৭০০ মেগাহার্জ কেন গোল্ডেন স্পেকট্রাম?
৭০০ মেগাহার্জ স্পেকট্রামের পেনিট্রেশন বা ভেদন ক্ষমতা অনেক বেশি। একটি স্টেশনে এই লেয়ার যোগ করলে তা প্রায় ২.৫ কিলোমিটার পর্যন্ত ভালো ডেটা কাভারেজ দিতে পারে। সাধারণ ফ্রিকোয়েন্সি যেখানে বিল্ডিংয়ের ভেতরে বা লিফটে পৌঁছতে পারে না, ৭০০ মেগাহার্টজ সেখানে সহজেই পৌঁছে যায়। তাই একে বলা হয় ‘গোল্ডেন স্পেকট্রাম’।
কয়টি জেলায় এই সেবা পাওয়া যাচ্ছে?
আমরা গত ১ জুন, ২০২৬ স্পেকট্রামটি সক্রিয় করার অনুমতি পাই এবং মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে ৯০০টি সাইটে এটি চালু করেছি। এখন পর্যন্ত এটি ৪৪টি জেলায় সক্রিয় করা সম্ভব হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, এ বছরের শেষ নাগাদ ৫৯টি জেলায় পৌঁছানো। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। আমরা সেই সব এলাকাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি, যেখানে গ্রাহকদের সিগন্যাল নিয়ে ভোগান্তি বেশি।
শহর ও গ্রামে নেটওয়ার্কজনিত সমস্যা আলাদা কি?
হ্যাঁ, সমস্যার ধরন দুই জায়গায় দুই রকম। ঢাকার মতো শহরে সাইটগুলো খুব কাছাকাছি (২০০-৩০০ মিটার) থাকে, তাই এখানে মূল সমস্যা কোয়ালিটি বা ইনডোর কাভারেজের। যেমন—ড্রয়িং রুমে সিগন্যাল থাকলেও বেডরুম বা লিফটে পাওয়া যায় না। ৭০০ মেগাহার্টজ এই ‘ডেড জোন’ বা ‘ব্ল্যাক স্পট’গুলো দূর করে ইনডোর কোয়ালিটি নিশ্চিত করবে। অন্যদিকে গ্রাম পর্যায়ে এটি মূলত কাভারেজ নিশ্চিত করবে। ফলে শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত সকল ব্যবহারকারী পাবে মানসম্মত নেটওয়ার্কসেবা।
এটি ব্যবহারের জন্য কী প্রয়োজন?
আপনার কাছে যদি ৪জি (4G) ইউসিম (USIM) থাকে, তবে সিম পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। ডিভাইসের ক্ষেত্রে এটি এলটিই ব্যান্ড ২৮ (LTE Band 28) সাপোর্ট করতে হয়। বর্তমানে গ্রামীণফোন নেটওয়ার্কের প্রায় ৬৮ শতাংশ হ্যান্ডসেট এই ব্যান্ড সাপোর্ট করে। নতুন যেসব ফোন বাজারে আসছে, সেগুলোর বেশির ভাগই এই প্রযুক্তিসম্পন্ন। আশা করছি, আগামী তিন বছরের মধ্যে ৯০ শতাংশ হ্যান্ডসেট এর আওতায় চলে আসবে।
৭০০ মেগাহার্জ থেকে নতুন কী আশা করা যায়?
আমাদের বুঝতে হবে যে ৭০০ মেগাহার্টজ মূলত একটি কাভারেজ এবং কোয়ালিটি লেয়ার, এটি ক্যাপাসিটি লেয়ার নয়। এটি গতির লড়াইয়ের জন্য নয় বরং কনসিস্টেন্সির বা মানসম্মত সেবার জন্য। অর্থাৎ আপনি দূরে থাকলেও বাফারিং ছাড়া ইউটিউব দেখতে পারবেন বা ক্লিয়ার ভয়েস কল করতে পারবেন। এটি ভোল্টি (VoLTE) সেবাকে আরো উন্নত করবে, ফলে কল ড্রপ কমে যাবে এবং শব্দের মান ক্রিস্টাল ক্লিয়ার হবে।
বাংলাদেশে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে চ্যালেঞ্জ কী কী?
বাংলাদেশের বাজারে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে বেশ কিছু ইউনিক চ্যালেঞ্জ আছে। প্রথমত, রেডিয়েশন নিয়ে মানুষের মধ্যে একটি ভুল ধারণা কাজ করে। যদিও আমরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত সীমার ১০০ ভাগের ১ ভাগ সিগন্যাল জেনারেট করি, তবুও অনেকেই নেটওয়ার্ক টাওয়ারের রেডিয়েশন নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে সাইট স্থাপনে বাধা প্রদান করেন। দ্বিতীয়ত, নগর পরিকল্পনা। বড় বড় ভবন নির্মাণের সময় মোবাইল নেটওয়ার্কের জন্য কোনো জায়গা রাখা হয় না, যা সিগন্যাল ব্লকের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আমরা চাই সরকার মোবাইল নেটওয়ার্ককে পানি বা বিদ্যুতের মতো ‘ইউটিলিটি’ হিসেবে বিবেচনা করুক এবং প্রতিটি ভবনে এর জন্য ব্যবস্থা রাখা বাধ্যতামূলক করুক।
দেশের অর্থনীতিতে এর প্রভাব কেমন হতে পারে?
কানেক্টিভিটি সরাসরি জিডিপির সঙ্গে যুক্ত। গবেষণায় দেখা গেছে, মোবাইল ব্রডব্যান্ড ১০ শতাংশ বাড়লে জিডিপি ১ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। তবে বাংলাদেশে স্পেকট্রামের দাম এবং ট্যাক্স অনেক বেশি। যদিও সরকার সিম ট্যাক্স তুলে দিয়েছে, যা একটি ভালো উদ্যোগ, কিন্তু স্মার্টফোনের উচ্চমূল্য এখনো একটি বড় বাধা। লোকাল ম্যানুফ্যাকচারিং বাড়ালে এবং টেলিকম খাতে ট্যাক্স কমানো গেলে ডিজিটাল ইকোনমি আরো শক্তিশালী হবে।
ভোল্টি (VoLTE) বা ওয়াইফাই কলিং (VoWiFi) সেবা সব ব্যবহারকারীর জন্য উন্মুক্ত নয়, কেন?
এ বিষয়ে আমাদের সম্মানিত গ্রাহকদের মনে বেশ ভুল ধারণা রয়েছে। আসলে ভোল্টি প্রযুক্তির জন্য প্রতিটি হ্যান্ডসেটে নেটওয়ার্কভিত্তিক সফটওয়্যার প্যাচ (Patch) থাকতে হয়। ল্যাবে বিভিন্ন হ্যান্ডসেট টেস্ট করে যখন আমরা নিশ্চিত হই যে কোনো ফোনে কল ড্রপ হবে না, শুধু সেগুলোই হোয়াইটলিস্ট করা হয়। এটি গ্রাহকের ভালো অভিজ্ঞতার জন্যই করা হয়ে থাকে, এ ছাড়া অন্য কোনো কারণ নেই। হোয়াইটলিস্টে প্রতিনিয়ত নতুন ডিভাইস যোগ হচ্ছে, সব গ্রাহকই ধীরে ধীরে এই সেবাগুলো পাবে।
৩জি এর পর কি তবে ২জি বন্ধ হচ্ছে? এ প্রযুক্তির ভবিষ্যত কী?
উন্নত বিশ্বের অনেক দেশে টুজি নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে গেছে। তবে বাংলাদেশে এখনো একটি বড় প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ব্যবহার করে টুজি হ্যান্ডসেট। তাদের কথা বলার অধিকার নিশ্চিত করতে আমরা এখনই এটি বন্ধ করতে পারছি না। স্মার্টফোনের দাম আরও সহজলভ্য হলে এবং প্রান্তিক গ্রাহকরাও ৪জি হ্যান্ডসেট ব্যবহার শুরু করলে ভবিষ্যতে আমরা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।