• ই-পেপার

উপজেলা নির্বাচন: ভোটে বিএনপির অনেকে অনড়, কেউ দোলাচলে

রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতায় বঞ্চিত কেন, জনপ্রতিনিধি হোক ভোটারদের সিদ্ধান্তে

বিশেষ প্রতিবেদক
রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতায় বঞ্চিত কেন, জনপ্রতিনিধি হোক ভোটারদের সিদ্ধান্তে
প্রতীকী ছবি

বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরুর সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচনী নীতিমালার বাইরেও একটি বিষয় আলোচনায় এসেছে। সরকারি কর্মচারী ও নিয়মিত রাজনৈতিক দলের সদস্যদের এই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ সীমিত করার দাবি তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

যদিও এই বক্তব্যের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের বোঝানো হয়েছে, তবু এই প্রস্তাব একটি বড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তা হলো—কোনো নাগরিকের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা কি তাকে নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি হওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারে?

একটি গণতান্ত্রিক সমাজকে অবশ্যই ব্যক্তির অপরাধ এবং সমষ্টিগত রাজনৈতিক অপরাধের মধ্যে স্পষ্ট রেখা টানতে হবে। এই দুটো এক নয়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন তাদের বিরুদ্ধে নির্বাচনে কারচুপি, রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অপব্যবহার, দুর্নীতি এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ নিয়ে সন্দেহের খুব বেশি অবকাশ নেই। যাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত এবং প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজন হলে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিচার হওয়া উচিত। জনসাধারণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য জবাবদিহি অত্যন্ত জরুরি।

কিন্তু কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত সবাইকে গণহারে শাস্তির আওতায় আনা সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি বিষয়। কোনো দলের প্রতি সমর্থন থাকা কোনো ফৌজদারি অপরাধ নয়। একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক পরিচয়ের জন্য নয়, বেআইনি কর্মকাণ্ডের জন্য শাস্তি দেওয়া হয়।

অন্যান্য দেশে উদ্ভূত এমন পরিস্থিতির পর্যবেক্ষণ এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবৈষম্যের অবসানের পর ন্যাশনাল পার্টির সাধারণ সমর্থকদের রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ করা হয়নি। ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশনের মতো ব্যবস্থার মাধ্যমে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা হয়েছিল, আর একই সময়ে গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতার পথও উন্মুক্ত রাখা হয়েছিল।

আগাস্তো পিনোশের সামরিক শাসনের অবসানের পর চিলিও একই ধরনের পথ অনুসরণ করেছিল। আগের শাসনব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত রাজনৈতিক ব্যক্তিরা নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন, আর তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী হবে, তা রাষ্ট্র নয়—জনগণের ওপরই ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।

১৯৯৮ সালে প্রেসিডেন্ট সুহার্তোর পতনের পর ইন্দোনেশিয়াও সবার অন্তর্ভুক্তির পথ বেছে নিয়েছিল। কর্তৃত্ববাদী শাসনের সঙ্গে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত দল গোলকারকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া থেকে নিষিদ্ধ করা হয়নি। প্রশাসনিকভাবে বাদ দেওয়ার পরিবর্তে জনসমর্থনের ওপর ভিত্তি করেই দলটির রাজনৈতিক প্রভাব কখনো বেড়েছে, কখনো কমেছে।

এর বিপরীত পর্যবেক্ষণও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ২০০৩ সালের পর ইরাকের ব্যাপক দে-বাথিফিকেশন নীতির কারণে সাদ্দাম হোসেনের বাথ পার্টির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে বিপুলসংখ্যক মানুষকে জনবিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল। ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের পর সাদ্দাম হোসেনের বাথ পার্টিকে নিষিদ্ধ করা, দলটির উচ্চপদস্থ সদস্যদের সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্ত করা এবং দেশটির সামরিক বাহিনী ভেঙে দেওয়ার এই সরকারি নীতি রাজনৈতিক বিভাজনকে আরো গভীর করেছে এবং স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ার প্রচেষ্টাকে জটিল করেছে বলে অনেক গবেষক ও নীতিনির্ধারক যুক্তি দিয়ে আসছেন।

এই পর্যবেক্ষণগুলো থেকে বাংলাদেশের সঠিক শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত। ন্যায়বিচার সবচেয়ে জোরালো হয় যখন তা অপরাধীদের ওপর প্রয়োগ করা হয়। স্থানীয় সরকার নির্বাচন যদি নির্দলীয় পদ্ধতিতে ফিরে আসে, তবে এই নীতিটি আরো বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। প্রার্থীরা দলীয় প্রতীকের পরিবর্তে প্রধানত তাদের ব্যক্তিগত খ্যাতি এবং স্থানীয় অবস্থানের ভিত্তিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এমন পরিস্থিতিতে অতীতের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণে ব্যক্তিদের বাদ দেওয়া শুধু নির্দলীয় নির্বাচনের লক্ষ্য বাস্তবায়ন কঠিন করবে না, বরং এই ধরনের নির্বাচনের মূল চেতনাকেও ক্ষুণ্ণ করবে।

ক্ষমতায় থাকাকালে আওয়ামী লীগ যদি সত্যিই জনগণের আস্থা হারিয়ে থাকে, তবে নির্বাচনের মাধ্যমেই তা প্রমাণ হওয়া উচিত। দলটির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত প্রার্থীরা জনসমর্থন পেতে ব্যর্থ হবেন। প্রশাসনিকভাবে বাদ দেওয়ার চেয়ে ভোটারদের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার গণতান্ত্রিক বৈধতা অনেক বেশি।

এখানে আরো একটি বৃহত্তর নীতি জড়িত রয়েছে। যে রাজনৈতিক শক্তিই আজকের প্রতিদ্বন্দ্বীকে বাদ দিতে চায়, তাদের মনে রাখা উচিত যে, আগামীকাল তারা নিজেরাই বিরোধী দলে থাকতে পারে। একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে চুপ করানোর জন্য তৈরি করা নিয়মগুলো খুব কমই তাদের মূল লক্ষ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।

বাংলাদেশ কয়েক দশক ধরে রাজনৈতিক বর্জনের চক্রে আবদ্ধ রয়েছে, যেখানে প্রতিটি বিজয়ী পক্ষ তাদের প্রতিপক্ষকে সংশোধনের অযোগ্য বলে গণ্য করে এসেছে। এই দৃষ্টিভঙ্গি স্থায়ী ন্যায়বিচার বা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা—কোনোটিই আনতে পারেনি।

দেশের জবাবদিহি প্রয়োজন। কিন্তু গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আস্থাও প্রয়োজন। যারা অপরাধ করেছে, তাদের স্বাধীন আদালতে জবাবদিহি করতে হবে। যারা কেবল রাজনৈতিক বিশ্বাস পোষণ করে, তাদের জবাবদিহি করতে হবে ভোটারদের কাছে।

শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগসহ যেকোনো রাজনৈতিক দলের ভবিষ্যৎ তার প্রতিদ্বন্দ্বী বা প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়া উচিত নয়। এই সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত আদালতে যথাযথ প্রমাণ এবং ব্যালট বাক্সে জনগণের ভোটের মাধ্যমে।

সদ্যবিদায়ি রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তার দাবি এনসিপির

অনলাইন ডেস্ক
সদ্যবিদায়ি রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তার দাবি এনসিপির

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সদ্য পদত্যাগ করা মো. সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যায় দলটির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান দলের সদস্যসচিব আখতার হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে আখতার হোসেন বলেন, ‘আমরা দাবি জানাচ্ছি যে, অবিলম্বে মো. সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তার করতে হবে এবং বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। আমরা দেখেছি, তিনি তার পদত্যাগপত্রে যে ন্যারেটিভ টেনেছেন সেগুলো আসলে অপ্রাসঙ্গিক। কিন্তু তারপরেও তিনি অসুস্থতার অজুহাতের কথা বললেও পদত্যাগপত্রের মধ্যে এমনভাবে তিনি ন্যারেটিভ সাজিয়েছেন, যেটা আসলে তার জন্য একটা সেফ এক্সিটের জায়গা তৈরি করতে পারে। কিন্তু এই সাহাবুদ্দিনকে সেফ এক্সিট দেওয়ার কোনো মানেই নেই। তিনি যত অপরাধ করেছেন, সেই অপরাধগুলোর জন্য তাকে অবশ্যই বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘এই সাহাবুদ্দিন একজন ফ্যাসিবাদের দোসর, একজন ফ্যাসিস্ট। তিনি যদি বিচারের আওতায় না আসেন, তাহলে ২৪-এর অভ্যুত্থানে যারা জীবন দিয়েছেন তাদের বিচার অপূর্ণাঙ্গ থেকে যাবে। এ কারণে আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই, এতদিন পর্যন্ত হয়তো তিনি রাষ্ট্রপতি পদে আসীন থাকার কারণে তার ব্যাপারে আইনগত কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি, কিন্তু পদত্যাগ করা মাত্রই তার ব্যাপারে আইনগত দায়মুক্তির কোনো জায়গা নেই। তার দায়মুক্তির আর কোনো বিধান নেই। এই অবস্থায় অনতিবিলম্বে, সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসার জন্য সরকারকে অবশ্যই উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।’

গণ-অভ্যুত্থানের কথা উল্লেখ করে আখতার বলেন, ‘তার রাষ্ট্রপতি পদে থাকা অবস্থায় গণহত্যা হয়েছে। সেটা থামানোর জন্য, বন্ধ করার জন্য তিনি তার পক্ষ থেকে পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। তিনি শেখ হাসিনার গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের সমর্থন দিয়ে গেছেন।’

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে যা বললেন জামায়াত আমির

অনলাইন ডেস্ক
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে যা বললেন জামায়াত আমির

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করায় দেরিতে হলেও জাতির ঘাড় থেকে স্বৈরাচারের একটি কালো ছায়া সরে গেল বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, তিনি কী কারণে পদত্যাগ করেছেন, সে বিষয়ে আমাদের কোনো আগ্রহ নেই। কারণ আমরা আগেই বিবেচনায় নিয়েছি যে তিনি রাষ্ট্রপতি পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাজধানীর মিন্টু রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে আয়োজিত রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বর্তমান স্পিকার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। আমরা তাকে অভিনন্দন জানাই এবং তাকে আশ্বস্ত করছি, তিনি যত দিন দায়িত্ব পালন করবেন, আমরা আশা করি ন্যায়নিষ্ঠ, নির্মোহ ও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। কারো প্রতি কোনো পক্ষপাতিত্ব করবেন না এবং রাষ্ট্রপতির মর্যাদা রক্ষা করবেন। একদিনের জন্যও যদি তিনি দায়িত্ব পালন করেন, তবু আমরা চাই তিনি একইভাবে দায়িত্ব পালন করুন। তিনি যদি এভাবে দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে আমরা তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব। আমরা অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির সুস্বাস্থ্য কামনা করি।

তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। যেহেতু এর মধ্যেই সংসদের অধিবেশন হওয়ার কথা রয়েছে, তাই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করি। সময় এলে আমাদের ভূমিকা কী হবে, তা আপনারা দেখতে পাবেন। বাংলাদেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাক, এটাই সবার প্রত্যাশা। সংবিধান অনুযায়ী তিনি অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হওয়ায় ডেপুটি স্পিকার স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার হিসেবে শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়েই এ সাংবিধানিক দায়িত্বের বিষয়টি সম্পন্ন হয়েছে। তাই এখানে কোনো সাংবিধানিক সংকট তৈরি হওয়ার কথা নয়। আমরা চাই কোনো সংকট তৈরি না হোক। তবে জনগণের যে মৌলিক প্রত্যাশা, একটি পরিবর্তিত বাংলাদেশ। সেদিকে নবগঠিত সংসদ এখনো এগোয়নি। আমরা সংসদের ভেতরে ও বাইরে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রাখব।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যদি তার বিরুদ্ধে কোনো বিশ্বাসযোগ্য (ক্রেডিবল) আলামত পাওয়া যায়, তাহলে কোনো ব্যক্তিই আইনের ঊর্ধ্বে নন। বিষয়টি বিবেচনা করেই আমরা আমাদের পদক্ষেপ ঠিক করব, ইনশাআল্লাহ।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় হবে। যিনি প্রার্থী হবেন, তার প্রস্তাবক, সমর্থক ও সম্মতি থাকবে। একাধিক প্রার্থী হলে সংসদে ভোটাভুটির মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটপ্রাপ্ত ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। আমরা রাষ্ট্রপতির মর্যাদা রক্ষা করতে পারে এমন রাষ্ট্রপতি চাই, কোনো তোষামোদকারী নয়। আমরা যে সংস্কারের কথা বলছি, তা তোষামোদের সংস্কৃতি শেষ করার জন্যই। যার যার অবস্থানে সবাই মর্যাদার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন, অন্য কারো নির্দেশে নয়; নীতি মেনে চলবেন। রাষ্ট্রপতিও রাষ্ট্রের নীতি অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবেন, অন্য কারো কাছে নিজের বিবেক সমর্পণ করবেন না, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আজকে তার বক্তব্যে জেনেছি, তিনি গুরুতর অসুস্থ, মাঝে মধ্যে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এ কারণে তিনি দেশের বাইরে গিয়ে চিকিৎসা নিতে ও বিশ্রামে থাকতে চান। বিষয়টি সরকার দেখবে, আমরাও খেয়াল রাখব। তবে আমি মনে করি, সব ধরনের চিকিৎসাই দেশে সম্ভব। আমার নিজেরও একটি জটিল রোগ হয়েছিল, চিকিৎসকেরা বিদেশে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন, কিন্তু আমি যাইনি। এখানেই চিকিৎসা নিয়েছি। আমি চাই সবাই দেশেই চিকিৎসা নিক। প্রয়োজনে বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আনা যেতে পারে।

তিনি আরো বলেন, তার দায়ভার আছে, তিনি তা অস্বীকার করতে পারেন না। অভিভাবক হিসেবে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। গণহত্যার বিরুদ্ধে তিনি একটি কথাও বলেননি, ‘এটা থামাও’, ‘এটা অন্যায়’, ‘জনগণের ওপর জুলুম’ এ ধরনের কোনো বক্তব্য আমরা তার মুখে শুনিনি। নীরবে তিনি সমর্থন দিয়েছেন।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি শুধু তার ক্ষেত্রেই নয়, সবার ক্ষেত্রেই চাই রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, যেই হোন না কেন, সবাই যেন দেশের ভেতরেই চিকিৎসা নেন। নির্বাচিত ব্যক্তিরা যদি সবাই বিদেশে চলে যান, তাহলে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা উন্নত হবে কিভাবে? দেশের চিকিৎসকেরা আস্থা ফিরে পাবেন কিভাবে? তারা তাদের কর্তব্য বুঝবেন কিভাবে? তাই আমাদের সবারই দেশে চিকিৎসা নেওয়া উচিত।

এনসিপির জুলাই যুব কনভেনশন-২০২৬ শুরু

অনলাইন ডেস্ক
এনসিপির জুলাই যুব কনভেনশন-২০২৬ শুরু

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুব সংগঠন জাতীয় যুবশক্তির আয়োজনে ‘জুলাই যুব কনভেনশন-২০২৬’ শুরু হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল ৪টায় রাজধানীর রমনায় দ্য ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে এই কনভেনশন শুরু হয়।

কনভেনশনে প্রধান অতিথি হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও জাতীয় সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, বিশেষ অতিথি হিসেবে দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া উপস্থিত থাকবেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম। সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেল।

উপজেলা নির্বাচন: ভোটে বিএনপির অনেকে অনড়, কেউ দোলাচলে | কালের কণ্ঠ