• ই-পেপার

সাম্য হত্যা

ছাত্রদলের নতুন কর্মসূচি

অবিলম্বে অসম মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাতিল করতে হবে : নুর আহমদ বকুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
অবিলম্বে অসম মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাতিল করতে হবে : নুর আহমদ বকুল
ছবি: কালের কণ্ঠ

অবিলম্বে অসম মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুর আহমেদ বকুল। তিনি বলেছেন, অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের করে যাওয়া মার্কিন-বাংলাদেশ অসম বাণিজ্যচুক্তিকে রেখে, বিএনপি সরকার পার্লামেন্টে তা আলোচনা না করে চুক্তি নিয়ে যেভাবে লুকোচুরি খেলছে, তা এদেশের জনগণ মেনে নেবে না। জাতীয় স্বার্থে এই চুক্তি বাতিল করতে হবে।

শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর তোপখানা রোডে পার্টি অফিস চত্ত্বরে বিক্ষোভ মিছিল পূর্ব সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদুল হাসান মানিকের সভাপতিত্বে সমাবেশে কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দ বক্তৃতা করেন।

সমাবেশে নুর আহমেদ বকুল বলেন, চুক্তির নামে বিভিন্ন ধারা উপধারা যেভাবে মার্কিন কর্তৃত্ব দেখানো হয়েছে, তাতে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও সর্বভৌমত্ব ক্ষুন্ন হবে। মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে এদেশের মানুষ পাকিস্তানী উপনিবেশিকতায় জাল ছিড়ে দেশ স্বাধীন করেছিল। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ সেদিনও সপ্তম নৌ বহর পাঠিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা নস্যাৎ করতে চেয়েছিলো। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর মেটিকুলাস ডিজাইন করে মার্কিন বাংলাদেশ অসম চুক্তির মাধ্যমে পুন:উপনিবেশ করার অপচেষ্টা হচ্ছে। এদেশে ধর্মাশ্রয়ী ফ্যাসিবাদ শক্তি ও মার্কিন অপশক্তিসহ দক্ষিণপন্থী শক্তি এদেশে মার্কিন সাম্রজ্যবাদের ঘাটির ভিত্তি তৈরী করার সম্মিলিত চেষ্টা রয়েছে। সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে জনগণকে স্বাধীনতা সার্বভৌম রক্ষার সংগ্রামে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের নিঃশর্ত মুক্তি ও তার বিরুদ্ধে দ্বায়েরকৃত মামলা বাতিলের দাবি করা হয়।

সরকার বিদেশি ঋণনির্ভর উচ্চাভিলাষী লুটপাটের বাজেট পেশ করেছে : গোলাম পরওয়ার

ভোলা প্রতিনিধি
সরকার বিদেশি ঋণনির্ভর উচ্চাভিলাষী লুটপাটের বাজেট পেশ করেছে : গোলাম পরওয়ার

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করার পূর্বে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে একটি বিকল্প খসড়া বাজেটে অর্থনীতিকে দাঁড় করানোর যে প্রস্তাবনা আমরা দিয়েছিলাম, সরকার সেগুলোকে বাদ দিয়ে উচ্চাভিলাষী বিদেশের ঋণের ওপর নির্ভরশীল একটা লুটপাটের বাজেট পেশ করেছে।’ 

আজ শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে ভোলা শহরের ওয়েস্টার্নপাড়ায় জামায়াতে ইসলামীর জেলা কার্যালয়ে উপজেলা ‘কর্মপরিষদ সদস্যদের শিক্ষা শিবির’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘প্রশাসন থেকে শুরু করে কর কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন ও জুডিশিয়ারি কমিশন থেকে দুর্নীতি না কমালে যে বাজেট হবে সে বাজেটের টাকা দলীয় কর্মীরা ভাগযোগ করে খাবে। দুর্নীতির কোনো হিসাব হবে না, এ জন্য আমরা বলেছি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে এ বাজেট জনগণের আশা পূরণ করবে না। এটা হয়েছে দলীয় কর্মীদের ভাগ্য পরিবর্তনের লুটপাটের একটা বাজেট। সরকারে বলব, আমরা জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে যে খসড়া বাজেট প্রস্তাব করেছি তার আলোকে বাজেটকে সংশোধন করে আগামী ৩০ জুন জনবান্ধব বাজেট পাস করুন।’ 

জুলাই সনদ নিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, “গত ১২ ফেব্রুয়ারির একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হলো। জুলাই সনদের ভিক্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে ৮৪টি ঐক্যমতের ভিত্তিকে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রস্তাবে সব দল একমত হয়েছে এবং গণভোটের ৪টি প্রশ্নের সমন্বয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৭০ ভাগ লোক গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে তারা মতামত দিয়েছে। এমনকি বিএনপিও সেই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষেই ছিল। কিন্তু নির্বাচনের পরে দুঃখজনকভাবে দেখা গেল বিএনপি সরকার সংসদ গঠনের পর পরই ১৮০ ডিগ্রী ইউটার্ন নিয়ে বললেন—গণভোট ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ বেআইনি এবং এগুলো সংবিধানে নাই আমার এগুলো মনি না। এতে বোঝা গেল তাদের অন্তরে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণের কোনো ইচ্ছা ছিল না, ক্ষমতায় বসে জাতির ওপরে আবার ফ্যাসিবাদের মতো শাসনের ইচ্ছাই তারা লুকিয়ে রেখেছিলেন। যার কারণেই তারা গণভোটের রায়কে অস্বীকার করছে। ফলে রাজনীতি সেই সংকট রয়েই গেল।”

কর্মশালায় ভোলা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাস্টার মুহাম্মদ জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল অঞ্চলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াজ্জম হোসাইন হেলাল, কেন্দ্রীয় মজলিশের শুরা সদস্য এ কে এম ফখরুদ্দিন খান রাজীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

তারেক রহমানের ভিশন বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবে যুবদল : মির্জা ফখরুল

অনলাইন ডেস্ক
তারেক রহমানের ভিশন বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবে যুবদল : মির্জা ফখরুল
সংগৃহীত ছবি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভিশন বাস্তবায়নে যুবদল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার (১৩ জুন) যুবদলের নবগঠিত কমিটিকে নিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

যুবদলের নতুন কমিটিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগর শাখার নেতাকর্মীরা রাজধানীতে জড়ো হন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতারা দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।

এ সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র সংস্কার ও উন্নয়নের ভিশন বাস্তবায়নে যুবদল অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। নতুন কমিটির নেতাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানাই।’

গত ৪ জুন বিএনপির অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়। ১৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ এই কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন।

প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিয়ে না করা সেই জিসানকে বহিষ্কার করল শিবির

অনলাইন ডেস্ক
প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিয়ে না করা সেই জিসানকে বহিষ্কার করল শিবির

কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে নিখোঁজ হওয়া ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জিসান প্রধানকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। প্রেমের সম্পর্ক প্রমাণিত হওয়ায় তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের জিএস এস এম ফরহাদ।

শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান।

এস এম ফরহাদ লেখেন, গত রাতে (১২ জুন) পুলিশ জিসানকে উদ্ধার করার পর থেকে আজ (শনিবার) দুপুর ১টা ৩০ পর্যন্ত ছাত্রশিবিরের কোনো প্রতিনিধিদল কিংবা জিসানের পরিবারের সদস্যদের তার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেয়নি প্রশাসন। এখনো জিসান পুলিশের জিম্মায় রয়েছে। ফলে নিখোঁজ সংক্রান্ত তার বিস্তারিত বক্তব্য জানার সুযোগ আমরা পাইনি। ফলশ্রুতিতে, নিখোঁজ কিংবা অপহরণ সংক্রান্ত বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য ছাড়া দ্বিতীয় কোনো সোর্স এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে নেই।

ফরহাদ আরো লেখেন, জিসানের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরকারী বিধবা নারী লিজা আক্তারের বড় বোন জানিয়েছেন, গতকাল বিকেলে ১৫-২০ জন পুলিশ বা প্রশাসনের লোক তাদের বাড়ি থেকে লিজাকে নিয়ে যায়। এ সময় পরিবারের অন্য সদস্যদের তার সঙ্গে যেতে দেওয়া হয়নি। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, লিজা ও তার বাবাকে এখনো পুলিশের জিম্মায় আইসোলেটেড অবস্থায় রাখা হয়েছে এবং তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।

ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক লেখেন, লিজার বড় বোন সাবিকুন্নাহার জানান, বাড়ি থেকে পুলিশ নিয়ে যাওয়ার সময় থেকে শুরু করে থানায় নেওয়া, মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া এবং বর্তমান পরিস্থিতি— কোনো বিষয় সম্পর্কেই তিনি বিস্তারিত অবগত নন। কারণ, তিনি বা তার পরিবারের সদস্যরা পুলিশের জিম্মায় থাকা তার বোন লিজা ও তার বাবার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করতে পারেনি। তবে তিনি জিসান এবং লিজার প্রেমের সম্পর্কের ব্যাপারে আগে থেকেই অবগত বলে জানিয়েছেন।

শেষে তিনি লেখেন, সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে না পারায় এখন পর্যন্ত আমরা নিখোঁজ ঘটনার প্রকৃত রহস্য বা বাস্তবতা উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হইনি। তবে প্রেমের সম্পর্ক প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে কোনো ধরনের অপরাধ প্রমাণিত হলে ভুক্তভোগীকে সব ধরনের আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।