মেটলাইফ স্টেডিয়ামের রং এদিন বদলে যায়। ফ্রান্সের নীলের আধিপত্য গ্যালারিজুড়ে। যদিও মাঠে লড়াই একদম একতরফা হয়নি। অন্তত প্রথমার্ধে সেনেগাল ভুগিয়েছে ফ্রান্সকে। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে খেলা বদলে যায়। কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোল ও ব্র্যাডলি বারকোলার লক্ষ্যভেদে ৩-১ গোলের জয় নিয়ে বিশ্বকাপ শুরু হয় আসরের বর্তমান রানার্স আপদের।
গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর এমবাপ্পে ও বদলি নামা বারকোলার গোলে ২-০তে এগিয়ে যায় ফ্রান্স। যোগ করা সময়ে সেনেগালের ইব্রাহিম এমবায়ে ব্যবধান কমালেও পরের মুহূর্তেই বক্সের বাইরে থেকে এমবাপ্পে থেকে এমবাপ্পে করেছেন ৩-০। যে গোলে এখন ফ্রান্সের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাও ফরাসি তারকা ৫৮ গোল করে। আর বিশ্বকাপে জার্ড মুলারকে ছুঁয়েছেন ১৪ গোলে। তবে ম্যাচটা ছিল সমানে সমানে। দুই দলই আক্রমণে উঠছিল। মিনিট দশেকের মধ্যে কিলিয়ান এমবাপ্পে দুটি থ্রু পাস পেয়েছিলেন। বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা নিশ্চিত পরীক্ষা নিতেন সেনেগালিজ গোলরক্ষকের। ওদিকে সেনেগালও দুইবার হানা দেয় গোলে। দিজিয়ের দুয়ে ও মাইকেল ওলিসেকে দুই পাশে রেখে এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলে খেলছিলেন মাঝে। এমবাপ্পের নিচেই দেম্বেলে। দুজনের বোঝাপড়াটা তাই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ২৫ মিনিটে তেমনই দারুণ বোঝাপড়ায় অন্য প্রান্তে গোলের খাতা প্রায় খুলে ফেলেছিলেন নিকোলাস জ্যাকসন। মাইকেল দিউফের থ্রু ধরে নেওয়া তাঁর বাঁ পায়ের শট পোস্টে লেগে গোলে ঢোকার মুখে ফ্রেঞ্চ গোলরক্ষকের পায়ে লেগে আবার বেরিয়ে যায়। ২৫ মিনিটে ‘হাইড্রেশন ব্রেক’-এর ঠিক আগে এই ঘটনা। ফিরেও ফ্রান্স ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি। মাঝ মাঠের দখল ছিল না। বিরতির ঠিক আগে ইসমাইলা সার সুযোগটা ওভাবে উড়িয়ে না দিলে বিরতিতে সেনেগালের ঘরে বরং একটা গোল হতো। সাদিও মানে বাঁ দিক থেকে তাঁকে বল বাড়িয়েছিলেন। ছয় গজের মতো দূরত্বে ছিলে পোস্ট। ক্রিস্টাল প্যালেস ফরোয়ার্ড সেটিই কি না পোস্টে না রেখে উড়িয়ে দিলেন! ফলে ম্যাচের ভাগ্য গড়া থাকে দ্বিতীয়ার্ধের হাতে।
দ্বিতীয়ার্ধে ছক কিছুটা বদলালেন দিদিয়ের দেশম। দেম্বেলে ডান দিক থেকে শুরু করলেন, ওলিসে গেলেন মাঝে। ৫২ মিনিটেই এই পরিবর্তন কাজে লেগে গিয়েছিল প্রায়। ওলিসে ডিফেন্স লাইন ভেঙে ঢুকে পড়েছিলেন। বাঁ পায়ের যে শটটি নিয়েছিলেন বায়ার্ন মিউনিখ তারকা, গোলরক্ষক এদুয়ার্দ মেন্দি এক হাতে কোনো রকমে সেই বল ফিরিয়েছেন। এরপর ওলিসের পাসেই এমবাপ্পে সুযোগ পেয়ে গিয়েছিলেন, মেন্দি আবারও ফেরান তাঁকে। এবার পায়ে। পরপর এই দুটি মুভ সেনেগালের জন্য সতর্ক সংকটে ছিল, আর স্টেডিয়াম ভরা ফরাসি দর্শকের জাগিয়ে দেওয়ার। এই রেশের মাঝেই এমবাপ্পে ডানদিক দিয়ে ঢুকতে গিয়ে কড়া ট্যাকলের শিকার হন। ফলে পেনাল্টি জোরালো আবেদন ওঠে। রেফারি ভিএআরে যান, পরে মাঠের পাশের ক্যামেরায় নিজেই দেখে সিদ্ধান্ত দেন গোলকিকের। আসরের বর্তমান রানার্স আপ ফ্রান্স তখন নিজেদের যেন পুরো ফিরে পেয়েছে। ৬৩ মিনিটে ওলিসে আবারও বল দিয়েছিলেন এমবাপ্পেকে। এবার অবশ্য তিনি বলের পুরো নিয়ন্ত্রণটা নিতে পারেননি। তবে গোল আসবে আসবে করছিল। দুই মিনিট পর মেটলাইফ মাতিয়ে সেই গোলটাই এসে গেল, এমবাপ্পেরই পায়ে। সেই ওলিসেই ডানদিকে নিচ থেকে বল বাড়িয়েছিলেন, ছোট বক্সের ওপর থেকে মেন্দির হাতে পাশ দিয়ে সেই বল জালে পাঠিয়ে দিয়েছেন ফরাসি তারকা।
তবে এই ম্যাচে ফ্রান্সের লিডটা ধরে রাখা ছিল বড় ব্যাপার। দেশম দেম্বেলেকে উঠিয়ে ব্র্যাডলি বারকোলাকে নামান। এই বারকোলাই কি না নামার মিনিট খানেকের মধ্যে আদ্রিয়ান রাবিওঁর থ্রু বল অসাধারণ এক চিপ শটে সেই লিড সুসংহত করে নেন। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার ৮ মিনিট বাকি থাকতে ফ্রান্স এগিয়ে যায় ২-০তে।




যুবকের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুব্ধ লোকজন। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের গাড়িসহ একাধিক সরকারি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্য, সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে আদিতমারী থানার ওসি নাজমুল হককে প্রত্যাহার করা হয়েছে।