জামায়াতে ইসলামী গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত রেজিমেন্টেড দল বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি রেজিমেন্টেড রাজনৈতিক দল। তাদের নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও আদর্শ রয়েছে এবং সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যেই তারা রাজনীতি করছে। তবে শরিয়াভিত্তিক ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার যে লক্ষ্য তারা ধারণ করে, তা বাংলাদেশের মানুষের চাওয়া বা দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে যায় না। বাংলাদেশের মানুষ উদারপন্থী রাজনীতি করতে চায়।
শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত জেলা বিএনপির বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
জুলাই সনদ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, জামায়াত অভিযোগ করেছে সরকার নাকি জুলাই সনদ মানেনি। অথচ সনদের প্রতিটি পাতায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে—কোন রাজনৈতিক দল কোন বিষয়ে একমত হয়েছে এবং কোন বিষয়ে হয়নি। নির্বাচনে বিজয়ী দল জনগণের ম্যান্ডেট অনুযায়ী সেসব বাস্তবায়ন করবে বলেও সেখানে উল্লেখ আছে। সব জায়গায় বলা আছে যে দল নির্বাচনে বিজয়ী হবে তাদের মেন্ডেট অনুযায়ী বাস্তবায়ন হবে।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, জনগণ বিএনপিকে যে ম্যান্ডেট দিয়েছে, নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার তা বাস্তবায়নে কাজ করছে। জুলাই সনদের প্রতিটি শর্তও সরকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করবে।
সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, সংসদে গঠিত সংবিধান সংশোধন কমিটিতে যোগ দিয়ে আলোচনার মাধ্যমে মতামত দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল জামায়াতকে। কিন্তু তারা সেই পথে না গিয়ে ১১ দলকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে কর্মসূচি বেছে নিয়েছে। তবে এসব কর্মসূচিতে জনগণের উল্লেখযোগ্য সমর্থন নেই বলেও দাবি করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, তারা বিভাগে বিভাগে মিটিং করেছেন, ঢাকায় মিটিং করেছেন। কিন্তু জনগণের কোনো সমর্থন তাদের মধ্যে নেই।
তিনি আরো বলেন, তারেক রহমান নির্বাচনের সময় যেসব ওয়াদা করেছেন তা অক্ষরে অক্ষরে পূরণ করছেন। এখন পর্যন্ত কোনো নির্বাচনে বিএনপি পরাজিত হয়নি, ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও কোনো নির্বাচনে বিএনপি পরাজিত হবে না।
বর্ধিতসভায় জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সাংগঠনিক কার্যক্রম, রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হয়।





