‘আঠারো বছর বয়স কী দুঃসহ, স্পর্ধায় নেয় মাথা তোলাবার ঝুঁকি, আঠারো বছর বয়সেই অহরহ, বিরাট দুঃসাহসেরা দেয় যে উঁকি’—তরুণদের নিয়ে ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতার শুরুতেই এমন সম্ভাবনার কথা লিখেছেন সুকান্ত ভট্টাচার্য। তেমনই কিছু প্রাণবন্ত তরুণ এবারের বিশ্বকাপ মাতাতে মাঠে নামবেন। বিশ্বমঞ্চে পায়ের জাদু দেখিয়ে ভবিষ্যতের তারকা হওয়ার গোড়াপত্তন করবেন। আজ থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা-মেক্সিকো বিশ্বকাপে যাঁদের দিকে দৃষ্টি থাকবে, চলুন দেখে নেওয়া যাক সেই প্রতিভাবানদের।
লামিন ইয়ামাল (১৮, স্পেন)
মুখাবয়ব থেকে কৈশোরের ছাপ মোছার আগেই তারকা বনেছেন লামিন ইয়ামাল। বার্সেলোনা-স্পেনের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় এবং গোলদাতাকে মনে করা হচ্ছে লিওনেল মেসি-ক্রিস্টিয়ানো রোনালডোর উত্তরসূরি হিসেবে। যাঁর হাতে থাকবে আগামী দিনের ফুটবলের ব্যাটন। স্পেনকে শুধু ২০২৪ ইউরোই জেতাননি, হাতে উঁচিয়ে ধরেছেন সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারটিও। নিজের প্রথম বিশ্বকাপ হলেও স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের প্রাণভোমরা এই উইঙ্গার।
নিকো পাজ (২১, আর্জেন্টিনা)
আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ স্কোয়াডে তারকার অভাব নেই। কিংবদন্তি লিওনেল মেসি ছাড়াও হুলিয়ান আলভারেস-এনজো ফার্নান্দেজরা আছেন। তাঁরা থাকলেও বিশেষ দৃষ্টি রাখতে হবে নিকো পাজের ওপর। রিয়াল মাদ্রিদের তারকাদের ভিড়ে নিজের প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে পারছিলেন না অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। তবে সুযোগ পেলে কতটা ভয়ংকর হতে পারেন তা ইতালির শীর্ষ লিগ সিরি আতে দেখিয়েছেন ২১ বছর বয়সী তারকা। ১২ গোল ও ৭ অ্যাসিস্টে কোমোকে চ্যাম্পিয়নস লিগে তুলতে সহায়তা করেছেন তিনি।
দেজিরে দুয়ে (২১, ফ্রান্স)
ব্রাজিল কিংবদন্তি নেইমারের দৌড় বিশ্ব দেখেছে। এবার তাঁর মতোই বল পায়ে ড্রিবলিং করে প্রতিপক্ষের কয়েকজনকে ফাঁক গলিয়ে বের হতে দেখবে দেজিরে দুয়েকে। নিজের আদর্শের মতোই খেলেন বলে ফ্রান্সের উইঙ্গারের নামের পাশে জুটেছে মিনিয়েচার নেইমার। ক্যারিয়ারের অভিষেক বিশ্বকাপ খেলতে নামার আগে প্রতিভার ছাপ রেখেছেন পিএসজির হয়ে। ২০২৪-২৫ মৌসুমে পিএসজির প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের ফাইনালে জোড়া গোল করে সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতেন তিনি। এবারও ইউরোপসেরার মুকুট ধরে রাখার পথেও করেছেন ৫ গোলের বিপরীতে ৪ অ্যাসিস্ট।
এনদ্রিক (১৯, ব্রাজিল)
রিয়াল মাদ্রিদে সুযোগ কম পাওয়ায় নিজেকে মেলে ধরতে পারছিলেন না এনদ্রিক। প্রতিভার ছাপ রাখতে তাই বিকল্প পথ ধরলেন ব্রাজিলের বিস্ময়বালক। লস ব্ল্যাংকোস থেকে লিওতে ধারে যান ১৯ বছর বয়সী সেন্টার ফরোয়ার্ড। ম্যাচ টাইম পেয়ে ফ্রান্সের ক্লাবটির হয়ে পাখির মতোই উড়লেন তিনি। যার প্রমাণ ১৯ ম্যাচের বিপরীতে সমান ৮টি করে গোল ও অ্যাসিস্ট। এমন পারফরম্যান্স দেখেই তাঁকে স্কোয়াডে ফেরানোর পরিকল্পনা করছে গেল মৌসুমে কোনো শিরোপা জিততে না পারা মাদ্রিদ। লিগ আঁর পারফরম্যান্সটাই এবার প্রথম বিশ্বকাপে দেখানোর পালা এনদ্রিকের।
আর্দা গুলের (২১, তুরস্ক)
ছোট দলের বড় তারকা বলতে যা বোঝায় ঠিক তা-ই আর্দা গুলের। প্রতিভার জানান অবশ্য অনেক আগেই দিয়েছেন তুরস্কের অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। রিয়াল মাদ্রিদ-তুরস্কের মাঝমাঠের ইঞ্জিন এখন বাঁ পায়ের এই জাদুকর। ভবিষ্যতের ফুটবল তারকার এটাই প্রথম বিশ্বকাপ।




