• ই-পেপার

মহানবী (সা.)-কে কোরআনের যে সুরা উপহার দেওয়া হয়েছিল

হাদিসের বাণী

যে হাদিস মুসলিম জীবনের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা

ইসলামী জীবন ডেস্ক
যে হাদিস মুসলিম জীবনের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা
সংগৃহীত ছবি

বিশিষ্ট সাহাবি হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বর্ণনা করেন, একদিন আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সান্নিধ্যে উপস্থিত ছিলাম। এমন সময় এক ব্যক্তি আমাদের সামনে এসে উপস্থিত হলেন। তাঁর পরনে ছিল অত্যন্ত সাদা-পরিচ্ছন্ন পোশাক, মাথার চুল ছিল ঘন কালো। অথচ তাঁর মধ্যে সফরের কোনো চিহ্ন দেখা যাচ্ছিল না এবং উপস্থিত সাহাবিদের কেউই তাঁকে চিনতে পারছিলেন না।

তিনি মহানবী (সা.)-এর একেবারে নিকটে এসে বসলেন। নিজের দুই হাঁটু নবীজি (সা.)-এর দুই হাঁটুর সঙ্গে মিলিয়ে দিলেন এবং দুই হাত তাঁর ঊরুর ওপর রেখে অত্যন্ত ভদ্র ও মনোযোগী ভঙ্গিতে বললেন, ‘হে মুহাম্মদ! আমাকে ইসলাম সম্পর্কে জানান।’ রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ইসলাম হলো—তুমি সাক্ষ্য দেবে যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল। তুমি সালাত প্রতিষ্ঠা করবে, জাকাত আদায় করবে, রমজানের রোজা পালন করবে এবং সামর্থ্য থাকলে বায়তুল্লাহর হজ সম্পন্ন করবে।’

লোকটি বললেন, ‘আপনি সত্য বলেছেন।’ ওমর (রা.) বলেন, আমরা বিস্মিত হলাম—তিনি নিজেই প্রশ্ন করছেন, আবার তিনিই উত্তরের সত্যতাও স্বীকার করছেন! এরপর তিনি বললেন, ‘আমাকে ঈমান সম্পর্কে জানান।’ রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘ঈমান হলো—আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, তাঁর রাসুলদের প্রতি, আখিরাতের প্রতি এবং তাকদিরের ভালো-মন্দ—সব কিছু আল্লাহর পক্ষ থেকে—এর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা।’

তিনি আবার বললেন, ‘আপনি সত্য বলেছেন।’ এরপর তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আমাকে ইহসান সম্পর্কে জানান।’ রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘ইহসান হলো—তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে যেন তুমি তাঁকে দেখছ। আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পারো, তবে অন্তত এ বিশ্বাস রাখবে যে তিনি অবশ্যই তোমাকে দেখছেন।’ পরে তিনি প্রশ্ন করলেন, ‘আমাকে কিয়ামত সম্পর্কে জানান।’ রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘এ বিষয়ে যাকে প্রশ্ন করা হয়েছে, সে প্রশ্নকারীর চেয়ে বেশি জানে না।’

অতঃপর তিনি বললেন, ‘তাহলে কিয়ামতের কিছু আলামত সম্পর্কে জানান।’ রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘দাসী তার প্রভুর জননী হবে এবং তুমি দেখতে পাবে—খালি পায়ে চলা, অর্ধনগ্ন, দরিদ্র মেষপালকেরা সুউচ্চ অট্টালিকা নির্মাণে একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে। এরপর লোকটি চলে গেলেন। ওমর (রা.) বলেন, আমি কিছুক্ষণ সেখানে অবস্থান করলাম। পরে রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে ওমর! তুমি কি জানো, প্রশ্নকারী ব্যক্তি কে ছিলেন?’ আমি বললাম, ‘আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই সর্বাধিক অবগত।’ তখন তিনি বললেন, ‘তিনি ছিলেন জিবরাইল (আ.)। তিনি তোমাদের কাছে তোমাদের দ্বিন শিক্ষা দিতে এসেছিলেন।’ (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)

শিক্ষা
এই বিশেষ হাদিসটি ‘হাদিসে জিবরাইল’ নামে প্রসিদ্ধ। এতে ইসলামের তিনটি মৌলিক ভিত্তি—ইসলাম, ঈমান ও ইহসান—অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত অথচ পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণিত হয়েছে। পাশাপাশি কিয়ামত সম্পর্কে মানুষের সীমিত জ্ঞানের কথা এবং তার কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলামতও তুলে ধরা হয়েছে। তাই আলেমরা এই হাদিসকে ইসলামের অন্যতম ভিত্তিমূলক হাদিস হিসেবে গণ্য করেছেন।
 

অফুরন্ত রিজিক লাভে যে সুরা নিয়মিত পড়বেন

মুফতি ওমর বিন নাছির
অফুরন্ত রিজিক লাভে যে সুরা নিয়মিত পড়বেন
সংগৃহীত ছবি

রিজিক মানুষের জীবনের অন্যতম মৌলিক প্রয়োজন। জীবিকার সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা আজ বহু মানুষকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। অভাব কখনো মানুষকে হতাশ করে, কখনো ভুল পথে পরিচালিত করে। অথচ একজন মুমিন জানেন, রিজিকের মালিক একমাত্র আল্লাহ তাআলা। তিনি যাকে ইচ্ছা অগণিত রিজিক দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা পরীক্ষা হিসেবে রিজিক সংকুচিত করেন। তাই প্রকৃত মুমিন রিজিকের জন্য হারাম পথ অবলম্বন না করে আল্লাহর দরবারে ফিরে যায়, দোয়া করে, ইস্তিগফার করে এবং কোরআন-সুন্নাহর শিক্ষা অনুযায়ী আমল করে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর পৃথিবীতে বিচরণকারী এমন কোনো প্রাণী নেই, যার রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহর ওপর নেই।’ (সুরা : হুদ, আয়াত : ৬)

আল্লাহ তাআলা আরো বলেন, যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য উত্তরণের পথ করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না।’ (সুরা : তালাক, আয়াত : ২–৩)
এই আয়াতগুলো স্পষ্টভাবে শিক্ষা দেয় যে, রিজিকের নিশ্চয়তা আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে। তাই তাঁর ওপর ভরসা করা এবং তাঁর নির্দেশিত পথে চলাই একজন মুমিনের কর্তব্য।

সুরা ওয়াকিয়া পাঠের ফজিলত
বিশিষ্ট সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতি রাতে সুরা ওয়াকিয়া তিলাওয়াত করবে, তাকে কখনো দারিদ্র্য স্পর্শ করবে না।’ (ইমাম বাইহাকি, শুআবুল ঈমান, হাদিস: ২৪৯৮)

ইবনে মাসউদ (রা.)-এর শিক্ষণীয় ঘটনা
হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) মৃত্যুশয্যায় ছিলেন। তখন খলিফা হজরত উসমান (রা.) তাঁকে দেখতে যান এবং জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনার কি কোনো কষ্ট?’ তিনি উত্তর দেন, ‘আমার পাপই আমার কষ্ট।’ উসমান (রা.) বললেন, ‘আপনি কী চান? তিনি বললেন, "আমি আমার রবের রহমত চাই।’ খলিফা উসমান (রা.) সরকারি কোষাগার থেকে সাহায্যের প্রস্তাব দিলে তিনি তা গ্রহণ করেননি। যখন বলা হলো, ‘এটি আপনার কন্যাদের উপকারে আসবে’, তখন তিনি উত্তর দিলেন, ‘আমি আমার কন্যাদের নিয়ে চিন্তিত নই। কারণ আমি তাদের নির্দেশ দিয়েছি, তারা যেন প্রতি রাতে সুরা ওয়াকিয়া তিলাওয়াত করে। আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি প্রতি রাতে সুরা ওয়াকিয়া পাঠ করবে, সে দারিদ্র্যে পতিত হবে না।’ (শুআবুল ঈমান, হাদিস: ২৪৯৮, তাফসিরে মাআরিফুল কুরআন)

সন্তানদের সুরা ওয়াকিয়া শিক্ষা দেওয়া
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সুরা ওয়াকিয়া প্রাচুর্যের সুরা। অতএব তোমরা এটি পাঠ করো এবং তোমাদের সন্তানদেরও শিক্ষা দাও।’ (আদ-দুররুল মানসুর, খণ্ড: ১৪, পৃষ্ঠা: ১৭৩)

সুরা ওয়াকিয়ার মূল শিক্ষা
সুরা ওয়াকিয়া শুধু দারিদ্র্য থেকে মুক্তির সুরা নয়; বরং এটি মানুষের সামনে আখিরাতের বাস্তবতা, কিয়ামতের ভয়াবহতা, জান্নাতিদের পুরস্কার, জাহান্নামিদের শাস্তি এবং আল্লাহর অসীম কুদরতের বর্ণনা তুলে ধরে। এ সুরা মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয়— প্রকৃত সফলতা কেবল দুনিয়ার সম্পদে নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে।

রিজিক বরকত লাভে করণীয়
রিজিকে বরকত লাভের জন্য সুরা ওয়াকিয়াহ তিলাওয়াতের পাশাপাশি আমাদের গুরুত্বপূর্ণ আরো করণীয় হলো-

১. নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা।
২. বেশি বেশি ইস্তিগফার পাঠ করা।
৩. হালাল উপার্জনে সচেষ্ট হওয়া।
৪. আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা।
৫. দান-সদকা করা।
৬. প্রতিদিন কোরআন তিলাওয়াত করা, বিশেষ করে সুরা ওয়াকিয়া পাঠের অভ্যাস গড়ে তোলা।
৭. সর্বাবস্থায় আল্লাহর ওপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল রাখা।

মনে রাখতে হবে, রিজিকের প্রকৃত নিশ্চয়তা একমাত্র আল্লাহ তাআলার হাতে। কোরআন তিলাওয়াত, তাকওয়া, ইস্তিগফার, হালাল উপার্জন এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসাই একজন মুমিনের জীবনে রিজিকে বরকত ও প্রশান্তির প্রকৃত চাবিকাঠি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে কোরআনের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলার এবং হালাল ও বরকতময় রিজিক অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন।

রাসুলের পরে শ্রেষ্ঠ যারা

মুফতি ওমর বিন নাছির
রাসুলের পরে শ্রেষ্ঠ যারা
সংগৃহীত ছবি

ইসলামের ইতিহাসে এমন এক সৌভাগ্যবান প্রজন্মের আবির্ভাব ঘটেছিল, যারা সরাসরি মহানবী (সা.)-এর সান্নিধ্য লাভ করেছিলেন। তাঁরা নবীর শিক্ষা, আদর্শ ও চরিত্রকে নিজেদের জীবনে ধারণ করে ইসলামের আলো পৃথিবীর সর্বত্র ছড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁদের ঈমান, ত্যাগ, ইবাদত, জ্ঞান, ন্যায়পরায়ণতা এবং আল্লাহর পথে আত্মোৎসর্গ মুসলিম উম্মাহর জন্য চিরন্তন আদর্শ। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে তাঁদের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের বহু ঘোষণা এসেছে। তাই সাহাবায়ে কেরামের জীবন জানা এবং তাঁদের অনুসরণ করা প্রতিটি মুসলমানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

সাহাবি কারা?
'সাহাবি' শব্দটি আরবি ‘সাহাবা’ থেকে এসেছে। এর আভিধানিক অর্থ—সঙ্গী, সহচর, বন্ধু বা সাহচর্যে অবস্থানকারী। ইসলামি পরিভাষায়, যিনি ঈমানসহ মহানবী (সা.)-এর সাক্ষাৎ লাভ করেছেন এবং ইসলামের ওপর অবিচল থেকে মৃত্যুবরণ করেছেন, তিনিই সাহাবি। এ সংজ্ঞাই হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ আল-ইসাবা ফি তাময়িজিস সাহাবা-এ উল্লেখ করেছেন। 

জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশ সাহাবি
রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর জীবদ্দশায় দশজন সাহাবিকে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছিলেন। তাঁরা ইতিহাসে আশারায়ে মুবাশশারা নামে পরিচিত। তারা হলেন-

১. আবু বকর সিদ্দিক (রা.)
পূর্ণ নাম আবদুল্লাহ ইবনে আবি কুহাফা। তিনি সর্বপ্রথম প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের মধ্যে ইসলাম গ্রহণকারীদের অন্যতম এবং ইসলামের প্রথম খলিফা। মিরাজের ঘটনাকে নিঃসংশয়ে সত্য বলে বিশ্বাস করায় তিনি 'সিদ্দিক' উপাধিতে ভূষিত হন। তিনি উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.)-এর পিতা এবং মৃত্যুর পর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পাশে সমাহিত হওয়ার বিরল সৌভাগ্য লাভ করেন।

২. ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)
তিনি ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা এবং ন্যায়বিচারের উজ্জ্বল প্রতীক। সত্য ও মিথ্যার পার্থক্যকারী হিসেবে তিনি 'ফারুক' উপাধি লাভ করেন। তাঁর শাসনামলে ইসলামী রাষ্ট্র অভূতপূর্ব বিস্তার লাভ করে। তিনি উম্মুল মুমিনিন হাফসা (রা.)-এর পিতা।

৩. উসমান ইবনে আফফান (রা.)
ইসলামের তৃতীয় খলিফা। তিনি রাসুল (সা.)-এর দুই কন্যা—রুকাইয়া (রা.) ও পরে উম্মে কুলসুম (রা.)-কে বিবাহ করার সৌভাগ্য অর্জন করেন। এজন্য তিনি 'জুন-নুরাইন' (দুই নূরের অধিকারী) নামে পরিচিত। তাঁর যুগে পবিত্র কোরআন একক মুসহাফে সংকলিত ও সংরক্ষিত হয়।

৪. আলী ইবনে আবি তালিব (রা.)
রাসুল (সা.)-এর চাচাতো ভাই, জামাতা এবং চতুর্থ খলিফা। তিনি শৈশবেই ইসলাম গ্রহণ করেন এবং সাহস, জ্ঞান ও প্রজ্ঞার জন্য সমগ্র মুসলিম বিশ্বে সমাদৃত।

৫. তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ (রা.)
প্রথম যুগের ইসলাম গ্রহণকারীদের অন্যতম। উহুদের যুদ্ধে রাসুল (সা.)-কে রক্ষা করতে গিয়ে অসাধারণ বীরত্ব প্রদর্শন করেন।

৬. জুবাইর ইবনুল আওয়াম (রা.)
রাসুল (সা.)-এর ফুফাতো ভাই এবং হাওয়ারি (বিশেষ সাহায্যকারী) হিসেবে পরিচিত। ইসলাম গ্রহণের পর কঠোর নির্যাতন সহ্য করেও তিনি ঈমানে অটল ছিলেন।

৭. আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.)
অসাধারণ সফল ব্যবসায়ী এবং ইসলামের অন্যতম মহান দানশীল ব্যক্তি। তিনি ইসলামের জন্য বিপুল সম্পদ ব্যয় করেছেন।

৮. সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)
তিনি ছিলেন ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বীর সেনাপতি। তাঁর নেতৃত্বে কাদিসিয়ার ঐতিহাসিক যুদ্ধে পারস্য সাম্রাজ্য পরাজিত হয়।

৯. সাঈদ ইবনে জায়িদ (রা.)
তিনি প্রাথমিক যুগের মুসলমানদের একজন এবং খলিফা ওমর (রা.)-এর ভগ্নিপতি ছিলেন। তাঁর জীবন ঈমান ও ত্যাগের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

১০. আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ (রা.)
রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে 'এই উম্মতের আমিন' (বিশ্বস্ত ব্যক্তি) বলে অভিহিত করেছিলেন। তিনি ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সেনাপতি ছিলেন।

সর্বাধিক হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবিগণ
সাহাবায়ে কেরাম শুধু ইসলামের প্রচারই করেননি; তাঁরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস সংরক্ষণেও অমূল্য অবদান রেখেছেন।

১. আবু হুরাইরা (রা.) — ৫,৩৭৪টি হাদিস বর্ণনা করেছেন।
২. উম্মুল মুমিনিন আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) — ২,২১০টি হাদিস বর্ণনা করেছেন।
৩. আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) — ১,৬৬০টি হাদিস বর্ণনা করেছেন। 
৪. আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) — ১,৬৩০টি হাদিস বর্ণনা করেছেন।
৫. জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) — ১,৫৪০টি হাদিস বর্ণনা করেছেন।।

তাঁদের বর্ণিত হাদিসের মাধ্যমেই আজ মুসলিম উম্মাহ রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর জীবন, ইবাদত, আখলাক ও সুন্নাহ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করেছে।

সাহাবায়ে কেরাম ছিলেন মানবজাতির সর্বোত্তম প্রজন্ম। তাঁরা নিজেদের জীবন, সম্পদ ও সর্বস্ব আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর সন্তুষ্টির জন্য উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁদের ঈমান ছিল পাহাড়সম দৃঢ়, চরিত্র ছিল নির্মল এবং জীবন ছিল কোরআন ও সুন্নাহর বাস্তব প্রতিচ্ছবি। বর্তমান যুগের মুসলমান যদি ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে সফল হতে চায়, তবে সাহাবায়ে কেরামের জীবনাদর্শ অনুসরণ করার বিকল্প নেই। তাঁদের ভালোবাসা, তাঁদের মর্যাদা রক্ষা এবং তাঁদের আদর্শকে জীবনে ধারণ করাই একজন মুমিনের ঈমানের দাবি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সাহাবায়ে কেরামের পথ অনুসরণ করে ঈমানের সঙ্গে জীবন অতিবাহিত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সংকটময় জীবন থেকে পরিত্রাণের দোয়া

ইসলামী জীবন ডেস্ক
সংকটময় জীবন থেকে পরিত্রাণের দোয়া
সংগৃহীত ছবি

মানুষের জীবনে দুঃখ, দুশ্চিন্তা, হতাশা, অলসতা, ঋণের বোঝা এবং মানুষের অন্যায় আচরণ—এসব যেন নিত্যসঙ্গী। কখনো পারিবারিক সমস্যা, কখনো আর্থিক সংকট, কখনো ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা মানুষের হৃদয়কে ভারাক্রান্ত করে তোলে। এমন কঠিন সময়ে একজন মুমিনের সবচেয়ে বড় আশ্রয় আল্লাহ তাআলা। তাই রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর উম্মতকে এমন একটি মহামূল্যবান দোয়া শিখিয়েছেন, যা মানুষের অন্তরের অস্থিরতা দূর করে আল্লাহর সাহায্য ও নিরাপত্তা কামনার এক অনন্য মাধ্যম। দোয়াটি হলো—

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ، وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ، وَالْبُخْلِ وَالْجُبْنِ، وَضَلَعِ الدَّيْنِ، وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজু বিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হুজনি ওয়াল আজযি ওয়াল কাসালি ওয়াল বুখলি ওয়াল জুবুনি ওয়া দালায়িদ দাইনি ওয়া গলাবাতির রিজালি।
 
অনুবাদ : হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট দুঃখ ও দুশ্চিন্তা থেকে, অপারগতা-অলসতা থেকে, কৃপণতা এবং কাপুরুষতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। অধিক ঋণ থেকে ও খারাপ লোকের জবরদস্তি থেকেও আশ্রয় চাচ্ছি। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ২৮৯৩)
 

সর্বশেষ সংবাদ
মহানবী (সা.)-কে কোরআনের যে সুরা উপহার দেওয়া হয়েছিল | কালের কণ্ঠ