প্রশ্ন : একটু ভিন্নভাবেই শুরু করি সাক্ষাৎকারটি। বিকেএসপির এক অনুশীলনে একটি ক্রস দেখেই আবাহনী আপনাকে দলে নেয় বলে শুনেছি। এটি কি সত্য? মাসুদ রানা : সত্য। এমনিতেই আবাহনী, মোহামেডানসহ অনেক দলই বিকেএসপিতে যেত অনুশীলনের জন্য। ১৯৯০ সালে আমার ম্যাট্রিক পরীক্ষার পরপরই আসে আবাহনী। ‘মা ও মণি গোল্ডকাপ’ নামের একটি টুর্নামেন্ট সামনে রেখে তাদের ওই অনুশীলন। ম্যাচের বিরতিতে আবাহনীর অফিশিয়ালরা এসে আমাকে বললেন, ‘পরের ৪৫ মিনিট তুমি আমাদের হয়ে খেলো।’ ওদের তখন একজন সাইড ব্যাক প্রয়োজন। কারণ প্রথম পছন্দ যে রণজিৎদা, উনি ছিলেন আমেরিকায়। আমি খেললাম। বাঁ প্রান্ত থেকে একটি ক্রস করি, যেটি থেকে গোল পেয়ে যান আসলাম ভাই। ব্যস, আমাকে পছন্দ হয়ে যায় আবাহনীর। আমি নিজেও ছিলাম আবাহনীর ভক্ত। মুন্না ভাই, মহসিন ভাই, রুমী ভাই, রেহান ভাই, আসলাম ভাইদের মতো ফুটবলারদের সঙ্গে খেলা তো স্বপ্নের মতো। প্রশ্ন : বিকেএসপি থেকে জাতীয় দলে খেলা প্রথম ফুটবলারও তো আপনি? মাসুদ রানা : হ্যাঁ। খুব দাম পেতাম স্যারদের কাছে। আমাকে দেখিয়ে অন্যদের অনুপ্রাণিত করা হতো। স্যাররা বলতেন, ‘এই যে মাসুদ রানা যদি বিকেএসপি থেকে জাতীয় দলে খেলতে পারে, তাহলে চেষ্টা করলে তোমরাও পারবে।’ প্রশ্ন : বিকেএসপিতে ভর্তি হওয়ার চিন্তা মাথায় এলো কিভাবে? আচ্ছা, তার আগে একটু যদি বলতেন, ফুটবলার হওয়ার ইচ্ছাটা কোত্থেকে? মাসুদ রানা : ছোটবেলা থেকেই তো ফুটবল খেলতাম। সিরাজগঞ্জের আমলাপাড়ায় আমাদের বাড়ির পাশেই ছিল মাঠ। আমি সেখানে পড়ে থাকতাম সারাক্ষণ। ইয়াংস্টার ক্লাব বলে পাড়ার একটি দল ছিল। সেখানে ওস্তাদ সুধীর কুমার বিশ্বাসের অধীনে করতাম অনুশীলন। বিভিন্ন টুর্নামেন্ট খেলতাম। ১৯৮৬ সালে হলো এরশাদ গোল্ডকাপ টুর্নামেন্ট। সেখানে আমি অংশ নিই সিরাজগঞ্জ জেলার পক্ষ থেকে। বয়স তখন কত? ১১-১২ বছর। ক্লাস সিক্সে পড়ি। তো, টুর্নামেন্ট খুব ভালো খেললাম। সেখানে খেলা ফুটবলারদের মধ্য থেকে সেরা ৬০ জনকে বাছাই করে একটি ক্যাম্প হয় ঢাকার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে। সেই ক্যাম্পে ডাক পাই আমি। বলতে পারেন, ফুটবলার হওয়ার স্বপ্নটা নিজের মনের মধ্যে পুরোপুরি গেঁথে যায় তাতে। বিকেএসপিতে ভর্তি হওয়ার পর তো কথাই নেই। প্রশ্ন : এই বিকেএসপিতে ভর্তি হওয়ার চিন্তা কিভাবে করলেন, সেটিই জানতে চাইছিলাম। মাসুদ রানা : ওই যে ঢাকায় ট্রেনিংয়ে এসে শুনি বিকেএসপির কথা। এটি নাকি হবে খেলাধুলার স্কুল। সেখানে ফুটবল খেলা মূল কাজ, পড়ালেখা এরপর। শুনে আমার তো খুশিতে লাফানোর অবস্থা। আসলে পড়ালেখার প্রতি আগ্রহ ছোটবেলা থেকেই একটু কম। আব্বা ফুড ডিপার্টমেন্টে চাকরি করতেন। পাঁচ বোনের সঙ্গে আমি একমাত্র ভাই। কিন্তু আব্বা-মা বুঝেছেন, আমাকে দিয়ে পড়ালেখায় বেশি কিছু আর হবে না। সে কারণে পরে খুব একটা কিছু বলেননি। বিকেএসপিতে ভর্তি হওয়া নিয়েও দ্বিমত করেননি তাঁরা। ট্রেনিং থেকে সিরাজগঞ্জে ফিরে বাসায় বলি বিকেএসপির কথা। সিরাজগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থায় যোগাযোগ করি। আমি আর হকি খেলোয়াড় শহীদুল-এই দুজনকে মনোনীত করে পাঠানো হয় বিকেএসপিতে। সেখানে গিয়ে সাক্ষাৎকার দিই, টিকেও যাই। বিকেএসপিতে যাত্রা শুরুর তারিখটি আমার মনে আছে এখনো-১৯৮৬ সালের ১০ মার্চ। প্রশ্ন : অনেক বিখ্যাত ডিফেন্ডারের ক্ষেত্রেই জানি যে ছোটবেলায় তাঁরা ছিলেন মিডফিল্ডার বা স্ট্রাইকার। কারণ শৈশবে তো সবাই গোল দিতেই চায়। আপনার বেলায়ও অমন কিছু কি না? মাসুদ রানা : ঠিক তা-ই। আমিও তো স্ট্রাইকার ছিলাম। এই যে এরশাদ গোল্ডকাপ কিংবা বিকেএসপিতে ভর্তি হওয়া-সবই আমার গোল দেওয়ার সামর্থ্যরে কারণে। প্রশ্ন : সেখান থেকে ডিফেন্ডার হওয়ার গল্পটি যদি একটু বলতেন? মাসুদ রানা : বিকেএসপিতে প্রতি বিকেলে নিজেদের মধ্যে খেলতাম আমরা। আর প্রতি বৃহস্পতিবার বিকেএসপির সব ব্যাচ নিয়ে হতো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ। সেখানে প্রথম একাদশে সব সময় আমার সুযোগ হতো না। কারণ ফরোয়ার্ড পজিশনে মাসুদুর রহমান রানা, বখতিয়ার-এমন বেশ কিছু ভালো খেলোয়াড় ছিল। তো, আমাদের এক স্যার ছিলেন অমল দত্ত। তিনিই প্রথম আমাকে বললেন, ‘তুমি তো স্ট্রাইকার হিসেবে তেমন সুযোগ পাচ্ছ না। লেফট ব্যাকে খেলো। আমার মনে হয় এখানে তুমি ভালো করবে।’ প্রশ্ন : মন খারাপ হয়নি? মানে শৈশবে তো সবাই গোল করতেই চায়। আপনাকে সেখান থেকে গোল ঠেকানোর দায়িত্ব দেওয়া হলো বলে... মাসুদ রানা : নাহ্। এর চেয়ে অনেক বেশি মন খারাপ থাকত বৃহস্পতিবারের ম্যাচে খেলতে না পারলে। আমি ভাবলাম, যে পজিশনেই খেলি, খেলার সুযোগ তো পাচ্ছি। আর ওই ম্যাচের পরই বিকেএসপি মূল দলের লেফট ব্যাক পজিশনটি হয়ে যায় আমার। তবে পরবর্তী সময়ে ক্লাব ফুটবলে আমি স্টপার, এমনকি মিডফিল্ডেও খেলেছি। জাতীয় দলেও খেলেছি মাঝখানে। প্রশ্ন : বিকেএসপি মূল দলের কথা বলছিলেন। ওই দলটি তো ক্যাম্পাসের বাইরেও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় খেলত, তাই না? মাসুদ রানা : হ্যাঁ। অনেক অনেক ম্যাচ খেলেছি। টুর্নামেন্ট খেলতে অনেকবার যাই বিদেশ। প্রথম গেলাম ১৯৮৭ সালে, ভারতে। চ্যাম্পিয়ন হয়ে এলাম। সিঙ্গাপুর, ব্রুনাই, মালয়েশিয়া-এমন বিভিন্ন দেশে যেতাম। ১৯৮৮ সালে অনূর্ধ্ব-১৬ ইয়ুথ গোল্ডকাপ নামের এক টুর্নামেন্ট হয় ঢাকায়। সেখানে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা-এসব বিভাগীয় দলের সঙ্গে ছিল বিকেএসপিও। সেই টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন আমরা। এর পরই বিকেএসপির ফুটবলারদের আলাদা করে সমীহ করতে শুরু করে সবাই। প্রশ্ন : আবাহনী তো আপনাকে একটি টুর্নামেন্টের জন্য নিয়েছিল। সেখান থেকে তাদের ঘরের ছেলে হয়ে গেলেন কিভাবে? মাসুদ রানা : আমি ভেবেছিলাম, আবাহনী আমাকে নিয়ে যাচ্ছে অতিরিক্ত খেলোয়াড় হিসেবে। ম্যাচে খেলাবে না। কিন্তু চট্টগ্রামে প্রথম ম্যাচ থেকেই আমি একাদশে। খুব ভালো খেললাম টুর্নামেন্টে। এরপর বিটিসি কাপ নামের আরেকটি প্রতিযোগিতা হয় ঢাকায়। সেখানেও আমার খেলা নজর কাড়ে সবার। এই দুটি টুর্নামেন্টে আমি ছিলাম আবাহনীর অতিথি খেলোয়াড়। এরপর আসে দলবদল। আবাহনীর ম্যানেজার তখন গোলাম রব্বানী হেলাল। তিনি আমাকে বলে রাখলেন, ‘তুমি কিন্তু আমাদের ক্লাবে খেলবে।’ দলবদলের সময় সিরাজগঞ্জে লোক পাঠিয়ে বাসা থেকে আমাকে নিয়ে এলেন হেলাল ভাই। তাঁর বাসায় গিয়ে দেখি মামুন জোয়ারদার, জাকির, গাউস-ওরাও সেখানে। তখন দলবদলের একটি ব্যাপার ছিল, খেলোয়াড় আটকে রাখার। নইলে অন্য ক্লাব ছিনিয়ে নিয়ে যাবে। তো, এভাবেই আনুষ্ঠানিকভাবে আবাহনীর ফুটবলার হয়ে যাই। প্রশ্ন : প্রথম চুক্তিতে কত টাকা পেয়েছিলেন, মনে আছে? মাসুদ রানা : তখন তো বাইন্ডিং খেলোয়াড় প্রথা। দুই বছর একই ক্লাবে খেলতে হবে। টাকা-পয়সা নিয়ে ভাবিনি খুব একটা। তবে যখন যা প্রয়োজন, হেলাল ভাই আমাকে দিয়েছেন। ওই প্রথম বছর ক্লাব থেকে আলাদা করে টাকা-পয়সার কোনো ব্যাপার ছিল না। পরের বছরও পাওয়ার কথা ছিল না, কিন্তু আড়াই লাখ টাকা পেয়ে যাই। প্রশ্ন : কিভাবে? মাসুদ রানা : সেবার চালু হয় আবাহনী-মোহামেডান-ব্রাদার্সের ‘জেন্টলম্যানস অ্যাগ্রিমেন্ট’। অর্থাৎ কেউ কারো ফুটবলার নেবে না। আমাকে তো এমনিতেই অন্য ক্লাব নিতে পারবে না, কারণ দুই বছর অন্তত বাইন্ডিং খেলোয়াড়দের এক দলে খেলতে হয়। তবে প্রথম বছরটি যেহেতু আমি খুবই ভালো খেলি, সে কারণে জেন্টলম্যানস অ্যাগ্রিমেন্ট তালিকায় দিয়ে দেওয়া হয় আমার নামও। এরপর ক্লাবের সবাইকে একে একে তাঁর অফিসে ডাকলেন আবাহনীর কর্মকর্তা সালমান এফ রহমান। আমাকে বললেন, ‘শুনেছি তুমি ভালো খেলো। তোমাকে এই মৌসুমে আড়াই লাখ টাকা দেওয়া হবে। রাজি আছ?’ আমি তো খুশিমনে রাজি। প্রশ্ন : এই জেন্টলম্যানস অ্যাগ্রিমেন্টের কারণেই আবাহনী-মোহামেডান-ব্রাদার্সের ত্রয়ী ভেঙে মুক্তিযোদ্ধার উত্থান বলে মনে করেন অনেকে। আপনার মতও কি তা-ই? মাসুদ রানা : অবশ্যই। কে কত টাকা পাবে, সেটি নির্ধারিত হবে তার যোগ্যতা দিয়ে। দলবদলের বাজারে কার কতটা চাহিদা রয়েছে, তার ওপর। এখানে আপনি জোর করে কিছু চাপিয়ে দিতে পারেন না। ওই তিন ক্লাব করে ঠিক তা-ই। তাঁরা যা বলবেন, সেটি আমরা শুনব কেন! একসময় তাঁদের আধিপত্য ভেঙে আমরা চলে যাই মুক্তিযোদ্ধায়। এখানে মুক্তিযোদ্ধা ক্লাবকেও ধন্যবাদ দিতে হয়। কারণ তারা এগিয়ে এসেছে বলেই সফল হয়েছে আমাদের সেই বিদ্রোহ। প্রশ্ন : বিদ্রোহ সফল হলেও মাঠের ফুটবলে সাফল্য পেতে তো মুক্তিযোদ্ধা ক্লাবে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে আপনাদের... মাসুদ রানা : সেটি খুব স্বাভাবিক। এমনিতে মনে হতে পারে, তিন ক্লাবের সেরা সব ফুটবলার গেছে মুক্তিযোদ্ধায়-ওদের চ্যাম্পিয়ন হওয়া আর এমন কী! কিন্তু ব্যাপারটি তত সোজা ছিল না। মাঠে ও মাঠের বাইরে যুদ্ধ করতে হয়েছে কত! বড় তিন ক্লাবের কর্মকর্তারাই তো বাফুফেতে। তাঁরা সব সময় আমাদের বিপক্ষে। আর সমর্থকরাও। মনে আছে, মুক্তিযোদ্ধার জার্সিতে আমাদের প্রথম ম্যাচ ছিল ইস্ট এন্ডের বিপক্ষে। ভেবেছি, কোনো সমর্থক হবে না। স্টেডিয়ামে ঢুকে, দেখি আবাহনীর গ্যালারিও পূর্ণ, মোহামেডানের গ্যালারিও ভরা। আর দুই দলের সমর্থকরা মিলে গালি দিচ্ছে আমাদের। বল নিয়ে যেদিকে যাই, শুরু হয় গালি। প্রতিটি ম্যাচে এমন বিরুদ্ধ পরিবেশে খেলতে হয় আমাদের। প্রশ্ন : অবশেষে লিগ চ্যাম্পিয়ন হলেন কিভাবে? মাসুদ রানা : প্রথমবার শুধু ফেডারেশন কাপ চ্যাম্পিয়ন আমরা; লিগে হই তৃতীয়। পরের বছর ১৯৯৫ সালে নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে জুয়েল রানাকে ছেড়ে দিতে হলো মোহামেডানে। সেবারও তেমন সাফল্য নেই। ১৯৯৬ সালে রাজনৈতিক কারণে আবার আবাহনীকে ছেড়ে দিতে হয় মামুন জোয়ারদার, রকিব, মিজান, বরুণ, রুমী ভাইদের। থেকে গেলাম আমি, মহসিন ভাই, জাকির, নকীব-এরা। সেবার লিগে তৃতীয় আমরা। তখন ভাবলাম, আবার আবাহনী-মোহামেডানে ফিরে যাই। আমার ও নকিবের মোহামেডানে খেলার প্রস্তাব ছিল। ওদের সঙ্গে কথাবার্তা প্রায় ফাইনাল। একদিন রাতে বাসায় শুয়ে আছি। সেখানে গাড়ি নিয়ে এলো নকীব। বলল, ‘চল।’ আমি বলি, কোথায়? ও বলে, ‘মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলে যেতে হবে। ক্লাবের কর্মকর্তারা আমাদের সঙ্গে কথা বলার জন্য ডেকেছেন।’ গেলাম। মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের প্রধান অধ্যক্ষ আহাদ চৌধুরী বললেন, ‘আমরা আবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতো দল গড়ব; তোমরা থাকবে তাতে।’ আমি রাজি হচ্ছিলাম না। নকীব রাজি করাল। মোহামেডান আমাদের আট লাখ টাকা দেবে বলেছিল, সাত লাখেই মুক্তিযোদ্ধায় খেলতে রাজি হই। কিন্তু আমরা দুজন শর্ত দিলাম, ‘যেসব খেলোয়াড় চাই, তাদের দলে আনতে হবে। এখন জাতীয় দলের ক্যাম্প হচ্ছে। কাল অনুশীলন শেষে ওদের নিয়ে আসব আমরা। তাদের সঙ্গে চুক্তি করবেন। আর ভালো বিদেশি ফুটবলার আনতে হবে।’ তাঁরা রাজি। আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল জুয়েল রানা, হাসান আল মামুন, ইকবাল, রকিব, রজনী ও আমিনুল। তাঁদের সঙ্গে কথা বললাম। মুক্তিযোদ্ধায় আসতে তাঁরা প্রস্তুত। এরপর খুঁজতে শুরু করি কোচ। মুক্তিযোদ্ধায় এর আগে আমাদের কোচ ছিলেন সালাউদ্দিন ভাই, ম্যান ইয়াং ক্যাং, অমলেশদা। সেবার আমি আর নকীব গিয়ে কথা বলি মানিক ভাইয়ের সঙ্গে। কোচ করে নিয়ে আসি তাঁকে। আসে ভালো বিদেশি ফুটবলার। সব ঠিকঠাক মিলে যাওয়ায় বিদ্রোহ করার ওই চতুর্থ বছরে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধা লিগ চ্যাম্পিয়ন হয় প্রথমবারের মতো। যে মিশন নিয়ে শুরু করেছিলাম, সেটি যেন সার্থক হলো। প্রশ্ন : পরে তো আপনি মোহামেডানেও খেলেছেন? মাসুদ রানা : ২০০১ সালে আসি মোহামেডানে। এর ঠিক আগের মৌসুমে মুক্তিযোদ্ধাকে লিগ চ্যাম্পিয়ন করাই আবার। কিন্তু টাকা-পয়সার বনিবনা না হওয়ায় মোহামেডানে আসি। সেখানে দ্বিতীয় মৌসুমে হই অধিনায়ক। ২০০২ সালে মোহামেডান শিরোপা জেতে তিনটি-ফেডারেশন কাপ, লিগ ও জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ। পরে আবার চলে যাই আবাহনীতে। সেখানে খেলি এক বছর। সেবার লিগ চ্যাম্পিয়ন ব্রাদার্স। পরের বছর দলবদলে ব্রাদার্স থেকে প্রস্তাব পাই। মোহামেডানের জুয়েল রানাকেও দেওয়া হয় প্রস্তাব। ও বলল, ‘চল, নুতন এক ক্লাবে খেলি।’ খেললাম। আবার চ্যাম্পিয়ন হয় ব্রাদার্স। ক্লাব ফুটবলে আমার সবচেয়ে বড় তৃপ্তির জায়গা কী জানেন? আবাহনী, মুক্তিযোদ্ধা, মোহামেডান, ব্রাদার্স-চারটি বড় ক্লাবে খেলেছি। সব ক্লাবকেই করিয়েছি লিগ চ্যাম্পিয়ন। প্রশ্ন : তবু তো এখনো প্রায় সবাই আপনাকে চেনে ‘আবাহনীর মাসুদ রানা’ হিসেবে। এটি কেমন লাগে? মাসুদ রানা : ভালোই। এই ক্লাবে খেলে আমার উত্থান। ঢাকার দর্শকরা মাসুদ রানাকে প্রথম চিনেছে আবাহনীর জার্সিতে; সে কারণে সেটি হয়তো তাঁদের মনে গেঁথে আছে। আর আবাহনীতে ওই শুরুর সময়টার পর দীর্ঘ ছয় বছর খেলেছি মুক্তিযোদ্ধায়। ওই ক্লাবের নিজস্ব সমর্থক গোষ্ঠী ছিল না। আমার প্রথম খেলা জনপ্রিয় ক্লাব যেহেতু আবাহনী, তাই সেটিই সবার মনে আছে। আর আগেই তো বলেছি, ছোটবেলায় আবাহনীর সমর্থক ছিলাম। সে কারণে ‘আবাহনীর মাসুদ রানা’ শুনতে ভালোই লাগে। প্রশ্ন : অবসর নিলেন কবে? মাসুদ রানা : ২০০৬ সালে ব্রাদার্সে খেলি শেষবারের মতো। এরপর অবসর। প্রশ্ন : জাতীয় দলের কথা একটু শুনতে চাই। মাসুদ রানা : ১৯৯১ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ দলে অধিনায়ক ছিলাম। নকীব, জাকির, রক্সিরা সেই দলে। অবশ্য এর আগেই মূল জাতীয় দলে খেলা হয়ে গেছে। ১৯৯১ সালের কলম্বো সাফ গেমসে। সেখানে পাকিস্তানের কাছে হেরে আমরা গ্র“প পর্ব থেকে বাদ। দেশে ফেরার পর ভারতে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের একটি প্রতিযোগিতা হয়। সেখানে অধিনায়ক হিসেবে যাই আমি। এরপর অলিম্পিকের প্রি-কোয়ালিফায়িংয়ে অনূর্ধ্ব-২৩ দলের খেলা হলো। সেখানে খেলি মালয়েশিয়া ও কোরিয়া গিয়ে। এই জাতীয় দলে নিয়মিত খেলা শুরু। প্রশ্ন : ১৯৯৬ সালে মিয়ানমারে চার জাতি টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়া দলেও তো ছিলেন? মাসুদ রানা : স্কোয়াডে ছিলাম, কিন্তু প্রথম ম্যাচে প্রথম একাদশে ছিলাম না। জাতীয় দলে ওই প্রথম একাদশ থেকে বাদ পড়া। কোচ অটো ফিস্টার বললেন, ‘তুমি তো সিরিয়াস না। খেলবে কিভাবে?’ আমি প্রতিবাদ করে বলি, ‘কোচ, আমি সব সময়ই সিরিয়াস।’ তো, প্রথম ম্যাচে মিয়ানমারের কাছে আমরা হারি ০-৪ গোলে। পরদিন অনুশীলনে যাওয়ার আগে অধিনায়ক মুন্না ভাই বললেন, ‘পরের ম্যাচে একাদশ-ফর্মেশন সব বদলে ফেলব আমরা। তুই খেলবি। মন দিয়ে প্র্যাকটিস কর।’ ৪-৪-২ ফর্মেশন থেকে ৩-৫-২ ফর্মেশনে দলকে খেলাতে শুরু করেন ফিস্টার। ওই তিন ডিফেন্ডারের ফর্মেশনে আমি খেলি জীবনে প্রথমবারের মতো। সিঙ্গাপুরের সঙ্গে জিতি ১ গোলে। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে টাইব্রেকারে জিতে ফাইনালে আবার মিয়ানমারের মুখোমুখি। সেখানে নকীব ও মামুন জোয়ারদারের গোলে ২-১ ব্যবধানে জিতে ট্রফি জিতি আমরা। সেটি দারুণ স্মৃতি। প্রশ্ন : জাতীয় দল থেকে অবসর? মাসুদ রানা : ১৯৯৯ সালে সাফ গেমসে স্বর্ণপদক জেতার পর। তবে সেখানে কিন্তু আমার খেলার কথা ছিল না। সামির শাকির কোচ হয়ে আসার পর গোয়াতে একটি টুর্নামেন্ট খেলতে যায় বাংলাদেশ। আমি দলের সঙ্গে থাকলেও কোচ আমাকে কোনো ম্যাচ খেলাননি। ভাবলাম, জাতীয় দলে খেলব না আর। এরপর লিগে খেললাম দারুণ। ১৯৯৯ সালে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ও সাফ গেমস হবে। তখন আবার ডাকে জাতীয় দলে। কিন্তু বাফুফের কর্মকর্তা বাদলদাকে বললাম, ‘না দাদা, আমি খেলব না। কারণ আমাকে কোচ খেলাবেন না।’ তিনি অনেক অনুরোধ করায় রাজি হই। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ। মাঠে নামার আগে সামির শাকিল আমাকে বললেন, ‘এটি তোমার শেষ সুযোগ।’ সেই খেলায় আমি ম্যান অব দ্য ম্যাচ। খেলা শেষে কোচ নিজেই এসে আমাকে জানান অভিনন্দন। সাফ গেমসে গেলাম। সেখানে শুরু থেকে একাদশে ছিলাম। কিন্তু দুই হলুদ কার্ডের কারণে সেমিফাইনাল খেলতে পারিনি। দল সেখানে সেট হয়ে যায় বলে ফাইনালেও আর খেলায়নি আমাকে। তবু প্রথমবারের মতো সাফের স্বর্ণপদকজয়ী বাংলাদেশ দলের অংশ হওয়াটা আমার জন্য গর্বের। সেখান থেকে ফিরে আমি দিই অবসরের ঘোষণা। প্রশ্ন : আগের জাতীয় দলগুলোর সঙ্গে ১৯৯৯-র সাফ গেমসের দলটির পার্থক্য ছিল কোথায়? সেই দলের অধিনায়ক জুয়েল রানা এই সাক্ষাৎকার পর্বে কালের কণ্ঠকে বলেছিলেন, মূল পার্থক্য ছিল ডিসিপ্লিনে। আপনিও কি তা-ই মনে করেন? মাসুদ রানা : অবশ্যই সেটি বড় ব্যাপার। প্রতিভার দিক দিয়ে আগের দলগুলো এগিয়ে। কিন্তু জাতীয় দলে খেলতে গিয়ে শৃঙ্খলা মানার ব্যাপারটি খুব একটা কাজ করত না। এ ছাড়া আরেকটি জিনিস মনে হয় আমার। আগের ফুটবলারদের আবাহনী-মোহামেডানের প্রতি যতটা মায়া কাজ করত, জাতীয় দলের প্রতি ততটা না। আমরা মুক্তিযোদ্ধা দল গড়ায় আবাহনী-মোহামেডানের প্রতি সবার ভালোবাসাটা একটু হলেও কমে যায়। পরোক্ষে সেটি জাতীয় দলকে ১৯৯৯ সালে সাফ চ্যাম্পিয়ন হতে সাহায্য করেছে বলে আমার ধারণা। প্রশ্ন : কিন্তু একই সঙ্গে আরেকটি তত্ত্বও তো রয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা দল তৈরিতে আবাহনী-মোহামেডান দুর্বল হয়ে গেল। তাদের সমর্থকরা আস্তে আস্তে সরে গেল মাঠ থেকে। দীর্ঘ মেয়াদে সেটি বাংলাদেশ ফুটবলের ক্ষতি করেছে। মানেন এই তত্ত্ব? মাসুদ রানা : কিছু প্রভাব পড়েছে হয়তো। আবাহনী মাঠে গেলেই হারে, মোহামেডান চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতো দল গড়তে পারে না-তাতে সমর্থকরা মুখ ফিরিয়ে তো নেবেই। তবে এ জন্য মুক্তিযোদ্ধায় যাওয়া ফুটবলারদের দায়ী করা যাবে না। ওই তিন ক্লাব আমাদের ধরে রাখতে পারল না কেন? তাদের কর্মকর্তাদের কারণেই আমরা চলে যেতে বাধ্য হয়েছিলাম। আর যে তত্তে¡র কথা বলছেন, সেটি সত্য হলেও এর শতভাগ দায় ওই সময়ের ফুটবল কর্মকর্র্তাদের; ফুটবলারদের না। প্রশ্ন : দায় না হয় কর্মকর্তাদের, কিন্তু এখন যে ফুটবলের করুণ দশা, সেটি দেখে খারাপ লাগে না? মাসুদ রানা : খুবই খারাপ লাগে। আমি খেলা শুরু করেছি ভরা স্টেডিয়ামে। একটু একটু করে গ্যালারি খালি হয়ে যেতেও দেখেছি। একজন ফুটবলার হিসেবে এটি অবশ্যই কষ্টের। আরো বেশি কষ্ট লাগে, এই অবস্থা থেকে বের হওয়ার মতো কিছু বাফুফেকে করতে দেখি না বলে। এই যে কিছুদিন পর পর নতুন বিদেশি কোচের পেছনে হাজার হাজার ডলার খরচ করা হচ্ছে, তাতে লাভটা কী! এখন শুধু স্টান্টবাজি হচ্ছে, কাজের কাজ কিছু না। এর চেয়ে ওই টাকা তৃণমূলে ঢালুন, ১০ বছরে দেশের ফুটবলের চেহারা পাল্টে যাবে। হয়তো আগের মতো আর কখনো হবে না, তবে এখনকার চেয়ে অনেক অনেক ভালো হবে। প্রশ্ন : ১৯৯০-এর দশকে আপনার একটি বিজ্ঞাপনী পোস্টার জনপ্রিয় হয় খুব। সেই গল্পটি যদি একটু বলতেন? মাসুদ রানা : (হাসি) ফ্রেশ জেলের বিজ্ঞাপন। আমি তো ভাই হিরো না, তবু অনুরোধে সেটি হয়ে গেলাম আর কি! আসলে বাংলাদেশে তখন সব ফুটবলারই হিরো। অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু ভাই আবাহনীর সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি আমাকে বললেন, ‘এই অ্যাডটি করে দাও।’ টুটুল ভাইয়ের অ্যাড ফার্ম থেকে বানানো হয় বিজ্ঞাপনটি। মজাই লেগেছিল। আর সেটির পরে পোস্টার তৈরি হয়। বিলবোর্ড বানানো হয়। বেশ ভালো সাড়া পেয়েছিলাম। রাস্তায় অনেকেই আমাকে বলেছে, ‘কি ফ্রেশজেল, কী অবস্থা? হেভি হাসি তো দিলেন!’ প্রশ্ন : পারিশ্রমিক পাননি? মাসুদ রানা : আসলে টাকা-পয়সার জন্য তো করিনি; করেছি সম্পর্কের কারণে। কিছুদিন পরই একটি টুর্নামেন্ট খেলতে কাতার যাই আমরা। দেশ ছাড়ার আগের রাতে আড্ডা দিচ্ছিলাম হেলাল ভাইয়ের এলিফ্যান্ট রোডের বেইজিং রেস্টুরেন্টে। সেখানে পিন্টু ভাই এসে একটি খাম দিয়ে বললেন, ‘রাখো।’ খুলে দেখি ৫০০ ডলার। অ্যাডের কারণে আলাদা টাকা না পেলেও বুঝলাম, সেটিই পারিশ্রমিক। মনে আছে, পাঁচ শর মধ্যে তিন শ ডলার দিয়ে ডেকসেট কিনেছিলাম গান শোনার জন্য। প্রশ্ন : একটু আগে বললেন ওই সময় বাংলাদেশের সব ফুটবলারই ছিলেন নায়ক। ভক্তদের সঙ্গে মজার স্মৃতি নিশ্চয়ই রয়েছে? মাসুদ রানা : অনেক, অনেক। আবাহনীর হয়ে খেলতে নামার সময় কতজন এসে চুমু পর্যন্ত দিয়েছে! এ ছাড়া মেয়ে ভক্তদের প্রচুর প্রেমপত্র আসত ক্লাবে। ‘মাসুদ রানা, আবাহনী ক্লাব’-খামের ওপর এতটুকু লেখা থাকলেই চলে আসত চিঠি। সেগুলো পড়েছি। তবে উত্তর দেওয়ার সময় খুব একটা হতো না। প্রশ্ন : বিয়ে করেছেন কবে? মাসুদ রানা : ১৯৯৭ সালে। আমি ছিলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে নাসরিন শরীফ লোপা আমার ক্লাসমেট। ওর সঙ্গেই প্রেম করে বিয়ে। আমাদের সন্তান তিনজন। বড় ছেলে নাদিফ ফাইয়াজ, ও মেট্রিক দেবে সামনে। মেজ ছেলে নাফিজ ইমতিয়াজ, ও ক্লাস ফাইভে। একেবারে ছোটটি নামির নিয়াজ। ওর বয়স তিন বছর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসঙ্গ আসায় এখানে আরেকটি কথা একটু বলি। আমি কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় দলের অধিনায়কও ছিলাম। শেরে বাংলা গোল্ডকাপের সর্বশেষ আসরে চ্যাম্পিয়ন হই আমরা। আন্তবিশ্বদ্যালয় প্রতিযোগিতায়ও চ্যাম্পিয়ন তিন-চারবার। পরে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ব্ল–ও হয়েছি। প্রশ্ন : আমরা একেবারে শেষ দিকে চলে এসেছি। প্রথাগত কিছু প্রশ্ন ঝটপট করে নিই। একটু যদি বলতেন, লেফট ব্যাক হিসেবে আপনাকে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় ফেলেছেন কে? মাসুদ রানা : সাব্বির ভাই। খুবই স্কিলফুল ফুটবলার। তাঁকে সামলানো ছিল ভীষণ কঠিন। এ ছাড়া ওয়াসিম ভাইকে আমি পেয়েছি শেষ সময়। তবে তিনি যে কী মানের ফুটবলার ছিলেন, সেটি তখনো বুঝিয়ে দিতেন। প্রশ্ন : আপনার সময়ের বাংলাদেশের সেরা একাদশে রাখবেন কাকে কাকে? মাসুদ রানা : আমার সময় বলতে, সাব্বির ভাইদের প্রজন্মকেও ধরে সেটি করি। গোলরক্ষক হিসেবে আমিনুল ভালো হলেও আমি রাখব মহসিন ভাইকে। সেন্ট্রাল ডিফেন্সে কায়সার ভাই, মুন্না ভাই ও জুয়েল রানার মধ্যে দুজনকে বেছে নেওয়া খুব কঠিন। বন্ধু জুয়েল রানাকেই বাদ দিচ্ছি। রাইট ব্যাকে লম্বা থ্রো করত যে আলমগীর, তাকে রাখি। লেফট ব্যাকে নিজেকে আর রাখছি না, আমাকে রাখলে অন্যরা রাখবে। জনি ভাই তো আমাদের আগের; ওয়ালি ফয়সাল আবার পরের। এখানে তাই রাখি বরুণ দেওয়ানকে। মিডফিল্ডের মাঝখানে জাকির-আরমান। রাইট উইংয়ে সাব্বির ভাই; লেফটে রঞ্জন। স্ট্রাইকার হিসেবে গোল দেওয়ার দক্ষতায় আসলাম ভাই অতুলনীয়। তাঁর কাছাকাছি ক্ষমতা ছিল নকিবের। তবে এই দুজনকে আমি একসঙ্গে খেলাচ্ছি না। নকীবকে বদলি বেঞ্চে রেখে খেলাব রুমী ভাইকে। আরেকজন ভালো স্ট্রাইকার আলফাজ। কিন্তু আমার প্রথম পছন্দ আসলাম ভাই ও রুমী ভাই। প্রশ্ন : কোচ হিসেবে যাঁদের অধীনে খেলেছেন, সবচেয়ে পছন্দ কাকে? মাসুদ রানা : সালাউদ্দিন ভাইকে পেয়েছি মুক্তিযোদ্ধায়। ওই এক বছরের বিবেচনায়ই তিনি আমার পছন্দ। আর বিদেশি কোচদের মধ্যে অটো ফিস্টার। প্রশ্ন : ক্যারিয়ারের স্মরণীয় কয়েকটি ম্যাচের কথা যদি একটু বলতেন? মাসুদ রানা : ১৯৯১ সালে অনূর্ধ্ব-২৩ খেলতে যাই মালয়েশিয়ায়। স্বাগতিকদের বিপক্ষে আমি একটি ক্রস করেছি, কিন্তু সেটি গোল হয়ে যায়। এ ছাড়া ঢাকা স্টেডিয়ামে আবাহনীর জার্সি গায়ে জীবনের প্রথম ম্যাচটি স্মরণীয়। প্রশ্ন : খেলা ছাড়ার পর আপনার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এখন। এদিকে ঝোঁকার কারণ কী? মাসুদ রানা : যুবদলের সেক্রেটারি নীরব ভাই আমাকে নিয়ে এলেন এদিকে। এখন আমি যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক। এখন রাজনীতির পাশাপাশি ট্রেডিং ব্যবসা, সোলার প্যানেলের ব্যবসা-এসব নিয়েই আছি। তবে ভাই, ফুটবল খেলা অনেক সহজ। ব্যবসা বা রাজনীতি করা অনেক কঠিন। প্রশ্ন : শেষ প্রশ্ন-ক্যারিয়ার নিয়ে, জীবন নিয়ে আপনারি তৃপ্তি কতটা? মাসুদ রানা : অনেকে এখন আর হয়তো চেহারায় চেনে না আমাকে। কিন্তু যখনই বলি ‘আমি ফুটবলের মাসুদ রানা’, সবাই চিনে ফেলে। এটি বড় তৃপ্তি। এ ছাড়া ক্লাব ফুটবলের চার দলে খেলে সবাইকে লিগ চ্যাম্পিয়ন করিয়েছি, জাতীয় দলের হয়ে সাফ গেমসে স্বর্ণপদক জিতেছি। এগুলো তো সর্বোচ্চ সম্মান। সঙ্গে স্ত্রী-সন্তান-পরিবার নিয়ে আমি বেশ ভালোই আছি।