নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মো. আতাউর রহমান বাচ্চুর ঐচ্ছিক তহবিলের অনুদানপ্রাপ্তদের তালিকায় তাঁর মেয়ের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় জেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়।
জানা গেছে, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের হিসাব শাখা থেকে গত ১৪ জুন জারি করা এক চিঠিতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে মোট ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা অনুদান দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়।
অনুদানপ্রাপ্তদের তালিকায় ‘ফাইজা’ নামে দুই স্থানে নাম রয়েছে। একটিতে পিতার নাম হিসেবে ‘মো. বাচ্চু’ এবং অন্যটিতে ‘মো. আতাউর’ উল্লেখ করা হয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই ১০ হাজার টাকা করে অনুদান বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, দুটি নামই সংসদ সদস্যের মেয়ের।
নথি অনুযায়ী, নড়াইল সদর উপজেলার জন্য প্রণীত তালিকায় ২১ জনের নাম রয়েছে। এর মধ্যে সংসদ সদস্যের নিজ গ্রাম থেকে ৯ জন এবং তাঁর শ্বশুরবাড়ির ইউনিয়ন লাহুড়িয়া থেকে ৭ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু বলেন, অতীতে তাঁর ঐচ্ছিক তহবিলে ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও চলতি অর্থবছরে তা কমে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকায় নেমে এসেছে।
তিনি দাবি করেন, হঠাৎ করেই তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) তাঁকে তালিকা জমা দেওয়ার কথা জানালে তিনি বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে নাম সংগ্রহ করতে বলেন। তাঁর ভাষ্য, ‘আমার স্বাক্ষর করা প্যাডে পিএস তালিকা তৈরি করেছে। বিষয়টি ফেসবুকে দেখার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছি। আমি আমার সন্তানের নামে টাকা নিতে চাই না। নতুন একটি তালিকা করেছি, সেই তালিকা অনুযায়ী অনুদান দিতে বলেছি।’
তবে নড়াইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টি এম রাহসিন কবীর বলেন, সংসদ সদস্যের ডিও লেটারের ভিত্তিতে যে তালিকা জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে অনুমোদিত হয়েছে, নীতিমালা অনুযায়ী সেই তালিকার বাইরে কাউকে অনুদান দেওয়ার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, ‘সচিবালয় থেকে যাদের নামে বরাদ্দ এসেছে, তাদেরকেই অনুদান দিতে হবে। তালিকার বাইরে নতুন কোনো নাম অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ নেই। নির্ধারিত ব্যক্তি অনুদান গ্রহণ না করলে সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত যাবে।’




