• ই-পেপার

সমুদ্রে পণ্য পরিবহন খরচ কমেছে ৮০ শতাংশের বেশি, সুফল নেই বাজারে

নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা আজ

অনলাইন ডেস্ক
নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা আজ

নতুন অর্থবছরের (২০২৬-২৭) প্রথমার্ধের জন্য আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেল ৩টায় মুদ্রানীতি ঘোষণা করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান আগামীকাল (মঙ্গলবার) বিকেল ৩টায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের (জুলাই-ডিসেম্বর) মুদ্রানীতি ঘোষণা করবেন। এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় নতুন মুদ্রানীতির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নীতি সুদহার আগের অবস্থানেই রাখা হতে পারে। কারণ সম্প্রসারণমূলক পদক্ষেপ নিলে বাজারে অর্থপ্রবাহ বাড়বে, যা মূল্যস্ফীতির ওপর আরো চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

নতুন অর্থবছরের বাজেটে সরকার গড় মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং ৬ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য মতে, গত মে মাসে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির পর সর্বোচ্চ।

টানা দুই মাস ধরে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে রয়েছে। মে মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ০৬ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ। গ্রাম ও শহর—উভয় এলাকাতেই মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের বেশি থাকায় এর চাপ অর্থনীতির প্রায় সব খাতেই বিস্তৃত হয়েছে।

এদিকে নতুন অর্থবছরের বড় বাজেট এবং প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা কর্মসূচির কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে একই সঙ্গে বাজারে চাহিদা ও অর্থপ্রবাহ বাড়লে মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) মহাপরিচালক ড. এজাজুল ইসলাম বলেন, বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতিতে নীতি সুদহার কমিয়ে আরো সম্প্রসারণমূলক অবস্থানে যাওয়া সমীচীন হবে না। সম্প্রসারণমুখী রাজস্বনীতির পাশাপাশি সহজ মুদ্রানীতি গ্রহণ করা হলে মূল্যস্ফীতির ওপর আরো চাপ সৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আপাতত সতর্ক বা ‘ধীরে চলো’ নীতি অনুসরণ করতে পারে। ফলে আসন্ন মুদ্রানীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম।

অন্যদিকে পলিসি থিঙ্ক অ্যান্ড ইকোনমিক রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যান ও অর্থনীতি বিশ্লেষক মো. মাজেদুল হক বলেন, বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। তবে শুধু মুদ্রানীতির মাধ্যমে এটি সম্ভব নয়। করব্যবস্থা, রাজস্বনীতি, বাজার ব্যবস্থাপনা এবং সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, দেশে পরোক্ষ করের ওপর নির্ভরশীলতা বেশি হওয়ায় ভ্যাট ও আমদানি শুল্ক বাড়লে তার প্রভাব সরাসরি মূল্যস্ফীতিতে পড়ে। একই সময়ে উচ্চ সুদহারের কারণে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি কমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তার মতে, নীতি সুদহার ১ শতাংশ কমিয়ে ৯ শতাংশে আনা হলে বেসরকারি খাতে ঋণ, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফিরতে পারে। পাশাপাশি কর কাঠামোর সংস্কার এবং বাজার ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করারও পরামর্শ দেন তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পুরোপুরি সংকোচনমূলক মুদ্রানীতিতে যায় এবং নীতি সুদহার বাড়িয়ে ১০ শতাংশে উন্নীত করে। সর্বশেষ গত ফেব্রুয়ারিতে ঘোষিত মুদ্রানীতিতেও নীতি সুদহার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়। একই সঙ্গে স্ট্যান্ডিং ল্যান্ডিং ফ্যাসিলিটির (এসএলএফ) ঊর্ধ্বসীমা ১১ দশমিক ৫ শতাংশ বহাল রাখা হয়। আর স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটির (এসডিএফ) নিম্নসীমা ৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ করা হয়।

নতুন মুদ্রানীতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান বলেন, অর্থবছর শুরুর আগেই মুদ্রানীতি ঘোষণা করার চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, নতুন মুদ্রানীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

ক্রেডিট কম ডেবিট বেশি

অনলাইন ডেস্ক
ক্রেডিট কম ডেবিট বেশি

দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে (বিওপি) নতুন চাপ তৈরি করছে ‘প্রাইমারি ইনকাম’ বা প্রাথমিক আয় খাত। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বা সেকেন্ডারি ইনকামে বড় প্রবৃদ্ধি থাকলেও, বহিরাগত খাতের এ প্রাথমিক আয়ে ক্রেডিটের চেয়ে ডেবিট বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ১০ মাসে প্রাথমিক আয় খাতে নিট ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯৩২ মিলিয়ন ডলার, যা দেশের সামগ্রিক চলতি হিসাব বা কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যালান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে প্রাইমারি ইনকাম বা প্রাথমিক আয় খাতে ডলার আসে মূলত তিনটি খাত থেকে, যেটি ‘ক্রেডিট’ হিসেবে জমা হয়। এর মধ্যে রয়েছে রিজার্ভের সুদ ও মুনাফা, স্বল্পমেয়াদি শ্রম ও সেবা আয় এবং বিদেশি বিনিয়োগের লভ্যাংশ। অর্থাৎ, বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের যে অংশটি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বন্ড, মার্কিন ট্রেজারি ও বিদেশি ব্যাংকে বিনিয়োগ করা রয়েছে, সেখান থেকে অর্জিত সুদ ক্রেডিটে জমা হয়। যারা বিদেশে স্বল্পমেয়াদি (এক বছরের কম) চুক্তিভিত্তিক কাজ করে বা বিভিন্ন সেবার বিপরীতে কনসালটেন্সি ফি নেয় এবং সীমান্ত এলাকায় শ্রম বা সহায়তা করে আয় করে- সেই কর্মজীবীদের আয় প্রাইমারি ইনকামে যুক্ত হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের বিদেশে থাকা শাখা বা ইক্যুইটি বিনিয়োগ থেকে অর্জিত লভ্যাংশ ব্যালেন্স অব পেমেন্টের প্রাথমিক আয়ে ক্রেডিট হিসেবে জমা হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রাইমারি ইনকামে ক্রেডিটের যে তিনটি খাত, সেই তিনটিতেই দুর্বলতা রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদের বড় একটি অংশ বিনিয়োগের বাইরে রাখতে হয় খাদ্যসহ জরুরি পণ্য আমদানি ব্যয় মেটাতে। বাংলাদেশ ব্যাংক বাধ্য হয়ে ডলার ধরে রাখছে ‘লিকুইডিটি ট্রাঞ্চ’ বা তরল আকারে, যাতে যেকোনো মুহূর্তে পেমেন্ট করা যায়। ফলে লাভজনক বন্ড বা ট্রেজারিতে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করার মতো উদ্বৃত্ত ডলার থাকছেই না। এতে করে ক্রেডিটের খাতে ডলার যোগ হচ্ছে কম। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল প্রান্তিকে প্রাথমিক আয় খাতে বাংলাদেশের মোট ক্রেডিট বা প্রাপ্তি ছিল মাত্র ২ হাজার ৩০৫ মিলিয়ন ডলার।

যে কারণে ডেবিট বাড়ছে : বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের ১০ মাসে প্রাথমিক আয়ে ক্রেডিটের প্রায় তিনগুণ হয়েছে ডেবিট। আলোচ্য সময়ে রিজার্ভ থেকে প্রায় ৬ হাজার ২৩৫ মিলিয়ন ডলার বেরিয়ে গেছে দায় বা ডেবিট হিসেবে। এর প্রায় অর্ধেক অর্থাৎ, ১ হাজার ৯৩৫ মিলিয়ন ডলার গেছে সরকারের বৈদেশিক ঋণের সুদ মেটাতে। ব্যাংক খাতের সংশ্লিষ্টদের মতে, বিগত বছরগুলোতে নেওয়া কঠিন শর্তের স্বল্পমেয়াদি ও বাণিজ্যিক ঋণের গ্রেস পিরিয়ড শেষ হয়ে আসায় সরকারের অফিশিয়াল সুদের এ দায় অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে।

যে কারণে ডেবিট বা দায়ও বড় হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, শুধু যে সরকারি ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যালান্স অব পেমেন্টে চাপ বাড়ছে তাই নয়, বেসরকারি খাতের বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধ, বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি কর্মীদের বেতন-ভাতা ও রেমিট্যান্স, বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের মুনাফা ও ক্যাপিটাল গেইনস, বিদেশি ব্যাংকের শাখা এবং অন্যান্য আর্থিক সেবার ফি ডেবিট হিসেবে বেরিয়ে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত, টেক্সটাইল, বহুজাতিক কোম্পানি, মেগা প্রকল্প এবং করপোরেট হাউসগুলোতে ভারত, শ্রীলঙ্কা, চীন, দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের হাজার হাজার এক্সপার্ট ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা কাজ করেন। আইএমএফের নিয়ম অনুযায়ী, এরা যদি এক বছরের কম সময় ধরে এখানে চুক্তিভিত্তিক কাজ করেন, তবে তাদের পুরো বেতন-ভাতা ডেবিট হয়। আর যদি এক বছরের বেশিও থাকেন, তবে তাদের বেতনের যে অংশটি তারা অফিশিয়াল চ্যানেলে নিজ দেশে পাঠিয়ে দেন, তার একটি বড় অংশ সামষ্টিক অর্থনীতির এই খাতের সমীকরণে চাপ সৃষ্টি করে।

এ ছাড়া শেয়ার বাজারে যেসব বিদেশি বিনিয়োগকারী টাকা খাটান, তারা যখন কোনো লভ্যাংশ পান, কিংবা শেয়ার বিক্রি করে মুনাফা তুলে নেন- সেই টাকাটা যখন তারা নিজ দেশে নিয়ে যান, তখন তা এই প্রাইমারি ইনকামের ডেবিট হিসেবে বেরিয়ে যায়। বাংলাদেশে কার্যরত বিদেশি ব্যাংকগুলো (যেমন : স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড, এইচএসবিসি) বা মেটলাইফের মতো বিদেশি ইনসিওরেন্স কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে ব্যবসা করে যে নিট মুনাফা পায়, তা যখন তাদের মূল হেডকোয়ার্টারে রেমিট বা ফেরত পাঠায়, সেটিও এই প্রাইমারি ইনকামের ডেবিট লাইনে গিয়ে জমা হয়। এভাবেই ডেবিটের অঙ্ক বাড়তে থাকে। চাপ পড়তে থাকে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, আমাদের সমস্যা হলো শুধু সরকারের মেগা প্রজেক্টের ঋণের সুদই বাড়ছে না, সঙ্গে সঙ্গে বেসরকারি খাতের বিদেশি ঋণের সুদের হার এবং বিদেশি কর্মীদের পেছনে ডলারের আউটফ্লো-সব মিলে ডেবিটের পাল্লাটাকে দিনে দিনে বাড়িয়ে দিচ্ছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ছায়া না থাকলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সামগ্রিক কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যালান্স বড় ধরনের সংকটের মুখোমুখি হতো। এখন সময় এসেছে মেগা প্রকল্পের জন্য চড়া সুদের বাণিজ্যিক ঋণ নেওয়া কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদি এবং সহজ শর্তের ঋণের দিকে মনোযোগ দেওয়ার। অন্যথায় রেমিট্যান্সের এই চোখ ধাঁধানো অর্জনও প্রাইমারি ইনকামের ঘাটতির অতল গহ্বরে হারিয়ে যেতে পারে।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

মিডা ও জাইকার সেমিনার

ব্লু-ইকোনমিতে বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
ব্লু-ইকোনমিতে বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পরিকল্পনা

বাংলাদেশের সামুদ্রিক অর্থনীতি বা ‘ব্লু-ইকোনমি’কে বিলিয়ন ডলারের রপ্তানিমুখী খাতে পরিণত করতে গভীর সমুদ্রে টুনা মাছ আহরণ, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চিংড়ি চাষ এবং মেরিকালচার খাতে বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। তবে দুর্বল কোল্ড-চেইন অবকাঠামো, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং আন্তর্জাতিক ই-ট্রেসেবিলিটি মানদন্ড পূরণে ব্যর্থতাকে এই সম্ভাবনার প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

রাজধানীতে মঙ্গলবার মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (মিডা) ও জাইকার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

সেমিনারে মিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, মৎস্য ও সামুদ্রিক অর্থনৈতিক হাব গড়ে তোলা সরকারের জাতীয় অগ্রাধিকার। তিনি স্বীকার করেন, বিনিয়োগের সুযোগ থাকলেও আমলাতান্ত্রিক ও অবকাঠামোগত জটিলতার কারণে বাস্তবায়নের পথ এখনো সহজ নয়। তবে নতুন নেতৃত্বের অধীনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগে বিনিয়োগকারীদের সমস্যা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি।

কারিগরি অধিবেশনে এসিআই অ্যাগ্রোলিংক লিমিটেডের ফিশারিজ স্পেশালিস্ট সৈয়দ এম. ইশতিয়াক জানান, বাংলাদেশের ‘সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড’ ও আন্দামান সাগর-সংলগ্ন এলাকায় বিপুল পরিমাণ টুনা মাছের সম্ভাবনা রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩৫ সালের মধ্যে ২৫ থেকে ৫০টি আধুনিক লংলাইনার ভেসেলের বহর গড়ে বছরে ৩০ থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন টুনা আহরণ এবং প্রায় ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ১০টি ভেসেল পরিচালনায় প্রায় ১ হাজার ৫০০ মিলিয়ন টাকা বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে।

চিংড়ি খাত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় সেমিনারে। মিডার সদস্য কমোডর তানজিম ফারুক বলেন, বাংলাদেশ বছরে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি চিংড়ি রপ্তানি করলেও সনাতন চাষপদ্ধতির কারণে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতি বদলাতে একটি বিশেষায়িত ‘চিংড়ি অর্থনৈতিক অঞ্চল’ গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়। সেখানে বায়োফ্লক, ইনডোর স্মার্ট ফার্মিং ও রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার প্রযুক্তি ব্যবহার করে হেক্টরপ্রতি উৎপাদন ৫০০ কেজি থেকে ২১ হাজার কেজিতে উন্নীত করার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয়।

জাইকা বিশেষজ্ঞ ড. এচিগো মানাবু জাপানের বাজারে বাংলাদেশি সামুদ্রিক খাদ্যের সম্ভাবনা তুলে ধরে বলেন, কক্সবাজারভিত্তিক ‘জাপান সি-ফুড লিমিটেড’-এর মতো উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি সি-বাস, কোবিয়া, গ্রুপার, সামুদ্রিক শৈবাল ও কাঁকড়া চাষেও বড় বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের মতো বাজারে প্রবেশ করতে হলে অবৈধ মৎস্য আহরণ বন্ধ, আধুনিক কোল্ড-চেইন ও ল্যান্ডিং সেন্টার গড়ে তোলা এবং প্রতিটি মাছের ডিজিটাল ই-ট্রেসেবিলিটি নিশ্চিত করতেই হবে। তাদের মতে, নীতিগত সংস্কার ও লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমানো গেলে তৈরি পোশাক শিল্পের পর বাংলাদেশের অর্থনীতির নতুন প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে ব্লু-ইকোনমি।

সনি-র‍্যাংগসে বিশেষ ছাড় পাবেন ইউএস-বাংলার যাত্রীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
সনি-র‍্যাংগসে বিশেষ ছাড় পাবেন ইউএস-বাংলার যাত্রীরা

গ্রাহকদের বাড়তি সুবিধা দিতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসএবং র‍্যাংগস ইলেকট্রনিক্স লিমিটেডের (সনি-র‍্যাংগস) মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি সই হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের যাত্রীরা দেশজুড়ে অবস্থিত সনি-র‍্যাংগস শোরুম থেকে টিভি, ফ্রিজ, এসি এবং অন্যান্য হোম অ্যাপ্লায়েন্স কেনার ক্ষেত্রে সনি-র‍্যাংগসের চলমান অফারমূল্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ পর্যন্ত বিশেষ ছাড় পাবেন।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী ১ জুলাই থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে ভ্রমণকারী গ্রাহকদের বোর্ডিং পাসের সঙ্গে একটি করে ডিসকাউন্ট কুপন প্রদান করা হবে। যাত্রীরা এই কুপন ব্যবহার করে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সনি-র‍্যাংগসের শোরুম থেকে বিশেষ ছাড়ের এই সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের পক্ষে হেড অব মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস এম. শফিকুল ইসলাম এবং র‍্যাংগস ইলেকট্রনিক্স লিমিটেডের পক্ষে সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার (সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং) মো. জানে আলম ও হেড অব রিটেইল সেলস কে. এম. মোসাদ্দেক উল্লাহ (মুন্না) উপস্থিত ছিলেন। গ্রাহকদের জন্য ভবিষ্যতেও বিভিন্ন খাতে এমন আকর্ষণীয় অফার ও যৌথ সুবিধা চালু করা হবে বলে জানিয়েছে ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ।