• ই-পেপার

প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষি খাতে আরো গুরুত্বের প্রয়োজন ছিল : রিজভী

জামায়াতের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক
জামায়াতের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা
সংগৃহীত ছবি

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে রাজধানীর বারিধারায় জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তর কার্যালয়ে আয়োজিত ৩৬ জুলাই (৫ আগস্ট) নিয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসম কথা জানিয়েছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

তিনি বলেন, জুলাই মাস জুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আগামী ৫ আগস্ট রাজধানীতে ঐতিহাসিক গণমিছিল করবে জামায়াতে ইসলামী। 

সেলিম উদ্দিন বলেন, সংবিধান সংস্কারের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন না করে সরকার জাতীয় ঐক্যে ফাটল সৃষ্টি করেছে। তিনি আও বলেন, জুলাই কেবল একটি মাস নয়, এটি আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে হুংকার এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার এক ঐতিহাসিক অধ্যায়। তিনি বলেন, জুলাইয়ের ইতিহাস ও চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ক্ষমতাসীনরা ক্ষমতায় আসার আগে জুলাইকে ঘিরে যে কথা বলেছিলেন, ক্ষমতায় এসে তার বিপরীত অবস্থান নিয়েছেন। এ সময় জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তরের পক্ষ থেকে ৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সেলিম উদ্দিন বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে ঘোষিত জুলাইভিত্তিক কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নেও জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তর সক্রিয় ও জোরালো ভূমিকা পালন করবে।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে— ১ থেকে ১০ জুলাই গ্রাফিতি অঙ্কন, ১১ থেকে ১৬ জুলাই শহিদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভা, ১৭ থেকে ৩০ জুলাই শাহাদাতের ঘটনাস্থলভিত্তিক আলোচনা সভা ও চিত্র প্রদর্শনী, ২৪ জুলাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদানকে স্মরণ করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সমাবেশ, ৩১ জুলাই  মসজিদে মসজিদে শহিদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মাহফিল, ১ থেকে ৪ আগস্ট ওলামা, শ্রমিক ও মহিলা সমাবেশ এবং ৫ আগস্ট জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে রাজধানীতে ঐতিহাসিক গণমিছিল।

মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে জামায়াত আমিরের শোক

নিজস্ব প্রতিবেদক
মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে জামায়াত আমিরের শোক
সংগৃহীত ছবি

একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য চিত্রশিল্পী ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক সংগঠক মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

সোমবার (২৯ জুন) এক শোক বার্তায় তিনি বলেন, মুস্তাফা মনোয়ার বাংলাদেশের শিল্প, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন। বিশেষ করে চিত্রকলা এবং শিশুতোষ সৃজনশীল অনুষ্ঠান নির্মাণে তার অনন্য অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘সৃজনশীল কর্মের মাধ্যমে মুস্তাফা মনোয়ার দেশের সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছেন। তার মৃত্যুতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।’

তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন, অনুসারী ও গুণগ্রাহীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে তিনি মহান আল্লাহর কাছে পরিবারের সদস্যদের এ শোক সইবার শক্তি ও ধৈর্য কামনা করেন।

এমপি হওয়ার পর এক দিনও জীবনটাকে উপভোগ করতে পারিনি : মাহমুদা মিতু

অনলাইন ডেস্ক
এমপি হওয়ার পর এক দিনও জীবনটাকে উপভোগ করতে পারিনি : মাহমুদা মিতু
ডা. মাহমুদা মিতু

এমপি হওয়ার পর এই জীবনটাকে আমি এক দিনও উপভোগ করতে পারিনি বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপি নেত্রী ও মহিলা সংরক্ষিত আসনের এমপি ডা. মাহমুদা মিতু। তিনি বলেছেন, আমি আর আমার প্রিয় গাইনোকোলজির বই খুলে বসি না, এটাই কারণ নয়। আসল কারণ হলো, এই পথ চলতে গিয়ে কোথাও যেন নিজেকেই হারিয়ে ফেলেছি।

রবিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমার একটা সুন্দর, হাসিখুশি জীবন ছিল। দেশের জন্য, মানুষের জন্য কাজ করতে করতে নিজের অজান্তেই সেই জীবনটা অন্য এক জীবনে রূপ নিল। আমার এই আইডিটা একসময় এমন ছিল, যেখানে একটু ঘুরে গেলেই মানুষের মন ভালো হয়ে যেত। ইচ্ছামতো সার্কাজম করতাম, মজা করতাম ও আড্ডা দিতাম। তারপর ২০২৪ সাল থেকে সব কিছু যেন এলোমেলো হয়ে গেল। শুধু আমার নয়, আমার মতো আরো অনেকের জীবনই হয়তো বদলে গেছে। মনের ভারের পাশাপাশি শরীরেও নানা রোগ বেঁধেছে।

মাহমুদা মিতু বলেন, অনেকেই ভাবেন, এমপি হয়েছে, কত কিছু পেয়েছে। অথচ সত্যিটা হলো, আমার এমন একটি ক্যারিয়ার, পরিচিতি এবং কাজের অভিজ্ঞতা ছিল, যা দিয়ে চাইলে আজকের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি অর্থ উপার্জন করতে পারতাম। হয়তো আল্লাহর পরিকল্পনা ছিল ভিন্ন।

তিনি বলেন, আমি মাথা না নোয়ানো মেয়ে, আজকাল মাথা নোয়াতে হয়, সবার ভালোর জন্য কম্প্রোমাইজ করতে হয়। এখন আর মন চাইলেই প্রতিবাদ করতে পারি না। অট্টহাসি দেখলেও বলতে পারি না, একবার ভাবুন, কোথা থেকে কোথায় এসেছেন। একটু মাটির দিকে তাকান, কত বিপ্লবীর রক্তে রাঙা এই মাটি।

ক্ষমতা মানুষকে সব সময় শক্তিশালী করে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, সংসদে যতবার জুলাই নিয়ে আলোচনা হয়, ততবার মনে হয় ভেতরের সব কিছু চুরমার হয়ে যাচ্ছে। কান্না পায়। সেই ছেলেগুলোর লাশ চোখে ভাসে; কিন্তু সেই কান্নাটুকু চেপে লুকিয়ে ফেলতে হয়। হেরে যাচ্ছি যে সেটা কাউকে বুঝতে দিতে মন চায় না।  ক্ষমতা মানুষকে সব সময় শক্তিশালী করে না, কখনো কখনো সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হয় নিজের স্বাভাবিক হাসি, নিজের স্বাধীনতা আর নিজের সত্তাকে। সেই মূল্যটা যারা দেয়, তারাই জানে এর ভার কতটা।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা আজ হয়তো অনেকেই অনুভব করছেন না। কিন্তু সময়ই একদিন এর মূল্য বুঝিয়ে দেবে। দিন শেষে সবচেয়ে বড় আশ্রয় একটাই, আল্লাহ আছেন। তিনি অন্তর্যামী, মানুষের উচ্চারিত শব্দের চেয়েও নীরব দীর্ঘশ্বাস তিনি বেশি জানেন। তিনি সব দেখেন, সব জানেন এবং তার বিচারই সর্বোত্তম।

সংসদে সময় বণ্টনে নজিরবিহীন বৈষম্য করা হচ্ছে : জামায়াত

নিজস্ব প্রতিবেদক
সংসদে সময় বণ্টনে নজিরবিহীন বৈষম্য করা হচ্ছে : জামায়াত

জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় নির্ধারণে নজিরবিহীন বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের সময় কমিয়ে দেওয়া হলেও সরকারদলীয় সদস্যদের, বিশেষ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অনেক বেশি সময় কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

আজ সোমবার সংসদ ভবন চত্বরে এক ব্রিফিংয়ে জামায়াতের সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান এ অভিযোগ করেন। 

তিনি বলেন, গতকাল রবিবার সংসদে বিরোধীদলের সদস্যদের বক্তব্যের নির্ধারিত সময় থেকে পাঁচ মিনিট করে কেটে নেওয়া হয়। সেদিন তাদের মাত্র তিনজন সদস্য বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পান। বিপরীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নির্ধারিত ৪০ মিনিটের পরিবর্তে এক ঘণ্টারও বেশি সময় বক্তব্য দেন। রাত ১০টার পরও সরকারদলীয় সদস্যদের বক্তব্যের সুযোগ দেওয়া হয়, যা পূর্ববর্তী সমঝোতার পরিপন্থী বলে দাবি করেন তিনি।

বিল উত্থাপনের প্রক্রিয়া নিয়েও আপত্তি জানান নাজিবুর রহমান। বলেন, কার্যপ্রণালী বিধির ৭৭ বিধি অনুসরণ না করেই সংসদে বিল আনা হচ্ছে। সংসদ সদস্যদের বিল পর্যালোচনা ও আপত্তি জানানোর জন্য প্রয়োজনীয় সময় ও কাগজপত্র দেওয়া হচ্ছে না। পয়েন্ট অব অর্ডারে বিরোধীদলের সিনিয়র সদস্য শাহজাহান চৌধুরীকে বক্তব্যের সুযোগ না দেওয়ার তারা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন বলে জানান তিনি।

ব্রিফিংয়ে আরো বলা হয়, সংসদে সময় ব্যবস্থাপনায় এমন ঘটনা দেশের পার্লামেন্টের ইতিহাসে দৃষ্টান্তহীন। জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে সংসদে জনগণের কথা বলাই বিরোধীদলের দায়িত্ব। সেই সুযোগ বাধাগ্রস্ত হলে সংসদের ভেতরে ও বাইরে গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।