• ই-পেপার

মহাসড়কে ভোগান্তি

টাঙ্গাইলে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
টাঙ্গাইলে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

টাঙ্গাইলে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মনিরুজ্জামান মনির বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন আরিফনগর ছাত্রাবাসে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মনির আইসিটি বিভাগের ২২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর বাড়ি দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলার মির্জাপুর গ্রামে। সহপাঠীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন আরিফনগর এলাকার খাজা ছাত্রাবাসের তৃতীয় তলায় থাকতেন মনির। রাত ১০টার দিকে কয়েকজন সহপাঠী নিজেদের রুমের বারান্দায় আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় মনিরের হাত বিদ্যুতের তারের সঙ্গে লাগে। এতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ভবনের নিচে পুকুরে পড়ে যান তিনি। পরে গুরুতর অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

নিখোঁজ স্কুলছাত্রী বুড়িচংয়ে উদ্ধার

সন্দ্বীপ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
নিখোঁজ স্কুলছাত্রী বুড়িচংয়ে উদ্ধার

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ থেকে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী সানজিদা আক্তার আনিশা (১২) কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কাবিলা বাজার এলাকা থেকে উদ্ধার হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ভোরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। এর আগে গত বৃহস্পতিবা বিকেল দেড়টার দিকে সন্দ্বীপ আনন্দ পাঠশালা স্কুলের গেট থেকে আনিশা নিখোঁজ হয়। সে সন্দ্বীপ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের তালতলী বাজার এলাকার ব্যবসায়ী শাহাদাতের মেয়ে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, আনিশা বিরতির সময় এক যুবকের সঙ্গে স্কুল থেকে বের হয়ে অটোরিকশায় ওঠে। এর আগেও জরুরি প্রয়োজনে তার মাধ্যমে আনিশাকে স্কুল থেকে আনা হয়েছিল। ঘটনার দিন যুবকটি তার মায়ের অসুস্থতার কথা বলে আনিশাকে একটি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়।

ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণার পরও নির্মাণ হয়নি নতুন সেতু

ঝালকাঠি প্রতিনিধি
ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণার পরও নির্মাণ হয়নি নতুন সেতু

বরিশাল-খুলনা আঞ্চলিক মহাসড়কের ঝালকাঠি বাসন্ডা বেইলি সেতুটিকে ১০ বছর আগে সেতু বিভাগ ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করলেও নির্মাণ হয়নি নতুন সেতু। সেতুটি ভেঙে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ভারী যান চালক ও স্থানীয়রা।

সূত্র জানায়, ১৯৮৯ সালে ঝালকাঠি সদর উপজেলার বাসন্ডা নদীর ওপর বেইলি সেতুটি নির্মাণ করা হয়। এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৭০০ ভারী যানবাহন চলাচল করে। ভারী যানবাহন চলাচল করায় সেতুর স্টিলের পাটাতন ফেটে যায় এবং নাট-বল্টু খুলে যায়। এ কারণে এটি বারবার মেরামত করা হলেও কয়েক দিনের মধ্যে আবার যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এ কারণেই ২০১৬ সালে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে সওজ।

খুলনা-বরিশাল রুটের যাত্রীবাহী বাসচালক মোকলেসুর রহমান হাওলাদার বলেন, দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকলেও প্রতিদিন যাত্রীদের নিয়ে সেতু পার হতে হয়।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী শাহরিয়ার শরীফ খান বলেন, এই সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এরই মধ্যে নতুন সেতু নির্মাণের জন্য আমরা ফিজিবিলিটি স্টাডি সম্পন্ন করেছি। ডিপিপি বাস্তবায়ন হলে শিগগিরই এখানে নতুন সেতু নির্মাণ করা হবে।

 

লালপুর

খাল খনন প্রকল্পে অনিয়ম

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
খাল খনন প্রকল্পে অনিয়ম

নাটোরের লালপুর উপজেলার ওয়ালিয়া খাল খনন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় লোকজনের দাবি, খাল দখলমুক্ত করার নামে দরিদ্র মানুষের বসতঘর ও গাছপালা উচ্ছেদ করা হলেও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অবৈধ দখল অক্ষত রাখা হয়েছে। ফলে সরকারের কোটি টাকার এই প্রকল্পের কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, ওয়ালিয়া ব্রিজ থেকে খলিশাডাঙ্গা নদী পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালটি ওয়ালিয়া ইউনিয়নের পানি নিষ্কাশন এবং ভবানীপুর বিলের জলাবদ্ধতা নিরসনের অন্যতম প্রধান জলপথ। দীর্ঘ পাঁচ বছরের দাবির পর প্রধানমন্ত্রীর খাল খনন কর্মসূচির আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়। লালপুর-বাগাতিপাড়া আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুলের উদ্যোগে এ কাজ বাস্তবায়ন করছে উপজেলা প্রশাসন।

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, খাল খননের উদ্বোধন ওয়ালিয়া ব্রিজ এলাকা থেকে হলেও কাজ শুরু করা হয় খলিশাডাঙ্গা নদীর দিক থেকে, যা পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। খালের কিছু অংশে অপ্রয়োজনীয়ভাবে বেশি গভীর ও প্রশস্ত করে খনন করা হয়েছে; ফলে বসতঘর, রাস্তা ও কবরস্থান ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এলাকাবাসীর প্রতিবাদের মুখে কাজ কিছু সময়ের জন্য বন্ধও থাকে।

পরবর্তী সময়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবীর হোসেন এবং জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন পরিদর্শন করে খননকাজ সন্তোষজনক বলে মন্তব্য করলেও স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, এর পর থেকেই কাজের ধরন পরিবর্তন করা হয়। মণ্ডলপাড়া এলাকায় ভ্যানচালকের পাকা ঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলেও যথাযথভাবে খনন না করে কর্দমাক্ত মাটি দুই পারে ফেলে রাখা হয়েছে। এতে বর্ষার পানিতে মাটি ধসে খালে পড়ে পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে।

অন্যদিকে কারিগরপাড়া এলাকায় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আত্মীয়-স্বজনের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করেই নামমাত্র খননকাজ সম্পন্ন করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা জানায়, ওই অংশে শুধু ময়লা ও কর্দমাক্ত মাটি সরিয়ে কাজ শেষ দেখানো হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালীদের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে প্রায় আধাকিলোমিটার এলাকা দখলমুক্ত না করেই কাজ চালানো হয়েছে।

এদিকে খালের মাটি বিক্রয়েও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। মাত্র এক লাখ ৪৭ হাজার টাকার সরকারি ডাকের বিপরীতে দুই লাখ ৩৮ হাজার টাকায় টেন্ডার অনুমোদন দেওয়া হয়। মাটি পরিবহনের কারণে ছয় কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় লোকজন।

এ বিষয়ে জানতে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মাসুদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরকত উল্লাহ বলেন, খালটি যথানিয়মে খনন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। আগে মনিটরিং টিমের মাধ্যমে কাজ যাচাই করা হয়েছে এবং তা সঠিক পাওয়া গেছে। কাজের চূড়ান্ত বিল পরিশোধের আগে আবারও যাচাই করা হবে।