• ই-পেপার

সাঈদীর মামলার সাক্ষী সুখরঞ্জনকে ‘গুম’

সাবেক এএসপি ফজলুর রহমান কারাগারে

প্রেস ক্লাব ফেডারেশন গঠনে ঐকমত্য

জাতীয় প্রেস ক্লাব ও চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের যৌথ সভার সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
প্রেস ক্লাব ফেডারেশন গঠনে ঐকমত্য

দেশে সাংবাদিকদের অধিকার সুরক্ষা, পেশাগত মানোন্নয়ন এবং বিভাগীয় প্রেস ক্লাবগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতে একটি ফেডারেশন গঠনের বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছে জাতীয় প্রেস ক্লাব ও চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব নেতারা। শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাব ও চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের যৌথসভা চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে অনুষ্ঠিত হয়।

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ ও সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া। যৌথসভায় স্বাগত বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ শাহ নওয়াজ। অনুষ্ঠানে জাতীয় প্রেস ক্লাবের পক্ষে আরো বক্তব্য দেন দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, কোষাধ্যক্ষ বখতিয়ার রাণা, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য কাজী রওনাক হোসেন, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম মহসীন, সদস্য শাহনাজ বেগম পলি ও মোহাম্মদ মোমিন হোসেন। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের পক্ষে বক্তব্য দেন প্রেস ক্লাবের উপদেষ্টা ও কমনওয়েলথ জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (সিজেএ) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সেক্রেটারি জেনারেল ওসমান গণি মনসুর, উপদেষ্টা কাজী আবুল মনসুর, কার্যকরী সদস্য ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান।

যৌথসভায় বক্তারা বলেন, গত ১৫ বছরে গণমাধ্যম পচে-গলে ধ্বংস হয়ে গেছে। আমরা সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে বেরিয়ে আসতে চাই। এ জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। ঐক্যবদ্ধ থাকলে যেকোনো ধরনের কাজে সফল হওয়া সম্ভব। এখনো আমরা যা করছি তা একান্তই ব্যক্তিগত।

বক্তারা আরো বলেন, জুলাই হয়েছে বলে আজ আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে যৌথসভা করতে পারছি। তাই জুলাইয়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করলে চলবে না। একই সঙ্গে ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমরা জুলাইকে ধারণ করে পেশাগত মর্যাদাকে অক্ষুণ্ন রাখতে আন্দোলন-সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে।

যৌথ সভায় বেশ কিছু প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে সাংবাদিকদের পেশাগত উন্নয়নে যৌথভাবে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে, প্রেসগুলোকে নিয়ে যৌথ কনভেনশন করা, সাংবাদিকদের আবাসন সংকট নিরসন এবং যৌথভাবে ট্রেনিং প্রোগ্রাম করা।

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে হলো অ্যাড মেকার বাংলাদেশের ওয়ার্কশপ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে হলো অ্যাড মেকার বাংলাদেশের ওয়ার্কশপ

জাতীয় মার্কেটিং প্রতিযোগিতা ‘অ্যাড মেকার বাংলাদেশ ২০২৬’-এর ১১তম আসরের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত ওয়ার্কশপে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৫০-এর বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেন। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি ইয়াং এন্টারপ্রেনারস সোসাইটি আয়োজিত এই কর্মশালার মাধ্যমে প্রতিযোগিতার নতুন আসরের সূচনা হয়।

আয়োজকরা জানান, উদ্ভাবন, সৃজনশীলতা এবং শিক্ষা ও শিল্প খাতের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরির লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়েছে। তাঁরা বলছেন, এটি শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং এমন একটি উদ্যোগ, যেখানে আগামীর মার্কেটার, উদ্যোক্তা ও ব্যাবসায়িক নেতারা একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তব করপোরেট অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পান। প্রতিযোগিতার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা কৌশলগত চিন্তা-ভাবনা, সৃজনশীল সমস্যা সমাধান এবং নেতৃত্বের দক্ষতা বিকাশের বাস্তব অভিজ্ঞতা লাভ করেন।

 

নভো এয়ারের ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি, ঢাকায় জরুরি অবতরণ

বিমানে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নভো এয়ারের ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি, ঢাকায় জরুরি অবতরণ

রাজধানী থেকে কক্সবাজারগামী নভো এয়ারের বিকিউ-৯৩৫ ফ্লাইট উড্ডয়নের প্রায় ১৫ মিনিট পর যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সেটি ঢাকায় ফিরে জরুরি অবতরণ করেছে। ল্যান্ডিং গিয়ার স্বাভাবিকভাবে ওঠাতে না পারায় প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট আকাশে চক্কর দিয়ে বিমানটি নিরাপদে ঢাকায় অবতরণ করে। বিমানটিতে যাত্রা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র ও বেসামরিক বিমান পরিবহন উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে নভো এয়ারের বিমানটি ঢাকা থেকে উড়াল দেয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। কক্সবাজারে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকা থেকে যাচ্ছিলেন উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘উড্ডয়নের প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট পরই বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে। ল্যান্ডিং গিয়ার স্বাভাবিকভাবে ওপরে উঠছিল না। ক্যাপ্টেন বারবার চেষ্টা করলেও সেটি প্রত্যাহার করা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি বিবেচনায় তিনি বিমানটিকে ঢাকায় ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। প্রায় ৪৫ মিনিট আকাশে অবস্থান করার পর বিমানটি নিরাপদে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে।’ হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমি বিমান চলাচল বিষয়ে বিশেষজ্ঞ নই। তবে আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়েছে, ক্যাপ্টেনের সিদ্ধান্তটি একেবারেই সঠিক ছিল। যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই তিনি ঢাকায় ফিরে আসেন। তবে এ সময় বিমানের ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে শিশুদের কান্নাকাটি এবং যাত্রীদের উদ্বেগ পরিস্থিতিকে আরো অস্বস্তিকর করে তোলে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ল্যান্ডিং গিয়ার ওপরে উঠছিল না বলে ক্যাপ্টেনকে অবতরণের আগে কিছু সময় আকাশে থাকতে হয়েছে। তিনি ধীরে ধীরে বিমানের গতি কমিয়ে নিরাপদ অবতরণের প্রস্তুতি নেন। শেষ পর্যন্ত বিমানটি নিরাপদেই অবতরণ করে, আল্লাহর রহমতে বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।’ এ ঘটনার পর পুরনো উড়োজাহাজের ফিটনেস পরীক্ষা আরো কঠোর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন হুমায়ুন কবির।

 

ছাত্রশক্তি নেতার মামলায় মৃত চার আ. লীগ নেতা আসামি

বরিশাল

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
ছাত্রশক্তি নেতার মামলায় মৃত চার আ. লীগ নেতা আসামি

কার্যক্রম নিষিদ্ধ বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি খন্দকার রেজাউর রহমান রেজা। তিনি মারা গেছেন ২০২২ সালের ২২ জানুয়ারি। তবে তিনি গত বৃহস্পতিবার বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিস্ফোরক আইনে করা একটি মামলার আসামি।

রেজার বিরুদ্ধে অভিযোগ, আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে চলতি বছরের ১০ ও ১৬ জুন সড়ক অবরোধ ও মিছিল করেছেন তিনি। ঠেকাতে গেলে ছুড়েছেন ককটেল ও পেট্রল বোমা। এতে বিঘ্নিত হয়েছে দেশের শান্তি ও শৃঙ্খলা।

মামলাটি করেছেন জাতীয় ছাত্রশক্তির বরিশাল মহানগর শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মারজুক আবদুল্লাহ। বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গত বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের ২৪৮ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তিনি। বিচারক এস এম শরীয়ত উল্লাহ অভিযোগ আমলে নিয়ে বরিশাল মহানগর পুলিশের উপকমিশনারকে তদন্তের নির্দেশও দিয়েছেন।

তবে ওই মামলায় কেবল রেজা একাই নন, আসামির তালিকায় রয়েছে আওয়ামী লীগের আরো তিনজন মৃত নেতার নাম। তাঁরা তিন থেকে পাঁচ বছর আগে মারা গেলেও একই মামলায় একই অভিযোগে আসামি হয়েছেন। মারজুকের করা মামলার ১৯৮ নম্বর আসামি বরিশাল মহানগরের ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আবুল ফারুক হুমায়ুন। তিনি ২০২৩ সালের ২৫ মার্চ মারা গেছেন। মামলার ২২৫ নম্বর আসামি ২২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এইচ এম হাফিজুর রশিদ শিবলী। তিনি ২০২১ সালের ১৯ অক্টোবর মারা যান। একই বছরের ২৬ জুলাই মারা যান মামলার ১৯৫ নম্বর আসামি ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী হাওলাদার।

মারজুক ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বরিশাল জেলার সাবেক সমন্বয়ক। এখন তিনি জাতীয় ছাত্রশক্তির বরিশাল মহানগর শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। বরিশাল সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে নির্বাচনের ঘোষণাও দিয়েছিলেন।