• ই-পেপার

ছাত্রলীগের মতো শিবিরও হুমকি দিচ্ছে : ছাত্রদল সেক্রেটারি

ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা

অনলাইন ডেস্ক
ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা
ছবি : ফেসবুক থেকে নেওয়া।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে আবারও আমির নির্বাচিত হয়েছেন চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। এ ছাড়া মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছেন মাওলানা গাজী আতাউর রহমান।

শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে রাজধানীর বিজয়নগরের একটি হোটেলে মজলিশে শূরার বিশেষ অধিবেশন শেষে মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর) এ কমিটি ঘোষণা করেন।

শুরার অধিবেশনে ২০২৫-২৬ বছরের সাংগঠনিক কার্যক্রম পর্যালোচনাসহ রাজনৈতিক কৌশল ও পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

৫৪ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে অন্যান্য পদে রয়েছেন, নায়েবে আমির—মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম, মাওলানা আব্দুল আউয়াল, মাওলানা আব্দুল হক আজাদ; যুগ্ম মহাসচিব—প্রকৌশলী মুহাম্মদ আশরাফুল আলম, হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, শাহ ইফতেখার তারিক, মাওলানা মুহাম্মদ নেছার উদ্দিন; সহকারী মহাসচিব—মুফতি সৈয়দ এসহাক মুহা. আবুল খায়ের, মাওলানা আহমাদ আবদুল কাইয়ুম, কে এম আতিকুর রহমান, হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলুল করীম মারুফ।

এ ছাড়া সদস্য হিসেবে আছেন—মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন ওয়ালী উল্লাহ (এমপি), মাওলানা লোকমান হোসেন জাফরী, আলহাজ হারুন অর রশীদ, হাফেজ মাওলানা নুরুল করীম আকরাম, শেখ আবু তাহের, মুফতি কেফায়েতুল্লাহ কাশফী, অ্যাডভোকেট শওকত আলী হাওলাদার, মাওলানা মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেন, আলহাজ আব্দুর রহমান, প্রকৌশলী আতিকুর রহমান মুজাহিদ, মুফতি হেমায়েতুল্লাহ কাসেমী, প্রফেসর ড. বেলাল নূর আজীজি, মাওলানা মুহাম্মদ খলিলুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ আবুল কাশেম, মুফতি দেলাওয়ার হোসাইন সাকী, শেখ মুহাম্মদ নুরুন নাবী, হাফেজ মাওলনা মাহমুদুল হাসান (এল.এল.বি.), মাওলানা মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, উপাধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, কে এম শরীয়তুল্লাহ, অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ বরকতুল্লাহ লতিফ, অধ্যাপক নাছির উদ্দিন খাঁন, মুফতি মানসুর আহমাদ সাকী, আলহাজ মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, মুফতি রেজাউল করীম আববার, মুফতি শামসুদ্দোহা আশরাফী, আলহাজ মুহাম্মদ আল ইকবাল, আলহাজ মুহাম্মদ সেলিম মাহমুদ, প্রভাষক মাওলানা আলমগীর হোসাইন তালুকদার, কে এম বেলাল হোসাইন, মাওলানা শেখ মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম, মুহাম্মদ আব্দুজ জলিল, মুহাম্মদ আল-আমীন (ঠাকুরগাঁও), ইঞ্জিনিয়ার শেখ মারুফ ও এম এম কামাল হোসাইন (ভোলা)।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, ‘ইসলামী আন্দোলন গতানুগতিক কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয়, বরং শরিয়ার পূর্ণ অনুসরণ ও বাস্তবায়নই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। শরিয়া ও ইসলামকে প্রধান্য দিয়েই আমরা রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ করি। এতে বাহ্যিক চড়াই-উৎরাই আমরা মেনে নিই। সময় থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা সামনে এগিয়ে যেতে চাই। সেজন্য দলকে আরো সুসংহত করতে হবে।’

আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দক্ষতা অর্জন করতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জাতির প্রত্যাশা পূরণে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর ধারাবাহিক ব্যর্থতা আমাদের দায়িত্ব আরো বাড়িয়ে তুলছে।’

ইসলামী আন্দোলনের নতুন মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান

অনলাইন ডেস্ক
ইসলামী আন্দোলনের নতুন মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (আইএবি) নতুন মহাসচিব হলেন গাজী মাওলানা আতাউর রহমান। আর সদ্য বিদায় নেওয়া মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুছ আহমাদকে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য করা হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) রাজধানীর বিজয়নগরের ফার্স হোটেল এন্ড রিসোর্টে আইএবির মজলিসে শুরার বিশেষ অধিবেশনে গাজী আতাউরকে মহাসচিব পদে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। অধিবেশনে পূর্বের কমিটি মেয়াদের আগেই ভেঙে দিয়ে শীর্ষস্থানীয় পদগুলোতে কিছু রদবদল আনা হয়েছে।

ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় মিডিয়া সমন্বয়ক কেএম শরীয়তুল্লাহ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, দলের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা আগামী ডিসেম্বরে। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী মূল্যায়নে এককভাবে নির্বাচন করা, প্রার্থী বাছাই, স্থানীয় পর্যায়ে কর্মীদের নিষ্ক্রিয়তাসহ কয়েকটি সাংগঠনিক দুর্বলতা উঠে আসে। এ প্রেক্ষাপটে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দলটির নেতৃত্বে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।

গাজী আতাউর এর আগে দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আর অধ্যক্ষ ইউনুছ ২০০৮ সাল থেকে টানা মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

উগ্র সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলুন : বাসদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
উগ্র সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলুন : বাসদ

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ ও উগ্র সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ নেতৃবৃন্দ।

তারা বলেছেন, নির্বাচিত সংসদে যুদ্ধাপরাধীদের নামে শোক প্রস্তাব পাস করা, চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী, আলবদর কমান্ডার, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এটিএম আজহারকে অন্তর্বর্তী সরকার বেকসুর খালাস দিয়েছে। এ সবই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও শহীদদের আত্মত্যাগের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।

আজ শুক্রবার (২৬ জুন) শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ শেষে এসব কথা বলেন তারা। সকালে বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজের নেতৃত্বে মিরপুরস্থ শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জুলফিকার আলী, কেন্দ্রীয় বর্ধিত ফোরামের সদস্য মাঈন উদ্দিন চৌধুরী, কেন্দ্রীয় পাঠচক্র ফোরামের সদস্য ও ঢাকা নগর কমিটির নেতা নাসির উদ্দীন প্রিন্স, রুখশানা আফরোজ আশা, আনোয়ারুল ইসলাম, আবদুল্লাহ আল মামুন তাজু, ইলিয়াস হাসান ইলু প্রমুখ।

সমাবেশে বাসদ সাধারণ সম্পাদক বলেন, স্বাধীনতার পরই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হওয়ার কথা ছিল। কারণ গণহত্যাকারী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না হলে মুক্তিযুদ্ধের নৈতিকতা প্রতিষ্ঠিত হয় না। কিন্তু ক্ষমতাসীন শাসকেরা তা করেনি। বরং তাদের আশ্রয় ও প্রশ্রয়ে ’৭১-এর ঘাতক  যুদ্ধাপরাধীরা শুধু টিকে থাকেনি, পত্র পল্লবে বিকশিত হয়ে মহীরুহ রূপ ধারণ করে। যার কারণে মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েও শহীদ জননী জাহানারা ইমাম জীবিত অবস্থায় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার এবং ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার যে আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন, তা আজও প্রাসঙ্গিক। 

বিগত আওয়ামী সরকারের সময়ে কতিপয় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করলেও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী, বাহিনী গঠন করে এবং সরাসরি হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগকারী সব যুদ্ধাপরাধীর বিচার, ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল ও রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার নিষিদ্ধ এবং যুদ্ধাপরাধী গণহত্যাকারী দলের বিচার ও তাদের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাজেয়াপ্ত করেনি। বরং শাসক শ্রেণির দুই বৃহৎ দল প্রতিযোগিতা করে কে কত বেশি রাজনীতিতে ধর্ম ব্যবহার করবে এবং স্বাধীনতাবিরোধী দলকে ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত থেকেছে।

স্বাধীনতার ৫৫ বছরে ক্ষমতাসীন বুর্জোয়া দলগুলো পালাক্রমে দেশ পরিচালনা করলেও তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপরীতে কাজ করেছে বলে অভিযোগ করেন বজলুর রশীদ ফিরোজ।

তিনি বলেন, গত ২০২৪ এর জুলাই-আগস্টে ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে  ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর আস্ফালন সীমা ছাড়িয়েছে। 

কথিত তৌহিদী জনতার নামে নারীদের পোশাক নিয়ে মোরাল পুলিশিং ধর্মীয় ও জাতীগত সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন বেড়েছিল। ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত, কথিত ধর্ম অবমাননার নামে ধর্মীয় ও জাতীগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শিক্ষকসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ সাম্প্রদায়িক অপশক্তি দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে। মব সন্ত্রাসের আতঙ্ক নির্বাচনের পরে এখনো চলমান রয়েছে। 

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপরীতে দেশ শাসন করে শাসকশ্রেণির দুর্নীতিগ্রস্ত-দুর্বৃত্তায়িত আদর্শহীন বুর্জোয়া রাজনীতি দেশকে আজ চরম অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক দুর্গতি ও দুর্দশার জায়গায় এনে দাঁড় করিয়েছে। রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার, ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ, স্বাধীনতাবিরোধী গণহত্যাকারী দলসহ সব যুদ্ধাপরাধীর বিচার দাবি করেন তিনি। একইসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনায় সমতার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম জোরদার করে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের স্বপ্ন বাস্তবায়নের সংগ্রাম এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।

ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত থাকবে : জামায়াত আমির

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত থাকবে : জামায়াত আমির
সংগৃহীত ছবি

ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জামায়াতের লড়াই অব্যাহত থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, আমাদের লড়াই হবে সব অন্যায় ও অপশক্তির বিরুদ্ধে। নতুন, পুরাতন ফ্যাসিবাদ বুঝি না, যেখানেই ফ্যাসিবাদ সেখানেই প্রতিরোধ, সেখানেই প্রতিবাদ করা হবে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে।

আজ শুক্রবার জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার অধিবেশন উদ্বোধনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুটি ভোট দিলেও একটি ভোটার (গণভোট) মূল্যায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগ তুলেছেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ‘অথচ কোনোটিই অগুরুত্বপূর্ণ নয়।’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকারি দল প্রায় ৭০ ভাগ মানুষের রায়কে অগ্রাহ্য করল। ফলে কোনো পরিবর্তন আসল না। 

সরকার ইতোমধ্যেই সব মৌলিকবিষয়কে অগ্রাহ্য করেছে বলে দাবি জামায়াত আমিরের। তিনি বলেন, তারা (সরকার) স্বাধীন বিচার বিভাগ, স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন, স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন, স্বাধীন গুম কমিশন ও স্বাধীন নির্বাচন কমিশন চাচ্ছেন না। ফলে যে জায়গাগুলোর কারণে ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়েছিল সেসব আগের জায়গায় থেকে গেছে। 

দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, কেউ যদি আমাদের ন্যায্য অধিকার না দেয়, আমরা চুপ করে বসে থাকব না। সেই অধিকার আদায়ে আমাদের লড়াই চলবে।

সীমান্ত হত্যা ও পুশইনের ব্যাপারে জামায়াত আমির বলেন, আমাদের সীমান্তে কিছু সমস্যা আছে। দেশবাসী ঐক্যবদ্ধ, বিজিবির পাশে আমাদের গোটা দেশবাসী আছেন। আমরা সব ধরনের আধিপত্যবাদকে রুখে দিতে পারব। শুধু প্রয়োজন জাতীয় ঐক্যের। জাতীয় স্বার্থের জায়গায় সরকারি দল কিংবা বিরোধীদল ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।