• ই-পেপার

ট্যাক্স কার্ড পান যাঁরা

কাঁচামাল আমদানিতে ৩০ শতাংশ মূল্য সংযোজন বহাল দাবি

অনলাইন ডেস্ক
কাঁচামাল আমদানিতে ৩০ শতাংশ মূল্য সংযোজন বহাল দাবি
সংগৃহীত ছবি

ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে কাঁচামাল আমদানিতে বিদ্যমান ৩০ শতাংশ মূল্য সংযোজনের শর্ত বহাল রাখার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)। এ ছাড়া পলিয়েস্টার স্ট্যাপল ফাইবারের ওপর প্রস্তাবিত ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার এবং প্রাইমারি টেক্সটাইল খাতের করপোরেট করহার কমিয়ে ১২ শতাংশ নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা। গতকাল রাজধানীর গুলশান ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিটিএমএর পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, সাবেক পরিচালক রাজীব হায়দার, সাবেক সহসভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুন এবং তৈরি পোশাকশিল্পের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও মোড়কপণ্য সরবরাহকারী কারখানার মালিকদের সংগঠন বিজিএপিএমইএ সভাপতি মো. শাহরিয়ার। সংবাদ সম্মেলনে বাজেট-পরবর্তী বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে বস্ত্রকল ব্যবসায়ীরা কথা বলেন। এ সময় বস্ত্রশিল্প রক্ষা এবং এ খাতের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সরকারের কাছে চারটি দাবি জানায় বিটিএমএ।

এর মধ্যে প্রথম দাবি হচ্ছে, ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে কাঁচামাল আমদানিতে ৩০ শতাংশ মূল্য সংযোজনের বাধ্যবাধকতার শর্ত বহাল রাখা। বিটিএমএ জানায়, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারে শুল্ক সুবিধা ধরে রাখতে স্থানীয় মূল্য সংযোজনের হার ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বা তার বেশি রাখতে হবে। তাই দেশীয় সুতা ও কাপড়ের উৎপাদন ধরে রাখতে এবং বন্ডের অনিয়ম রুখতে এই শর্ত বহাল রাখা অপরিহার্য।

দ্বিতীয় দাবি, করপোরেট করহার কমিয়ে ১২ শতাংশ নির্ধারণ এবং তা ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত কার্যকর করা। তৃতীয় দাবি, পলিয়েস্টার স্ট্যাপল ফাইবার আমদানিতে আরোপ করা ৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করা। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিশ্ববাজারে ম্যান-মেইড ফাইবার বা কৃত্রিম তন্তুর তৈরি পোশাকের চাহিদা প্রায় ৭০ শতাংশ হলেও বাংলাদেশের রপ্তানি এখনো মূলত তুলাভিত্তিক। কৃত্রিম আঁশের সুতা ও কাপড় উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল হলো পলিয়েস্টার স্ট্যাপল ফাইবার। চতুর্থত, নগদ সহায়তার ওপর উৎসে কর সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বিটিএমএ।

বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, প্রাইমারি টেক্সটাইল শিল্প দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের মূল ভিত্তি। এই খাত শক্তিশালী না হলে স্থানীয় মূল্য সংযোজন বাড়ানো, আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং রপ্তানি সক্ষমতা ধরে রাখা কঠিন হবে। তাই প্রস্তাবিত বাজেটের এসব বিষয় পুনর্বিবেচনার মাধ্যমে দেশীয় শিল্পকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে হবে। 

দাম আরো কমে যত টাকায় বিক্রি হচ্ছে সোনা

অনলাইন ডেস্ক
দাম আরো কমে যত টাকায় বিক্রি হচ্ছে সোনা
সংগৃহীত ছবি

সবশেষ সমন্বয়ে দেশের বাজারে আরো কমানো হয়েছে সোনার দাম। রবিবার (২১ জুন) নতুন দামেই বিক্রি হচ্ছে সোনা। ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনা ২ লাখ ২৬ হাজার ৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

শনিবার (২০ জুন) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দাম নির্ধারণের বিষয়ে জানায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। 

বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য। স্বর্ণালঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না।

নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম পড়বে দাম ২ লাখ ২৬ হাজার ৩৪০ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৬ হাজার ১৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৫ হাজার ৬৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫১ হাজার ৬৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৭৮ বার সমন্বয় করা হয়েছে সোনার দাম। যেখানে দাম ৩৯ দফা বাড়ানো হয়েছে, কমানো হয়েছে ৩৮ দফা ও ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।

অন্যদিকে, দেশে অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ২৪৯ টাকায়। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ১৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ২৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ২০৮ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

খেলাপির চাপে ব্যাংক

আয়ে ধস মুনাফা ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ

অনলাইন ডেস্ক
খেলাপির চাপে ব্যাংক

দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক মন্দা, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির স্থবিরতা, খেলাপি ঋণের লাগামহীন বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিগত সহায়তার কারণে সুদ আদায় স্থগিত থাকায় দেশের ব্যাংকিং খাতের মূল আয়ের উৎস নেট ইন্টারেস্ট মার্জিন ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ঋণাত্মক অবস্থায় নেমে এসেছে। এতে ব্যাংকগুলোর মুনাফা ও ব্যবসার দীর্ঘমেয়াদি টেকসই নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ব্যাংকিং খাতের সামগ্রিক নেট ইন্টারেস্ট মার্জিন ছিল ১ দশমিক ৩০ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা কমে ঋণাত্মক শূন্য দশমিক ৪৯ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সময়ে ব্যাংকগুলোর সুদ আয় ৮ দশমিক ১০ শতাংশ কমেছে। বিপরীতে আমানতের সুদসহ সুদ-সংক্রান্ত ব্যয় বেড়েছে ২৫ দশমিক ৬১ শতাংশ। ফলে ব্যাংকগুলোর আয়ের তুলনায় ব্যয় দ্রুত বাড়ছে, যা খাতটির মুনাফা ও স্থিতিশীলতার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।

ব্যাংকাররা বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘দুই ধারবিশিষ্ট তলোয়ারের’ সঙ্গে তুলনা করছেন। একদিকে অর্থনৈতিক ধীরগতির কারণে ঋণ বিতরণ ও সুদ আয় কমছে, অন্যদিকে আমানতকারীদের নির্ধারিত সুদ পরিশোধ অব্যাহত রাখতে হচ্ছে। ফলে ঋণ ও আমানতের সুদের ব্যবধান বা নেট ইন্টারেস্ট মার্জিন ক্রমাগত সংকুচিত হচ্ছে।

পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে খেলাপি ঋণের ঊর্ধ্বগতি। খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর একটি বড় অংশের তহবিল কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলো নতুন ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রেও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। ফলে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি আরও মন্থর হয়ে পড়েছে। এর পাশাপাশি সংকটে থাকা উদ্যোক্তাদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিগত সহায়তার আওতায় দুই বছর পর্যন্ত সুদ আদায় স্থগিত রাখার সুবিধাও ব্যাংকগুলোর সুদ আয়ে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, খেলাপি ঋণের কারণে আমানতের একটি বড় অংশ আটকে থাকলেও ব্যাংকগুলোকে আমানতকারীদের সুদ নিয়মিত পরিশোধ করতে হচ্ছে। নেট ইন্টারেস্ট মার্জিন কমে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ এটি। তিনি জানান, ২০২৫ সালে ব্যাংকিং খাতের অন্যান্য লাভজনকতার সূচকেও বড় ধরনের অবনতি হয়েছে। এ সময়ে খাতটির রিটার্ন অন অ্যাসেটস নেমে হয়েছে ঋণাত্মক ৪ দশমিক ৮১ শতাংশ এবং রিটার্ন অন ইকুইটি কমে দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ২৪৩ দশমিক ৯০ শতাংশ।

তার ভাষ্য, সম্পদের গুণগত মানের অবনতি, খেলাপি ঋণের বৃদ্ধি, দুর্বল ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং নিয়ন্ত্রক মানদণ্ডের দুর্বল প্রয়োগের কারণে ব্যাংকগুলোর লাভজনকতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, বর্তমানে দেশের ব্যাংকিং খাতের ৩২ শতাংশের বেশি ঋণ খেলাপি। অর্থাৎ ব্যাংকগুলো তাদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সম্পদ থেকে কোনো আয় পাচ্ছে না, অথচ আমানতকারীদের সুদ পরিশোধ করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, আয়ের তুলনায় ব্যয় অনেক বেশি হয়ে গেছে। এটি ব্যাংকগুলোর জন্য ভালো লক্ষণ নয়। প্রকৃতপক্ষে ব্যাংকিং ব্যবসার টেকসইতা এখন ঝুঁকির মুখে।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক মন্দার কারণে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণও বেড়েছে। বর্তমানে ব্যাংকগুলো নতুন ঋণ বিতরণের পরিবর্তে বিদ্যমান ঋণগ্রহীতাদের ব্যবস্থাপনায় বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। পাশাপাশি কিছু আয় নিশ্চিত করতে সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মতো ঝুঁকিমুক্ত বিনিয়োগে ঝুঁকছে।

মাহবুবর রহমানের ভাষায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত সহায়তার কারণে বিদ্যমান সংকটাপন্ন ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে দুই বছর সুদ আদায় স্থগিত রাখতে হচ্ছে। এসব কারণে ব্যাংকগুলোর মূল আয়ের উৎস নেট ইন্টারেস্ট মার্জিন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ পুনরুদ্ধার এবং ব্যাংকগুলোর সুদভিত্তিক আয় বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ব্যাংকিং খাতের মুনাফা ও আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

সতর্কতা জারি করে ইসলামী ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তি

অনলাইন ডেস্ক
সতর্কতা জারি করে ইসলামী ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তি
সংগৃহীত ছবি

গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং কার্যক্রমে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে একটি সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। শনিবার (২০ জুন) বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করে ব্যাংক।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের তারল্য সহায়তার ফলে ব্যাংকের আর্থিক কার্যক্রম ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসছে এবং গ্রাহকদের লেনদেনও স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, ইসলামী ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রমে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি, বিশৃঙ্খলা বা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা আইনগতভাবে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। ব্যাংক কম্পানি আইন অনুযায়ী, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, সম্প্রতি বিভিন্ন গুজব ও তারল্য সংকটের কারণে গ্রাহকদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। এর ফলে অনেক গ্রাহক একসঙ্গে আমানত উত্তোলনে আগ্রহী হন। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তা এবং ব্যাংক ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।

ট্যাক্স কার্ড পান যাঁরা | কালের কণ্ঠ