নাটোরের লালপুর উপজেলার ওয়ালিয়া খাল খনন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় লোকজনের দাবি, খাল দখলমুক্ত করার নামে দরিদ্র মানুষের বসতঘর ও গাছপালা উচ্ছেদ করা হলেও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অবৈধ দখল অক্ষত রাখা হয়েছে। ফলে সরকারের কোটি টাকার এই প্রকল্পের কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, ওয়ালিয়া ব্রিজ থেকে খলিশাডাঙ্গা নদী পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালটি ওয়ালিয়া ইউনিয়নের পানি নিষ্কাশন এবং ভবানীপুর বিলের জলাবদ্ধতা নিরসনের অন্যতম প্রধান জলপথ। দীর্ঘ পাঁচ বছরের দাবির পর প্রধানমন্ত্রীর খাল খনন কর্মসূচির আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়। লালপুর-বাগাতিপাড়া আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুলের উদ্যোগে এ কাজ বাস্তবায়ন করছে উপজেলা প্রশাসন।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, খাল খননের উদ্বোধন ওয়ালিয়া ব্রিজ এলাকা থেকে হলেও কাজ শুরু করা হয় খলিশাডাঙ্গা নদীর দিক থেকে, যা পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। খালের কিছু অংশে অপ্রয়োজনীয়ভাবে বেশি গভীর ও প্রশস্ত করে খনন করা হয়েছে; ফলে বসতঘর, রাস্তা ও কবরস্থান ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এলাকাবাসীর প্রতিবাদের মুখে কাজ কিছু সময়ের জন্য বন্ধও থাকে।
পরবর্তী সময়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবীর হোসেন এবং জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন পরিদর্শন করে খননকাজ সন্তোষজনক বলে মন্তব্য করলেও স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, এর পর থেকেই কাজের ধরন পরিবর্তন করা হয়। মণ্ডলপাড়া এলাকায় ভ্যানচালকের পাকা ঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলেও যথাযথভাবে খনন না করে কর্দমাক্ত মাটি দুই পারে ফেলে রাখা হয়েছে। এতে বর্ষার পানিতে মাটি ধসে খালে পড়ে পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে।
অন্যদিকে কারিগরপাড়া এলাকায় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আত্মীয়-স্বজনের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করেই নামমাত্র খননকাজ সম্পন্ন করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা জানায়, ওই অংশে শুধু ময়লা ও কর্দমাক্ত মাটি সরিয়ে কাজ শেষ দেখানো হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালীদের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে প্রায় আধাকিলোমিটার এলাকা দখলমুক্ত না করেই কাজ চালানো হয়েছে।
এদিকে খালের মাটি বিক্রয়েও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। মাত্র এক লাখ ৪৭ হাজার টাকার সরকারি ডাকের বিপরীতে দুই লাখ ৩৮ হাজার টাকায় টেন্ডার অনুমোদন দেওয়া হয়। মাটি পরিবহনের কারণে ছয় কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় লোকজন।
এ বিষয়ে জানতে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মাসুদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরকত উল্লাহ বলেন, ‘খালটি যথানিয়মে খনন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। আগে মনিটরিং টিমের মাধ্যমে কাজ যাচাই করা হয়েছে এবং তা সঠিক পাওয়া গেছে। কাজের চূড়ান্ত বিল পরিশোধের আগে আবারও যাচাই করা হবে।’