সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আমরা একসঙ্গে ছয় জন মহানবী (সা.)-এর দরবারে বসা ছিলাম। তখন মুশরিকরা মহানবী (সা.)-কে বলল, তাদেরকে আপনি আপনার মজলিস থেকে বের করুন, যাতে তারা আমাদের ব্যাপারে কোনো দুঃসাহস না দেখাতে পারে। সাদ (রা.) বলেন, সেখানে আমি, ইবনে মাসউদ, হুজাইল গোত্রের এক ব্যক্তি, বিলাল এবং আরও দুজন লোক ছিলাম, যাদের নাম নিচ্ছি না। তাই মহানবী (সা.)-এর অন্তরে যা ইচ্ছা উদ্রেক হলো যে, তিনি মনে-মনে (আমাদের সরানোর কথা) ভাবছিলেন। তখন আল্লাহ তাআলা এই আয়াত নাজিল করলেন, ‘যারা তাদের রবকে সকাল-সন্ধ্যায় তাঁর সন্তুষ্টি লাভের জন্য ডাকে, আপনি তাদের তাড়িয়ে দেবেন না।’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ৫২, সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ৬২৪১)
হাদিসের শিক্ষাসমূহ
১. মানুষের মর্যাদার ভিত্তি হলো ঈমান ও তাকওয়া, ধন-সম্পদ, বংশ বা সামাজিক মর্যাদা নয়।
২. দরিদ্র ও দুর্বল মুমিনদের অবহেলা করা বা তুচ্ছ মনে করা ইসলামের শিক্ষা নয়।
৩. যারা সকাল-সন্ধ্যা আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তাঁর সন্তুষ্টি কামনা করে, তারা আল্লাহর প্রিয় বান্দা।
৪. দ্বীনের দাওয়াতে ধনীদের সন্তুষ্টির জন্য নীতির সঙ্গে আপস করা যাবে না।
৫. ইসলামে সকল মানুষ সমান। ধনী-গরিব, সাদা-কালো, আরব-অনারব—সবার মর্যাদা তাকওয়ার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়।
৬. দাওয়াতের ক্ষেত্রে ন্যায়নীতি ও আদর্শ বিসর্জন দেওয়া যাবে না, যদিও এতে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা অসন্তুষ্ট হয়।
৭. সাহাবায়ে কিরাম ছিলেন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিতপ্রাণ। তাঁদের দারিদ্র্য তাঁদের মর্যাদা কমাতে পারেনি।
৮. কোরআনের আয়াত অনেক সময় নির্দিষ্ট ঘটনার প্রেক্ষিতে নাজিল হলেও, তার শিক্ষা সর্বকালের সব মুসলিমের জন্য প্রযোজ্য।
অতএব, কোনো মুমিনকে তার আর্থিক অবস্থা, সামাজিক অবস্থান বা বাহ্যিক পরিচয়ের কারণে কখনোই ছোট করে দেখা বা অবজ্ঞা করা উচিত নয়। কেননা ইসলামে সম্মান ও শ্রেষ্ঠত্বের একমাত্র মানদণ্ড হলো তাকওয়া।






