• ই-পেপার

ইছামতীর পারে অবৈধ তৎপরতা

পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি

পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি

চলতি বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩৬ শতাংশই অংশ নিচ্ছে না। প্রতিবছর পাবলিক পরীক্ষায় অনেক শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করেও শেষ পর্যন্ত পরীক্ষায় অংশ নেয় না। গত বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অনুপস্থিতির হার ছিল ২৯ শতাংশের কিছু বেশি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে হারটি ৭ শতাংশ বেড়েছে। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপে এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য বড় অশনিসংকেত। শিক্ষার্থীরা কেন পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে নাএটি শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং এক গভীর সামাজিক সংকটের ইঙ্গিত। দারিদ্র্যের কশাঘাত, পারিবারিক বিপর্যয় এবং শিক্ষাসামগ্রীর দুষ্প্রাপ্যতা অনেককে ঝরে পড়তে বাধ্য করছে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক অস্থিরতা এবং মানসিকভাবে প্রস্তুত না থাকায় অনেকের মাঝে পরীক্ষার ভীতি তৈরি হয়েছে। এমতাবস্থায় কেন শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে, তার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে একটি নিরপেক্ষ অনুসন্ধান চালানো জরুরি। ঝরে পড়া রোধে কাউন্সেলিং, বৃত্তি প্রদান এবং শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ ও মানসিক সাহস জোগাতে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

সরফরাজ শিপন

শিক্ষার্থী, সরকারি শাহ্ সুলতান কলেজ, বগুড়া

অস্তিত্ব সংকটে বেঙ্গল টাইগার

অস্তিত্ব সংকটে বেঙ্গল টাইগার

বেঙ্গল টাইগার আমাদের জাতীয় অহংকার। কিন্তু আজ সেই অহংকার বিলুপ্তির প্রান্তে। বন উজাড়, জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, চোরাশিকার ও খাদ্যসংকটের কারণে সুন্দরবনে ক্রমেই কমছে এই প্রাণীর সংখ্যা। খাদ্যাভাবে বাঘ প্রায়ই লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে, যা মানুষ ও বাঘ উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর। সাম্প্রতিক বাঘগণনায় সংখ্যা কিছুটা ইতিবাচক দিক দেখা গেলেও চোরাশিকারিদের ফাঁদ এবং বনের ভেতর অনিয়ন্ত্রিত নৌযান চলাচলের কারণে অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে বাঘ।

বেঙ্গল টাইগার সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাঘ না থাকলে সুন্দরবনে হরিণ ও অন্যান্য তৃণভোজী প্রাণীর সংখ্যা লাগামহীনভাবে বেড়ে যাবে। এর ফলে তারা বনের নতুন গজানো কচি চারা গাছ খেয়ে ফেলবে এবং ধীরে ধীরে সবুজহীন হয়ে পড়বে সুন্দরবন। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ, ড্রোনের সাহায্যে স্মার্ট প্যাট্রলিং, বাঘের আবাসস্থল সংরক্ষণ, স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সচেতন করে সংকট নিরসনে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক। এ ছাড়া চোরাশিকারিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত অপরিহার্য।

নূর ছানজিদাহ স্মৃতি

শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

বিদ্যুৎ অপচয় রোধ করুন

বিদ্যুৎ অপচয় রোধ করুন

বিদ্যুৎ আমাদের জাতীয় অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত মূল্যবান ও অপরিহার্য সম্পদ। অথচ প্রতিদিন অবহেলা ও অসচেতনতার কারণে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ অপচয় হচ্ছে, যা দেশের উন্নয়নকে ব্যাহত করছে। দিনের উজ্জ্বল আলো থাকা সত্ত্বেও খালি ঘরে বাতি ও পাখা অনর্থক চলছে, বিপণিবিতান ও অফিস-আদালতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র অত্যন্ত কম তাপমাত্রায় চালিয়ে দরজা-জানালা খোলা রাখা হচ্ছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, সামান্য সচেতনতা, দায়িত্বশীল মনোভাব ও সঠিক ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য অংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা সম্ভব। বিদ্যুৎ অপচয়ের ফলে শিল্প-কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, কৃষিকাজে সেচ কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত আবেদন, বিষয়টির গুরুত্ব গভীরভাবে অনুধাবন করে জাতীয় গণমাধ্যমে ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান পরিচালনা করুন এবং অপচয় রোধে উপযুক্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। সবার সম্মিলিত সচেতনতা, দায়িত্ববোধ ও সহযোগিতায় বিদ্যুৎ অপচয় রোধ করা সম্ভব হলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

মুহাম্মদ শাফায়াত হুসাইন

কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ, কুষ্টিয়া

প্যারাসিটামল নিয়ে চাই সতর্কতা

প্যারাসিটামল নিয়ে চাই সতর্কতা

সামান্য মাথা ব্যথা বা একটু জ্বর জ্বর ভাব? কোনো চিন্তা না করেই আমরা পকেট থেকে বের করে খেয়ে নিচ্ছি একটি প্যারাসিটামল। মুড়ি-মুড়কির মতো ওষুধ কেনার এই সহজলভ্যতা আমাদের সাময়িক আরাম দিলেও অজান্তেই ঠেলে দিচ্ছে এক ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকির দিকে।

প্যারাসিটামল সেবনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু সতর্কতা মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে যারা নিয়মিত অ্যালকোহল গ্রহণ করে বা যাদের লিভারে আগে থেকেই সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য প্যারাসিটামল অত্যন্ত সংবেদনশীল। প্রতিবার ওষুধ সেবনের মাঝে অন্তত চার থেকে ছয় ঘণ্টার ব্যবধান রাখা বাঞ্ছনীয়। এই নিয়মের ব্যতিক্রম হলে এবং মাত্রাতিরিক্ত প্যারাসিটামল গ্রহণ করলে লিভার ও কিডনি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

বাংলাদেশে ওষুধ (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ ১৯৮২ অনুযায়ী, প্রেসক্রিপশন ছাড়া নির্দিষ্ট ওষুধ বিক্রি নিয়ন্ত্রিত হওয়ার কথা, কিন্তু বাস্তবে এই আইন কার্যত উপেক্ষিত। সাধারণ মানুষের এই অনিয়ন্ত্রিত ওষুধ কেনার প্রবণতা বন্ধে এবং ফার্মেসিতে প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ বিক্রি রোধে কঠোর আইন প্রয়োগ এখন সময়ের দাবি। প্রশাসনের উচিত অবিলম্বে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।

সোমনা আক্তার

শিক্ষার্থী, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ