বান্দরবানের লামায় টানা বর্ষণের পর পাহাড়ি ঢলে মুহূর্তেই ফুলে-ফেঁপে ওঠে খাল-ছড়া, তলিয়ে যায় রাস্তাঘাট, পানিতে ডুবে যায় বসতভিটা। ভয়াল পাহাড়ধসে মাটিচাপা পড়ে নিভে যায় পাঁচটি প্রাণ। কারো ঘর ভেঙে পড়ে, কারো জীবিকার শেষ সম্বলটুকুও হারিয়ে যায়। পানি নেমে যাওয়ার পরও শেষ হয়নি মানুষের দুর্ভোগ, বরং শুরু হয় খাদ্যসংকট, অনিশ্চয়তা আর নতুন করে বেঁচে থাকার সংগ্রাম। এমন কঠিন সময়ে লামায় মানবতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। সম্প্রতি বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে লামা পৌরসভার নয়াবাজার, মধুঝিরি পূর্ব পাড়া, ফরেস্ট কলোনিসহ বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকার অতিদরিদ্র পরিবারের মাঝে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী। দিনমজুর, নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী ও প্রান্তিক পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়ে। কয়েক দিনের কর্মহীনতায় অনেক পরিবারের খাবার ফুরিয়ে যায়। অনেকে জানত না পরের বেলার খাবার কোথা থেকে আসবে।
এই বাস্তবতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের স্বেচ্ছাসেবকরা মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেন প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী। দুর্গত পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন, তাদের কষ্টের কথা শোনেন এবং পাশে থাকার আশ্বাস দেন। তাদের মানবিক উপস্থিতি বিপর্যস্ত মানুষের মনে নতুন করে আশার সঞ্চার করে।
খাদ্য সহায়তা পেয়ে এক উপকারভোগী বলেন, ‘বন্যার পর থেকে সংসারে খুব কষ্ট চলছিল। কাজ ছিল না, ঘরেও খাবার শেষ হয়ে গিয়েছিল। সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে কী করব বুঝতে পারছিলাম না। বসুন্ধরা শুভসংঘ আমাদের ঘরে এসে খাদ্যসামগ্রী দিয়েছে। এই সহযোগিতা আমাদের জন্য অনেক বড় স্বস্তি। আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন।’ বসুন্ধরা শুভসংঘ লামা উপজেলা শাখার সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বসুন্ধরা শুভসংঘ সারা দেশে গরিব অসহায় মানুষের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি আমরা। দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় মানবিক দায়িত্ব। ভবিষ্যতেও যেকোনো দুর্যোগে দুর্গত মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করব।’ খাদ্য সহায়তা বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ লামা উপজেলা শাখার মো. ইরান, ইয়াছিন মামুন, তারিফুল ইসলাম, ইমদাদুল হক, ইলিয়াছ উদ্দিন, আমিনুল হক, আবিদুল হক, মো. মামুন, সিহাবসহ বসুন্ধরা শুভসংঘের স্বেচ্ছাসেবকরা।




আগুন জ্বলেনি, হাঁড়িতে ভাত ওঠেনি। কাজ নেই, আয় নেই, আছে শুধু অনিশ্চয়তা। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে দুর্গম পাহাড়ি পথ অতিক্রম করে বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন বসুন্ধরা শুভসংঘের বন্ধুরা। সম্প্রতি বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার ৩ নম্বর নয়াপাড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্গম মেরিংচর পাড়ায় বন্যাকবলিত পরিবারগুলোর মাঝে জরুরি খাদ্য সহায়তা বিতরণ করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ আলীকদম উপজেলা শাখা। যোগাযোগব্যবস্থা প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেও স্বেচ্ছাসেবকরা ঝুঁকি নিয়েই দুর্গত মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেন প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী। স্থানীয় লোকজন জানায়, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে মেরিংচর পাড়াসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বেশির ভাগ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারেনি। বাজারে যাওয়ার সুযোগ ছিল না, নৌকা ছাড়া চলাচলের উপায়ও ছিল না। ফলে খাদ্যসংকট দিন দিন আরো তীব্র হয়ে ওঠে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ে দিনমজুর, ক্ষুদ্র কৃষক ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো, যাদের দৈনন্দিন আয়ের ওপরই সংসার চলে। এমন পরিস্থিতিতে বসুন্ধরা শুভসংঘের স্বেচ্ছাসেবকদের উপস্থিতি দুর্গত মানুষের মুখে হাসি ফোটায়। শুধু খাদ্যসামগ্রী নয়, তাঁরা পৌঁছে দেন সহমর্মিতার বার্তা। সহায়তা গ্রহণ করে এক উপকারভোগী বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে আমরা পানিবন্দি। কাজকর্ম বন্ধ, আয়-রোজগার নেই। বন্যায় ফসলও নষ্ট হয়ে

