• ই-পেপার

উন্নয়ন অর্থায়নে বড় ধাক্কা স্বল্পোন্নত দেশে ঝুঁকি বেশি

আজকের খেলা

আজকের খেলা

হামে আক্রান্ত

হামে আক্রান্ত
দেড় বছরের আনাস প্রচণ্ড জ্বরের পাশাপাশি হামে আক্রান্ত। তাকে নিয়ে চার দিন যাবৎ হাসপাতালে আছেন মা খাদিজা। বিছানায় বসে ছেলের মাথায় জলপট্টি দিয়ে জ্বর কমানোর চেষ্টা করছেন। ছবিটি বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল থেকে তোলা। ছবি : লুৎফর রহমান

একই সময়ে সূর্যের আলোতে পৃথিবীর ৯৯ শতাংশ মানুষ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
একই সময়ে সূর্যের আলোতে পৃথিবীর ৯৯ শতাংশ মানুষ

গতকাল বুধবার গ্রিনিচ মান সময় সকাল ১১টা ১০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা ১০ মিনিট) পৃথিবীর প্রায় ৯৯ শতাংশ মানুষ একই সময়ে দিনের আলো বা গোধূলি আলোর সাক্ষী হয়েছে। পৃথিবীর অক্ষের অবস্থান এবং উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকালের কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ৮৩ শতাংশ মানুষ সরাসরি পূর্ণ দিনের আলোতে ছিল। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় এক মিনিট স্থায়ী এই বিরল সময়ে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপ, আফ্রিকা এবং এশিয়ার বেশির ভাগ জনবহুল অঞ্চলের মানুষ একই সঙ্গে সূর্যের আলো পেয়েছে। অন্যদিকে এ সময় সম্পূর্ণ অন্ধকারে ছিল শুধু অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও অ্যান্টার্কটিকা। প্রতিবছর মে মাসের মাঝামাঝি থেকে জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে প্রায় ৬০ দিন ধরে দিনের একটি নির্দিষ্ট মুহূর্তে মানবজাতির প্রায় পুরোটাই সূর্যালোকের আওতায় থাকে।

গবেষকরা বলেন, পৃথিবীর ভৌগোলিক জনসংখ্যা বণ্টন এবং অক্ষীয় ঘূর্ণনের একটি নিখুঁত সমন্বয়ের কারণে এই বিরল ঘটনাটি ঘটে। তবে এটি মহাজাগতিক কোনো অলৌকিক ঘটনা নয়। বরং দুটি প্রধান কারণ একসঙ্গে মিলে যাওয়ায় এটি সম্ভব হয়। কারণ দুটি হলো উত্তর গোলার্ধে জনসংখ্যার অতিঘনত্ব। পৃথিবীর প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ উত্তর গোলার্ধে বসবাস করে। এই বিশেষ মুহূর্তে সূর্যের আলো যে অঞ্চলে পড়ে, তার মধ্যে এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা, উত্তর আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার মতো বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল অঞ্চলগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকে। ঠিক একই সময়ে পৃথিবীর যে অংশে রাত থাকে, সেটি মূলত বিশাল ও জনমানবহীন প্রশান্ত মহাসাগর, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড অঞ্চল। ফলে বিস্তীর্ণ এলাকা অন্ধকারে থাকলেও সেখানে মাত্র ১ শতাংশ মানুষের বসবাস। দ্বিতীয় কারণ হলো পৃথিবী তার কক্ষপথে ২৩.৫ ডিগ্রি কোণে হেলে ঘোরে। মে থেকে জুলাই মাসের এই সময়ে উত্তর গোলার্ধ সূর্যের দিকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকে থাকে। গ্রিনিচ মান সময় সকাল ১১টা ১০ মিনিটে সূর্যের অবস্থান এমন একটি নিখুঁত বিন্দুতে আসে, যা একই সঙ্গে আমেরিকার পশ্চিম উপকূল থেকে শুরু করে পূর্ব এশিয়ার শেষ প্রান্ত পর্যন্ত আলো (সরাসরি দিন অথবা গোধূলি) ছড়াতে পারে। তবে এই ৯৯ শতাংশ হিসাবের মধ্যে কিন্তু সবাই কড়া রোদ পায়নি। এর মধ্যে ৮৩ শতাংশ মানুষ সরাসরি দিনের আলোতে ছিল; বাকি ১৬ শতাংশ মানুষ ছিল গোধূলির আলোতে। বৈজ্ঞানিক নিয়মে গোধূলির আবছা আলোকেও সূর্যের আলোর অংশ ধরা হয় বলেই সংখ্যাটি ৯৯ শতাংশে পৌঁছেছে।

অনেকের ধারণা, বছরে শুধু এক দিনই এমন মুহূর্ত আসে। বিষয়টি আসলে তেমন নয়। প্রতিবছর ১৮ মে থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত অন্তত ৬০ দিন এমন সংক্ষিপ্ত মুহূর্ত আসে। ৮ জুলাই ঘিরে বেশি মাতামাতি হওয়ার কারণ সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি পোস্ট। ২০২২ সালের ওই পোস্টে দাবি করা হয়েছিল, বছরে শুধু এক দিনই এমন ঘটনা ঘটে। পরে নরওয়ের টাইম অ্যান্ড ডেটের একটি ফ্যাক্ট চেকে দেখা যায়, ৮ জুলাই দিনের ও গোধূলির আলো পাওয়ার পরিমাণ সবচেয়ে বেশি থাকলেও উত্তর গোলার্ধের গ্রীষ্মকালে প্রায় দুই মাস ধরে প্রতিদিন এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়। সূত্র : আল জাজিরা

 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বড় রদবদল

পররাষ্ট্রসচিব হচ্ছেন নোমান, জাতিসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান

দিল্লিতে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম

নিজস্ব প্রতিবেদক
পররাষ্ট্রসচিব হচ্ছেন নোমান, জাতিসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান

বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পাঁচ মাসের মাথায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বড় ধরনের রদবদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, নতুন পররাষ্ট্রসচিব, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী ও উপস্থায়ী প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার পরিবর্তন করা হচ্ছে, লন্ডনে হাইকমিশনার এবং জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি পদে নতুন নিয়োগ দিচ্ছে সরকার।

পররাষ্ট্রসচিব হিসেবে নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের বর্তমান স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরীকে নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান। তিনি ২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি থেকে নিউইয়র্কে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিসে যোগ দেওয়া সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এর আগে ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নেপালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। দীর্ঘ কূটনৈতিক জীবনে তিনি নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন, নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন, নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনসুলেট জেনারেল এবং ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশনে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জাতিসংঘ, অর্থনৈতিক, প্রশাসন, প্রটোকল, এক্সটারনাল পাবলিসিটি ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অনুবিভাগ এবং ফরেন সার্ভিস একাডেমিতেও কাজ করেছেন।

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মানবাধিকারকর্মী আইরিন খানকে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত পদে নিয়োগ দিয়ে গতকাল বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। তিনি একজন প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় বেতন-ভাতাসহ আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

আইরিন খান ২০২০ সালের ১ আগস্ট থেকে জাতিসংঘের বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৯৩ সালে এই ম্যান্ডেট চালুর পর তিনিই প্রথম নারী, যিনি এই পদে নিযুক্ত হন। এর আগে ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব ছিলেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগেই আইরিন খান নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন। ফলে তাঁর যোগদানের সময়সূচির সঙ্গে সমন্বয় করেই পররাষ্ট্রসচিব, দিল্লির হাইকমিশনার, জেনেভার স্থায়ী প্রতিনিধি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ কার্যকর হতে পারে।

এ ছাড়া নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের উপস্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে বিএনপির তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান (এপেলো)-কে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক উচ্চ পর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামকে ভারতে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বর্তমানে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ।

আসাদ আলম সিয়াম ২০২৫ সালের ২০ জুন পররাষ্ট্রসচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় চীনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মো. জসীম উদ্দিনকে পররাষ্ট্রসচিব করা হলেও প্রায় ৯ মাস পর তাঁকে ওই পদ থেকে সরিয়ে আসাদ আলম সিয়ামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

বর্তমানে ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহকে জেনেভায় জাতিসংঘ কার্যালয়ে বাংলাদেশের পরবর্তী স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। একই সঙ্গে বর্তমানে জেনেভায় দায়িত্বরত রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহানকে ঢাকায় ফিরিয়ে এনে ফরেন সার্ভিস একাডেমির রেক্টর হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

গত মার্চ থেকে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনারের পদ শূন্য রয়েছে। সরকার ফরেন সার্ভিস একাডেমির বর্তমান রেক্টর ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি মোহাম্মদ আব্দুল মুহিতকে লন্ডনে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

বিএনপি সরকার গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া পর্তুগাল, পোল্যান্ড, মেক্সিকো ও মালদ্বীপে নিযুক্ত চার রাষ্ট্রদূতকে দেশে ফেরার নির্দেশ দেয়। তাঁদের মধ্যে পর্তুগালে এম মাহফুজুল হক, পোল্যান্ডে মো. ময়নুল ইসলাম এবং মেক্সিকোতে এম মুশফিকুল ফজল (আনসারী) দেশে ফিরলেও মালদ্বীপে নিযুক্ত হাইকমিশনার মো. নাজমুল ইসলাম এখনো কর্মস্থলে রয়েছেন। তিনি সরকারের কাছে আবেদন করে দায়িত্ব অব্যাহত রেখেছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে সরকার এরই মধ্যে জকি আহাদকে ডেনমার্ক, নুর-ই আলমকে আয়ারল্যান্ড, এ এফ এম জাহিদুল ইসলামকে আর্জেন্টিনা এবং সাবেক প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসানকে পর্তুগালে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। পাশাপাশি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (আন্তঃসরকারি সংস্থাসমূহ) এম ফরহাদুল ইসলামকে মরিশাসে বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বর্তমানে সিঙ্গাপুর ও ইরানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের পদ শূন্য রয়েছে।

তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এসব নিয়োগ ও রদবদল বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।