিন্তু এক লক্ষ কোটি টাকার উপরে এক লক্ষ দুই হাজার কোটি টাকার মতো কিন্তু ইতিমধ্যে ব্যাংক থেকে নিয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘আগামী বছরে আরো বড় টার্গেট। এখন ব্যক্তি খাতের চাহিদা নাই। যদি আমি ধরে নিচ্ছি যে আগামী এক বছরের মধ্যে বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত হলো। তখন তো ব্যক্তি খাতের চাহিদা থাকবে, অর্থ লাগবে। তো এটা একটা ক্রাউডিং আউট ইফেক্ট অবশ্যই আসবে। তার মানে তখন কি হবে? তখন তো সুদের হার আরো বেড়ে যাবে। এখনই কিন্তু বেশি, এখনকার বাস্তবতা হচ্ছে যে মূল্যস্ফীতি বেশি এই কারণে আপনার কন্ট্রাকশনারি মনিটারি পলিসি ফলো করতে হচ্ছে। তো তখন যদি আপনের লিকুইডিটি না থাকে ব্যাংকে, তখন তো সুদের হার আরো বাড়বে। তো এইরকম আসলে একটা হোলিস্টিক চিন্তার প্রয়োজন রয়েছে।’

ঘাটতি মেটানোর প্রথম কথা যে ঘাটতি আস্তে আস্তে আমাদেরকে কমিয়ে আনতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ঘাটতি বাজেট কোনো খারাপ বিষয় না। অনেক দেশেই সেটা করে থাকে কিন্তু আপনি অর্থায়নের জায়গাগুলি কোথায়, আমার আরেকটা জায়গা আছে। এক্সটারনাল সোর্স থেকে বাজেটারি সাপোর্ট আর যেটা বললেন যে যেই টাকাটা আছে সেই টাকাটা আমি যথেষ্ট সুশাসনের সাথে একাউন্টেবিলিটির সাথে ব্যয় করছে কিনা এটাই হচ্ছে। আমাদের এখানে তো অপচয়ের একটা ইতিহাসই আছে। লিকেজ, ওয়েস্টেজ, করাপশন এইগুলোর ওপর যদি নজর না দেওয়া হয় তাহলে আমাদের অর্থনীতির একটা বিরাট অংশ কিন্তু ওই খাতেই চলে যাবে। তখন আপনার এই যে রাজস্বের আদায়ের ওপরে জোর দিচ্ছে। কিন্তু রাজস্বটা যদি আবার ভালোভাবে ব্যবহার না হয় তাহলে আপনার ওখানে কোনো সাশ্রয় হবে না। আরো একটা কথা এই যে বলি যে আমাদের এখানে কর ফাঁকি দেওয়া হয় যত মানুষের এত জনগণ করযোগ্য আয়ের মধ্যে পড়ে কিন্তু তাদের কোনো টিন নম্বর নাই, যাদের আছে তারা কর দিচ্ছে না। একটা মোটিভেশনেরও দরকার আছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘মানুষ যখন দেখে যে তার টাকা দিয়ে কি হচ্ছে, সে কি কোনো সেবা পাচ্ছে কিনা, পাবলিক সার্ভিস জিনিস সেটা পাচ্ছে কিনা, কিংবা তার টাকা দিয়ে যে অবকাঠামো তৈরি হচ্ছে সেখানে কি দুর্নীতি হচ্ছে কিনা, সেটা কি দুর্নীতির মধ্যে টাকাটা চলে যাচ্ছে কিনা, ওগুলো কিন্তু মানুষকে মোটিভেট করার জন্য কিংবা ডিমোটিভেট করার জন্য একটা অন্যতম কারণ। তো ওই বিষয়গুলি কিন্তু দিতে হবে। আপনি হ্যাঁ ড্রাইভ দিবেন অটোমেশন করে মানুষকে নিয়ে আসবেন। কিন্তু ইন রিটার্ন আপনি কি দিচ্ছেন? এমনকি আপনার এই যে ব্যাংকের টাকাগুলি যে চলে গেল ওইগুলো তো মানুষেরই টাকা। আমানতকারীদের টাকা। তো সাধারণ মানুষ কিন্তু আপনার ইকোনমিতে যে পার্টিসিপেট করবে, তারা তো দিচ্ছে কিন্তু রিটার্নটা সেইভাবে পাচ্ছে না।’

১০ হাজার কোটি টাকা ধার চেয়েছে ইসলামী ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ হাজার কোটি টাকা ধার চেয়েছে ইসলামী ব্যাংক
সংগৃহীত ছবি

টাকার সংকটে পড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা ধার চেয়েছে বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংক। গ্রাহকের চাহিদা সামাল দিতে মঙ্গলবার (৯ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে টাকা ধার চেয়েছে ব্যাংকটি।

সম্প্রতি ব্যাংকটিতে চেয়ারম্যান নিয়োগের পর নানা বিতর্ক এবং গ্রাহক ফোরামের চলমান আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকটি থেকে গ্রাহকরা গত এক সপ্তাহে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি তুলে নিয়েছেন। এর ফরে নগদ টাকার সংকটে পড়েছে ব্যাংকটি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী গণমাধ্যমকে বলেন, ইসলামী ব্যাংক ১০ হাজার কোটি টাকা ধার চেয়েছে। তবে এখনো টাকা দেওয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।