• ই-পেপার

নতুন নীতিমালায় বাড়বে খেলাপি ঋণ, ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন

রেমিট্যান্সে দারুণ গতি, ২২ দিনে এলো ২৬ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
রেমিট্যান্সে দারুণ গতি, ২২ দিনে এলো ২৬ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা
সংগৃহীত ছবি

দেশের অর্থনীতিতে স্বস্তির সুবাতাস বইয়ে দিয়ে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের পালে হাওয়া লেগেছে। চলতি জুন মাসের প্রথম ২২ দিনে প্রবাসীরা বৈধ পথে ২১৫ কোটি ১০ লাখ (২১৫১ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ২৬ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২.৭৫ টাকা হিসাবে)। মঙ্গলবার (২৩ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ হালনাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

তথ্য অনুযায়ী, একক মাস হিসেবে জুনের ২২ দিনে আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। আগের বছর (২০২৫) জুন মাসের প্রথম ২২ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২১১ কোটি ৪০ লাখ ডলার।

তবে একক মাসের চেয়ে চলতি পুরো অর্থবছরের হিসাবে প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি বেশ আশাবাঞ্জক। পরিসংখ্যান বলছে, অর্থবছরের হিসাবে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৭ দশমিক ৮ শতাংশ।

গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২২ জুন পর্যন্ত দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ৯৬২ কোটি ডলার। আর চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে (২২ জুন পর্যন্ত) তা এক লাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪৯০ কোটি ৮০ লাখ ডলারে।
এর মধ্যে কেবল ২২ জুনেই প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে পাঠিয়েছেন ৬ কোটি ৭০ লাখ (৬৭ মিলিয়ন) ডলার।

কোরবানির পর থেকে ব্রয়লার মুরগির দাম কমছেই

বাড়তি উৎপাদন ব্যয়ের বিপরীতে মূল্য পতনে দিশেহারা খামারিরা

অনলাইন ডেস্ক
কোরবানির পর থেকে ব্রয়লার মুরগির দাম কমছেই
সংগৃহীত ছবি

ঈদুল আজহার পর ব্রয়লার মুরগির দাম ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় হাজার হাজার প্রান্তিক পোলট্রি খামারি লোকসানের মুখে পড়েছেন। পোলট্রি শিল্প-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঈদুল আজহার পর মুরগির চাহিদা সব সময়ই কমে যায়, অনেক পরিবারের ফ্রিজারে কোরবানির মাংস সংরক্ষিত থাকার কারণে মুরগির চাহিদা কমেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পশুপাখির খাদ্যসহ অন্যান্য উপকরণের দাম কৃষকের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকায় তারা ব্রয়লার মুরগির উৎপাদন খরচ কমাতে পারছেন না। জুনের প্রথমার্ধে উত্তরাঞ্চলে ব্রয়লার মুরগির আনুমানিক উৎপাদন খরচ প্রতি কেজি প্রায় ১৪০ টাকা হলেও বাজার চাহিদায় ভাটা থাকায় খামারিরা জীবন্ত ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১১০-১২০ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

পঞ্চগড় জেলা সদরের পূর্ব জালাসির প্রান্তিক পোলট্রি খামারি আবদুল খালেক সম্প্রতি এক হাজার ব্রয়লার মুরগি বিক্রি করেছেন ১১৫ টাকা কেজি দরে। হিসাব শেষে তার লোকসান হয়েছে ৭০ হাজার টাকা। এর পরও নিজ বাড়ির আঙিনার দুটি পৃথক শেডে এক হাজার ৫০০ বাচ্চা তুলে লালন-পালন করছেন। তিনি বলেন, পোলট্রি খামার আমার নেশা এবং পেশা। ২০০১ সালে ১০০ বাচ্চা দিয়ে শুরু করে হাঁটি হাঁটি পা পা করে এখন আমার দেড় হাজারের খামার। লাভ-লোকসান মিলিয়ে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মোটামুটি চলছিলাম। কিন্তু চলতি বছরের শুরু থেকে প্রতিটি ব্যাচে কমবেশি লোকসান হচ্ছে। এতে ডিলারের কাছে দুই লাখ ৭০ হাজার টাকার দেনা হয়ে গেছি। 

জেলা সদরের শেখেরহাট এলাকার নারী খামারি জুলেখা বেগম (৫০) স্বামীর অসুস্থতার কারণে সংসারের হাল ধরতে ২০১১ সালে ৩০০ ব্রয়লার বাচ্চা দিয়ে খামার শুরু করেন। স্বামী মারা যাওয়ার পর আয় বাড়াতে জমানো টাকায় খামারের আকারও বাড়িয়েছিলেন। কিন্তু বাড়তি আয়ের বিপরীতে দিন দিন ডিলারের খাতায় ঋণের অঙ্ক বড় হচ্ছে উল্লেখ করে জুলেখা বেগম বলেন, যখন মুরগির কেজি ৬০ টাকা ছিল, তখন ফিডের বস্তা (৫০ কেজি) ছিল এক হাজার টাকা। আর বর্তমানে যখন ফিডের বস্তা তিন হাজার ৬০০ টাকা, তখন মুরগির কেজি ১১০ থেকে ১২০ টাকা। এখন বাচ্চা তুললেই লোকসান, তাই আপাতত খামার বন্ধ রেখেছি। 

তথ্যপ্রযুক্তিতে ডিপ্লোমা করে চাকরি না খুঁজে নিজে উদ্যোক্তা হতে জেলার জগদল ঠুটাপুখরী এলাকার পোলট্রির খামার গড়েছেন মো. রবিউল পারভেজ (২৭)। তিনটি শেডে পাঁচ হাজার মুরগির খামারে বর্তমানে রয়েছে মাত্র এক হাজার ৩০০ মুরগি। তাঁর মতে, ‘মুরগির দামের অস্থিরতা আমাকেও অস্থির করে তুলেছে। একবার দর ভালো পেলে তিনবার খারাপ যাচ্ছে। এতে ক্রমে মনোবল হারিয়ে ফেলছি। যখন ৫০০-১০০০-এর মুরগির খামার ছিল, তখন ভালোই ছিলাম। কিন্তু এখন বড় বিনিয়োগ করে ঝুঁকিও বাড়িয়ে ফেলেছি।’ তিনি জানান, পোলট্রি খামার ব্যবসায় বাচ্চার দর ও ফিডের দর যাই হোক, মূল বিষয় মুরগির মাংসের বাজারদর। গত কয়েক মাস ধরে খামার গেটে মুরগির অস্বাভাবিক দর পতনের কারণে ডিলারের কাছে সাড়ে ছয় লাখ টাকা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছি।

দেশে উত্তরাঞ্চলের আরেক জেলা ঠাকুরগাঁও সদরের হরিহরপুরের খামারি মো. রবিউল আউয়াল (৪০) তাঁর ১৫ হাজার ব্রয়লার লালন ক্ষমতার খামারে বর্তমানে আছে মাত্র তিন হাজার মুরগি। এ প্রতিবেদককে তিনি জানান, আগে ৫৫-৬০ টাকা দরে বাচ্চা কিনেও মুরগির বাজারদর ভালো থাকায় হাজারে ৫০-৭৫ হাজার টাকা লাভ করেছি। আর এখন মুরগির চাহিদা ও বাজার দরে ধস নামায় ১৫ টাকা দরে বাচ্চা কিনেও খামারির খরচ উঠছে না, বরং ব্যাচ শেষে ৫০-৭০ হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে। তাঁর হিসাবে বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির উৎপাদন খরচ ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা হলেও বাজারদর ১১০ থেকে ১২০-১২৫ টাকার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। এতে প্রতি কেজিতে আমাদের গড় লোকসান কমপক্ষে ২০ টাকা। যার খামার যত বড়, তার লোকসানের হিসাবও তত বড় উল্লেখ করেন তিনি। 

বাজার পরিস্থিতি নিয়ে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে পঞ্চগড়ের পাইকারি মুরগি ব্যবসায়ী মাসুদ পোলট্রির স্বত্বাধিকারী মো. আমান আলীর (৩৩) মতে, পোলট্রি ব্যবসা ভালো নেই। এ খাতের খামারি ও ব্যবসায়ীরাও কেউই ভালো নেই। বাজারে পোলট্রি মুরগির চাহিদা তলানিতে ঠেকেছে। সঙ্গে সঙ্গে গত কয়েক মাস ধরে খামার পর্যায়ে মুরগির দাম কমেছে। তিনি বলেন, ‘পঞ্চগড় ছাড়াও দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও থেকে আগে প্রতিদিন তিন গাড়ি (প্রতি গাড়িতে ২০০ কেজি) মুরগি এনে বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করতাম। বর্তমানে তা কমে এক গাড়িতে নেমেছে।’ কোরবানির কারণে সব শ্রেণির ক্রেতার মুরগি কম কিনছেন। তা ছাড়া বাজারে মাছ ও সবজির সরবরাহ ও দাম কমেছে। মূলত এতে বাজারে মুরগির চাহিদ কমে গেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। 

এ বিষয়ে কাজী ফার্মসের মহাব্যবস্থাপক (বিপণন) সরদার সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘বর্তমানে ব্রয়লার মুরগির দাম কম। মুরগির দাম কম থাকায় খামারিরা এক দিনের ব্রয়লার বাচ্চা কিনতে চাচ্ছেন না। ফলে এক দিনের বাচ্চার দামও কম এবং হ্যাচারিগুলো ব্যাপক লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছে। আবার যখন ব্রয়লার মুরগির চাহিদা বাড়বে এবং খামারিরা ফের এক দিনের বাচ্চা কিনতে চাইবেন, তখন বাচ্চার দাম বাড়তে পারে। আর এমনটা যদি হয়, সরকারের পক্ষ থেকে হ্যাচারিগুলোর চলমান লোকসান পুষিয়ে নিতে তখনকার বাজারভিত্তিক দরে বাচ্চা বিক্রির সুযোগ দেওয়া যুক্তযুক্ত হবে। বাজার যখন ভালো থাকবে, তখন কোম্পানিগুলোকে বাজারের মন্দার সময়ের লোকসান পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। অন্যথায়, হ্যাচারি শিল্প সংকুচিত হয়ে পড়বে।’

দেশের রিজার্ভ আরো বাড়ল

নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের রিজার্ভ আরো বাড়ল
সংগৃহীত ছবি

দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে এখন ৩৫ হাজার ৭৯৮ দশমিক ১১ মিলিয়ন বা ৩৫ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মঙ্গলবার (২৩ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্যানুযায়ী, ২৩ জুন পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার ৭৯৮ দশমিক ১১ মিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ২৪৪ দশমিক ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে।

এর আগে গত ২২ জুন পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৫ হাজার ৭৩৬ দশমিক ৬১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর বিপিএম-৬ পদ্ধতিত রিজার্ভ ছিল ৩১ হাজার ১৮১ দশমিক ০৬ মিলিয়ন ডলার।
 
নিট রিজার্ভ গণনা করা হয় আইএমএফের বিপিএম-৬ পরিমাপ অনুসারে। মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বিয়োগ করলে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ পাওয়া যায়।

বিশ্ববাজারে সোনা-রুপার দামে বড় পতন

অনলাইন ডেস্ক
বিশ্ববাজারে সোনা-রুপার দামে বড় পতন
সংগৃহীত ছবি

আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের দাম বেড়ে এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন আভাসে বিনিয়োগকারীদের মাঝে ডলার কেনার হিড়িক পড়েছে। আর ডলারের এই রেকর্ড লাফের কারণে বিশ্ববাজারে বড় পতন হয়েছে মূল্যবান ধাতু সোনার দামে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম প্রায় ২ শতাংশ কমে গেছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স (১ আউন্স = ২.৪৩ ভরি) সোনার দাম ১.৮ শতাংশ কমে ৪ হাজার ১১৬.০৭ মার্কিন ডলারে নেমে আসে। এর আগে দিনের শুরুতে দাম কমে ৪ হাজার ৯০.২৭ ডলারে ঠেকেছিল, যা গত ১১ জুনের পর সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, মার্কিন সোনার ফিউচার বা চুক্তি মূল্য ১.৬ শতাংশ কমে আউন্স প্রতি ৪ হাজার ১৩৩.৭০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বড় ধরনের মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হয়েছে। এটি সামাল দিতে ফেডারেল রিজার্ভ কঠোর আর্থিক নীতি নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে সোমবার সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার শান্তি আলোচনার পর তেলের দাম কিছুটা কমে যাওয়ার যে ইতিবাচক প্রভাব সোনার ওপর পড়ার কথা ছিল, তা প্রায় ভেস্তে গেছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক অনলাইন ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাক্টিভট্রেডস’-এর বিশ্লেষক রিকার্ডো ইভাঞ্জেলিস্তা বলেন, ফেডের সুদের হার বাড়ানোর ইঙ্গিতে ডলারের বাজার চাঙ্গা হয়েছে, যা সোনার দামের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে। মাঝারি থেকে দীর্ঘমেয়াদে সোনার বাজার কেমন যাবে, তা মূলত মার্কিন ডলারের শক্তি ও ফেডের মুদ্রানীতির ওপরই নির্ভর করবে।

গত সপ্তাহে ফেডারেল রিজার্ভের নীতি-নির্ধারকদের প্রায় অর্ধেকই চলতি বছর সুদের হার বাড়ানোর পক্ষে মত দেন। এরপরই মার্কিন ডলারের সূচক গত বছরের মে মাসের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। ‘সিএমই ফেডওয়াচ টুল’-এর তথ্য অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বরে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা গত সপ্তাহের ২৯ শতাংশ থেকে লাফিয়ে এখন ৬৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

এদিকে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা বুঝতে বিনিয়োগকারীরা এখন চলতি সপ্তাহের শেষে প্রকাশ পেতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ‘পার্সোনাল কনজাম্পশন এক্সপেন্ডিচার্স’ (পিসিই) বা ব্যক্তিগত ভোগ ব্যয় সূচকের দিকে তাকিয়ে আছেন। ফেড মূলত এই সূচক দেখেই মূল্যস্ফীতি পরিমাপ করে।

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের বিশ্লেষক সুকি কুপার এক নোটে জানিয়েছেন, ইরান শান্তি চুক্তির পর বিনিয়োগকারীরা আশা করেছিলেন সোনার দাম আউন্স প্রতি চার হাজার ডলারের ঘরে স্থিতিশীল থাকবে। কিন্তু পরিস্থিতি এখন উল্টো। বাজারে এখন সোনার দাম একটু বাড়লেই বিনিয়োগকারীরা তা বিক্রি করে মুনাফা তুলে নেওয়ার নীতি নিয়েছেন।

জার্মানিভিত্তিক ডয়চে ব্যাংকের বিশ্লেষক মাইকেল হুসুয়েহ জানিয়েছেন, ফেড যদি সুদের হার আর না বাড়ায়, তবে বছরের শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) সোনার দাম আউন্স প্রতি ৪ হাজার ৮০০ ডলারে উঠতে পারে। তবে ফেড যদি ৩ থেকে ৪ বার সুদের হার বাড়ায়, তবে সোনার দাম কমে ৩ হাজার ৮০০ ডলারে নেমে যাওয়ার বড় ঝুঁকি রয়েছে।

ডলারের এই জয়রথের কারণে সোনার পাশাপাশি অন্যান্য ধাতুর দামেও ধস নেমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে রুপার দাম ৪.৪ শতাংশ কমে আউন্স প্রতি ৬২.৩৪ ডলারে নেমেছে। এছাড়া প্লাটিনামের দাম ২.৫ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৩৭.৩৯ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১.৩ শতাংশ কমে ১ হাজার ২৪৯.১৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়ছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৫৪ হাজার ৬০৬ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

এদিকে বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ২৪৯ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ১৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ২৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ২০৮ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

নতুন নীতিমালায় বাড়বে খেলাপি ঋণ, ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন | কালের কণ্ঠ