• ই-পেপার

মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে জামায়াত আমিরের শোক

পরিপূর্ণ সুস্থতার দিকে মির্জা আব্বাস, চলছে পায়ের থেরাপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
পরিপূর্ণ সুস্থতার দিকে মির্জা আব্বাস, চলছে পায়ের থেরাপি
সংগৃহীত ছবি

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থা এখন পরিপূর্ণ সুস্থতার দিকে যাচ্ছে। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে তার ডান হাত ও পা অবশ হয়ে গিয়েছিল। চিকিৎসকদের প্রচেষ্টায় হাতের অবস্থার উন্নতি হলেও এখন ডান পায়ের কার্যক্ষমতা ফিরে পেতে প্রতিদিন ফিজিওথেরাপি দেওয়া হচ্ছে।

সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মির্জা আব্বাসের সহধর্মিণী আফরোজা আব্বাসের বরাত দিয়ে শায়রুল কবির জানান, মির্জা আব্বাস আগের চেয়ে অনেক সুস্থ হয়ে উঠেছেন। বর্তমানে তিনি মালয়েশিয়ার ‘পুসাট রিহ্যাবিলিটাসি নিউরো-রোবোটিক এবং সাইবারনিক্স কেবাংসান পারকেসো’ সেন্টারে প্রতিদিন পায়ের থেরাপি নিচ্ছেন। সোমবার সকালে থেরাপি নেওয়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি উন্মুক্ত স্থানে হাঁটাচলাও করেছেন। এ সময় তার সঙ্গে আফরোজা আব্বাস উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত ১৬ মে কুয়ালালামপুরের প্রিন্স কোর্ট মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আফরোজা আব্বাস জানিয়েছিলেন, গুরুতর অসুস্থতা কাটিয়ে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস। নিউরো-সংক্রান্ত বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হলেও তা এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি দেশে ফেরার জন্য ব্যাকুল হয়ে আছেন।

গত ১১ মার্চ রমজানের ইফতারের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন মির্জা আব্বাস। ওই রাতেই তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে পরীক্ষায় তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ ধরা পড়ে এবং দুই দফা অস্ত্রোপচার করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে তাকে প্রথমে সিঙ্গাপুর এবং পরবর্তীতে বিশেষায়িত চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য মালয়েশিয়ায় নেওয়া হয়।

লক্ষ্মীপুরে ছাত্রদলের মিছিলে আ. লীগ ও জামায়াতবিরোধী স্লোগান

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরে ছাত্রদলের মিছিলে আ. লীগ ও জামায়াতবিরোধী স্লোগান
লক্ষ্মীপুরে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টার প্রতিবাদে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল।

লক্ষ্মীপুরে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রদল। সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ ও পৌর ছাত্রদলের ব্যানারে এ আয়োজন করা হয়। মিছিলটি উত্তর তেমুহনী থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রক্ষিণ করে দক্ষিণ তেমুহনী গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।

এদিকে মিছিল থেকে ‘তুমিও জানো আমিও জানি, জামায়াত-শিবির পাকিস্তানি’, ছাত্রলীগের কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, সন্ত্রাসীদের কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও'সহ জামায়াত-শিবির ও আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন নেতাকর্মীরা।

লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বাহাদুর হোসেন নোবেলের সঞ্চালনায় এ সময় বক্তব্য দেন লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক আকবর হোসেন মুন্না, শাহবাজ মাহমুদ চৌধুরী জিদান, লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ইসমাইল হোসেন রনি, লক্ষ্মীপুর পৌর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আরমান হোসেন কিরন, সদস্যসচিব ইয়াছিন বাবলু, সদর (পূর্ব) উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব বায়েজিদ হোসেন ও সদর (পশ্চিম) ছাত্রদলের সদস্যসচিব মিজানুর রহমান মিজান। 

জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক শাহবাজ চৌধুরী জিদান বলেন, ‘গুপ্ত সংগঠন শিবির নেতা বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপি নাকি মাদকের টাকায় চলে। তাদের হুঁশিয়ারি করে দিয়ে বলে দিতে চাই, বিএনপি নয়, জামায়াত-শিবির চলে মাদকের টাকায়, টেন্ডারবাজির টাকায় ও সড়কের চাঁদাবাজির টাকায়। বিএনপির বিরুদ্ধে আর যদি কোন মুখ দিয়ে মিথ্যাচার করা হয়, সেই মুখে তালা দিয়ে দেওয়া হবে।’

জামায়াতের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক
জামায়াতের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা
সংগৃহীত ছবি

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে রাজধানীর বারিধারায় জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তর কার্যালয়ে আয়োজিত ৩৬ জুলাই (৫ আগস্ট) নিয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানিয়েছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

তিনি বলেন, জুলাই মাসজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আগামী ৫ আগস্ট রাজধানীতে ঐতিহাসিক গণমিছিল করবে জামায়াতে ইসলামী। 

সেলিম উদ্দিন বলেন, সংবিধান সংস্কারের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন না করে সরকার জাতীয় ঐক্যে ফাটল সৃষ্টি করেছে। তিনি আরো বলেন, জুলাই কেবল একটি মাস নয়, এটি আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে হুংকার এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার এক ঐতিহাসিক অধ্যায়। তিনি বলেন, জুলাইয়ের ইতিহাস ও চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরতে হবে।

তিনি আরো বলেন, ক্ষমতাসীনরা ক্ষমতায় আসার আগে জুলাইকে ঘিরে যে কথা বলেছিলেন, ক্ষমতায় এসে তার বিপরীত অবস্থান নিয়েছেন। এ সময় জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তরের পক্ষ থেকে ৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সেলিম উদ্দিন বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে ঘোষিত জুলাইভিত্তিক কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নেও জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তর সক্রিয় ও জোরালো ভূমিকা পালন করবে।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে— ১ থেকে ১০ জুলাই গ্রাফিতি অঙ্কন, ১১ থেকে ১৬ জুলাই শহিদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়সভা, ১৭ থেকে ৩০ জুলাই শাহাদাতের ঘটনাস্থলভিত্তিক আলোচনাসভা ও চিত্র প্রদর্শনী, ২৪ জুলাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদানকে স্মরণ করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সমাবেশ, ৩১ জুলাই  মসজিদে মসজিদে শহিদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মাহফিল, ১ থেকে ৪ আগস্ট ওলামা, শ্রমিক ও মহিলা সমাবেশ এবং ৫ আগস্ট জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে রাজধানীতে ঐতিহাসিক গণমিছিল।

প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষি খাতে আরো গুরুত্বের প্রয়োজন ছিল : রিজভী

শেকৃবি প্রতিনিধি
প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষি খাতে আরো গুরুত্বের প্রয়োজন ছিল : রিজভী

দেশের টেকসই কৃষি উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে কৃষি খাতে আরো বেশি গুরুত্ব পাওয়ার প্রয়োজন ছিল বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা এবং বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী।

রবিবার (২৯ জুন) রাজধানীর খামারবাড়িস্থ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (কেআইবি) কৃষিবিদ রফিক অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘বাজেট ২০২৬-২৭ : কৃষি উন্নয়নের রূপরেখা ও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি। অ্যাগ্রিকালচারিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুহুল কবীর রিজভী বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষি খাতে আরো বেশি গুরুত্ব পাওয়ার প্রয়োজন ছিল। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষির কোনো বিকল্প নেই। কৃষিবান্ধব নীতি, গবেষণা ও উৎপাদনমুখী পরিকল্পনার মাধ্যমে কৃষির টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।’ দেশের কৃষি উন্নয়নে কৃষিবিদদের নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। এ লক্ষ্যে জাতীয় বাজেটের অন্তত ১০ শতাংশ কৃষি গবেষণা, সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ নিশ্চিত করা জরুরি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এ্যাবের আহ্বায়ক কৃষিবিদ ড. কামরুজ্জামান কায়সার এবং সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সদস্যসচিব কৃষিবিদ শাহাদত হোসেন বিশ্বাস। এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ই. মোহাম্মদ হক এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক ড. মো. আক্তারুজ্জামান খান। প্রধান আলোচক ছিলেন দীপ্ত টেলিভিশনের হেড অব নিউজ এস এম আকাশ। আলোচনায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো. আব্দুর রহিম এবং এ্যাবের এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান কৃষিবিদ আব্দুস সালাম অংশ নেন।

বক্তারা উল্লেখ করেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেটে কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ এবং বন ও পরিবেশখাতে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৩ হাজার ৮৪৯ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের প্রায় ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। কৃষিখাতের গুরুত্ব বিবেচনায় এ বরাদ্দ আরো বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

সেমিনারে কৃষির দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য চারটি সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো—জাতীয় বাজেটের অন্তত ১০ শতাংশ কৃষি গবেষণা, সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ, আধুনিক কোল্ড চেইন ও হিমাগার নির্মাণ, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য সহজ শর্তে প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের ব্যবস্থা এবং স্মার্ট কৃষি ও ডিজিটাল সেবার জন্য পৃথক বাজেট বরাদ্দ।

এ সময় বক্তারা বাজেট বাস্তবায়নের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, সরকারি সহায়তা কৃষকের কাছে পৌঁছাতে বিলম্ব, আন্তর্জাতিক বাজারে সার, বীজ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতার বিষয়গুলো তুলে ধরেন।