kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ আষাঢ় ১৪২৭। ৩ জুলাই ২০২০। ১১ জিলকদ  ১৪৪১

৫০০০ কোটি টাকার কৃষি প্রণোদনায় ‘লিখিত চুক্তিপত্রের’ শর্ত বাতিলের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ এপ্রিল, ২০২০ ২১:০৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৫০০০ কোটি টাকার কৃষি প্রণোদনায় ‘লিখিত চুক্তিপত্রের’ শর্ত বাতিলের দাবি

নভেল করোনাভাইরাস মোকাবিলার অংশ হিসেবে সকলের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এরইমধ্যে কৃষি খাতে পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন। প্রণোদনার পাঁচ হাজার কোটি টাকা কীভাবে বিতরণ হবে, তা নিয়ে গত ১৩ এপ্রিল বাংলাদেশ ব্যাংক একটি সার্কুলার জারি করে। যেখানে প্রণোদনার টাকা পেতে প্রান্তিক কৃষক ও বর্গাচাষীদের ‘লিখিত চুক্তিপত্র’ দেখানোর শর্ত দেওয়া হয়েছে। 

দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ’ দাবি করেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার থেকে বর্গাচাষীদের ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে ‘লিখিত চুক্তিপত্র’ বাতিল করে কৃষকদের যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতে ঋণ সহায়তা দিতে হবে। 

লিখিত চুক্তিপত্রের বদলে কেন যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে ঋণ দেওয়া জরুরি তার পেছনে যুক্তি তুলে ধরে খাদ্য অধিকার বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমদ বলেন, কৃষিঋণ নীতিমালা অনুযায়ী পাঁচ একর বা ১৫ বিঘা পর্যন্ত জমির মালিক সর্বোচ্চ আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন। সেজন্য তাঁদের জমির দলিল বন্ধক রাখতে হবে। আর যাদের জমি নেই, তারাঁও আড়াই লাখ টাকা ঋণ পাবে। সেক্ষেত্রে কৃষক যাঁর জমি ভাড়া নিয়ে চাষ করেন, সেই ভাড়ার চুক্তিপত্র জমা দিতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশের প্রান্তিক কৃষক চুক্তি করে জমি লিজ নেয় না। আর অকৃষক মালিক লিখিত চুক্তির মাধ্যমে কোনো চাষীকে জমি বর্গা দেয় না। এ জন্য বর্গাচাষীদের দোষ নেই। কারণ লিখিত চুক্তির মাধ্যমে জমি বর্গা দিলে জমির মালিককে সরকারকে ফি দিতে হয়। যা জমির মালিকরা কখনোই চায় না। ফলে বিদ্যমান বাস্তবতায় ‘খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ’ প্রান্তিক কৃষক ও বর্গাচাষীদের ঋণ পাওয়া নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করছে। একইসঙ্গে মধ্যস্বত্বভোগীদের তুলনামূলক বেশি ঋণ সুবিধা দেওয়ার বিষয়কে অসম এবং অন্যায্য মনে করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়েছে, যেসব উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান কৃষক কর্তৃক উৎপাদিত কৃষিপণ্য কিনে সরাসরি বিক্রি করে থাকে, তারা এই ঋণ প্যাকেজের আওতায় আসবে। এসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা ঋণ পাবে। একজন ঋণ পাবে পাঁচ কোটি টাকা আরেক জন আড়াই লাখ টাকা তা-ও লিখিত চুক্তিপত্র দেখিয়ে এটি অসম ও অন্যায্য।  

‘লিখিত চুক্তিপত্রের’ শর্ত বাতিলের পাশাপাশি আরো ছয়টি দাবি সরকারের কাছে তুলে ধরেছে খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ’। সংগঠনটির দ্বিতীয় দাবি হলো- লকডাউন অবস্থায় হাওরে আসন্ন বোরো ধান কাটার জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষা বজায় রেখে অন্য জেলা থেকে কৃষি শ্রমিকদের আনার জন্য পরিবহন ব্যবস্থা জোরদার করা। তৃতীয়ত, সরকারি উদ্যোগে ন্যায্য মূল্যে মাঠ থেকে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে বেশি করে ধান কেনার ব্যবস্থা করা। চতুর্থত, কৃষকের উৎপাদিত অন্যান্য ফসল সরাসরি ঢাকাসহ বড় বড় শহরের ক্রেতার কাছে যাতে যেতে পারে সেরকম পরিবহন ব্যবস্থা ও কার্যকর বাজার ব্যবস্থা সরকারিভাবে গড়ে তোলা। পঞ্চমত, ধানসহ কৃষি উৎপাদনের উপকরণ, যেমন: পানি, সার, কীটনাশক এবং টেকনোলজি ( ট্রাক্টর, ধান কাটার মেশিন, ধান মাড়াইয়ের মেশিন ইত্যাদি) উপকরণ সুলভ ও সহজে পাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, ষষ্ঠ, দেশে নকল টিএসপি সারের কারখানায় উৎপাদিত সার ক্রয় করে কৃষকরা প্রতারিত হচ্ছে, এসব  অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং প্রণোদনাসহ সকল সরকারি এবং বেসরকারি সহায়তার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা