kalerkantho

শরিয়াহ আইনের দৃষ্টিতে দ্রুত বিচার

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৪ আগস্ট, ২০১৯ ১১:২৮ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



শরিয়াহ আইনের দৃষ্টিতে দ্রুত বিচার

বিচারের মূল উদ্দেশ্য মামলার রায় প্রদান করে বাদী-বিবাদীর মধ্যকার বিবাদ নিষ্পত্তি করা। স্বাভাবিকভাবেই যত দ্রুত ও অল্প সময়ের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করা যায় ততই উভয় পক্ষের জন্য তা কল্যাণকর। এতে অত্যাচারের শিকার ব্যক্তির ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রতীক্ষার অবসান ঘটে এবং অত্যাচারীর ত্বরিত শাস্তি হয় এবং অত্যাচারও বন্ধ হয়। কিন্তু ত্বরিতগতি অবলম্বন অর্থ শুনানি, সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন, সাক্ষ্যগ্রহণ ইত্যাদি সীমিত করা বা এড়িয়ে যাওয়া নয়, বরং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার শর্তে বিচারক কোনো প্রকার গড়িমসি না করে যত দ্রুত বিচারকার্য শেষ করা যায়—এটিই দ্রুত বিচার।

শরিয়াহ আইনের দৃষ্টিতে বিচার দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করাই স্বাভাবিক অবস্থা বা সাধারণ নীতি। বিলম্বিত বিচার প্রক্রিয়া একটি বিকল্প ব্যবস্থামাত্র। শরিয়তসম্মত কারণ ছাড়া বিচারকার্য বিলম্বিত করা বিচারকের জন্য অনুমোদিত নয়। পূর্বসূরি আলেমরা বিশেষত, যারা ইসলামী আইন ও বিচার ব্যবস্থা বিষয়ক গ্রন্থাদি রচনা করেছেন বা বিচারব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট ছিলেন তাঁরা বিলম্বিত বিচারের ক্ষেত্র নির্ধারণ করেছেন। এ থেকে প্রমাণিত হয়, ইসলামী আইনে দ্রুত বিচারই কাম্য।

দ্রুত বিচার নিষ্পত্তির ব্যাপারে মূলনীতি
মামলার বিচারকাজ দ্রুত নিষ্পন্ন করার জন্য বিশেষ নীতিমালা প্রণয়ন এবং বিশ্বব্যাপী প্রচলিত দ্রুত বিচার দাবি মূলত শরিয়াহ আইনে বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশনা থেকেই গৃহীত। শরিয়াহ আইনে দ্রুত বিচারের ক্ষেত্রে যেসব মূলনীতি বিশেষভাবে বিবেচনা করা হয়েছে, তার কয়েকটি নিচে আলোচিত হলো—

মহানবী (সা.)-এর সুন্নাহ (হাদিস)
মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘ইসলামে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াও যাবে না এবং ক্ষতিগ্রস্ত করাও যাবে না।’ (মুস্তাদরাক হাকেম, হাদিস : ২৪০০)

এ হাদিস থেকে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে কারো যেকোনো ধরনের অনিষ্ট সাধন করা ইসলামে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। দ্রুত বিচারের মাধ্যমে এ হাদিসের বাস্তব প্রয়োগ সম্ভব। বাদী যদি অন্যায়ভাবে বিবাদীকে ফাঁসানোর চেষ্টা করে, তখন দ্রুত বিচারের মাধ্যমে বিবাদীর অনিষ্ট অতি দ্রুত রোধ করা সম্ভব হয়। পক্ষান্তরে বিবাদী যদি অপরাধী হয়, তবে বাদীর অধিকার দ্রুত আদায়ের মাধ্যমে তার থেকে অনিষ্ট প্রতিহত করা যায়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা