• ই-পেপার

প্রাইজ বন্ডের ড্র, লাখ টাকা পুরস্কার পেল যেসব নম্বর

ব্যাংকে নগদ অর্থের সংকট

অনলাইন ডেস্ক
ব্যাংকে নগদ অর্থের সংকট

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশে নতুন নোটের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে চাহিদার তুলনায় অনেক কম নগদ অর্থ পাচ্ছে। একই সঙ্গে ঈদকে কেন্দ্র করে নগদ টাকার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোতে অর্থ উত্তোলনের চাপও বাড়ছে। এর প্রভাবে আন্তব্যাংক কলমানি বাজারে সুদহার ১১ শতাংশ অতিক্রম করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কয়েকটি ব্যাংক নগদ টাকার চাহিদার বিপরীতে মাত্র ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ অর্থ পাচ্ছে। এতে ব্যাংকগুলোর তারল্য ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হয়েছে। যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, এটি কোনো তারল্যসংকট নয়; বরং নতুন ছাপানো নোটের ঘাটতির কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাংকারদের তথ্য অনুযায়ী, আট-দশ দিন ধরে বাংলাদেশ ব্যাংক চাহিদার তুলনায় অনেক কম নগদ সরবরাহ করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন নগদ লেনদেনের পরিবর্তে ইলেকট্রনিক লেনদেন বাড়াতে উৎসাহ দিচ্ছে। ঈদুল আজহার আগে স্বাভাবিকভাবেই নগদ টাকার চাহিদা বেড়ে যায়। গরুর হাটে বড় অঙ্কের নগদ লেনদেন, শ্রমিকদের বোনাস-ভাতা পরিশোধ এবং গ্রাহকদের ব্যক্তিগত খরচের কারণে ব্যাংক থেকে নগদ উত্তোলন বাড়ছে। ফলে ব্যাংকগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।

একটি বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘ঈদের আগে সাধারণত নগদ উত্তোলনের চাপ বেশি থাকে। এবার গরুর হাটকে কেন্দ্র করে বড় অঙ্কের নগদ টাকার চাহিদা তৈরি হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠানও শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধের জন্য নগদ তুলছে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঈদ উপলক্ষে কেন্দ্রীয় ব্যাংক টাঁকশালের কাছে ১৬ হাজার কোটি টাকার নতুন নোট চেয়েছিল। তবে কাগজ ও কালি সংকটের কারণে মাত্র প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার নতুন নোট সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। এর মধ্যে টাঁকশাল থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে ৪ হাজার কোটি টাকার নতুন নোট সরবরাহ করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত নোট বাজার থেকে প্রত্যাহার করা হচ্ছে এবং ছোট মূল্যমানের নোটের পরিবর্তে বড় মূল্যমানের নোট সরবরাহের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কারণ ঈদুল আজহার সময় বড় অঙ্কের নোটের চাহিদা বেশি থাকে। তবে একই সময়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি-সংবলিত পুরোনো ডিজাইনের প্রায় ১৫ হাজার ৮০০ কোটি টাকার নোট এখনো সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশনে মজুত রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক সেসব নোট বাজারে ছাড়তে অনাগ্রহী।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশে মোট মুদ্রার পরিমাণ প্রায় ২৪ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে ছাপানো টাকার চাহিদা ৩ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি। দীর্ঘদিন ধরে পুরনো ডিজাইনের নোট স্থগিত থাকায় চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান আরো বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ব্যাংকগুলোর চাহিদা ধাপে ধাপে পূরণ করা হচ্ছে। নতুন ছাপানো নোট পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হচ্ছে। এখন কম পেলেও পরে অতিরিক্ত চাহিদা পূরণ করা হবে।

১১ শতাংশ ছাড়াল কলমানি সুদহার : নগদ টাকার বাড়তি চাহিদার প্রভাব পড়েছে আন্তব্যাংক মানি মার্কেটেও। গতকাল আন্তব্যাংক কলমানি সুদহার ১১ শতাংশ অতিক্রম করেছে। বাজার সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল কলমানি সুদহার ছিল ৯ দশমিক ৫৫ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৫০ শতাংশের মধ্যে। অধিকাংশ লেনদেন নিষ্পত্তি হয়েছে ১০ দশমিক ০৬ শতাংশ থেকে ১১ শতাংশ সুদহারে। এদিকে আন্তব্যাংক কলমানি বাজারে মোট লেনদেনও বেড়েছে। গতকাল এ বাজারে লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩ হাজার ৮৮৪ কোটি টাকা, যা আগের কর্মদিবসে ছিল ৪ হাজার ৭৩৩ কোটি টাকা।

আরিফ হোসেন খান বলেন, ঈদের আগে বাজার স্থিতিশীল রাখতে আমরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। রেপো সুবিধার মাধ্যমে তারল্য সহায়তা এবং ডলার কেনার বিপরীতে বাজারে অর্থ সরবরাহ করায় কলমানি সুদহার কিছুটা কমতে পারে। গতকাল স্থানীয় মুদ্রার বিপরীতে ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তব্যাংক স্পট মার্কেট থেকে নিলামের মাধ্যমে আরও ৮ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার কিনেছে।

একটি বেসরকারি ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, ঈদের আগে নগদ উত্তোলন বৃদ্ধি এবং ট্রেজারি বিলের বিপরীতে ৯ হাজার কোটি টাকা পরিশোধের কারণে মানি মার্কেটে চাপ বেড়েছে। তবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া গেলে কলমানি সুদহার আবার ১১ শতাংশের নিচে নেমে আসতে পারে।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে নরফান্ডের আগ্রহ

অনলাইন ডেস্ক
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে নরফান্ডের আগ্রহ
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে কৌশলগত অংশীদারির সম্ভাবনা অনুসন্ধানে উচ্চ পর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠক আয়োজন করেছে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কম্পানি লিমিটেড (ইডকল)।

বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে রূপান্তরে কৌশলগত অংশীদারির সম্ভাবনা অনুসন্ধানের লক্ষ্যে আয়োজিত এই বৈঠকে রয়্যাল নরওয়েজিয়ান দূতাবাস, নরওয়ের উন্নয়ন অর্থায়ন প্রতিষ্ঠান ‘নরফান্ড’ এবং দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের নির্বাচিত স্পন্সরবৃন্দ অংশ নেন। সম্প্রতি ইডকলের ঢাকাস্থ প্রধান কার্যালয়ে এই উচ্চ পর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

মঙ্গলবার (১৯ মে) ইডকল থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

আরো পড়ুন
জুলাইতেই শুরু হচ্ছে পদ্মা ব্যারাজের কাজ : পানিসম্পদমন্ত্রী

জুলাইতেই শুরু হচ্ছে পদ্মা ব্যারাজের কাজ : পানিসম্পদমন্ত্রী

 

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত মহামান্য হোকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন। এ ছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন নরওয়ে দূতাবাসের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য উপদেষ্টা বায়েজিদ মুনতাসির সায়েদ এবং এসপেন ক্যাপিটাল সলিউশনস এলএলসির পার্টনার রাজি আমিন, যিনি নরফান্ড ও রয়্যাল নরওয়েজিয়ান দূতাবাসের পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ইডকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলমগীর মোরসেদ এবং সঞ্চালনা করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা নাজমুল হক।

স্বাগত বক্তব্যে নাজমুল হক উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের রূপান্তরের জন্য দীর্ঘমেয়াদি মূলধন ও সুশৃঙ্খল ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন, যা নরফান্ডের মতো উন্নয়ন অর্থায়ন প্রতিষ্ঠানের ম্যান্ডেটের সঙ্গে গভীরভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি ইডকলের ঊনত্রিশ বছরের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি এবং এই অঞ্চলের অল্প কয়েকটি অনুমোদিত ‘গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড ডিরেক্ট অ্যাক্সেস এনটিটি’র একটি হিসেবে এর অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। বিশ্বব্যাংক ও এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকসহ বিভিন্ন বহুপাক্ষিক ও দ্বিপাক্ষিক উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বের অভিজ্ঞতা এ ধরনের কৌশলগত সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে অত্যন্ত সহায়ক হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে ইডকলের নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিভাগের প্রধান মো. এনামুল করিম পাভেল বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা উপস্থাপন করেন। পরবর্তীতে জনাব রাজি আমিন বাংলাদেশে নরফান্ডের বিনিয়োগ আগ্রহ সম্পর্কে একটি ব্রিফিং প্রদান করেন, যা মূলত সম্ভাবনাময় নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে ইক্যুইটি বিনিয়োগকে কেন্দ্র করে আবর্তিত।

রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি লক্ষ্যমাত্রায় নরওয়ের অব্যাহত সমর্থনের কথা ব্যক্ত করে উল্লেখ করেন, নরফান্ডের ক্লাইমেট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের আওতায় বাংলাদেশকে আটটি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত দেশের একটি হিসেবে নির্বাচন করা নরওয়ের দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বের প্রতিফলন, যা কোনো সাময়িক লেনদেনভিত্তিক সম্পর্ক নয়। 
সমাপনী বক্তব্যে আলমগীর মোরসেদ উল্লেখ করেন, এই গোলটেবিল বৈঠকটি ইডকলের ঊনত্রিশতম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে অনুষ্ঠিত হওয়ায় তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৯৭ সালের এই দিনেই বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতের দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে এই প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হয়েছিল। তিনি নরফান্ডের ম্যান্ডেট এবং ইডকলের প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থানের অভিন্নতাকে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার একটি আশাব্যঞ্জক ভিত্তি হিসেবে অভিহিত করেন। একই সাথে তিনি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অর্থায়ন অংশীদার এবং বাংলাদেশের প্রকল্প স্পন্সরদের মধ্যে অনুরূপ অংশীদারি ইডকলের ‘অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস’-এর মাধ্যমে এগিয়ে নিতে প্রতিষ্ঠানের পূর্ণ প্রস্তুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

কার্ড থেকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে লেনদেনে নতুন নির্দেশনা

অনলাইন ডেস্ক
কার্ড থেকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে লেনদেনে নতুন নির্দেশনা

যেকোনো ব্যাংকের কার্ড থেকে মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে টাকা আনার ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রথমবার কোনো ব্যাংক কার্ড বিকাশ, নগদ বা রকেটের মতো এমএফএস অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত করতে হলে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার একটি ‘টোকেন লেনদেন’ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগ এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা দেশের সব ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে।

আরো পড়ুন
ইরানের নতুন শান্তি প্রস্তাবে কী রয়েছে

ইরানের নতুন শান্তি প্রস্তাবে কী রয়েছে

 

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রথমবার কোনো কার্ড এমএফএস ব্যক্তিগত হিসাবের সঙ্গে সংযুক্ত করার সময় সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার একটি লেনদেন করতে হবে। ওই লেনদেন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পর সংশ্লিষ্ট কার্ডটি পুরোপুরি সক্রিয় হবে এবং এরপর গ্রাহক স্বাভাবিকভাবে যেকোনো পরিমাণ অর্থ ‘অ্যাড মানি’ করতে পারবেন।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আগামী ১ আগস্ট থেকে কার্ডধারী ও এমএফএস হিসাবধারীর নাম একই হলে টোকেন লেনদেন ছাড়াই সরাসরি কার্ড সংযুক্ত করে নিয়মিত লেনদেন করা যাবে। অর্থাৎ একই ব্যক্তির নামে থাকা ব্যাংক কার্ড ও এমএফএস হিসাবের ক্ষেত্রে টাকা স্থানান্তরের প্রক্রিয়া আরো সহজ করা হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরো নির্দেশ দিয়েছে, কার্ড থেকে এমএফএস হিসাবে ‘অ্যাড মানি’ লেনদেনকে আর মার্চেন্ট পেমেন্ট হিসেবে দেখানো যাবে না। এটিকে ‘ফান্ড ট্রান্সফার’ হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে। একই সঙ্গে লেনদেনের সময় বেনিফিশিয়ারি ওয়ালেট নম্বর যেন কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংকের কাছে দৃশ্যমান থাকে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

আরো পড়ুন
আনসার-ভিডিপির মাধ্যমে প্রতিটি গ্রাম উন্নয়নের কেন্দ্রে পরিণত হবে : প্রধানমন্ত্রী

আনসার-ভিডিপির মাধ্যমে প্রতিটি গ্রাম উন্নয়নের কেন্দ্রে পরিণত হবে : প্রধানমন্ত্রী

 

নতুন এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে কার্যকর করতে ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে না পারলে ১ আগস্ট থেকে কার্ডের মাধ্যমে এমএফএস অ্যাকাউন্টে ‘অ্যাড মানি’ সুবিধা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার কথাও জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্প্রতি প্রতারণার মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্যাংকের কার্ড ব্যবহার করে একাধিক এমএফএস অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তরের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এসব অনিয়ম ও জালিয়াতি ঠেকাতেই নতুন এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গ্রাহকের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবে লেনদেনে কোনো বাধা থাকবে না বলেও জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বিশ্ববাজারে সোনা-রুপার দামে বড় পতন

অনলাইন ডেস্ক
বিশ্ববাজারে সোনা-রুপার দামে বড় পতন
সোনা ও রুপার গয়না। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে মূল্যস্ফীতির শঙ্কা এবং যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বৃদ্ধির পূর্বাভাসের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম বড় ধরনের পতনের মুখে পড়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) লেনদেনের শুরুতে মূল্যবান এই ধাতুর দাম কমে গত দেড় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরের কাছাকাছি নেমে এসেছে।

বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে আজ সকাল পর্যন্ত স্পট গোল্ডের দাম ০.৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৩৯.৫৪ মার্কিন ডলারে নেমে এসেছে। এর আগে সোমবারও (১৮ মে) দাম কমে ৪ হাজার ৪৭৯.৫৪ ডলারে নেমেছিল, যা গত ৩০ মার্চের পর সর্বনিম্ন।

একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আগামী জুনে সরবরাহের চুক্তি থাকা সোনার ফিউচার মূল্য ০.৩ শতাংশ কমে আউন্স প্রতি ৪ হাজার ৫৪৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, পারস্য উপসাগরে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে। এর ফলে মূল্যস্ফীতি সামাল দিতে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) সুদের হার আরো বাড়াতে পারে—এমন আভাসেই বিনিয়োগকারীরা সোনা বিক্রি বাড়িয়ে দিয়েছেন।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান অ্যাক্টিভট্রেডস’র জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক রিকার্ডো ইভানজেলিস্তা বলেন, পারস্য উপসাগরের অচলাবস্থা থেকে তৈরি হওয়া মূল্যস্ফীতির আশঙ্কায় ফেডারেল রিজার্ভের কঠোর নীতি গ্রহণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আর এই কারণেই নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত সোনার ওপর চাপ বাড়ছে।

তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের দিকে বিনিয়োগকারীরা কড়া নজর রাখছেন। কারণ এই পরিস্থিতির ওপরই নির্ভর করছে ফেডের পরবর্তী মুদ্রানীতি।

সাধারণত সোনাকে মূল্যস্ফীতিজনিত লোকসান মোকাবেলার হাতিয়ার হিসেবে গণ্য করা হলেও সুদের হার বাড়লে সোনার মতো অলভ্যাংশধারী সম্পদে বিনিয়োগের আকর্ষণ কমে যায়। ফলে বিনিয়োগকারীরা সোনা ছেড়ে মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের দিকে ঝুঁকছেন, যার কারণে ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি ইল্ড এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে রয়েছে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম কিছুটা কমলেও তা এখনো প্রতি ব্যারেল ১১০ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে।

সোনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। এদিন স্পট সিলভারের (রুপা) দাম ২.৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭৫.৮৬ ডলারে নেমেছে। এ ছাড়া প্ল্যাটিনামের দাম ০.৮ শতাংশ কমে ১ হাজার ৯৬৪.৭৪ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১.৯ শতাংশ কমে ১ হাজার ৩৯১.৮৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম পড়ছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৭ হাজার ৩৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৮৯ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৬৫৭ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৬০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৪৪১ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

সূত্র : রয়টার্স

প্রাইজ বন্ডের ড্র, লাখ টাকা পুরস্কার পেল যেসব নম্বর | কালের কণ্ঠ