• ই-পেপার

সিরাত-কথন

নবীজির আতিথেয়তার সঙ্গে থাকত শিক্ষা ও উপদেশ

  • মো. আবদুল মজিদ মোল্লা

হাদিসের বাণী

আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের অবজ্ঞা করা নিন্দনীয়

ইসলামী জীবন ডেস্ক
আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের অবজ্ঞা করা নিন্দনীয়
সংগৃহীত ছবি

সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আমরা একসঙ্গে ছয় জন মহানবী (সা.)-এর দরবারে বসা ছিলাম। তখন মুশরিকরা মহানবী (সা.)-কে বলল, তাদেরকে আপনি আপনার মজলিস থেকে বের করুন, যাতে তারা আমাদের ব্যাপারে কোনো দুঃসাহস না দেখাতে পারে। সাদ (রা.) বলেন, সেখানে আমি, ইবনে মাসউদ, হুজাইল গোত্রের এক ব্যক্তি, বিলাল এবং আরও দুজন লোক ছিলাম, যাদের নাম নিচ্ছি না। তাই মহানবী (সা.)-এর অন্তরে যা ইচ্ছা উদ্রেক হলো যে, তিনি মনে-মনে (আমাদের সরানোর কথা) ভাবছিলেন। তখন আল্লাহ তাআলা এই আয়াত নাজিল করলেন, ‘যারা তাদের রবকে সকাল-সন্ধ্যায় তাঁর সন্তুষ্টি লাভের জন্য ডাকে, আপনি তাদের তাড়িয়ে দেবেন না।’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ৫২, সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ৬২৪১)

হাদিসের শিক্ষাসমূহ

১. মানুষের মর্যাদার ভিত্তি হলো ঈমান ও তাকওয়া, ধন-সম্পদ, বংশ বা সামাজিক মর্যাদা নয়।
২. দরিদ্র ও দুর্বল মুমিনদের অবহেলা করা বা তুচ্ছ মনে করা ইসলামের শিক্ষা নয়।
৩. যারা সকাল-সন্ধ্যা আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তাঁর সন্তুষ্টি কামনা করে, তারা আল্লাহর প্রিয় বান্দা।
৪. দ্বীনের দাওয়াতে ধনীদের সন্তুষ্টির জন্য নীতির সঙ্গে আপস করা যাবে না।
৫. ইসলামে সকল মানুষ সমান। ধনী-গরিব, সাদা-কালো, আরব-অনারব—সবার মর্যাদা তাকওয়ার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়।
৬. দাওয়াতের ক্ষেত্রে ন্যায়নীতি ও আদর্শ বিসর্জন দেওয়া যাবে না, যদিও এতে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা অসন্তুষ্ট হয়।
৭. সাহাবায়ে কিরাম ছিলেন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিতপ্রাণ। তাঁদের দারিদ্র্য তাঁদের মর্যাদা কমাতে পারেনি।
৮. কোরআনের আয়াত অনেক সময় নির্দিষ্ট ঘটনার প্রেক্ষিতে নাজিল হলেও, তার শিক্ষা সর্বকালের সব মুসলিমের জন্য প্রযোজ্য।

অতএব, কোনো মুমিনকে তার আর্থিক অবস্থা, সামাজিক অবস্থান বা বাহ্যিক পরিচয়ের কারণে কখনোই ছোট করে দেখা বা অবজ্ঞা করা উচিত নয়। কেননা ইসলামে সম্মান ও শ্রেষ্ঠত্বের একমাত্র মানদণ্ড হলো তাকওয়া।

ভূমিকম্প বৃদ্ধি বিশ্ববাসীর জন্য সতর্কবার্তা

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা
ভূমিকম্প বৃদ্ধি বিশ্ববাসীর জন্য সতর্কবার্তা

পৃথিবীতে সংঘটিত প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর মধ্যে ভূমিকম্প অন্যতম ভয়াবহ। মুহূর্তের মধ্যেই এটি জনপদ ধ্বংস করে দিতে পারে, হাজারো মানুষের জীবন বিপন্ন করতে পারে এবং মানুষের অসহায়ত্বকে প্রকট করে তোলে।

ইসলাম ভূমিকম্পকে শুধু একটি প্রাকৃতিক ঘটনা হিসেবে নয়, বরং আল্লাহ তাআলার মহাশক্তির নিদর্শন এবং মানুষের জন্য শিক্ষা ও সতর্কবার্তা হিসেবেও বিবেচনা করে। মানুষ যত উন্নত প্রযুক্তির মালিক হোক না কেন, মহান আল্লাহ তাআলার শাস্তির সামনে তারা অসহায়। যেমন—উন্নত দেশগুলোতেও কখনো ভূমিকম্প দেখা দিলে তাদের উন্নত দালানকোঠাসহ মাটিতে ধসে যেতে দেখা যায়। তখন অসহায় মানুষগুলোর কাছে আল্লাহর দয়া ছাড়া আর কোনো প্রযুক্তিরই কোনো অর্থ থাকে না।

মানুষের এই দুর্বলতা ও অসহায়ত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিতে গিয়ে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা কি তোমাদের নিরাপদ মনে করে নিয়েছ যে যিনি আকাশে আছেন তিনি তোমাদের জমিনে বিধ্বস্ত করে দেবেন না, যখন তা হঠাৎ থরথর করে কাঁপতে থাকবে?’ (সুরা : মুলক, আয়াত : ১৬)

এই আয়াত আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে পৃথিবীর স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা একমাত্র আল্লাহর ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। এগুলো আল্লাহর প্রবল শক্তির নিদর্শন। যে নিদর্শন দিয়ে অতীতে বহু জাতিকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। আবার কখনো কখনো স্রেফ সতর্ক করা হয়েছে।

বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মহান আল্লাহ এসব নিদর্শন দিয়ে তাঁর বান্দাদের সতর্ক করেন, যাতে তারা তাদের পাপের পথ থেকে ফিরে আসে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘মানুষের কৃতকর্মের দরুন স্থলে ও সমুদ্রে ফাসাদ প্রকাশ পায়। যার ফলে আল্লাহ তাদের কতিপয় কৃতকর্মের স্বাদ তাদেরকে আস্বাদন করান, যাতে তারা ফিরে আসে।’ (সুরা : রুম, আয়াত : ৪১)

এই আয়াত দ্বারা বোঝা যায়, প্রাকৃতিক বিপর্যয় কখনো কখনো সতর্ক করার জন্য পাঠানো হয়, যাতে তারা নিজেদের ভুলত্রুটি উপলব্ধি করে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে। তবে কোনো নির্দিষ্ট ভূমিকম্প কিংবা অন্য প্রাকৃতিক দুর্যোগকে নিশ্চিতভাবে আল্লাহর শাস্তি বলার সুযোগ নেই।

কারণ কোনো দুর্যোগ কারো জন্য পরীক্ষা, কারো জন্য সতর্কবার্তা এবং কারো জন্য মর্যাদা বৃদ্ধির কারণও হতে পারে। কাকে কোন উদ্দেশ্যে দিয়েছেন, সেটা একমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন। তবে ভূমিকম্পের প্রবণতা বেড়ে যাওয়াকে হাদিস শরিফে কিয়ামতের পূর্বাভাস বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামত কায়েম হবে না, যে পর্যন্ত না ইলম (জ্ঞান) উঠিয়ে নেওয়া হবে, অধিক পরিমাণে ভূমিকম্প হবে, সময় সংকুচিত হয়ে আসবে, ফিতনা প্রকাশ পাবে এবং হারজ বৃদ্ধি পাবে। হারজ মানে হলো খুনখারাবি। তোমাদের ধনসম্পদ এত বৃদ্ধি পাবে যে উপচে পড়বে।’ (বুখারি, হাদিস : ১০৩৬)

তাই মুমিনের উচিত, সর্বাবস্থায় আল্লাহর কাছে তাওবা-ইস্তিগফার করা। বিশেষ করে ভূমিকম্প বা অন্য কোনো দুর্যোগ দেখা দিলে, দ্রুত আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করা। নিজেদের গুনাহ থেকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করা। কারণ গুনাহ আল্লাহকে ক্রোধান্বিত করে আর তাওবা আল্লাহর রহমত লাভে সহায়তা করে। মানুষ আল্লাহর দয়া ও রহমত ছাড়া অসহায়। 

আজকের নামাজের সময়সূচি, ২৭ জুন ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক
আজকের নামাজের সময়সূচি, ২৭ জুন ২০২৬

আজ শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩, ১১ মহররম, ১৪৪৮।

ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ—

জোহরের সময় শুরু ১২টা ০৫ মিনিটে।

আসরের সময় শুরু ৪টা ৪১ মিনিটে।

মাগরিব ৬টা ৫৩ মিনিটে।

এশার সময় শুরু ৮টা ২০ মিনিটে।

আগামীকাল ফজর শুরু ৩টা ৪৯ মিনিটে 

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ৬টা ৪৯ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ৫টা ১২ মিনিটে।

সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।

জুমার দিন সুরা কাহাফ মিস হলে করণীয়

মুফতি ওমর বিন নাছির
জুমার দিন সুরা কাহাফ মিস হলে করণীয়
সংগৃহীত ছবি

আল্লাহ তাআলা মানুষের হেদায়াতের জন্য পবিত্র কোরআন নাজিল করেছেন। কোরআনের প্রতিটি সুরা, প্রতিটি আয়াতই মুমিনের জন্য রহমত, নুর ও কল্যাণের উৎস। তবে কিছু সুরা বিশেষ সময়ে তেলাওয়াত করার জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) বিশেষভাবে উৎসাহ দিয়েছেন। তন্মধ্যে অন্যতম হলো সুরা আল-কাহাফ, যা জুমার দিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত আমল। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই এই কোরআন এমন পথের দিশা দেয়, যা সর্বাধিক সরল ও সঠিক।’ (সুরা : ইসরা, আয়াত : ৯)

বর্তমান ব্যস্ত জীবনে অনেক মুসলিম ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কখনো ভুলে যান, কখনো কর্মব্যস্ততার কারণে জুমার দিনে সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করতে পারেন না। তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে—মাগরিবের পরে পড়লে কি একই ফজিলত পাওয়া যাবে? অথবা মিস হয়ে গেলে করণীয় কী?

জুমার দিনে সুরা কাহাফ তেলাওয়াতের ফজিলত
আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিনে সূরা কাহাফ তেলাওয়াত করবে, তার জন্য এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত নূর বিকশিত থাকবে।’ (মুস্তাদরাকে হাকিম, হাদিস: ৩৩৯২)
তাই সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করা একটি মহানবী (সা.)-এর গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ ও অত্যন্ত প্রশংসনীয় আমল।

‘জুমার দিন’ বলতে কোন সময়কে বোঝায়?
 প্রসিদ্ধ একটি মত অনুযায়ী অনেক ফকিহ ও মুহাদ্দিসিনে কেরাম বলেন, বৃহস্পতিবার মাগরিব-শুক্রবার মাগরিব-এই পুরো সময়ই জুমার দিনের অন্তর্ভুক্ত। এ মত অনুযায়ী বৃহস্পতিবার রাতেও সুরা কাহাফ পড়লে ইনশাআল্লাহ ফজিলত পাওয়ার আশা করা যায়।

একটি বিষয়ে সকলেই একমত যে, শুক্রবার সূর্যাস্ত (মাগরিব)-এর পর জুমার দিনের নির্দিষ্ট সময় শেষ হয়ে যায়। তাই মাগরিবের পর সুরা কাহাফ পড়লে কোরআন তেলাওয়াতের সাধারণ সওয়াব অবশ্যই হবে, কিন্তু জুমার দিনের নির্দিষ্ট ফজিলত আর প্রযোজ্য হবে না।

যদি জুমার দিনে সুরা কাহাফ পড়া মিস হয়ে যায়
এখানে হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ—সুরা কাহাফ পড়া ফরজ নয়, ওয়াজিবও নয়। এটি একটি মুস্তাহাব সুন্নাহ আমল। অতএব, ভুলে গেলে গুনাহ হবে না। ব্যস্ততার কারণে পড়তে না পারলেও পাপ হবে না। পরে যেকোনো সময় কোরআনের অংশ হিসেবে তেলাওয়াত করলে কোরআন তেলাওয়াতের সাধারণ সওয়াব পাওয়া যাবে।

মিস না করার সহজ উপায়
সুরা কাহাফ নিয়মিত পড়ার জন্য কয়েকটি অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে—
১. বৃহস্পতিবার রাতেই প্রস্তুতি নেওয়া
২. শুক্রবার ফজরের পরপরই তেলাওয়াত করা
৩. মোবাইলে রিমাইন্ডার সেট করা
৪. পরিবারসহ একসঙ্গে তেলাওয়াতের অভ্যাস করা। অর্থ ও তাফসিরসহ পড়ার চেষ্টা করা। এভাবে আমলটি নিয়মিত হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।

অতএব, সুরা কাহাফ তেলাওয়াত জুমার দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ আমল। এ বিষয়ে বর্ণিত হাদিসগুলোর সনদ নিয়ে মুহাদ্দিসদের মধ্যে কিছু মতভেদ থাকলেও অধিকাংশ আলেম একে একটি উৎসাহিত ও আমলযোগ্য সুন্নাহ হিসেবে গ্রহণ করেছেন।

জুমার দিনের সময়সীমা নিয়েও ভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে। কেউ বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার মাগরিব পর্যন্ত সময়কে অন্তর্ভুক্ত করেছেন, আবার কেউ শুক্রবার ফজর থেকে মাগরিব পর্যন্ত সময়কেই নির্ধারিত বলেছেন। তবে সবাই একমত যে, শুক্রবার মাগরিবের পর এই বিশেষ ফজিলতের সময় শেষ হয়ে যায়।

তাই সবচেয়ে নিরাপদ ও উত্তম পন্থা হলো শুক্রবার ফজরের পর থেকে মাগরিবের আগেই সুরা কাহাফ তেলাওয়াত সম্পন্ন করা। আর যদি কোনো কারণে মিস হয়ে যায়, তবে হতাশ না হয়ে অন্য সময় কোরআনের অংশ হিসেবে তা তেলাওয়াত করা উচিত। কারণ আল্লাহ তাআলার কিতাবের প্রতিটি অক্ষরই মুমিনের জন্য নূর, রহমত ও অশেষ সওয়াবের উৎস।

নবীজির আতিথেয়তার সঙ্গে থাকত শিক্ষা ও উপদেশ | কালের কণ্ঠ