• ই-পেপার

ফ্যামিলি কার্ড থেকে খাল খনন রাষ্ট্র গড়ার প্রথম ১০০ দিন

  • ড. মোহা. হাছানাত আলী

শ্রেষ্ঠত্বের বিতর্ক নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রয়োজন মানসম্পন্ন গবেষণা

মেজর (অব.) এ কে এম শাকিল নেওয়াজ

শ্রেষ্ঠত্বের বিতর্ক নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রয়োজন মানসম্পন্ন গবেষণা

সাম্প্রতিক সময়ে একজন রাজনৈতিক নেতা (মন্ত্রী) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপকের মধ্যে যে বক্তব্য ও পাল্টাবক্তব্য জনসমক্ষে এসেছে, তা আমাদের সবাইকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। বিষয়টি শুধু ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মতপার্থক্যের নয়, বরং এটি আমাদের সেই প্রতিষ্ঠানগুলোর মান, মূল্যবোধ ও পেশাগত সংস্কৃতি নিয়ে ভাবার সুযোগ করে দিয়েছে, যেখান থেকে ভবিষ্যতের আমলা, গবেষক, শিক্ষক, নীতিনির্ধারক এবং রাজনৈতিক নেতৃত্ব তৈরি হয়। ব্যক্তিগত মন্তব্য বা কোন বিশ্ববিদ্যালয় কোনটির চেয়ে শ্রেষ্ঠএই বিতর্কে সময় ব্যয় না করে আমাদের আরো গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন করা উচিতগবেষণা, উদ্ভাবন এবং জাতীয় উন্নয়নে অবদানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বর্তমান অবস্থান কোথায়?

খোলামেলা একটি পর্যবেক্ষণ শেয়ার করতে চাই। বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার মান, গবেষণা অবকাঠামো এবং উদ্ভাবনব্যবস্থা এখনো এমন পর্যায়ে পৌঁছেনি, যা দেশের বড় বড় জাতীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় যথেষ্ট কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এর প্রতিফলন আমরা দেখতে পাই অর্থনীতি, পরিবেশ, জাতীয় নিরাপত্তা, জননিরাপত্তা, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষা খাতে গবেষণাভিত্তিক সমাধানের তুলনামূলক স্বল্প উপস্থিতিতে।

এখানে একটি মৌলিক প্রশ্ন উঠে আসেগবেষণার প্রকৃত উদ্দেশ্য কী? গবেষণা শুধু একাডেমিক ডিগ্রি অর্জন, প্রকাশনার সংখ্যা বৃদ্ধি, পদোন্নতি লাভ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিং উন্নত করার জন্য হওয়া উচিত নয়। গবেষণার চূড়ান্ত লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন জ্ঞান সৃষ্টি করা, যা বাস্তব সমস্যার সমাধান দেয় এবং জাতীয় উন্নয়নে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে অবদান রাখে।

একটি কার্যকর গবেষণা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে পারে, পরিবেশগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে পারে, দুর্যোগ মোকাবেলার সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারে, জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন ঘটাতে পারে, জাতীয় নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে পারে এবং শিক্ষার মান উন্নত করতে পারে। আমরা কি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি যে আমাদের দেশে পরিচালিত উল্লেখযোগ্যসংখ্যক গবেষণা জাতীয় পর্যায়ে এসব খাতে দৃশ্যমান পরিবর্তন এনে দিয়েছে? এই প্রশ্নের সৎ উত্তর খুঁজে বের করা নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ, গবেষক এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সবার দায়িত্ব।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং জাতীয় সক্ষমতা উন্নয়নে কৌশলগত বিনিয়োগের মাধ্যমে নিজেদের শক্তিশালী করেছে। গবেষণা ও উদ্ভাবনকে কেন্দ্র করে তারা অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জন করেছে, জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করেছে এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করেছে। এ থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়ার অনেক কিছু রয়েছে।

সুতরাং মূল আলোচনার বিষয় হওয়া উচিত নয় কোন বিশ্ববিদ্যালয় কোনটির চেয়ে ভালো। প্রকৃত চ্যালেঞ্জ হলোকিভাবে আমরা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ গবেষণা সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারি, যা একই সঙ্গে দেশের বাস্তব প্রয়োজন ও জাতীয় অগ্রাধিকারের প্রতি সংবেদনশীল থাকবে। প্রতিটি গবেষণা প্রকল্পকে শুধু একাডেমিক মানদণ্ডে নয়, বরং সমাজ ও দেশের উন্নয়নে তার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ অবদানের ভিত্তিতেও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

আজ যখন বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ড্রোন প্রযুক্তি, রোবটিকস, সাইবার নিরাপত্তা, উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জলবায়ু সহনশীলতা, বায়োটেকনোলজি এবং মহাকাশসংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিতে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, তখন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও উদ্ভাবনের অগ্রভাগে অবস্থান নিতে হবে।

গবেষণার অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হবে ভবিষ্যতের জাতীয় চাহিদা এবং উদীয়মান বৈশ্বিক প্রযুক্তির আলোকে। একই সঙ্গে স্থানীয় সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজে বের করাও গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হওয়া উচিত। বাংলাদেশে মেধাবী শিক্ষার্থী, দক্ষ শিক্ষক, প্রতিশ্রুতিশীল গবেষক এবং বিপুল বুদ্ধিবৃত্তিক সম্ভাবনার কোনো অভাব নেই। প্রয়োজন একটি শক্তিশালী গবেষণা পরিবেশ, যেখানে থাকবে পর্যাপ্ত অর্থায়ন, আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাগার, শিল্প-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহযোগিতা, আন্তর্জাতিক অংশীদারি, মেধাভিত্তিক গবেষণা প্রণোদনা এবং দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় গবেষণা ভিশন।

সব শেষে আমাদের উচিত কোন বিশ্ববিদ্যালয় সেরাএই বিতর্ক থেকে বেরিয়ে এসে কিভাবে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাপ্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা যায়, সেদিকে মনোযোগ দেওয়া। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত মূল্যায়ন তার ঐতিহ্য বা খ্যাতির মাধ্যমে নয়, বরং তার গবেষণা, উদ্ভাবন এবং গ্র্যাজুয়েটরা দেশের অর্থনীতি, নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, শিক্ষা, পরিবেশ ও জনগণের জীবনমান উন্নয়নে কতটুকু অবদান রাখছে, তার মাধ্যমে হওয়া উচিত। যেদিন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এমন গবেষণা সৃষ্টি করবে, যা জাতীয় সমস্যার সমাধান করবে, নতুন শিল্প গড়ে তুলবে, নিরাপত্তা শক্তিশালী করবে, পরিবেশ রক্ষা করবে, শিক্ষার মান উন্নত করবে এবং মানুষের জীবনকে আরো সমৃদ্ধ করবেসেদিন কোন বিশ্ববিদ্যালয় বড় বা ছোট, সেই বিতর্ক নিজে থেকেই গুরুত্ব হারাবে। কারণ তখন যুক্তি নয়, ফলাফলই সবচেয়ে জোরালো ভাষায় কথা বলবে।

লেখক : অ্যাজাঙ্কট ফ্যাকাল্টি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, ইউসিএসআই বিশ্ববিদ্যালয় ও বিইউপি

জাপান : সমৃদ্ধির আড়ালে কি এক নীরব শূন্যতা

সোহেল আহমেদ

জাপান : সমৃদ্ধির আড়ালে কি এক নীরব শূন্যতা

২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে জাপান সফরের আগে আমি দেশটি সম্পর্কে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। বই পড়েছি, ইউটিউব ডকুমেন্টারি দেখেছি, ওয়েবসাইট ঘেঁটেছি এবং জাপানফেরত বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলেছি। ফলে জাপানে পৌঁছানোর আগে আমার মনে একটি বিশেষ চিত্র তৈরি হয়েছিলউন্নত প্রযুক্তি, উচ্চশিক্ষার হার, সুশৃঙ্খল নাগরিক জীবন এবং সমৃদ্ধ সংস্কৃতির এক অনন্য দেশ।

বাস্তবে গিয়ে আমি এসবের প্রায় সবই দেখেছি। পরিচ্ছন্ন রাস্তা, সময়ানুবর্তী ট্রেন, কর্মনিষ্ঠ মানুষ, উন্নত অবকাঠামো এবং সামাজিক শৃঙ্খলা সত্যি প্রশংসনীয়। কিন্তু এর পাশাপাশি এমন একটি অনুভূতি আমাকে তাড়া করেছে, যা হয়তো অনেক পর্যটকের চোখ এড়িয়ে যায়। আমার মনে হয়েছে, জাপানের বহু মানুষের মধ্যে যেন এক ধরনের নীরব ক্লান্তি, চাপা একাকিত্ব এবং অদৃশ্য শূন্যতা কাজ করছে।

টোকিওর ট্রেনে আমি দেখেছি অফিসগামী নারী-পুরুষ। অনেকে ট্রেনে বসেই সাজগোজ করছেন, কেউ মোবাইলে ব্যস্ত, কেউ চোখ বন্ধ করে বসে আছেন। তাঁদের মুখে হাসি কম, কথাবার্তা কম। একজন বাংলাদেশি হিসেবে, যেখানে মানুষ সহজে কথা বলে, হাসে এবং সম্পর্ক গড়ে তোলে, সেখানে এই দৃশ্য আমার কাছে কিছুটা যান্ত্রিক মনে হয়েছে।

এক রবিবার টোকিওর একটি উন্মুক্ত বাজারে গিয়ে আমি আরো অবাক হয়েছি। শহরের শিক্ষিত ও মধ্যবিত্ত নাগরিকরা ছোট ছোট স্টল বসিয়ে নিজেদের তৈরি পণ্য বিক্রি করছেনকেউ কাঠের তৈরি চশমা, কেউ হাতে বানানো স্টিকার, কেউ নিজস্ব রেসিপির খাবার, কেউ শিল্পকর্ম। প্রথমে আমার মনে প্রশ্ন জেগেছিলএটি কি অতিরিক্ত আয়ের প্রয়োজন, নাকি জীবনের অর্থ খোঁজার একটি প্রচেষ্টা? তবে বিষয়টি একপক্ষীয় নয়। জাপান বিশ্বের অন্যতম উচ্চ সাক্ষরতার দেশ। তাদের সাহিত্যচর্চার ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ। হাইকু কবিতা, উপন্যাস, নাটক, শিল্পকলা এবং সংগীত আজও জাপানি সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জাপান থেকে নোবেলজয়ী সাহিত্যিকও এসেছে। স্কুলে সাহিত্য শিক্ষা বাধ্যতামূলক এবং বই পড়ার সংস্কৃতি এখনো বিদ্যমান।

তাহলে আমি যে অনুভূতি পেয়েছি, সেটি কী? আমার মনে হয়, সেটি অর্থনৈতিক দারিদ্র্য নয়, বরং আধুনিক নগরজীবনের একটি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, প্রতিযোগিতা, কম জন্মহার, একাকী জীবন এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক সমাজব্যবস্থা অনেক মানুষকে মানসিকভাবে ক্লান্ত করে তুলতে পারে। প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক উন্নতি মানুষের জীবনে স্বাচ্ছন্দ্য আনতে পারে, কিন্তু সব সময় মানসিক প্রশান্তি নিশ্চিত করতে পারে না।

আমি বিশ্বাস করি, একজন প্রকৌশলী, স্থপতি, চিকিৎসক বা প্রশাসকযে-ই হোন না কেন, তাঁর সাহিত্য, ইতিহাস, দর্শন ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় থাকা জরুরি। প্রযুক্তি মানুষকে দক্ষ করে, কিন্তু সাহিত্য মানুষকে মানুষ করে। গণিত মস্তিষ্ককে শাণিত করে, কিন্তু কবিতা হৃদয়কে জাগ্রত করে। উন্নত সমাজ গঠনের জন্য উভয়েরই প্রয়োজন।

তাই জাপান সফর শেষে আমার উপলব্ধি হলো, শুধু অর্থনৈতিক উন্নতি নয়, মানুষের অন্তর্জগতের বিকাশও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একটি জাতি তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তার প্রযুক্তিগত অগ্রগতির পাশাপাশি তার মানুষের মনও সমৃদ্ধ হয়। তবে ন্যায়সংগতভাবে বলতে হয়, একজন বিদেশি পর্যটকের কয়েক দিনের অভিজ্ঞতা দিয়ে পুরো জাপানি সমাজকে বিচার করা যায় না। আমি যা দেখেছি, তা আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ। অন্য কেউ হয়তো একই জাপানে গিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন। কিন্তু ভ্রমণের সৌন্দর্য এখানেইএটি শুধু নতুন দেশ দেখায় না, আমাদের নিজেদের সমাজ ও মূল্যবোধকেও নতুন করে ভাবতে শেখায়।

লেখক : আলোকচিত্রী ও গণমাধ্যমকর্মী

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার হোক বৈদেশিক কর্মসংস্থানের নতুন আশার আলো

হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার হোক বৈদেশিক কর্মসংস্থানের নতুন আশার আলো

নতুন সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ফোনে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। অন্যদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে যথাক্রমে দিল্লি ও বেইজিং সফরের আমন্ত্রণ জানান। নানা জল্পনাকল্পনার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর হিসেবে মালয়েশিয়ায় যাচ্ছেন। আগামী ২১ ও ২২ জুন দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে তিনি মালয়েশিয়ায় অবস্থান করবেন। আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি এবং ভারত-চীন প্রতিযোগিতার বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর হিসেবে মালয়েশিয়াকে বেছে নেওয়া নিঃসন্দেহে সরকারের দূরদর্শী সিদ্ধান্ত। পরীক্ষিত ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু রাষ্ট্র মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য, শ্রমবাজার, অর্থনীতিসহ নানা ক্ষেত্রে সহযোগিতা-সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। তাই সামগ্রিক কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় প্রথম বিদেশ সফরে প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত ইতিবাচক।

ভারত ও চীনের ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা আর বিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্য ভারসাম্য রেখে এগিয়ে চলাটা জরুরি। তাই মালয়েশিয়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় সফর শুরুর বিষয়টিকে বাংলাদেশের ভারসাম্যমূলক কূটনৈতিক অবস্থানের বহিঃপ্রকাশ। আলোচ্যসূচি এখনো চূড়ান্ত না হলেও আসন্ন সফরে অভিবাসন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি শিক্ষা খাতে সহযোগিতার মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া ২০২৪ সালের ৩১ মে থেকে বন্ধ থাকা এই বিশাল শ্রমবাজারটি উচ্চ পর্যায়ের এই সরকারি সফরের মাধ্যমে পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। আশা করা যায়, প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর দীর্ঘ দুই বছর বন্ধ থাকা শ্রমবাজার পুনরায় চালু করতে অত্যন্ত ইতিবাচক এবং সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে। এই সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণের দ্বার উন্মোচিত হলে দুই দেশের সম্পর্ক আরো শক্তিশালী হবে। বর্তমান সরকার তাদের মেয়াদকালের পাঁচ বছরে এক কোটি মানুষের বৈদেশিক কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে কাজ করছে। মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণ পুনরায় শুরু হলে নতুন সরকারের বৈদেশিক কর্মসংস্থানের শুভ সূচনা হবে।

মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় শুরুর দিকে যে কয়টি দেশ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল, মালয়েশিয়া তার অন্যতম। বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু ও অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী মালয়েশিয়ায় ১৯৭৮ সালে প্রথম ২৩ জন কর্মী প্রেরণের মাধ্যমে অভিবাসন কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর ১৯৯২ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে দুই দেশের মধ্যে জনশক্তি নিয়োগের চুক্তি হয়। বর্তমানে মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিকদের মধ্যে ৩৭ শতাংশ বাংলাদেশি শ্রমিক। এ ছাড়া দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য প্রায় তিন বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। মালয়েশিয়া বাংলাদেশে পাম অয়েল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য রপ্তানি করে এবং বাংলাদেশ থেকে পোশাক, চামড়া ও ওষুধ আমদানি করে। এ ছাড়া পর্যটন ও সাংস্কৃতিক কারণে বাংলাদেশের মানুষের জন্য মালয়েশিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য। প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফরে মালয়েশিয়ার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, রপ্তানি, শ্রমবাজার, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে চলমান সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। তবে এই সফরে সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির আলোকে অভিবাসন, বাণিজ্য-বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ককে প্রাধান্য দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মালয়েশিয়ায় বর্তমানে ৯ লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মী কর্মরত। নিজস্ব কর্মী চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হওয়ায় মালয়েশীয় সরকার বিদেশি কর্মী নেওয়া স্থগিত করার আগ পর্যন্ত ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের ৩১ মে পর্যন্ত চার লাখ ৭৫ হাজার বাংলাদেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ পান। সে সময় বিদেশি শ্রমিকের চাহিদা না থাকায় মালয়েশীয় সরকার বাংলাদেশ, নেপাল, ভারত, পাকিস্তান, কম্বোডিয়াসহ ১৫টি সোর্স কান্ট্রি থেকে নতুন করে কর্মী নেওয়া স্থগিত করে। কিন্তু সম্প্রতি কর্মীর চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশটির সরকার অন্য কয়েকটি সোর্স কান্ট্রি থেকে কর্মী নেওয়া শুরু করলেও বাংলাদেশ এখনো কর্মী প্রেরণ শুরু করতে পারেনি। জানা গেছে, মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণ নিয়ে বাংলাদেশে নানা অসংগতিপূর্ণ মামলার কারণে সেখানে কর্মী প্রেরণের জট খুলছে না। আশা করা যাচ্ছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে কর্মী প্রেরণের এই জট পুরোপুরি খুলে যাবে।

চলতি অর্থবছরের মে পর্যন্ত মালয়েশিয়া থেকে প্রায় তিন বিলিয়ন ডলার প্রবাস আয় আমাদের রিজার্ভে যুক্ত হয়েছে। সেই বিবেচনায় মালয়েশিয়া বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর শ্রমবাজার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নতুনভাবে মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার পাশাপাশি আনডকুমেন্টেড কর্মীদের আইনি প্রক্রিয়ায় বৈধ করা এবং কর্মীদের ন্যায্য মজুুরি, নিরাপদ অভিবাসন ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়ে এই সফরে ফলপ্রসূ আলোচনা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। বাংলাদেশের বৈদেশিক শ্রমবাজার মূলত মধ্যপ্রাচ্য ও মালয়েশিয়া নির্ভর। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক দেশগুলোতে কর্মী যাওয়া একেবারেই কমে এসেছে। অন্যদিকে নানা আইনি জটিলতায় বন্ধ রয়েছে মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণ। এই প্রেক্ষাপটে বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু হলে বাংলাদেশের জন্য একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এবং নতুন আশার আলো হয়ে উঠতে পারে।

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের সুনাম দীর্ঘদিনের। অন্যান্য দেশের কর্মীদের তুলনায় বাংলাদেশি কর্মীরা কঠোর পরিশ্রমে অভ্যস্ত এবং স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে পারেন। তাই মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তাদের কাছেও বাংলাদেশি কর্মীদের চাহিদা সব সময়ই বেশি। এটি বাংলাদেশের কর্মঠ ও পরিশ্রমী যুবসমাজের জন্য একটি বিশাল সুযোগ। এ ছাড়া মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অত্যন্ত দ্রুতগতির। দেশটির উৎপাদন, নির্মাণ, কৃষি, প্ল্যান্টেশন এবং সেবা খাতে বিপুল পরিমাণ বিদেশি শ্রমিকের চাহিদা রয়েছে। তবে মালয়েশিয়ার এই বিশাল শ্রমবাজারের সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে হলে আমাদের অতীতের ভুলত্রুটি থেকে শিক্ষা নিতে হবে। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সফলভাবে কর্মী প্রেরণ করতে হলে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হলো ‘দক্ষতা’। বর্তমান বিশ্ববাজার শুধু সাধারণ শ্রমিকের নয়, বরং দক্ষ জনশক্তির খোঁজ করছে। মালয়েশিয়াও এখন প্রযুক্তিনির্ভর ও আধুনিক শিল্পায়নের দিকে ঝুঁকছে। তাই আমাদের পুরনো ধারার অদক্ষ কর্মী পাঠানোর মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। মালয়েশিয়ার কোন কোন খাতে কী ধরনের কর্মীর চাহিদা রয়েছে, তা আগে থেকেই নিরূপণ করে সেই অনুযায়ী আমাদের অভিবাসী ইচ্ছুকদের কারিগরি প্রশিক্ষণ দিতে হবে। কনস্ট্রাকশন, ড্রাইভিংসহ বিভিন্ন আধুনিক মেশিনারিজ পরিচালনার ওপর প্রশিক্ষণ ও ভাষাজ্ঞান শিক্ষা দিয়ে কর্মী পাঠাতে পারলে তাঁদের বেতন যেমন বেশি হবে, তেমনি কর্মক্ষেত্রে তাঁদের মর্যাদাও বৃদ্ধি পাবে।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার শুধু রেমিট্যান্স প্রবাহই বাড়াবে না, বরং এটি দেশের বেকারত্ব দূরীকরণেও এক বিশাল ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে যদি সঠিক কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া না যায়, তবে তা জনমিতিক লভ্যাংশ না হয়ে জনবিস্ফোরণে রূপ নিতে পারে। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার হতে পারে এই তরুণদের জন্য একটি সম্মানজনক জীবিকার উৎস। পরিশেষে বলা যায়, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন মালয়েশিয়া সফর বাংলাদেশের জন্য একটি স্বর্ণালি সুযোগ। এই সুযোগ মালয়েশিয়ায় বৈদেশিক কর্মসংস্থানে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। সরকার, রিক্রুটিং এজেন্সি ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারকে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের দীর্ঘস্থায়ী নতুন আশায় পরিণত করতে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সেই আশার আলো জাগিয়ে তুলতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এখন প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা।

 

লেখক : চেয়ারম্যান, ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি

প্রস্তুতিহীন বার্ধক্য মানে অন্ধকারে যাত্রা

হাসান আলী

প্রস্তুতিহীন বার্ধক্য মানে অন্ধকারে যাত্রা

মানুষের জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ের জন্য আমরা কমবেশি প্রস্তুতি গ্রহণ করি। শিশুর জন্মের আগে পরিবার প্রস্তুতি নেয়, শিক্ষাজীবনের জন্য পরিকল্পনা করা হয়, কর্মজীবনের জন্য প্রশিক্ষণ নেওয়া হয়, এমনকি অবসরজীবনের আর্থিক নিরাপত্তার জন্যও অনেকে সঞ্চয় করেন। কিন্তু জীবনের সবচেয়ে দীর্ঘ ও চ্যালেঞ্জপূর্ণ অধ্যায়—বার্ধক্যের জন্য আমাদের প্রস্তুতি খুবই সীমিত। ফলে অনেকের কাছে বার্ধক্য যেন অন্ধকারে যাত্রার শামিল হয়ে দাঁড়ায়।

আমাদের দেশে বেশির ভাগ মানুষ বার্ধক্যকে নিয়তির ওপর ছেড়ে দেন। কেউ মনে করেন, পর্যাপ্ত অর্থ-সম্পদ থাকলেই বার্ধক্যের সব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। আবার কেউ সন্তানদের সামর্থ্য ও দায়িত্ববোধের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভর করে থাকেন। বাস্তবতা হলো, অর্থ কিংবা পারিবারিক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এগুলো বার্ধক্যের সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার নিশ্চয়তা নয়। সুস্থ ও মর্যাদাপূর্ণ বার্ধক্যের জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি এবং সক্রিয় জীবনযাপনের মানসিকতা।

সক্রিয় বার্ধক্যের অন্যতম শর্ত হলো শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা। আমরা শারীরিক অসুস্থতার জন্য চিকিৎসকের কাছে যেতে যতটা আগ্রহী, মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে ততটাই উদাসীন। অথচ বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে একাকিত্ব, অবসাদ, উদ্বেগ, প্রিয়জন হারানোর বেদনা, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং আত্মসম্মানবোধের সংকট অনেক প্রবীণের জীবনে বড় সমস্যা হয়ে দেখা দেয়। এসব বিষয়ে সচেতনতা ও প্রস্তুতির অভাব তাঁদের জীবনকে আরো কঠিন করে তোলে।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, একটি শিশুকে আমরা ছোটবেলা থেকেই নানা শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করি। তাকে একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজ একযোগে কাজ করে। কিন্তু একজন মানুষ যখন বার্ধক্যে প্রবেশ করেন, তখন তাঁর জন্য কোনো নিয়মিত প্রশিক্ষণ, কাউন্সেলিং বা প্রস্তুতিমূলক কর্মসূচি প্রায় নেই বললেই চলে। কিভাবে বয়সজনিত পরিবর্তন মেনে নিতে হবে, কিভাবে সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখতে হবে, কিভাবে স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবেলা করতে হবে কিংবা কিভাবে একাকিত্বের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে—এসব বিষয়ে খুব কম মানুষই কোনো দিকনির্দেশনা পান।

আমাদের মনে রাখতে হবে, বার্ধক্য একটি ব্যক্তিগত যাত্রা। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে, কিন্তু বার্ধক্যের অনেক বাস্তবতা একজন মানুষকে নিজেকেই মোকাবেলা করতে হয়। তাই বার্ধক্যের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া বিলাসিতা নয়, বরং জীবনের অপরিহার্য দায়িত্ব।

সম্প্রতি মিরপুরে ৭৫ বছর বয়সী নূরজাহান বেগমের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই তাঁর সন্তানদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এবং শাস্তির দাবি জানিয়েছে। প্রবীণদের প্রতি অবহেলা বা নির্যাতনের ঘটনা অবশ্যই উদ্বেগজনক এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ হওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশে মা-বাবার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ বিদ্যমান। আইন অনুযায়ী কেউ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তার বিচার হওয়া উচিত। তবে কোনো ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও সব পক্ষের বক্তব্য শোনার আগেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাওয়া সমাজের জন্য ইতিবাচক নয়। যদি প্রতিটি পারিবারিক সংকটকে আমরা শুধু সন্দেহ ও অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে দেখি, তাহলে পরিবার নামক প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিই দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হলে তার প্রভাব সমাজের ওপরও পড়ে, যা দীর্ঘ মেয়াদে সামাজিক অস্থিরতার কারণ হতে পারে।

বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় দুই কোটি প্রবীণ মানুষ পরিবারে বসবাস করেন। অন্যদিকে বৃদ্ধাশ্রম ও প্রবীণ নিবাসে বসবাসকারী প্রবীণের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে খুবই কম। এই বাস্তবতা প্রমাণ করে যে আমাদের সমাজে পরিবার এখনো প্রবীণদের প্রধান আশ্রয়স্থল। তাই বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার কারণে পারিবারিক সম্পর্ককে সার্বিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ না করে পরিবারকে আরো সহানুভূতিশীল ও দায়িত্বশীল করে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে।

সময়ের দাবি হলো বার্ধক্যকে শুধু বয়সের বিষয় হিসেবে না দেখে জীবনব্যাপী প্রস্তুতির একটি অংশ হিসেবে বিবেচনা করা। আর্থিক সঞ্চয়ের পাশাপাশি প্রয়োজন স্বাস্থ্যসচেতনতা, মানসিক প্রস্তুতি, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং পারিবারিক সম্পর্কের যত্ন। আজকের প্রস্তুতিই আগামী দিনের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ বার্ধক্যের ভিত্তি। কারণ প্রস্তুতিহীন বার্ধক্য সত্যি অন্ধকারে যাত্রার শামিল।

 

লেখক : প্রবীণ বিষয়ে লেখক ও সংগঠক