এই সেদিন পয়লা জুন বাংলার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের মহানায়ক তোফায়েল আহমেদ আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। যুগে যুগে অনেক নায়ক আসে, কিন্তু মহানায়ক নয়। শত শত বছর পর বঙ্গবন্ধু বা তোফায়েল আহমেদ আবির্ভাব হন। জানি না, জুন মাসটি আমার জন্য, আমার সোনার বাংলার জন্য কেমন। ছেষট্টির ৭ জুন তেজগাঁওয়ে শ্রমিক মনু মিয়া শাহাদাতবরণ করেন, যাঁর লাশ নূরে আলম সিদ্দিকী কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। ৭ জুন আমার একেবারে সাদামাটা স্ত্রীর মৃত্যুবার্ষিকী। ২০২৫ সালের ৭ জুন আমাদের অসহায় ফেলে সে মৃত্যুবরণ করেছে। আবার আমার জন্মও ১৪ জুন। বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রতিবাদে নির্বাসনে থাকতে অসময়ে বিয়ে হয়েছিল, সেও ১৯৮৪ সালের ২৫ জুন। জুন আমাকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছে। গত সংখ্যায় লেখা পাঠিয়ে তোফায়েল ভাইয়ের মৃত্যুর সংবাদ পেয়েছিলাম। বড় তাড়াহুড়া করে জানাজা হয়েছে। ছিলাম টাঙ্গাইলে। তাই যেতে পারিনি। সে জন্য মনে বড় দুঃখ এবং আফসোস রয়ে গেল। কতজনের জানাজায় কত দূর ছুটে গেছি, কিন্তু একেবারেই আপনজন, ঘরের মানুষের জানাজা আদায় করতে পারলাম না। তবু মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, আল্লাহ যেন তাঁর সব ভুলত্রুটি ক্ষমা করে তাঁকে বেহেশতবাসী করেন।
সবাই যে তোফায়েল আহমেদকে চেনেন, আমরা সেই তোফায়েল আহমেদকে অনেক আগে থেকেই চিনতাম। সেদিন বলেছিলাম, ১৯৬২ সাল থেকে তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে আমাদের পরিচয়। সেদিন বাংলাদেশ প্রতিদিনের এক সাক্ষাৎকারে বড় ভাই লতিফ সিদ্দিকী বলেছেন, ১৯৫৮ সালে চট্টগ্রামের স্কাউট জাম্বুরিতে তাঁর সঙ্গে দেখা। ১৯৬২ নয়, ওটা ১৯৫৮ সালই হবে। সেই স্কাউট জাম্বুরির পর তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে লতিফ ভাইয়ের শত শত চিঠি আদান-প্রদান হয়েছে। তখন সবারই চিঠি লেখার অভ্যাস ছিল। আমি বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রতিবাদে নির্বাসনে থাকা অবস্থায় প্রায় ৬০ হাজার চিঠি পেয়েছি। আমিও তার উত্তর দিয়েছি। হয়তো দু-এক হাজারের উত্তর না-ও দেওয়া হতে পারে। আগের দিনে চিঠি ছিল ভাব আদান-প্রদানের প্রধান মাধ্যম। এখন মোবাইলের জামানায় কে চিঠি লেখে? দরকারি চিঠিও লেখা হয় না। সবাই ফোনে ফোনে। উনসত্তরের ছাত্র গণ-আন্দোলনে প্রথম যেদিন হঠাৎই তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বের কথা শুনে হৃদয় ময়ূরের মতো নেচে উঠেছিল। বড় ভালো লাগে, ভীষণ উৎসাহ পাই। একের পর এক আন্দোলনকারী ছাত্র, যুবক, সাধারণ মানুষ আহত-নিহত হতে থাকে। পুরান ঢাকায় মতিউর রহমান শহীদ হন। আন্দোলন আরো বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত আসাদের লাশ কাঁধে নিয়ে মিছিল হয়। আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। আমাদের অঞ্চলও উত্তাল হয়ে ওঠে। লতিফ ভাই ১৯৬৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে কারাগারে। আমরা আন্দোলন করছি তো করছিই। এর মধ্যে উনসত্তরের পয়লা ফেব্রুয়ারি হঠাৎই আমাদের গ্রেপ্তার করা হয়। আবু আহমেদ আনোয়ার বক্স, শামীম আল মামুন ও আমাকে গ্রেপ্তার করে ময়মনসিংহ কারাগারে প্রেরণ করা হয়। টাঙ্গাইলে যে ছোট্ট কারাগার, তাতে রাজবন্দিদের তেমন রাখা হতো না। দু-তিন দিন পর সা’দত কলেজের ভিপি খন্দকার আব্দুল বাতেনকে আমাদের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। খন্দকার বাতেন যাওয়ার আগে যে চার-পাঁচ দিন ছিলাম, বেশ আনন্দেই ছিলাম। কিন্তু খন্দকার বাতেন ময়মনসিংহ জেলে যাওয়ার পর জেলখানার পরিবেশ একেবারেই ভিন্ন হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পরপরই খন্দকার বাতেন কাঁদতেন, মাকে দেখতে ইচ্ছা করে। আরো কত কিছু। একেবারে কেমন যেন একটা অশান্ত পরিবেশ হয়ে যায়। চুপচাপ কাঁদলেও হয়তো হতো। কিন্তু না, চুপচাপের কোনো বালাই নেই। অনেক সময় গ্রামের মেয়েদের মতো সুর তুলে কাঁদতেন। বড় খারাপ লাগত। সেই অবস্থায়ই যায় প্রায় দুই সপ্তাহ। তারপর হঠাৎই আমাদের মুক্তি। তখনকার সে বিচিত্র অবস্থা ভাবতেও অবাক লাগে। ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান তখন নিয়মিত মাসিক ভাষণ দিতেন। পয়লা ফেব্রুয়ারিও দিয়েছিলেন। তিনি আর প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করবেন না। তাই আন্দোলনকারীদের থামতে অনুরোধ করেছিলেন, কিন্তু সে অনুরোধে কাজ হয়নি। ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধুসহ আগরতলা মামলার সব অভিযুক্তকে মুক্তি দেওয়া হয়। ২২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার পর ময়মনসিংহ কারাগারের প্রধান ফটক খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু রাজবন্দিরা রাতের আঁধারে কারাগার থেকে বেরোতে আপত্তি করেন। এর জন্য তাঁদের ২৩ ফেব্রুয়ারি সকালে মুক্তি দেওয়া হয়। আমরা টাঙ্গাইল থেকে গিয়ে লতিফ ভাইকে নিয়ে আসি। সেই সময় ময়মনসিংহ কারাগারে ছিলেন অষ্টগ্রামের ন্যাপ নেতা আব্দুল বারী, কিশোরগঞ্জের নগেন সরকার, মুক্তাগাছার শহীদুল্লাহ মালেক, ছাত্রলীগের আনোয়ারসহ আরো অনেকে। প্রায় আড়াই বছর পর আমাদের নেতা লতিফ ভাইকে পেয়ে আমরা ভীষণ উজ্জীবিত হয়ে উঠি। আমরা ছাত্ররা সভা ডাকলে যেখানে দু-তিন হাজার লোক হতো, সেখানে সদ্যোকারামুক্ত লতিফ সিদ্দিকী গেলে ২০ থেকে ৩০ হাজার লোকের সমাগম হতো, যাতে আমাদের মধ্যে এক মহা আলোড়ন সৃষ্টি হয়। আগরতলা মামলা প্রত্যাহার এবং ২৩ ফেব্রুয়ারি জাতির পক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ হিসেবে ঘোষণা করলে পুরো জাতি আরো উদ্বেল হয়ে ওঠে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রায় ১০ লাখ মানুষের সামনে জাতির পক্ষ থেকে উনসত্তরের মহানায়ক তোফায়েল আহমেদ টুঙ্গিপাড়ার শেখ লুৎফর রহমানের ছেলে শেখ মুজিবুর রহমানকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করেন। আন্দোলন আরো বেগবান হয়। এর মধ্যেই আইয়ুব খান ২৪ মার্চ পদত্যাগ করে ইয়াহিয়ার হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেন। ইয়াহিয়া এসেই ঘোষণা করেন, ‘আমার রাজনীতির কোনো ইচ্ছে নেই। দুই বছরের মধ্যে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে আমরা ব্যারাকে ফিরে যাব।’ সেই বছরের জন্য প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করেন। পয়লা জানুয়ারি ১৯৭০ থেকে প্রকাশ্য রাজনীতি শুরু হয়। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দল মেনে নেয়। বাইরে রাজনীতি বন্ধ থাকলেও ঘরোয়া রাজনীতি, হলের মধ্যে সভা-সমাবেশে তেমন কোনো বাধা দেওয়া হয় না। চলতে থাকে সংগ্রাম আর সংগ্রাম। তখন আমাদের কাছে মিটিং-মিছিল ছাড়া আর কোনো কিছুই ছিল না। রাতদিন ‘তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা-মেঘনা-যমুনা। তুমি কে আমি কে—বাঙালি বাঙালি, জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।’ পূর্ব বাংলার কুখ্যাত গভর্নর ময়মনসিংহের মোনেম খানকে সরিয়ে জেনারেল আহসানকে তখন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর করা হয়। এরপর আসে ১৯৭০-এর ঐতিহাসিক নির্বাচন। সেখানে বাংলার তরুণ তুর্কিরা ঝাঁপিয়ে পড়ে নির্বাচনী প্রচারে। মনে হয়, ভারতবর্ষে মহাত্মা গান্ধী যেমন শ্রেষ্ঠতম কর্মীদের পেয়েছিলেন, ঠিক তেমনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব অঙ্গ বঙ্গ কলিঙ্গের শ্রেষ্ঠতম সংগঠকদের পেয়েছিলেন। তাদের মধ্যে কে এম ওবায়দুর রহমান, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, শেখ ফজলুল হক মণি, ফেরদৌস আহমেদ কোরেশী, সিরাজুল আলম খান, নূরে আলম সিদ্দিকী, আ স ম আবদুর রব, আব্দুল কুদ্দুস মাখন, লতিফ সিদ্দিকী, আল মুজাহিদী, ফজলুল করিম মিঠু, ফজলুর রহমান ফারুক, শাজাহান সিরাজ, নীলফামারীর রউফ, নোয়াখালীর মোহাম্মদ আলী—এ রকম আরো অনেকেই। এখন যেমন হাজার হাজার মানুষ জেমসের গান শোনে, ঠিক তেমনি আমাদের নেতাদের বক্তব্য শুনতেন, আমরা উদ্বেলিত হতাম। এর ফলে ১৯৭০-এর নির্বাচনে জাতীয় পরিষদের ১৬৯ আসনের ১৬৭টিতে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের বিজয় হয়। মাত্র ২৭ বছর বয়সে মহানায়ক তোফায়েল আহমেদ ভোলা থেকে জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। পাকিস্তানি শাসকরা বাঙালিদের ভোটের রায় মানেনি। ছলাকলা করে ভোটের রায়কে অন্যদিকে পরিচালিত করার চেষ্টা করে। শেষ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে বাংলার বুকে সামরিক শাসন জারি করে। বাঙালিরা পাকিস্তানের এই অন্যায় কোনোভাবেই মেনে নেয়নি। ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ মানুষের সামনে বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেন, ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ আমরা স্বাধীনতাযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ি। পাকিস্তানি হানাদাররা রাস্তাঘাটে নিরস্ত্র বাঙালিদের হত্যা করতে থাকে। ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে দেওয়া হয়, সাধারণ মানুষকে হত্যা করা হয়, মা-বোনের ইজ্জত-সম্মান-সম্ভ্রম ধ্বংস করা হয়। তার পরও হানাদাররা বাঙালি জাতিকে দাবিয়ে রাখতে পারেনি। ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ আমরা স্বাধীনতা অর্জন করি। ওই সময় এক কোটি শরণার্থী ভারতে আশ্রয় নেয়। ভারত তাদের নিজস্ব দুরবস্থার মধ্যেও সেই এক কোটি মানুষের বোঝা হাসিমুখে বহন করে। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেয়, অস্ত্র দেয়—সর্বোপরি ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের মুক্তির বেদনায় শরিক হয়ে আমাদের মুক্তির স্বাদে অবগাহন করে।
১০০ কয়েক দিন বিএনপি সরকার ক্ষমতায়। অনেকেই অনেক প্রশ্ন করে, কিন্তু এটি ধ্রুব সত্য, অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকারের চেয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে-কর্তৃত্বে সরকার অনেক ভালো। একেবারে পতনের শেষ সীমায় নিয়ে যাওয়া একটি সরকার এযাবৎ যা করেছে, খুব একটা খারাপ করেনি অন্তত সব দিক থেকে ব্যর্থ ইউনূস সরকারের চেয়ে। অধ্যাপক ইউনূস সুদ-ঘুষ বোঝেন, কিন্তু জনগণের কল্যাণ বোঝেন না। তা যদি বুঝতেন, তাহলে হামে আক্রান্ত হয়ে ছয় শর বেশি ফুলের কুঁড়ির মতো মানবসন্তান হারিয়ে যেত না। এর জন্য ড. ইউনূসের ৬০০ বার ফাঁসি হলেও কম হবে। তিনি তাঁর গ্রামীণ ব্যাংকের কী এক মহিলাকে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বানিয়েছিলেন, যাঁর স্বাস্থ্যের ‘স্ব’ সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিল কি না, জানি না। আমার মনে হচ্ছিল, এত টানাপোড়েনের মধ্যেও তারেক রহমান ভালো চালাচ্ছেন। আমার মনে হচ্ছিল, তিনি বিএনপি নেতা হিসেবে নয়, দেশের নেতা হিসেবে জাতীয় নেতার ভূমিকা পালন করছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সবার প্রতি তাঁর দায়িত্ব। সে দায়িত্ব তাঁর পালন করতে হবে খুশিতে হোক আর অখুশিতে হোক। সেই কাজটি আমার তো মনে হয়েছে, এত দিন ভালোভাবেই করছিলেন। এই সেদিন জাতীয় নেতা তোফায়েল আহমেদের জানাজা নিয়ে বর্তমান সরকার ঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেনি। ৯ বার নির্বাচিত একজন জাতীয় নেতার শুধু আওয়ামী লীগের দোসর বলে সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজা হয়নি, শহীদ মিনারে হয়নি, ভোলায় তাঁর জানাজায় বাধা দেওয়া হয়েছে, এটি কোন রুচির পরিচয়? দলীয় নেতা দেশে বহু আছেন। কিন্তু জাতীয় নেতা খুব বেশি নেই। একজন জাতীয় নেতার নাম যদি উল্লেখ করতে হয়, তাহলে অবশ্যই বলতে হবে তোফায়েল আহমেদ। তাই আমি আশা করেছিলাম, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের জানাজায় যথাযথ মর্যাদা দেবেন। তিনি এরই মধ্যে অনেক প্রশংসনীয় কাজ করেছেন। তাঁর কাজগুলো খুবই কঠিন, কিন্তু তার পরও তিনি করেছেন। তোফায়েল আহমেদকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া হলে আমি আমার অন্তরের সবকিছু উজাড় করে তারেক রহমানের নেতৃত্বকে সমর্থন করতাম। দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান তো এখন শুধু বিএনপির নেতা নন, তিনি সবার নেতা। সবার প্রতি, দেশের প্রতি তাঁর দায়িত্ব-কর্তব্য অপরিসীম। এ ক্ষেত্রে মাননীয় স্পিকার বীরবিক্রম হাফিজ উদ্দিন আহমদ আরেকটু চেষ্টা করলে, আন্তরিক হলে প্রাতঃস্মরণীয় হয়ে থাকতেন। তিনি যেটুকু করেছেন, ভালো করেছেন। কিন্তু আরো করতে পারলে সেটি আরো ভালো হতো, কল্যাণকর হতো। আবার বলব, তোফায়েল আহমেদ বারবার আসেন না। তাঁকে সম্মান করা, মর্যাদা দেওয়া শুধু তোফায়েল আহমেদকেই সম্মান দেখানো নয়, দেশকে, স্বাধীনতাকে—সর্বোপরি মনুষ্যত্বকে সম্মান জানানো। আশা করব, অনতিবিলম্বে তারেক রহমানের নেতৃত্বের সরকার একজন জাতীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাঁকে সর্বদলীয়ভাবে জাতীয় সম্মান জানানোর ব্যবস্থা করবেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তোফায়েল আহমেদের আত্মার শান্তি দান করুন। আমিন।
লেখক : রাজনীতিক





বাংলাদেশ ব্যাংক হয়তো দেশের ব্যাংকিং ও পুঁজিবাজার উভয় খাতের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করেই লভ্যাংশ প্রদান সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করেছে। কিন্তু সার্কুলারে বর্ণিত শর্তগুলো কিভাবে কাজ করবে, তা আমরা বুঝে উঠতে পারছি না। কেননা লভ্যাংশ প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যাংকের দুই হাজার কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধন সংরক্ষণের শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু শুধু মূলধন একটি ব্যাংকের প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরে না। মূলধন হচ্ছে কয়েকটি উপাদানের একটি, যার মাধ্যমে ব্যাংকের প্রকৃত অবস্থা জানা যায়। যেমন