বোনের মেয়েকে (ভাগ্নি) যৌন নিপীড়নের অভিযোগের মামলায় কারাগারে যাওয়ার পাঁচ দিনের মাথায় তিন শর্তে জামিন পেয়েছেন ইসতি মেডিকেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ফয়সাল।
রবিবার (৫ জুলাই) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন পাঁচ লাখ টাকা মুচলেকায় আগামী ১৪ জুলাই পর্যন্ত জামিনের আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই তাহমিনা আক্তার এ তথ্য জানান।
তিন শর্ত হলো তদন্তে সহযোগিতা, জামিনের অপব্যবহার না করা এবং বিদেশ যেতে পারবেন না।
গত ২৩ এপ্রিল ভুক্তভোগীর বাবা গুলশান থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর ৬ মে উচ্চ আদালত থেকে ৮ সপ্তাহের জামিন পান ফয়সাল। জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় গত মঙ্গলবার সিএমএম কোর্টে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন তিনি।
তার পক্ষে ঢাকা বারের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল কালাম খানসহ কয়েকজন আইনজীবী জামিন চেয়ে শুনানি করেন। বাদীপক্ষে ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি খোরশেদ মিয়া আলমসহ কয়েকজন জামিন আবেদনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত জামিনের আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়। আজও একই আইনজীবীরা দুই পক্ষে শুনানি করেন। শুনানি নিয়ে আদালত পাঁচ লাখ টাকা মুচলেকায় তিন শর্তে জামিনের আদেশ দেয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, আসামি বাদীর শ্যালক। তার তিন মেয়ের মধ্যে ২ জন পড়াশোনার জন্য বিদেশে থাকে। তার স্ত্রী মাঝেমধ্যে তাদের দেখাশোনার জন্য বিদেশে যান। ছোট মেয়ে তাদের সঙ্গে থাকে এবং একটি কোচিং সেন্টারে লেখাপড়া করে। আসামি ২০২৫ সালের ২১ জুন তার মেয়েকে ঘুরতে যাওয়াসহ বিভিন্ন প্রলোভন দেখায়। আসামি আপন মামা হওয়ায় তার মেয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যায়। ঘুরতে গেলে আসামি নিজে ধূমপান করার সময় কৌশলে তার মেয়েকে ধূমপান করানোর চেষ্টা করে। কিন্তু সে তার কথায় ধূমপান করে না।
পরে ২৪ জুন দুপুরে বাদীর মেয়েকে গুলশান থানাধীন ইসতি মেডিকেলের অফিসে লাঞ্চ করার জন্য ফোন করে যেতে বলে। তার কথামতো সে অফিসে যায় এবং সেখানে লাঞ্চ করে। পরে আসামি তার অফিসের বেলকনিতে নিয়ে পুনরায় ধূমপান করানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। ওই রাতে গাড়িতে করে তাকে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য বের হয়। আসামি নিজেই গাড়ি ড্রাইভ করছিল। পথিমধ্যে আমেরিকান ক্লাব রোডে এসে গাড়ি চালানো শেখানোর কথা বলে। এ সময় ভিকটিমকে ড্রাইভিং সিটে তার কোলে বসতে বলে। কোলে বসতে অনিচ্ছা পোষণ করলে সামনের দুই ছিটের মাঝখানে বসিয়ে গাড়ি চালানো শেখাতে শুরু করে। তখন আসামি আকস্মিকভাবে আক্রমণাত্মক হয়ে ভিকটিমকে যৌন নিপীড়ন করেন। ভিকটিম বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে গিয়ে অসুস্থতার ভান করে বাসায় যাওয়ার কথা বললে তাকে বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়। তার এমন কাজে ভিকটিম মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। বিষয়টি জানাজানি হলে পারিবারিকভাবে সম্পর্কের অবনতি হতে পারে, তাই ভিকটিম ঘটনা সম্পর্কে কাউকে কিছু বলেনি। গত ১৭ এপ্রিল ভিকটিমের বড় বোনের বিয়ের দিন মোহাম্মদ ফয়সাল বাসায় আসলে ভিকটিম তাকে দেখে চিৎকার করে ওঠে এবং গালাগাল করে। তখন বাদীসহ পরিবারের লোকজন ঘটনার বিষয়ে জানতে পারেন।




