kalerkantho

শনিবার । ৮ কার্তিক ১৪২৭। ২৪ অক্টোবর ২০২০। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

৯০ দিনেই মিলবে আইপিও

রফিকুল ইসলাম    

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১০:৩৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



৯০ দিনেই মিলবে আইপিও

২০১৯ সালের ৩ এপ্রিল অ্যাসোসিয়েটেড অক্সিজেন পুঁজিবাজার থেকে মূলধন উত্তোলনের আবেদন করে। প্রায় এক বছরের বেশি সময় পর চলতি বছরের ১৬ জুলাই মূলধন উত্তোলনের অনুমোদন পেয়েছে। এখনো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি।

২০১৮ সালের ১৭ অক্টোবর পুঁজিবাজার থেকে ১২৫ কোটি টাকা মূলধন উত্তোলনে রোড শো সম্পন্ন করে মীর আখতার হোসেন লিমিটেড। প্রায় দুই বছরের কাছাকাছি সময়ে গত ১৩ আগস্ট মূলধন উত্তোলনে কাট অব প্রাইস নির্ধারণে বিডিংয়ের অনুমোদন পেয়েছে। ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে বিডিং শুরু হবে। শুধু এই দুটি কম্পানির নয়, পুঁজিবাজার থেকে মূলধন উত্তোলনে আগ্রহী কম্পানির আইপিও অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রতার সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাংকনির্ভরতা কমাতে দীর্ঘ মেয়াদে পুঁজিবাজার থেকে মূলধন নেওয়ার কথা বলা হলেও নিয়ন্ত্রক সংস্থা কর্তৃক আইপিও অনুমোদনে দীর্ঘ সময় লাগছে। প্রয়োজন থাকলেও যথাসময়ে মূলধন না পেয়ে আবেদন ফেরত নেওয়ার উদাহরণও রয়েছে।

দীর্ঘসূত্রতার বিষয়ে কমিশন বলছে, মূলধন উত্তোলনে ইস্যুয়ার কম্পানি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিতে বিলম্ব করায় দীর্ঘসূত্রতার সৃষ্টি হয়। তবে এখন থেকে আর সময় ক্ষেপণ হবে না। আইনের মধ্যে ৬০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে আইপিও দেওয়া হবে।

পাবলিক ইস্যু রুলস অনুযায়ী, কোনো কম্পানি আইপিও আবেদন জমা দেওয়ার পর ৪০ দিনের মধ্যে অসম্পূর্ণতা দূর করতে হবে। শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে নতুন করে আবেদন দিতে হবে। প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র ঠিক থাকা সাপেক্ষে ৬০ দিনের মধ্যে লেটার অব কনসেন্ট দেবে। তবে কাগজপত্রে অসম্পূর্ণতার কারণে আইপিও না দিলে ওই সময়ের মধ্যে প্রত্যাহারের বিষয়ে কম্পানিকে জানাতে হবে। আর কমিশন কর্তৃক আবেদন প্রত্যাহার করা হলে ৬০ দিনের মধ্যে আবারও আবেদন করতে হবে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সূত্র জানায়, আইপিওর ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা কমাতে গত ২০ আগস্ট একটি কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাবলিক ইস্যু রুলস অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আইপিও অনুমোদন দেওয়া হবে। সাধারণত ৬০ দিনের মধ্যে একটি কম্পানির বিষয়ে লেটার অব কনসেন্ট অথবা বাতিল করার বিধান রয়েছে।

গত মে মাসে নিয়ন্ত্রক সংস্থার দায়িত্ব নিয়েছেন ড. শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম। এই কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন পর্যন্ত মূলধন উত্তোলনে একটি কম্পানিও আইপিও আবেদন আসেনি। মূলত করোনার কারণে নতুন ইস্যু আসেনি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিএসইসির নতুন কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, মূলধন উত্তোলনে আইপিও আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে। বছরের পর বছর না ঘুরিয়ে স্বল্প সময়ের মধ্যে আইপিও দেওয়া হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান যথাযথ শর্ত পরিপালনে ব্যর্থ হলে আইপিও বাতিল করা হবে। এখন থেকে তিন মাস বা সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে আইপিও অনুমোদন দেওয়া হবে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যান ড. শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম বলেন, ‘নতুন আইপিও এলে দ্রুত অনুমোদন দেওয়া হবে। কোনো সময় ক্ষেপণ করা হবে না। পাবলিক ইস্যু রুলস নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আইপিও দেওয়া হবে।’

বিএসইসি সূত্র জানায়, মূলধন উত্তোলনে দুই ডজনের বেশি কম্পানি মূলধন উত্তোলনে প্রসপেক্টাস জমা দিয়েছে। নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর ছয়টি কম্পানির আইপিও অনুমোদন দেয়। আর মিথ্যা তথ্য ও অনিয়মের কারণে ১৩টি কম্পানির আইপিও বাতিল করা হয়েছে। এখন আরো ১১টির বেশি কম্পানির আবেদন রয়েছে।

বর্তমান কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর ওয়ালটন হাইটেক, মীর আখতার হোসেইন, অ্যাসোসিয়েট অক্সিজেন, এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন, ডোমিনোজ স্টিল ও এক্সপ্রেস ইনস্যুরেন্স আইপিও অনুমোদন পেয়েছে।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ও মুখপাত্র রেজাউল করিম বলেন, ‘মূলধন উত্তোলনে আবেদন করা কম্পানির আইপিও দ্রুত দেওয়া হবে। পাবলিক ইস্যু রুলস অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আইপিও দেওয়া হবে। কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন পর্যন্ত নতুন আইপিও আসেনি। কিছু আইপিও বাতিল হয়েছে। বিদ্যমান আইপিও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা