• ই-পেপার

হামে শিশুর মৃত্যু

ইউনূসসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদনের আদেশ ১২ জুলাই

৩ শর্তে ইসতি মেডিকেলের এমডি ফয়সালের জামিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ শর্তে ইসতি মেডিকেলের এমডি ফয়সালের জামিন

বোনের মেয়েকে (ভাগ্নি) যৌন নিপীড়নের অভিযোগের মামলায় কারাগারে যাওয়ার পাঁচ দিনের মাথায় তিন শর্তে জামিন পেয়েছেন ইসতি মেডিকেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ফয়সাল।

রবিবার (৫ জুলাই) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন পাঁচ লাখ টাকা মুচলেকায় আগামী ১৪ জুলাই পর্যন্ত জামিনের আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই তাহমিনা আক্তার এ তথ্য জানান।

তিন শর্ত হলো তদন্তে সহযোগিতা, জামিনের অপব্যবহার না করা এবং বিদেশ যেতে পারবেন না।

গত ২৩ এপ্রিল ভুক্তভোগীর বাবা গুলশান থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর ৬ মে উচ্চ আদালত থেকে ৮ সপ্তাহের জামিন পান ফয়সাল। জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় গত মঙ্গলবার সিএমএম কোর্টে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন তিনি।

তার পক্ষে ঢাকা বারের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল কালাম খানসহ কয়েকজন আইনজীবী জামিন চেয়ে শুনানি করেন। বাদীপক্ষে ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি খোরশেদ মিয়া আলমসহ কয়েকজন জামিন আবেদনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত জামিনের আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়। আজও একই আইনজীবীরা দুই পক্ষে শুনানি করেন। শুনানি নিয়ে আদালত পাঁচ লাখ টাকা মুচলেকায় তিন শর্তে জামিনের আদেশ দেয়।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, আসামি বাদীর শ্যালক। তার তিন মেয়ের মধ্যে ২ জন পড়াশোনার জন্য বিদেশে থাকে। তার স্ত্রী মাঝেমধ্যে তাদের দেখাশোনার জন্য বিদেশে যান। ছোট মেয়ে তাদের সঙ্গে থাকে এবং একটি কোচিং সেন্টারে লেখাপড়া করে। আসামি ২০২৫ সালের ২১ জুন তার মেয়েকে ঘুরতে যাওয়াসহ বিভিন্ন প্রলোভন দেখায়। আসামি আপন মামা হওয়ায় তার মেয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যায়। ঘুরতে গেলে আসামি নিজে ধূমপান করার সময় কৌশলে তার মেয়েকে ধূমপান করানোর চেষ্টা করে। কিন্তু সে তার কথায় ধূমপান করে না।

পরে ২৪ জুন দুপুরে বাদীর মেয়েকে গুলশান থানাধীন ইসতি মেডিকেলের অফিসে লাঞ্চ করার জন্য ফোন করে যেতে বলে। তার কথামতো সে অফিসে যায় এবং সেখানে লাঞ্চ করে। পরে আসামি তার অফিসের বেলকনিতে নিয়ে পুনরায় ধূমপান করানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। ওই রাতে গাড়িতে করে তাকে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য বের হয়। আসামি নিজেই গাড়ি ড্রাইভ করছিল। পথিমধ্যে আমেরিকান ক্লাব রোডে এসে গাড়ি চালানো শেখানোর কথা বলে। এ সময় ভিকটিমকে ড্রাইভিং সিটে তার কোলে বসতে বলে। কোলে বসতে অনিচ্ছা পোষণ করলে সামনের দুই ছিটের মাঝখানে বসিয়ে গাড়ি চালানো শেখাতে শুরু করে। তখন আসামি আকস্মিকভাবে আক্রমণাত্মক হয়ে ভিকটিমকে যৌন নিপীড়ন করেন। ভিকটিম বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে গিয়ে অসুস্থতার ভান করে বাসায় যাওয়ার কথা বললে তাকে বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়। তার এমন কাজে ভিকটিম মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। বিষয়টি জানাজানি হলে পারিবারিকভাবে সম্পর্কের অবনতি হতে পারে, তাই ভিকটিম ঘটনা সম্পর্কে কাউকে কিছু বলেনি। গত ১৭ এপ্রিল ভিকটিমের বড় বোনের বিয়ের দিন মোহাম্মদ ফয়সাল বাসায় আসলে ভিকটিম তাকে দেখে চিৎকার করে ওঠে এবং গালাগাল করে। তখন বাদীসহ পরিবারের লোকজন ঘটনার বিষয়ে জানতে পারেন।

দেনমোহর আদায়ে নীতিমালা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

অনলাইন ডেস্ক
দেনমোহর আদায়ে নীতিমালা চেয়ে হাইকোর্টে রিট
সংগৃহীত ছবি

বিবাহের দেনমোহর আদায়ে আদালতের পদ্ধতি ও নীতিমালা তৈরি করার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। রবিবার (৫ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফাহমিদা আখতার জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেন। রিটে আইন সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের রিটে বিবাদী করা হয়েছে।

মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ১০নং ধারার অধীনে একটি ব্যাপক নির্দেশিকা প্রণয়ন ও জারি করার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, রিটে এই মর্মে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে।

রিটে বিবাহের তারিখের এক বছর পর প্রদত্ত দেনমোহরের মূল্যায়ন ও আদায়ের পদ্ধতি, নীতিমালা এবং উপায় নির্ধারণ করা থাকবে, যার উদ্দেশ্য হবে বিবাহে নারীদের অধিকার ও আর্থিক স্বার্থ রক্ষা ও সংরক্ষণ করা এবং মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ১০নং ধারার অস্পষ্টতা দূর করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।

অপরাধ প্রমাণিত হলে আওয়ামী লীগের বিচার হবে : চিফ প্রসিকিউটর

অনলাইন ডেস্ক
অপরাধ প্রমাণিত হলে আওয়ামী লীগের বিচার হবে : চিফ প্রসিকিউটর
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। ছবি : সংগৃহীত

রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান, অভিযোগ প্রমাণিত হলে আদালতের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হতে পারে। একই সঙ্গে শাপলা চত্বরের ঘটনাসহ বেশ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট মামলায় দলটির সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

রবিবার (৫ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানান চিফ প্রসিকিউটর।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার হবে কিনা সে বিষয়ে সংস্থা তদন্ত করছে। তদন্ত করার পরে যদি সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রাথমিক অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়, আমার কাছে রিপোর্ট যদি দাখিল করা হয়, আমি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে রিপোর্ট প্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার সুযোগ আছে। আপাতত এ বিষয়ে আমাদের তদন্ত চলমান আছে।’

আওয়ামী লীগের বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশে একটা ফ্যাসিজম রাষ্ট্র কায়েম করল আওয়ামী লীগ সরকার। সেই ফ্যাসিজমের মধ্য দিয়ে জনগণের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সব কিছু কেড়ে নিয়েছিল তারা। দেশের সব প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল।

রাজনৈতিক দল হিসেবে ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা রাজত্ব কায়েম করেছিল। ১৬ বছর মানুষের কোনো স্বাভাবিক জীবনব্যবস্থা ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা ছিল না।

তিনি বলেন, তিনটি নির্বাচনের কোনোটি রাতের, কোনোটি একদলীয়, কখনো আমি-ডামি নির্বাচন আয়োজন করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে চব্বিশের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে। নির্বিচারে ছাত্র-জনতার ওপর তাদের সরকারের বিভিন্ন বাহিনীকে লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডসহ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার তদন্তকাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে।

এর আগে গতকাল শনিবার জুলাই জাতীয় সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বর্তমান কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ দেশে আর কোনো দিন রাজনীতি করতে পারবে না। রাজনৈতিকভাবে তাদের দাফন হয়ে গেছে।’

শিগগিরই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দায়ে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে বলেও মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

হামে মেয়ের মৃত্যু, ড. ইউনূসসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক
হামে মেয়ের মৃত্যু, ড. ইউনূসসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন
ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

হামে মেয়ের মৃত্যুর অভিযোগ এনে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করেছেন সিরাজুল ইসলাম। 

রবিবার (৫ জুলাই)  ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে মামলার আবেদন করেন তিনি।

বাদীপক্ষের আইনজীবী তাছলিমা জাহান পপি বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ‘আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে আদেশ অপেক্ষমাণ রেখেছেন।’

মামলার আবেদনপত্র সূত্রে জানা গেছে, সিরাজুল ইসলামের ৯ মাস বয়সী মেয়ে সাউদা নুসকান হামে মারা গেছে। তিনি মামলার আবেদনে ‘অবহেলাজনিত মৃত্যুর’ অভিযোগ এনেছেন।

ড. ইউনূস ছাড়া যাদের আসামি করার আবেদন করা হয়েছে তারা হলেন, সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূর জাহান বেগমে, ড. ইউনূসের প্রেসসচিব শফিকুল আলম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ডা. মো. আবু জাফর।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, গেল ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে এবং মার্চের শুরুর মধ্যবর্তী সময়ে মুসকান হঠাৎ প্রচণ্ড জ্বরে আক্রান্ত হয়। তাকে দ্রুত স্থানীয় ফার্মেসি থেকে ওষুধ খাওয়ানো হয় কিন্তু জ্বর নিরাময় হয় না। তাকে মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। তবে মুসকানের শারীরিক অবস্থার ক্রমশ অবনতির প্রেক্ষিতে বাবা সিরাজুল তাকে ২২ মার্চ ভর্তি করেন। সেখানে ভর্তির পর থেকে মুসকানের অবস্থা মারাত্মক অবনতিকালীন সময় সিরাজুলে পরিলক্ষিত হয়, ডাক্তার ও নার্সদের অসহযোগিতা ও অবহেলা। ২৬ মার্চ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় মুসকান।

দেশে শিশুদের যথাযথ টিকার প্রকৃত যোগান সময়মত না থাকা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়া এবং অন্তর্বর্তী সরকারের মারাত্মক খামখেয়ালিপনা করে বলে সিরাজুল অভিযোগ করেন।

গত ৮ জুন একই অভিযোগ এনে  ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূর জাহান বেগমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে মামলার আবেদন করেন কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল। তবে আদালত আবেদন খারিজ করে দেয়। এরও আগে গত ৭ মে উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত শিক্ষার্থী উক্য ছাইং মারমার বাবা উসাইমং মারমা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলার আবেদন করেছিলেন। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ এনে করা ওই মামলার আবেদনও আদালত খারিজ করে দেন।