বয়স কম বলে ব্রাজিলের মতো দলের বিপক্ষে তাঁকে খেলানোটা বড্ড ঝুঁকির হয়ে যাবে বলেই মনে করছিলেন অনেকে। কিন্তু বাইরের কথায় কান না দিয়ে মরক্কোর কোচ মোহামেদ ওয়াহবি শুনেছেন নিজের মনের কথা। তাঁর মন বলছিল, এই ছেলে পারবে! পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে বিশ্বকাপ অভিষেকে ১৮ বছরের তরুণ আইয়ুব বুয়াদ্দি পেরেছেনও। চোখ-ঝলসানো পারফরম্যান্স দিয়ে মুগ্ধতাও ছড়িয়েছেন। ব্রাজিলের বিপক্ষে মধ্যমাঠের দখল বুঝে নেওয়া এই তরুণকে নিয়ে এখন ওয়াহবি নিশ্চিন্তেই বলতে পারছেন, ‘বয়স মাত্র ১৮ বছর বলে ওকে ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলানোটা ঝুঁকির হতে পারে না। আমি শুধু খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স দেখি, বয়স নয়।’
মরক্কোর প্রথম ম্যাচেই এই তরুণ মিডফিল্ডারকে মাঝমাঠে লড়তে হয়েছে অভিজ্ঞ কাসেমিরো ও ফাবিনহোর সঙ্গে। সেই লড়াইটা অসমই হওয়ার কথা ছিল, হয়েছেও। পার্থক্য বলতে ব্রাজিলিয়ানদের অভিজ্ঞতাই এখানে হার মেনেছে বুয়াদ্দির মতো তরুণের কাছে। বল দখলের লড়াইয়ে দারুণ কৃতিত্ব দেখিয়েছেন তিনি। ৯ বার প্রতিপক্ষের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়েছেন, সফলভাবে চারটি ট্যাকল করেছেন এবং একটি বল ক্লিয়ার করেছেন। ৬৬টি পাসের মধ্যে ৬০টিই নিখুঁত ছিল তাঁর। কোচ ওয়াহবি অবাক হচ্ছেন না, কারণ গত অক্টোবরে আঠারোয় পা দেওয়া বুয়াদ্দিকে যথেষ্টই পর্যবেক্ষণ করা হয়ে গিয়েছিল তাঁর। এরই মধ্যে ফরাসি লিগের দল লিলের হয়ে গত দুই বছরেই ৬৩ ম্যাচ খেলেছেন বুয়াদ্দি। সেখান থেকেই তিনি নজর কেড়েছেন ওয়াহবির। এ জন্যই মরক্কান কোচ বেশ জোর দিয়ে বলতে পারছেন, ‘সে আমাকে অবাক করেনি, কারণ আগেই আমরা জানতাম সে কোন মাপের খেলোয়াড়।’
বুয়াদ্দিকে পেতে এখন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দল আর্সেনাল-লিভারপুল বড় অঙ্কের দর-কষাকাষি শুরু করেছে। অথচ মরক্কান বংশোদ্ভূত এই তরুণ খেলতে পারতেন ফ্রান্সের হয়েই। ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া বুয়াদ্দি ২০২২ সাল থেকে শুরু করে চলতি বছর পর্যন্ত ফ্রান্সের বয়সভিত্তিক দলগুলোর প্রতিনিধিত্বই করছিলেন। ফরাসিদের অনূর্ধ্ব-১৬ থেকে অনূর্ধ্ব-২১ পর্যন্ত সব বয়সভিত্তিক দলেই খেলেছেন। মাত্র মাসখানেক আগে তাঁকে পেতে চেষ্টা করে সফল হয় মরক্কো। মে মাসে মরক্কোর জার্সিতে খেলার ছাড়পত্র পান তিনি ফিফার কাছ থেকে এবং বিশ্বকাপ স্কোয়াডেও ঠাঁই করে নেন। এবার বিশ্বকাপে মাঝমাঠে ব্রাজিলের অভিজ্ঞতাকে হারিয়েও চোখে পড়লেন সারা বিশ্বের।