জীবনে প্রথম আয় করেছি ফুটবল খেলেই
রওনক হাসান অভিনয়শিল্পী
স্কুলজীবনে প্রচুর ফুটবল খেলেছি, বলতে গেলে ফুটবলে মেতে থাকতাম। এই নিয়ে বেশ খ্যাতিও ছিল আমার, স্কুল ও পাড়ায়। বেশির ভাগ সময় গোলকিপার হয়েই খেলেছি, পরে স্ট্রাইকার হয়ে উঠি। একবার খেপেও খেলতে গিয়েছিলাম, ১৯৯১ সালের ঘটনা। ওই ম্যাচের জন্য কুড়ি টাকা পেয়েছিলাম, এটাই ছিল আমার জীবনের প্রথম আয়। পাশাপাশি এটাও বলে রাখছি, ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের সময় ফুটবল নিয়ে আমি প্রথম ছড়াগান লিখি। তাই আমার প্রথম লেখাও ফুটবল নিয়েই। কলেজজীবনে সাভার যাওয়ার পরেও ফুটবল খেলা থেমে থাকেনি। এখানেও ফুটবলার হিসেবে পরিচিতি হলো, একবার এক ক্লাবের হয়ে সেমিফাইনাল খেলেছিলাম। আমাকে যখন নামানো হয়েছিল, তখন খেলার মাত্র ১০ মিনিট বাকি। প্রয়োজন ছিল একটি গোলের, তবেই ড্র হবে। সেই কাঙ্ক্ষিত গোলটা করলাম আমিই। খেলা শেষে ট্রাইব্রেকারে গড়াল, সেখানেও দুটি গোল আমি দিই৷ আমাদের দল ফাইনালে ওঠে। সেই থেকে সাভার এলাকায় আমার খুব নামডাক হয়। দেখা গেল, বাসে উঠলেই আমার হয়ে আরেকজন ভাড়া দিয়ে দিচ্ছে, ব্যাপারটা খুব উপভোগ করতাম।

গিয়াস উদ্দিন সেলিম
ফুটবল খেলা আমি এখনো ছাড়িনি
গিয়াস উদ্দিন সেলিম নির্মাতা
ফেনীতে ফুটবল নিয়ে আলাদা একটা আবেগ আছে। আমাদের সময় যেন আরেকটু বেশিই ছিল। স্কুলে বিরতির সময় ফুটবল খেলা ছিল বাধ্যতামূলক, তারপর বিকেলে কিংবা ছুটির দিনে পাড়ার মাঠে খেলতে যাওয়া। আশির দশকের ঘটনা, তখন ৪ ফুট ৯ ইঞ্চি উচ্চতার ছেলেদের নিয়ে একটা আন্ত ফুটবল টুর্নামেন্ট চালু করেছিল সরকার। ওখানে আমি খেলি। ফেনীরই একটা ক্লাব ‘অগ্রদূত সংসদ’-এর হয়ে বেশ কয়েকটি ম্যাচ খেলেছিলাম। তখন ‘ফেনী সকার ক্লাব’-এর সুবর্ণ সময়, তবে ওখানে কখনো যাওয়া হয়নি। একবার পুলিশ লাইনস স্কুল মাঠে খেলতে গিয়ে পা কেটে গিয়েছিল, স্কুলের অন্য প্রান্তেই হাসপাতাল। আমি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে সেখানে যাই, নার্স আমার পা সেলাই করতে চেয়েছিল, আমি তখন কোনোভাবেই রাজি হচ্ছিলাম না। পরে ড্রেসিং করিয়ে চলে আসি। তবে ফুটবল খেলা এখনো ছাড়িনি। এখনো নিয়মিতভাবে প্রতিদিন সকালে ধানমণ্ডির আবাহনী মাঠে খেলতে যাই।
খেলতে গিয়ে একবার হাত ভেঙে গিয়েছিল
ইন্তেখাব দিনার অভিনয়শিল্পী
আমি পড়তাম ঢাকার গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুলে। কখনো সহপাঠীদের সঙ্গে আবার কখনো সিনিয়র-জুনিয়রদের সঙ্গে খেলতাম। স্কুল মাঠে জায়গা না পেলে ঢাকা কলেজের মাঠে যেতাম। বিশেষভাবে বলব আজিমপুর কলোনির মাঠের কথা। তখন তো মোবাইল ফোন ছিল না, বিকেলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সবাই খেলার জন্য চলে আসত। বৃষ্টির মধ্যে খেলা আরো জমে উঠত, আমার পজিশন ছিল মিডফিল্ডার। আমার খেলার খ্যাতি আমার বন্ধুদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। একবার খেলতে গিয়ে হাত ভেঙে গিয়েছিল, সেটা বেশ ভুগিয়েছিল। অনেক দিন খেলা থেকে দূরে থাকতে হয়েছিল।

তানিম নূর
আমার বড় ভাই খেপে খেলতে যেত
তানিম নূর নির্মাতা
রেসিডেনসিয়াল স্কুলের ছাত্র আমি। ওখানকার সবাই ফুটবলে আগ্রহী ছিল। ফুটবলে আমার আগ্রহ বাড়ে সেখানে ভর্তি হওয়ার পর। আমাদের নির্দিষ্ট কোনো পজিশন ছিল না, পরিস্থিতি বুঝে সবাই সুযোগ নিয়ে খেলত। তবে আমার পছন্দের পজিশন স্ট্রাইকার। একসময় ফুটবল খেলাটা নেশার পর্যায়ে চলে যায়। স্কুলের বাইরেও নানা জায়গায় খেলতে গিয়েছি। খেলতে গিয়ে কয়েকবার আহতও হয়েছি, তবু দম কমেনি। আমার কখনোই খেপে গিয়ে খেলা হয়নি, তবে এই ক্ষেত্রে আমার বড় ভাইয়ের বেশ খ্যাতি ছিল। সে নানা জায়গায় খেলতে যেত, ওর জনপ্রিয়তা উপভোগ করতাম।
আমার দেহে যত আঘাতের চিহ্ন, ওটা ফুটবলেরই দান
আরশ খান অভিনয়শিল্পী
আমি ফুটবলের ডাই-হার্ড ফ্যান। এমনও দিন গেছে, সারা দিন ফুটবলই খেলেছি। খেলতে খেলতে অনেক ইনজুরিতে পড়েছি। আমার দেহে যত আঘাতের চিহ্ন, ওটা ফুটবলেরই দান। তখন এই ইনজুরিগুলোকে পাত্তা দিতাম না, আবার খেলতে নেমে যেতাম। স্ট্রাইকার হিসেবে আমার খ্যাতি ছিল। সবাই জানত, কেউ আসুক না আসুক খেলার জন্য আরশ আসবেই। সেই ইনজুরিগুলো এখনো আমাকে ভোগায়৷ এখনো যখন মাঠের পাশ দিয়ে যাই, ইচ্ছা করে যে নেমে পড়ি ফুটবল খেলতে। ইচ্ছাটাকে দমন করি। কারণ দেহে আর কোনো ইনজুরি হোক, সেটা চাই না।
খুব বাজেভাবে হেরে গিয়েছিলাম
জুনায়েদ বোগদাদি অভিনয়শিল্পী
স্কুলজীবনে খেলাটাই ছিল সবচেয়ে আনন্দের। সারা বছর ফুটবল আর ক্রিকেট নিয়েই মেতে থাকতাম। পড়াশোনার চেয়ে খেলাটাই বেশি উপভোগ করতাম। আর যখন বিশ্বকাপ ফুটবল আসত, আমাদের প্রধান ফটকে বিশাল পতাকা লাগিয়ে দিতাম। পরিবারের সবাই আর্জেন্টিনার সমর্থক। বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ফুটবল খেলায় অংশ নিতাম। একবার আন্ত স্কুল টুর্নামেন্টে জেলা স্কুলের সঙ্গে আমাদের খেলা পড়েছিল। বিরতির আগ পর্যন্ত আমরা সমানে সমান ছিলাম। বিরতির সময় বৃষ্টি হওয়ায় মাঠ গেল পিছলে, তার ওপর আমরা ছিলাম নিচে, ওরা ওপরে খেলছিল। আমরা আর পেরে উঠিনি। খুব বাজেভাবে হেরেছিলাম। মনে পড়লে এখনো খুব খারাপ লাগে।




