• ই-পেপার

শিশু খুনের ঘটনায় উত্তাল আদিতমারী

  • সন্দেহভাজনের বাড়িতে আগুন ডিসি-এসপির গাড়ি ভাঙচুর
  • আরো ৫ জেলায় ৫ খুন

রাজধানীতে কুপিয়ে সাড়ে তিন লাখ টাকা ছিনতাই

অভিযানে নেমে হামলায় ওসি-এসআই আহত গুলিবিদ্ধ ২, আটক ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক
অভিযানে নেমে হামলায় ওসি-এসআই আহত গুলিবিদ্ধ ২, আটক ৪

রাজধানীর আদাবরে ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে পুলিশ। হামলাকারীরা কবজিকাটা গ্রুপের সদস্য বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ সময় ছিনতাইকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আদাবর থানার ওসি মো. জাহিদুল ইসলাম ও উপপরিদর্শক (এসআই) তরুণ কুমার দে আহত হন। পুলিশের গুলিতে আহত হয় দুই ছিনতাইকারী।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে আদাবর বুড়িগঙ্গা পেট্রল পাম্প সংলগ্ন বেড়িবাঁধ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ দুজনসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।

এর আগে সকাল ১১টার দিকে আদাবরের শেখেরটেক এলাকায় বিকাশ এজেন্ট শফিকুল ইসলামকে কুপিয়ে সাড়ে তিন লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর পুলিশ ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তারে ওই অভিযান চালায়।

আটক চারজনের মধ্যে গুলিবিদ্ধ দুজন হলেন মো. রুবেল ও মো. আমির। অন্য দুজন মো. কাশেম ও মো. জয়।

তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার জুয়েল রানা বলেন, অভিযান চলাকালে ছিনতাইকারীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে ওসিসহ দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। আহত পুলিশ সদস্যদের হাতে চাপাতির কোপ লেগেছে। তাঁদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। দুজন এখন শঙ্কামুক্ত। আটক চার ছিনতাইকারীর মধ্যে গুলিবিদ্ধ দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ছিনতাইকারীরা কবজি কাটা গ্রুপের সদস্য।

পুলিশ জানায়, কবজি কাটা গ্রুপের প্রধান মো. আনোয়ার ওরফে শ্যুটার আনোয়ার ওরফে কবজি কাটা আনোয়ার।

তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান বলেন, আদাবর থানার পুলিশ বেড়িবাঁধ এলাকার একটি কক্ষে অভিযান চালায়। এ সময় সেখানে অবস্থানরত ছিনতাইকারীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে আদাবর থানার ওসি এবং একজন এসআই আহত হয়েছেন। হামলার মুখে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি ছুড়লে দুই ছিনতাইকারী রুবেল ও আমির গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনায় ওই দুজনসহ চারজনকে আটক করা হয়।

এর আগে গতকাল সকাল ১১টার দিকে শেখেরটেক ৭ নম্বর সড়কের মাথায় বিকাশ এজেন্ট শফিকুল ইসলামকে (৩৯) কুপিয়ে সাড়ে তিন লাখ টাকা লুট করে ছিনতাইকারীরা। তিনি পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

শফিকুলের তথ্যের বরাতে তাঁর বড় ভাই মুসলিম হোসেন বলেন, দুই যুবক আমার ভাইয়ের দোকানে এসে দোকানের ক্যাশে হাত দিয়ে জোর করে টাকা নেওয়ার চেষ্টা করলে ভাই প্রথমে বাধা দেয়। তখন তাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে ক্যাশে থাকা সব টাকা নিয়ে যায়। দুর্বৃত্তরা চাপাতি দিয়ে শফিকুলের বাঁ হাত, মাথা এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপ দেয়।

ক্যাশে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা ছিল বলে শফিকুলের কাছ থেকে জেনেছেন মুসলিম।

 

দুনিয়া মাতানো ফুটবল বিশ্বকাপ

এমবাপ্পের রেকর্ডে জয়ে শুরু ফ্রান্সের

এমবাপ্পের রেকর্ডে জয়ে শুরু ফ্রান্সের
সেনেগালের বিপক্ষে প্রথম গোলের পর উদযাপন এমবাপ্পের। ছবি : রয়টার্স

মেটলাইফ স্টেডিয়ামের রং এদিন বদলে যায়। ফ্রান্সের নীলের আধিপত্য গ্যালারিজুড়ে। যদিও মাঠে লড়াই একদম একতরফা হয়নি। অন্তত প্রথমার্ধে সেনেগাল ভুগিয়েছে ফ্রান্সকে। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে খেলা বদলে যায়। কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোল ও ব্র্যাডলি বারকোলার লক্ষ্যভেদে ৩-১ গোলের জয় নিয়ে বিশ্বকাপ শুরু হয় আসরের বর্তমান রানার্স আপদের।

এমবাপ্পের রেকর্ডে জয়ে শুরু ফ্রান্সেরগোলশূন্য প্রথমার্ধের পর এমবাপ্পে ও বদলি নামা বারকোলার গোলে ২-০তে এগিয়ে যায় ফ্রান্স। যোগ করা সময়ে সেনেগালের ইব্রাহিম এমবায়ে ব্যবধান কমালেও পরের মুহূর্তেই বক্সের বাইরে থেকে এমবাপ্পে থেকে এমবাপ্পে করেছেন ৩-০। যে গোলে এখন ফ্রান্সের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাও ফরাসি তারকা ৫৮ গোল করে। আর বিশ্বকাপে জার্ড মুলারকে ছুঁয়েছেন ১৪ গোলে। তবে ম্যাচটা ছিল সমানে সমানে। দুই দলই আক্রমণে উঠছিল। মিনিট দশেকের মধ্যে কিলিয়ান এমবাপ্পে দুটি থ্রু পাস পেয়েছিলেন। বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা নিশ্চিত পরীক্ষা নিতেন সেনেগালিজ গোলরক্ষকের। ওদিকে সেনেগালও দুইবার হানা দেয় গোলে। দিজিয়ের দুয়ে ও মাইকেল ওলিসেকে দুই পাশে রেখে এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলে খেলছিলেন মাঝে। এমবাপ্পের নিচেই দেম্বেলে। দুজনের বোঝাপড়াটা তাই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ২৫ মিনিটে তেমনই দারুণ বোঝাপড়ায় অন্য প্রান্তে গোলের খাতা প্রায় খুলে ফেলেছিলেন নিকোলাস জ্যাকসন। মাইকেল দিউফের থ্রু ধরে নেওয়া তাঁর বাঁ পায়ের শট পোস্টে লেগে গোলে ঢোকার মুখে ফ্রেঞ্চ গোলরক্ষকের পায়ে লেগে আবার বেরিয়ে যায়। ২৫ মিনিটে হাইড্রেশন ব্রেক-এর ঠিক আগে এই ঘটনা। ফিরেও ফ্রান্স ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি। মাঝ মাঠের দখল ছিল না। বিরতির ঠিক আগে ইসমাইলা সার সুযোগটা ওভাবে উড়িয়ে না দিলে বিরতিতে সেনেগালের ঘরে বরং একটা গোল হতো। সাদিও মানে বাঁ দিক থেকে তাঁকে বল বাড়িয়েছিলেন। ছয় গজের মতো দূরত্বে ছিলে পোস্ট। ক্রিস্টাল প্যালেস ফরোয়ার্ড সেটিই কি না পোস্টে না রেখে উড়িয়ে দিলেন! ফলে ম্যাচের ভাগ্য গড়া থাকে দ্বিতীয়ার্ধের হাতে।

দ্বিতীয়ার্ধে ছক কিছুটা বদলালেন দিদিয়ের দেশম। দেম্বেলে ডান দিক থেকে শুরু করলেন, ওলিসে গেলেন মাঝে। ৫২ মিনিটেই এই পরিবর্তন কাজে লেগে গিয়েছিল প্রায়। ওলিসে ডিফেন্স লাইন ভেঙে ঢুকে পড়েছিলেন। বাঁ পায়ের যে শটটি নিয়েছিলেন বায়ার্ন মিউনিখ তারকা, গোলরক্ষক এদুয়ার্দ মেন্দি এক হাতে কোনো রকমে সেই বল ফিরিয়েছেন। এরপর ওলিসের পাসেই এমবাপ্পে সুযোগ পেয়ে গিয়েছিলেন, মেন্দি আবারও ফেরান তাঁকে। এবার পায়ে। পরপর এই দুটি মুভ সেনেগালের জন্য সতর্ক সংকটে ছিল, আর স্টেডিয়াম ভরা ফরাসি দর্শকের জাগিয়ে দেওয়ার। এই রেশের মাঝেই এমবাপ্পে ডানদিক দিয়ে ঢুকতে গিয়ে কড়া ট্যাকলের শিকার হন। ফলে পেনাল্টি জোরালো আবেদন ওঠে। রেফারি ভিএআরে যান, পরে মাঠের পাশের ক্যামেরায় নিজেই দেখে সিদ্ধান্ত দেন গোলকিকের। আসরের বর্তমান রানার্স আপ ফ্রান্স তখন নিজেদের যেন পুরো ফিরে পেয়েছে। ৬৩ মিনিটে ওলিসে আবারও বল দিয়েছিলেন এমবাপ্পেকে। এবার অবশ্য তিনি বলের পুরো নিয়ন্ত্রণটা নিতে পারেননি। তবে গোল আসবে আসবে করছিল। দুই মিনিট পর মেটলাইফ মাতিয়ে সেই গোলটাই এসে গেল, এমবাপ্পেরই পায়ে। সেই ওলিসেই ডানদিকে নিচ থেকে বল বাড়িয়েছিলেন, ছোট বক্সের ওপর থেকে মেন্দির হাতে পাশ দিয়ে সেই বল জালে পাঠিয়ে দিয়েছেন ফরাসি তারকা।

তবে এই ম্যাচে ফ্রান্সের লিডটা ধরে রাখা ছিল বড় ব্যাপার। দেশম দেম্বেলেকে উঠিয়ে ব্র্যাডলি বারকোলাকে নামান। এই বারকোলাই কি না নামার মিনিট খানেকের মধ্যে আদ্রিয়ান রাবিওঁর থ্রু বল অসাধারণ এক চিপ শটে সেই লিড সুসংহত করে নেন। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার ৮ মিনিট বাকি থাকতে ফ্রান্স এগিয়ে যায় ২-০তে।

শোভাযাত্রা

শোভাযাত্রা
আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের প্রতি শুভ কামনা জানিয়ে রাজধানীর শাহবাগে গতকাল শোভাযাত্রা বের করে আর্জেন্টিনাভক্তরা। ছবি : মোহাম্মদ আসাদ

যুক্তরাষ্ট্র ‘বিশ্বাসঘাতক’ শান্তিচুক্তি না মানার ঘোষণা ইসরায়েলের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ‘বিশ্বাসঘাতক’ শান্তিচুক্তি না মানার ঘোষণা ইসরায়েলের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান গত রবিবার গভীর রাতে ঘোষণা করেছে। এই ঘোষণার পরদিন গত সোমবার সকালে ইসরায়েলে ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা। পাকিস্তান ও ইরান উভয় দেশ জানিয়েছে, এই চুক্তির মধ্যে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে বা যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুতা অবসানের বিষয়টি রয়েছে। তবে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা এ শর্তটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছেন, ইসরায়েল এই চুক্তির শর্ত মানতে বাধ্য নয়। এ বক্তব্যের পরপরই সোমবার ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননজুড়ে ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট গত সোমবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এখনো এই চুক্তির বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বলেছেন, ইসরায়েল এই চুক্তি মানতে বাধ্য নয় এবং লেবানন নিয়ে ইরানের কোনো শর্ত তাঁরা মানবেন না। এ বক্তব্যের সুর ধরে গত সোমবার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাত্জ বলেন, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী কোনো সময়সীমা ছাড়াই লেবানন, সিরিয়া ও গাজার নিরাপত্তা অঞ্চলগুলোতে অবস্থান করবে।

চুক্তিটি নিয়ে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে এক্স অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট করেছেন চরম কট্টরপন্থী ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ। তিনি লিখেছেন, ইরানের সঙ্গে এ চুক্তি ইসরায়েল এবং পুরো মুক্ত বিশ্বের জন্য ক্ষতিকর। তিনি আরো বলেন, ইসরায়েলকে এখন একাই ইরানের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান চালিয়ে যেতে হবে। এদিকে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির এক্সে লিখেছেন, ট্রাম্পের চুক্তি আমাদের ওপর বাধ্যবাধকতা তৈরি করে না। ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অধীন রাষ্ট্র নয়, আমরা একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র।

ইসরায়েলের মন্ত্রীরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং নিজ দেশের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরাসরি সমালোচনা এড়িয়ে গেলেও বিরোধী দল ও ডানপন্থী শিবিরের নেতাদের মধ্যে তীব্র ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এমনকি নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সাংবাদিকরাও ট্রাম্পের ওপর চরম ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। ইসরায়েলের চ্যানেল ১৪ নিউজ-এর সাংবাদিক ইনন মাগাল, যাঁকে ইসরায়েলে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র হিসেবে গণ্য করা হয়, এক্স অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, ইরান ও লেবাননের যুদ্ধে ইসরায়েলকে একা ফেলে দেওয়া হয়েছে। তিনি ট্রাম্পকে পরাজিত ব্যক্তি এবং মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে ঘৃণ্য ব্যক্তি বলে আখ্যা দেন। ইনন মাগাল মধ্যপ্রাচ্যে নিযুক্ত মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারকে ইঙ্গিত করে একটি সাধারণ ইহুদিবিদ্বেষী গালি ব্যবহার করে লিটল জিউস (ছোট ইহুদি) বলে উল্লেখ করেন। একই টেলিভিশন চ্যানেলের আরেক সাংবাদিক শিমন রিকলিন গতকাল বলেন, এ মুহূর্তে ইসরায়েলের সবচেয়ে বেশি যা প্রয়োজন, তা হলো নিজের সার্বভৌমত্ব। তিনি বলেন, ইসরায়েলের যে নিজস্ব স্বার্থ আছে, তা এই বিশ্বাসঘাতক আমেরিকাকে মনে করিয়ে দেওয়ার জন্যই সার্বভৌমত্ব প্রয়োজন।

ট্রাম্প যা বললেন : প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, লেবাননে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে আরো দায়িত্বশীল হতে হবে এবং ইসরায়েলের আগ্রাসন ও হিজবুল্লাহকে সামলানোর পদ্ধতিতে তিনি খুশি নন। এদিকে ইরান সতর্ক করে বলেছে, এখন থেকে লেবাননের ওপর যেকোনো ইসরায়েলি হামলা অথবা এর ভূখণ্ডে অব্যাহত দখলদারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত অন্তর্বর্তী চুক্তির লঙ্ঘন বলে গণ্য হবে। যুদ্ধের শুরুতে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় অসংখ্য ইরানি কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, তিনি মনে করেন ইরানের এখন যৌক্তিক নেতৃত্ব রয়েছে। তিনি বলেছেন, যে ইরানি নেতারা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ছিলেন, তাঁরা এখন আর নেই। 

ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি৭ সম্মেলনের ফাঁকে ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বর্তমান নেতারা চরমপন্থী নন এবং তাঁরা তাঁদের দেশকে সাহায্য করতে চান। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাঁদের একটি ভালো সম্পর্ক থাকবে। চূড়ান্ত চুক্তি হয়ে গেলে ইরানের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ভালো হবে, কিন্তু ইরানের নেতাদের প্রথমে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে

কাতারের আশাবাদ : কাতার বলেছে, ইরান-মার্কিন চুক্তির ফলে বিশ্বে এলএনজি সরবরাহ শুরু হবে বলে আশা করা যায়। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা স্মারকের আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের জন্য শুক্রবার জেনেভায় কাতারের প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন।

মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার : ইরানের সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরের পর অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর এ ঘোষণার পর অন্তত তিনটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী দুটি কার্গো জাহাজ সফলভাবে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) ইরানের আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার সন্ধ্যায় জাহাজগুলো যাত্রা শুরু করেছে। প্রেস টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সংশ্লিষ্ট সামুদ্রিক সূত্রগুলো বলছে, জাহাজগুলো এখন কোনো বাধা ছাড়াই আন্তর্জাতিক জলসীমা দিয়ে চলাচল করছে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে থাকবেন গালিবাফ : ইরানের শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ সমাপ্তকারী চুক্তির স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সুইজারল্যান্ডে যোগ দেবেন বলে মঙ্গলবার জানিয়েছেন ইরানের এক উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া তথ্য মতে, মজিদ তাখত-রাভাঞ্চি বলেছেন, চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান হবে সুইজারল্যান্ড, তবে সঠিক অবস্থান এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। স্বাক্ষরের পরপরই পরবর্তী দফার আলোচনা শুরু হবে। সূত্র : মেহের নিউজ, এএফপি, আল জাজিরা, মিডল ইস্ট আই